মালয়েশিয়া থেকে আমেরিকা কিভাবে যাওয়া যায় সাম্প্রতিক তথ্য জেনে নিন
অনেকে জানতে চায় যে, মালয়েশিয়া থেকে আমেরিকা কিভাবে যাওয়া যায়? এ সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানা থাকলে আপনি প্রতারণা হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে না। তাই কিভাবে আপনি বৈধ উপায়ে আমেরিকায় যাবেন সে সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে জেনে নেওয়া যাক।
অনেক মালয়েশিয়ান প্রবাসীরা আমেরিকা যাওয়ার স্বপ্ন দেখে থাকে সে ক্ষেত্রে কিছু শর্ত থাকে যেগুলো যদি পূরণ করতে পারেন, তাহলে সহজে আমেরিকা যেতে পারবেন। তাই মালয়েশিয়া থেকে আমেরিকা কিভাবে যাওয়া যায়? সম্পর্কে বিস্তারিত জানার জন্য আর্টিকেলটি মনোযোগ দিয়ে পড়ুন।
বাংলাদেশ থেকে অনেক প্রবাসী মালেশিয়ায় গিয়ে থাকে কিন্তু সেখানে তুলনামূলকভাবে অন্যান্য দেশের চাইতে বেতন ভাতা কম হয়ে থাকে। যার কারণে অনেক প্রবাসী আমেরিকা যেতে চায় তবে এক্ষেত্রে কিছু যোগ্যতা লাগে এবং বৈধ উপায় যেতে হবে। এজন্য আপনাকে অবশ্যই মালয়েশিয়ার বৈধ পাসপোর্ট থাকতে হবে এবং সেই পাসপোর্ট এর সঠিক মেয়াদ থাকতে হবে। তাহলে আপনি আমেরিকা যাওয়ার জন্য আবেদন করতে পারবেন। এজন্য আপনি কি ভিসা ক্যাটাগরির উপরে যাবেন সেটা আপনাকে আগে সিদ্ধান্ত নিতে হবে এবং সেই অনুযায়ী অনলাইনের মাধ্যমে আমেরিকার ভিসা আবেদন করতে হবে।
এরপরে সঠিক তথ্য দেওয়ার পরে আমেরিকার দূতাবাসে আপনাকে সাক্ষাৎকার নেবে, তারপরে যদি তারা আপনাকে ভিসার জন্য অনুমতি দেয় তাহলে আপনি সহজ পদ্ধতিতে ভিসা কার্যক্রম সম্পন্ন করে আমেরিকায় যেতে পারবেন। যদি অনলাইনের মাধ্যমে আপনি সঠিক তথ্য দিয়ে ভিসা কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারেন। তাহলে বৈধ উপায় যেতে পারবেন, সেক্ষেত্রে একটু খরচ বেশি হবে। তবে আপনার কোন অসুবিধা হবে না। তাই চেষ্টা করবেন অবশ্যই বৈধ উপায়ে আমেরিকা যাওয়ার জন্য। কোন দালালের খপ্পরে পড়ে অবৈধ পথে যাওয়ার চেষ্টা করবেন না।
তবে আপনি যদি দীর্ঘদিন যাবত মালয়েশিয়ায় থাকেন সেক্ষেত্রে বৈধ উপায় যদি নাগরিকত্ব পান সে ক্ষেত্রে কিন্তু আপনি বৈধভাবে আমেরিকায় যেতে পারবেন। কিন্তু যদি আপনি মালয়েশিয়ার নাগরিক না হয়ে থাকেন আর সেই ক্ষেত্রে অবৈধ পথে আমেরিকায় যাওয়ার জন্য চেষ্টা করেন, তাহলে যেতে পারবেন না। অনেকে অবৈধ পথে যেতে চান সেই ক্ষেত্রে বিভিন্ন মাধ্যমে যেতে হবে। তবে এটা ভুল একটি সিদ্ধান্ত হবে, এজন্য অনেকেই দেখা যায় মালয়েশিয়া থেকে প্রথমে ইন্দোনেশিয়ায় যায় এরপরে ইন্দোনেশিয়ার একটি দ্বীপে অনেকদিন যাবত থাকার পরে ইন্দোনেশিয়া থেকে সাগরপথে অস্ট্রেলিয়া যাওয়া যায়।
তবে দেখা যায় অনেকেই মালয়েশিয়া থেকে সমুদ্রপথে অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে তারপরে সেখান থেকে আমেরিকায় যায় তবে এটা মূলত অবৈধ পথে যেতে হয়। এক্ষেত্রে অনেকেই দেখা যায় দালালের মাধ্যমে সমুদ্রপথে বিভিন্নভাবে আমেরিকায় গিয়ে থাকে, তবে এক্ষেত্রে আপনাকে মনে রাখতে হবে আপনি যদি সমুদ্রপথে যে যাবেন সে ক্ষেত্রে আপনার জীবনের অনেক ঝুঁকি রয়েছে। যেখানে অনেক প্রবাসী এইভাবে অবৈধ পথে যাওয়ার কারণে মৃত্যুবরণ বা অনেকে কারা বরণ করতে হয়। তাই এই ক্ষেত্রে অবশ্যই ঝুঁকি নিতে যাবেন না।
তাছাড়াও আপনি আরো কিছু পদ্ধতির মাধ্যমে যেতে পারেন সে ক্ষেত্রে বৈধ উপায় গেলে আপনার যে কোন একটি বিষয়ের প্রতি অসাধারণ দক্ষতা থাকতে হবে এবং গবেষণামূলক কাজের দক্ষতা থাকতে হবে। আর সে ক্ষেত্রে আপনাকে তারা গবেষণা প্রতিষ্ঠানের চাকরি দেবে এবং এই গবেষণার বিষয়ে চাকরি করার জন্য আপনি ভিসা করতে পারেন। ভিসা করার জন্য আপনি আবেদন করলে দেখা যাবে এক্ষেত্রে আপনার নির্দিষ্ট প্রমাণপত্র দিতে হবে। তাহলে তারা যাচাই-বাছাই করে আপনাকে আমেরিকা যাওয়ার সুযোগ করে দিবে। এক কথায় আপনার কাজের দক্ষতা থাকতে হবে।
এছাড়া আপনি মালয়েশিয়া থেকে দেশের যেকোনো দেশ থেকেই আপনি ভিসা করতে পারবেন এবং যেতে পারবেন। সেজন্য এমন কিছু ব্যক্তি রয়েছে যারা ব্যতিক্রমী দক্ষতা রয়েছে বা অনেক উচ্চ শিক্ষা রয়েছে যারা অনেক মেধাবী সেক্ষেত্রে তারা স্থায়ী চাকরি জন্য আবেদন করতে পারবেন। এক্ষেত্রে আপনার আমেরিকায় যে কোন প্রতিষ্ঠানে আবেদন করলে তারা দক্ষতার ভিত্তিতে আপনাকে চাকরির অফার লেটার পাঠিয়ে দেবে সে অনুযায়ী আপনি ভিসা করে যেতে পারবেন। এছাড়াও কিছু প্রফেশনাল ক্যাটাগরি রয়েছে যেগুলোতে তারা দক্ষ লোক নিয়ে থাকে।
প্রবেশনাল লোক যদি থাকে তারা আমেরিকা যেতে চায় সেক্ষেত্রে তারা ভিসা আবেদন করতে পারবে। তারা এই দক্ষতা বিষয়ে প্রমাণাদি করে এবং তাকে যে সকল প্রতিষ্ঠানে চাকরি দিলে দেশের জন্য উন্নত হবে। সেইরকম প্রতিষ্ঠানে চাকরি দেওয়ার জন্য অফার লেটার পাঠিয়ে দেয় এক্ষেত্রে সহজভাবেই তারা যাচাই বাছাই করে নিয়ে দক্ষ জনবল হিসেবে আপনি পেয়ে যাবেন। তাই মোটকথা হলো যে আপনাকে অসাধারণ দক্ষতা সম্পন্ন লোক হতে হবে, তাহলে আপনি ভিসার জন্য আবেদন করলে যাচাই বাছাই করে তারা দেশের উন্নতিকল্পে এই সাফল্যকে নিয়ে থাকবে। তাছাড়া আমেরিকা কিছু অভিবাসীদের ভিসা দিয়ে থাকে।
আবার আপনি যদি মালয়েশিয়াতে দীর্ঘদিন থাকার পরে বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা বাণিজ্য করে থাকেন এবং অনেক টাকার অনেক অর্থ সম্পত্তি থাকে যেটা আপনার আমেরিকায় গিয়ে উদ্যোক্ত হওয়ার মতো অর্থ সম্পদ রয়েছে, এক্ষেত্রে আপনি যদি উদ্যোক্তা হিসেবে বিজনেস ভিসার জন্য আবেদন করেন তাহলে তারা এই ক্যাটাগরির ভিসা আপনাকে যাচাই-বাছাই করে ব্যবসা করার জন্য অনুমতি দিতে পারে। তবে অবশ্যই আপনাকে আমেরিকার মতো ১০ জন লোককে চাকরি দেওয়ার মতো সামর্থ থাকতে হবে। কমপক্ষে পাঁচ লাখ ডলার বা বাংলাদেশি টাকায় চার কোটি টাকার বেশি আপনাকে বিনিয়োগ করার মত সামর্থ থাকতে হবে, তাহলে আপনি আমেরিকার ভিসা পাবেন।
তাছাড়াও আমেরিকা বিভিন্ন সময় তাদের বিভিন্ন ধরনের প্রতিষ্ঠানের কাজের সুযোগ দিয়ে থাকে এ ক্ষেত্রে কর্মসংস্থান ভিত্তিক যে কাজগুলো রয়েছে, সেগুলোর কাজের দক্ষতা সম্পন্ন লোক নেওয়ার জন্য জব লেটার পাঠিয়ে দিবে। তারা নিয়োগ অনলাইনে এর মাধ্যমে নিয়োগ দিয়ে থাকে সেখানে যদি আপনার প্রফেশনাল মানের কাজের দক্ষতার সার্টিফিকেট থাকে তাহলে আপনি সেখানে কাজের জন্য আবেদন করতে পারেন। এছাড়াও অভিবাসী শ্রমিক নিয়োগের ক্ষেত্রে অনেক সময় তারা অনুমতি দিয়ে থাকে এক্ষেত্রে আপনি পরিশ্রমিক অভিবাসী হিসেবে চাকরির জন্য আবেদন করতে পারেন।
তাছাড়াও আমেরিকাতে যদি আপনার পরিবারের কেউ থাকে সেক্ষেত্রে বৈধ ভাবে যাওয়া যাবে। সেক্ষেত্রে যদি আপনার কোন বৈধ সঙ্গি থাকে, সে যদি ওখানকার নাগরিক হয়ে থাকে সে ক্ষেত্রে আপনাকে সে ভিসা সহজ ভাবে পাঠিয়ে দিতে পারবে। এক্ষেত্রে আপনি তার বা পরিবারের সদস্য হিসেবে নেওয়ার জন্য সরকারের কাছে যখন আবেদন করবে সে ক্ষেত্রে আপনি যদি তার সাথে বিবাহের বাগদান হয়ে থাকেন, তাহলে সেখানে ভিসা আবেদন করলে এটা বৈধভাবে যদি হয়ে থাকে সেক্ষেত্রে বাগদানের পর দুই বছর পর আপনি ভিসার জন্য আবেদন করলে আমেরিকার যেতে পারবেন। তবে প্রথমবারে আপনাকে ৯০ দিনের ভিসা করতে হবে।
সর্বশেষ আমেরিকাতে অনেকেই গিয়ে থাকে পড়াশোনার উদ্দেশ্যে আপনি যদি বাংলাদেশের যে কোন একটি বিষয়ে গ্র্যাজুয়েশন করে থাকেন, সেখানে যদি মাস্টার্স করার জন্য আবেদন করে থাকেন। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে, সেই অনুযায়ী যদি আপনার অর্থ-সম্পদ থাকে তাহলে আপনি সেই সকল বিষয়গুলোর টিউশন ফি পরিশোধ করার মত সামর্থ্য থাকে, এছাড়াও এদেশে থাকা খাওয়ার ব্যবস্থার জন্য সেই পরিমাণ অর্থ থাকে, তাহলে আপনার ব্যাংকের স্টেটমেন্ট সহ এবং সকল বিস্তারিত কাগজপত্র যদি সঠিক থাকে এক্ষেত্রে আপনি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করার জন্য আবেদন করতে পারেন।
লেখক, মোহাম্মদ মাহমুদুল ইসলাম, বি,এ অনার্সঃ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।

এম আর মাহমুদ ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url