হযরত আবু বকর রাঃ এর সংক্ষিপ্ত জীবনী ও তাঁর অবদান সম্পর্কে জানুন
ইসলামের ইতিহাসে হযরত আবু বকর রাঃ এর সংক্ষিপ্ত জীবনী জানা সকল মুসলমানের প্রয়োজন। কেননা তাঁর জীবন বৃত্তান্ত থেকে আমাদের অনেক শিক্ষনীয় বিষয় রয়েছে। চলুন, হযরত আবু বকর রাঃ এর জীবনী সম্পর্কে আলোচনা করা যাক।
হযরত মুহাম্মদ সাঃ এর পরে যদি কারো স্থান থাকে তাহলে হযরত আবু বকর রাঃ কে বলা হয়ে থাকে। এজন্য তাঁর জীবন বৃত্তান্ত আমাদের জানা খুবই প্রয়োজন। তাই হযরত আবু বকর রাঃ এর সংক্ষিপ্ত জীবনী সম্পর্কে জানতে আর্টিকেলটি মনোযোগ দিয়ে পড়তে থাকুন।
পোস্টসূচিপত্রঃহযরত আবু বকর রাঃ এর সংক্ষিপ্ত জীবনী ও তাঁর অবদান সম্পর্কে জানুন
হযরত আবু বকর রাঃ এর সংক্ষিপ্ত জীবনী
অনেকে জানতে চায় হযরত আবু বকর রাঃ এর সংক্ষিপ্ত জীবনী সম্পর্কে। তাই হযরত আবু বকর রাঃ এর সাথে ইসলাম ও রাসূল সাঃ ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। চলুন, হযরত আবু বকর রাঃ এর জীবনী সম্পর্কে বিস্তারিত ভাবে জেনে নেওয়া যাক।
বংশ পরিচয়ঃ তিনি কুরাইশ বংশের সম্ভ্রান্ত পরিবারের জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তিনি রাসূল সাঃ এর জন্মের ২ বছর পূর্বে এই পৃথিবীতে আসছেন এবং তার নাম আব্দুল্লাহ, উপাধি সিদ্দিক পিতার নাম আবু কুহাফা মায়ের নাম সালমা, উম্মুল খায়ের বলা হয়ে থাকে। হযরত আবু বকর রাঃ রাসূল সাঃ এর সব সময় পাশে দাঁড়িয়েছেন। আল্লাহ তায়ালার কি এক অপূর্ব নিদর্শন যে তিনি রাসূল সাঃ এর দুই বছর পূর্বে জন্মগ্রহণ করেছেন, ঠিক দুই বছর পরেই আবার ইন্তেকাল করেছেন। তাছাড়া হযরত আবু বকর রাঃ রাসূল সাঃ এর সবচাইতে কাছের এবং সবচেয়ে বেশি সহযোগিতা করেছিলেন।
বংশ মর্যাদাঃ হযরত আবু বকর রাঃ বংশগতভাবে তিনি সবচেয়ে সম্মানিত কুরাইশ বংশের অন্যতম ব্যক্তি ছিলেন, অনেক মেধাবী জ্ঞানী এবং বুদ্ধিমত্তা সকল দিক দিয়ে তিনি সবার চাইতে বিচক্ষণশীল এবং শ্রদ্ধাশীল ব্যক্তি ছিলেন। মক্কাবাসীরা ও তাকে অত্যন্ত বিশ্বাস করতো এর কারণে তাদের অর্থ সম্পত্তির সকল কিছু তার কাছে জমা দিত। এছাড়া বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করতেন। এছাড়াও তিনি অত্যন্ত খোদা ভীরু ছিল এবং জাহেলিয়া যুগে গোত্রের মধ্যে সবচাইতে প্রিয় ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তাঁর ব্যবহারে সবাই মুগ্ধ ছিল, চরিত্রবান মানুষ ছিলেন তিনি সবার সাথে বন্ধুসুলভ আচরণ করতেন।
পিতা মাতাঃ হযরত আবু বকর রাঃ কুরাইশ বংশের সবচেয়ে সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তার বাবা আবু কুহাফা একজন সম্মানিত ব্যক্তি এবং বয়োজ্যেষ্ঠ মানুষ তাকে সবাই পছন্দ করতেন। তিনি ব্যবসা-বাণিজ্য করতে বেশি পছন্দ করতেন, এছাড়াও সমাজের বিভিন্ন ধরনের কাজে সহযোগিতা করতেন এবং সবাই এজন্য তাকে শ্রদ্ধা করতেন। তিনি রাসূল সাঃ এর এবং ইসলামের খেদমত করতেন। মক্কা বিজয়ের পর রাসূলের নিকট আসেন এবং ইসলামের ঘোষণা দিয়েছিলেন। ১০০ বছর বয়সে তিনি ইন্তেকাল করেন। তাই বলা যেতে পারে আবু বকর রাঃ এর পিতা অত্যন্ত সম্মানিত ব্যাক্তি ছিলেন।
হযরত আবু বকর রাঃ মায়ের নাম সালমা সবাই ডাকতেন উম্মুল খায়ের নামে। তিনিও মক্কা বিজয়ের কালে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন, এ ছাড়াও তিনি অনেকদিন জীবিত ছিলেন প্রায় ৯০ বছর বয়স পর্যন্ত বেঁচে ছিলেন এবং তার ছেলে আবু বকর রাঃ যখন খলিফা হয়েছিলেন এরপর পরবর্তীতে তিনি ইন্তেকাল করেন। হযরত আবু বকর রাঃ পিতা-মাতার একমাত্র সন্তান ছিলেন এবং খুবই আদরের। তিনি ২০ বছর বয়সেই পিতার ব্যবসা বাণিজ্য সকল কিছু দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তাই বলা যেতে পারে হযরত আবু বকর রাঃ শৈশব কাল থেকেই অত্যন্ত ভদ্র নম্র এবং দায়িত্ববান।
শৈশবকালঃ হযরত আবু বকর রাঃ রাসূল সাঃ এর সাথেই শৈশবকাল কাটিয়েছেন এবং সবচাইতে কাছের বন্ধু ছিলেন। অধিকাংশ সময়ে তিনি রাসূল সাঃ এর সাথে থাকতেন, সফর সঙ্গী হিসেবে বা কোন কাজের ক্ষেত্রে ব্যবসা-বাণিজ্য করার জন্য সঙ্গে নিয়ে যেতেন। কেননা হযরত আবু বকর রাঃ রাসূলের চাইতে মাত্র দুই বছরের বড় ছিলেন। যার কারণে তাদের সাথে খুবই গভীর বন্ধুত্ব ছিল। একদিন রাসূল সাঃ এর ব্যবসার উদ্দেশ্যে রওনা হলেন পথের মধ্যে বিশ্রাম করতেছিলেন গাছের নিচে। এই সময় আবু বকর রাঃ তিনি রাসুলকে পাহারা দিচ্ছিলেন।
হযরত আবু বকর রাঃ এর সামনে এক পাদ্রী আসলো এবং ধর্ম বিষয়ক কিছু কথাবার্তা বলল। পাদ্রী জিজ্ঞেস করলো ওই গাছের নিচে বসে আছে কে? আবু বকর রাঃ বললেন উনি একজন কুরাইশ যুবক তাঁর নাম মোহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ। তখন পাদ্রী বলেছিল এই যুবক হবে এক সময় শেষ জামানার নবী, কথাটি আবু বকরের খুবই মনের ভিতরে লেগেছিল এবং ভালো লেগেছিল। তাই তিনি রাসূল সাঃ আরো বেশি ভালবাসতেন এবং শ্রদ্ধা করতেন। তাছাড়া রাসুল সাঃ কে নবী হওয়ার জন্য সকল সহযোগিতা করছেন এবং সেই পাদ্রীর নাম ছিল বুহায়রা।
ইসলাম পূর্ব জীবনঃ হযরত আবু বকর রাঃ ইসলাম গ্রহণের পূর্বে তিনি একজন ব্যবসায়ী ছিলেন এবং আরবের সবচাইতে ধনাট্য ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত লাভ করেন। এছাড়াও তার সত্যবাদিতা এবং বুদ্ধিমত্তায় মক্কা বাসী খুবই পছন্দ করতেন। তিনি খুবই জ্ঞানী ব্যক্তি এবং অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ব্যক্তি ছিলেন। তাই মক্কাবাসীগণ তাকে শ্রদ্ধা করত। ইসলামে তিনি ওই সময়ে অনেক ভালো কাজ গুলোর উৎসাহিত করতেন। মানুষকে খারাপ কাজ গুলোকে থেকে দূরে থাকার জন্য নিষেধ করতেন। তিনি মদ্যপানকে ঘৃণা করতেন এবং তিনি এ বিষয়ে বলেছিলেন, যা মানুষের সম্ভ্রমের ক্ষতি করতে পারে।
ইসলাম গ্রহণঃ হযরত আবু বকর রাঃ রাসুল সাঃ এর সঙ্গী বা সাথী হিসেবে সারা জীবন থেকেছেন। তাই রাসূল সাঃ যখন নবুওয়ত প্রাপ্তি হলেন তখন মক্কার ধনী বা প্রভাবশালী ব্যক্তিরা রাসূল সাঃ এর বিরোধিতা শুরু করলো এবং নেতিবাচক কথা বলতে থাকে এবং কটাক্ষ করতে থাকে। এ কারণে ইসলামের দাওয়াত দিলেও কেউ গ্রহণ করে নাই। একমাত্র আবু বকর রাঃ কুরাইশদের মধ্যে প্রথমে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে। বিনা দ্বিধায় কোন মতামত না করে কোন নেতিবাচক কথা না বলেই রাসুল সাঃ এর ইসলাম ধর্ম তিনি গ্রহণ করেছিলেন। তাই আবু বকর রাঃ পরবর্তীতে ইসলামের দাওয়াত দিতে শুরু করেন।
ইসলাম প্রচারঃ হযরত আবু বকর রাঃ তিনি প্রথম ইসলাম গ্রহণ করার পরে মক্কায় এবং তার আশেপাশে যে গোত্রগুলো রয়েছে সেখানে ইসলামের দাওয়াত দিতে শুরু করলেন। হজের সময় বিভিন্ন তাবুতে লোকদের কাছে গিয়ে ইসলামের দাওয়াত দিতে থাকেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা মুসলমানদের মাঝে ইসলামের দাওয়াত এবং রাসূল সাঃ এর পরিচয় উপস্থাপন করতেন। তাই আরব বাসীরা রাসূল সাঃ এর ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছে এবং রাসূল সঃ এর উপর বিশ্বাস করেছেন। কুরাইশ বংশের যুবক ওসমান রাঃ আব্দুর রহমান, জুবায়ের, তালহা এছাড়া আরো অনেক ব্যক্তিবর্গ ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে।
এছাড়াও আবু বকর রাঃ প্রকাশ্যে ইসলাম ঘোষণা দিয়েছিল এবং ৪০ হাজার দিরহাম তিনি ইসলামের খেদমতে দান করেন। কোরাইশ বংশের যেসব দাস-দাসী ছিল সব মুক্ত করে তাদেরকে ইসলামের আশ্রয়স্থলে নিয়ে আসেন এবং তারা নির্যাতন থেকে মুক্তি পায়। হযরত আবু বকর রাঃ তাঁর নিজের অর্থ দিয়ে সকল দাস-দাসীকে তিনি কিনে নেন। এভাবেই তিনি ইসলাম প্রচার করতে থাকেন। এছাড়াও এই সময়ে তার সম্পত্তির আড়াই হাজার দেরহাম দিয়ে বেলাল, আম্মার, সুমাইয়া সহ অনেক দাস-দাসীকে মুক্ত করেন। তারা ইসলামের ছায়াতলে আসে ও ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে।
মিরাজের ঘটনার স্বীকৃতি দানঃ আল্লাহ তায়ালার নির্দেশে রাসূল সাঃ মেরাজ করেছিলেন যা খুবই অলৌকিক বিষয়। যা মক্কা বাসী কেউ বিশ্বাস করে নাই কিন্তু হযরত আবু বকর রাঃ কোন প্রশ্ন ছাড়াই সব কিছু বিশ্বাস করেছিলেন। রাসুল সাঃ বলেছিলেন যে, আমি যে বায়তুল মোকাদ্দাস থেকে আল্লাহর কাছে গিয়েছিলাম আবার মক্কায় ফিরেছি এটা কি তোমার বিশ্বাস হয়। তখন আবু বকর রাঃ বললেন আমি কখনো আপনাকে মিথ্যা কথা বলতে দেখিনি, তাই অবশ্যই আমি বিশ্বাস করি। এরপরে রাসুল তাকে সিদ্দিক উপাধি দিয়েছিল।
হিজরতঃ মুসলমানদের উপর যখন মক্কার মুশরিকরা অত্যাচার শুরু করল এবং রাসূল সাঃ কে অত্যাচার নির্যাতন শুরু করলো তখন আবু বকর রাঃ অনেক প্রতিবাদ করেছেন। রাসুল সাঃ এর হিজরতের ক্ষেত্রে সবচাইতে কষ্টের সঙ্গী ছিলেন হযরত আবু বকর রাঃ এবং পৃথিবীতে সবচেয়ে বড় বন্ধুত্বের পরিচয় দিয়েছিলেন। মাঝে মাঝে তিনি রাসূল সাঃ কে হিজরতের কথা বলতেন তখন রাসুল সাঃ বলতেন আল্লাহর নির্দেশনা ছাড়া আমি হিজরত করব না। তখন থেকে হযরত আবু বকর রাঃ দুটি উট কিনেছিল এবং সেই উটগুলো যত্ন করতেন যে কখন মনে হয় হিজরতের সময় চলে আসে।
হযরত আয়েশা রাঃ বললেন রাসুল আমাদের বাড়িতে সাধারণত সকাল সন্ধ্যা আসতেন কিন্তু হিজরতের যখন অনুমতি পেলেন তখন অন্য সময় আসলেন। আসার পরে তিনি আবু বকরকে বললেন যে আমার হিজরতের অনুমতি আল্লাহতালা দিয়েছেন। তখন আবু বকর রাঃ বললেন আপনি যদি অনুমতি দেন তাহলে আমি আপনার সঙ্গী হতে চাই। রাসূল সাঃ বললেন অবশ্যই তুমি আমার সঙ্গী হবে। তখন আবু বকর রাঃ আনন্দে কেঁদে দিয়েছিলেন। তখন তিনি এই দুটি উট নিয়ে রওনা হলেন। হযরত আবু বকর রাঃ হিজরতের সময় পথ দেখানোর জন্য একজন বিধর্মীকে ভাড়া করেছিলেন।
রাতের অন্ধকারে আবু বকরের বাড়ির পিছনের দরজা দিয়ে বের হয়ে মক্কা থেকে সওর পর্বতের একটি গুহায় আশ্রয় নিয়েছিল। এরপরে রাসূল সাঃ গুহার ভিতরে প্রবেশ করার পূর্বে আগে আবু বকর প্রবেশ করে পরীক্ষা করে নিয়েছিলেন, যে সেখানে কোন হিংস্র প্রাণী বা সাপ বিচ্ছু আছে কিনা। কেননা রাসূল সাঃ সেখানে বিপদে পড়তে পারেন। তাই তিনি আগেই গুহাকে পরীক্ষা করে নিয়ে তারপরে রাসূল সাঃ কে প্রবেশ করার জন্য বললেন। এভাবেই হযরত আবু বকর রাঃ রাসূল সাঃ কে মদিনায় পৌঁছানোর পূর্ব পর্যন্ত সাহায্য সহযোগিতা করেছিলেন এবং সার্বক্ষণিক তার খেদমতের জন্য প্রস্তুত ছিলেন।
কন্যাকে বিবাহ দানঃ যখন হযরত খাদিজা রাঃ ইন্তেকাল করলেন তারপরে রাসূল সাঃ একা হয়ে গেলেন এবং খুবই কষ্টে থাকতেন। যার কারণে হযরত আবু বকর রাঃ তার অল্প বয়সের মেয়ে আয়েশা রাঃ কে তার সাথে বিবাহ দিলেন এবং তার মোহরানার টাকাও তিনি পরিশোধ করার জন্য দিয়ে দিলেন। হিজরতের পর রাসূল সাঃ এর সাথে এভাবেই তিনি সার্বক্ষণিক বিপদে-আপদে সহযোগী হিসেবে কাজ করেছেন। এছাড়াও তিনি রাসূল সাঃ এর ইন্তেকালের পূর্ব পর্যন্ত তার সঙ্গী হিসেবে ছিলেন। পরবর্তীতে রাসূল সাঃ ইন্তেকালের দু'বছর পরেই তিনি ইন্তেকাল করেন ১৩ হিজরি সনে।
আবু বকর রাঃ এর উপাধি
হযরত আবু বকর রাঃ সব সময় সত্যের পথে থাকতেন। তাই আবু বকর রাঃ এর উপাধি সম্পর্কে আমাদের জানা প্রয়োজন। চলুন কি জন্য তাকে কি উপাধি দিয়েছিল সে সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।
মূলত হযরত মুহাম্মদ সাঃ যখন আল্লাহর নিকট চলে গেলেন এবং মিরাজের ঘটনা সবাই আমাদের জানা রয়েছে এবং এটা অলৌকিক ঘটনা। খুবই কম সময়ের মধ্যে তিনি আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং আবার অল্প সময়ের মধ্যেই ফিরে এসেছিলেন। যা মক্কাবাসীগণ এই ঘটনা শোনার পরে হাসি তামাশা করেছিলেন যে এটা একটা অবিশ্বাস্য কাহিনী কখনোই এটা সম্ভব না। অনেক মক্কাবাসীগণ আবু বকর রাঃ কে বলল যে তোমার বন্ধু কি বলে, সে নাকি গত রাত্রিতে মক্কা থেকে বাইতুল মুকাদ্দাস সেখান থেকে সপ্তম আকাশে ভ্রমণ করেছে। এটা নাকি আমাদের বিশ্বাস করতে হবে।
তখন আবু বকর রাঃ বললেন এরকম কথা তিনি বলেছেন তখন মুশরিকরা বলল হা এরকম বলেছেন, আবু বকর রাঃ বললেন আমি বিশ্বাস করি, কাফেররা তখন তার কথা শুনে অবাক হয়ে গেল এবং জবাবে বলল আপনি কিভাবে এটা বিশ্বাস করেন। তখন আবু বকর রাঃ বললেন আমি তার সাথে সবচাইতে কাছে এবং তার সকল কাজের সঙ্গী ছিলাম। তিনি যা বলেন সকল কিছুই সত্য এতে কোন সন্দেহ নাই। এই ধরনের বিশ্বাস করার কারণেই রাসূল সাঃ তাকে সিদ্দিক উপাধি দিয়েছিলেন এবং সত্যতা প্রমাণের জন্য অনেক ঘটনা রাসূল সাঃ বর্ণনা করেছিলেন, পরবর্তীতে মক্কার লোকজন ঘটনাগুলো সত্যতা যাচাই করে।
খলিফা হযরত আবু বকর (রা)
হযরত মুহাম্মদ সাঃ এর ইন্তেকালের পর খলিফা হযরত আবু বকর (রা) তিনি খিলাফতের দায়িত্ব নিয়েছিলেন। চলুন, তার এই সময়ে ইসলামের জন্য কি কাজ করেছেন সে সম্পর্কে এবং খেলাফতের ঘটনা বিস্তারিতভাবে জেনে নেওয়া যাক।
রাসূল সাঃ এর ওফাতের পর আবু বকর রাঃ পরবর্তীতে খেলাফতের দায়িত্ব নেন। এটা রাসূল সাঃ ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। খলিফা আমিরুল মোমেনীন তিনি ব্যবসা করতেন এবং কুরাইশদের মধ্যে সবচেয়ে ধনাট্য ব্যক্তি ছিল, ইসলাম গ্রহণের পরে তিনি ইসলামের স্বার্থে সকল কিছু দান করে দিয়ে গেছেন এবং রাসূল সাঃ এর সবচাইতে কাছের বন্ধু এবং সহযোগী ছিলেন। এছাড়াও তিনি যখন খেলাফতের দায়িত্ব নিলেন এরপরে তার ব্যবসা তিনি চালিয়ে যেতেন পাশাপাশি তিনি এই খেলাফতের দায়িত্ব পালন করতেন। তিনি দায়িত্ব পালন করার পরে বায়তুল মাল থেকে মাত্র আড়াইহাজার দেরহামের ভাতা গ্রহণ করেছে।
রাসূল সাঃ এর ওফাতের সংবাদ শুনে তিনি খুবই কষ্ট পেয়েছিলেন এবং সাহাবীরা চিন্তিত হয়ে পড়েছিলেন। এক্ষেত্রে চিন্তায় পড়ে গেলেন পরবর্তীতে এই রাষ্ট্রের দায়িত্ব কে নেবে। রাসূল সাঃ যে ইন্তেকাল করেছেন কেউ বিশ্বাস করছিলেন না। তখন হযরত আবু বকর রাঃ মানুষকে বুঝাতে সক্ষম হয়েছিলেন এবং কোরআনের আয়াত পাঠ করে শুনিয়েছিলেন, যে তিনি আমাদের মাঝে চিরজীবী থাকবেন না। তিনি ইন্তেকাল করবেন এটাই স্বাভাবিক এটা আমাদেরকে মেনে নিতে হবে। সুরা ইমরানের ভিতরে এর বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে।
তখন উপস্থিত জনতা হযরত আবু বকর রাঃ এর আয়াতের কথা শোনার সাথে সাথে লোকজন বিশ্বাস করলেন এবং রাসূল সাঃ এর দাফন কাফনের বিষয়টা হযরত আবু বকর রাঃ সম্পন্ন করলেন এবং তার স্থলাভিষিক্ত কে হবেন এটা নিয়ে সকল জনতা একটি জায়গায় সমবেত হল। তখন জনতা সকলেই সম্মতি দিলেন স্থলাভিষিক্ত হবেন। এরপরের আবু বক্কার রাঃ তার এই বুদ্ধি বা বিচক্ষণতার বা বিভিন্ন ধরনের সমস্যার সমাধান করেছিলেন। যার কারণে তিনি ইসলামের প্রথম খলিফা নির্বাচিত হলেন এবং তিনি জনসম্মুখে বক্তৃতা দিয়েছিলেন।
তাছাড়া হযরত আবু বকর রাঃ খলিফার দায়িত্ব দেওয়ার পর কিছু ভন্ড নবীর আবির্ভাব ঘটেছিল। যারা মিথ্যা নবুয়তের দাবি করেছিল তাদেরকে অসীম সাহস এবং দৃঢ়তার সাথে অভিযান করেছিলেন এবং সকল প্রকার ষড়যন্ত্রকে ধূলিসাৎ করে দিয়েছিলেন। যা ইতিহাসে এখন পর্যন্ত সেই কাজকে চির স্মরণীয় করে রাখবে। মুসলিম জনগণ তাছাড়াও ইসলামের ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। যা মুসলমানদের জন্য অনুসরণ বা অনুকরণীয়, তিনি খেলাফতে দায়িত্ব পাওয়ার পরে সকল কিছুর ষড়যন্ত্রের অবসান ঘটিয়েছিলেন। হযরত আবু বকর রাঃ মাত্র আড়াই বছরের মত খেলাফত পরিচালনা করেছিল।
আল কুরআন সংরক্ষণ ও সংকলন
আল কোরআন আমাদের ইসলামের সংবিধান তাই আল কুরআন সংরক্ষণ ও সংকলন সম্পর্কে জানতে হলে আবু বকর রাঃ এর অবদান রয়েছে। চলুন বিষয়ে বিস্তারিত ভাবে জেনে নেওয়া যাক।
হযরত আবু বকর রাঃ কোরআনের সংকলন এবং সংরক্ষণের ক্ষেত্রে সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। তিনি খেলাফতের দায়িত্ব পাওয়ার পরেই আরবের বিভিন্ন স্থান থেকে যে বিদ্রোহ শুরু হয়েছিল সেই বিদ্রোহ গুলো দমন করতে গিয়ে অনেক হাফেজ শাহাদাত বরণ করে। এক্ষেত্রে মসাইলামা কাজ্জাবের এর সাথে যুদ্ধ হয় সেখানে প্রায় ৭০০ হাফেজ শহীদ হয়ে যায়। তারপরে হযরত ওমর রাঃ এর পরামর্শ আবু বকর রাঃ সম্পূর্ণ কোরআন এক স্থানে নিয়ে গ্রন্থ আকারে প্রকাশ করার জন্য চিন্তাভাবনা করলেন এবং সকল কিছু সংরক্ষণ করার পরে তিনি পরবর্তীতে হযরত ওসমান রাঃ দায়িত্ব দিলেন।
হযরত আবু বকর রাঃ এর স্ত্রী
অনেক জানতে চায় যে হযরত আবু বকর রাঃ এর স্ত্রী সংখ্যা কত। এ বিষয়ে বিস্তারিতভাবে জানা আমাদের খুবই প্রয়োজন। কেননা ইসলামের স্বার্থে চলুন বিস্তারিতভাবে জেনে নেওয়া যাক।
হযরত আবু বকর রাঃ ছিলেন মক্কার মধ্যে সবচাইতে জ্ঞানী এবং সম্ভ্রান্ত পরিবারের মানুষ। তাছাড়াও তার স্ত্রীগণও ছিলেন মক্কার বুকে সবচাইতে সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান। আবু বকর রাঃ চারটা বিবাহ করেছিলেন এবং তার সন্তান ছিল ছয়টি তিনটি ছেলে তিনটি মেয়ে। স্ত্রীদের পরিচয় সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক প্রথমত কাতিলা বিনতে আবদিল উজ্জা এ সম্পর্কে মতানৈক্য রয়েছে যে তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিল কিনা। এর গর্ভে দুটি সন্তান ছিল আব্দুল্লাহ ও আসমা। দ্বিতীয় স্ত্রী হলেন উম্মে রুমান বিনতে আমের রাঃ তার এই স্ত্রীর প্রথম স্বামী হারিস ইবনে সাকরা ইন্তেকালের পরে হযরত আবু বকর রাঃ বিবাহ করেছিলেন।
হযরত আবু বকর রাঃ এর তৃতীয় স্ত্রী আসমা বিনতে উমায়েস রাঃ তিনি তার স্বামী মুতার যুদ্ধের শহীদ হওয়ার পরে আবু বকর রাঃ এর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন এবং চতুর্থ স্ত্রী হাবিবা বিনতে খারিজা রাঃ। আবু বকর রাঃ ছয়টি সন্তান ছিল তাদের নাম হলো আব্দুর রহমান ইবনে আবু বক্কর, আব্দুল্লাহ ইবনে আবু বকর, মোহাম্মদ ইবনে আবু বকর, আসমা রাঃ, আয়েশা সিদ্দীকা রাঃ উম্মে কুলসুম বিনতে আবু বকর।
হযরত আবু বকর রাঃ এর অবদান
ইসলামের ইতিহাসে হযরত আবু বকর রাঃ এর অবদান অপরিসীম। তিনি ইসলামের স্বার্থে প্রচুর পরিমাণে অর্থ ব্যয় করেছেন এবং পরিশ্রম করেছেন। চলুন তার অবদান সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা যাক।
হযরত আবু বকর রাঃ গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে দেশ প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করেছিলেন এবং সে অনুযায়ী তিনি রাষ্ট্রকে পরিচালনা করেছিলেন। জনগণকে বলেছিলেন যে সব সময় আমি আপনাদের কাছে জবাবদিহিত থাকবো। অবশ্যই আপনাদের চাওয়া পাওয়া আমার কাছে বলবেন এবং আমিও আপনাদের সুস্পষ্ট ভাবে শাসন ব্যবস্থা চালানোর ব্যবস্থা করব। তাছাড়া সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ তিনি যে কাজগুলো করেছিলেন তার মধ্যে অন্যতম হলো রাসুল সাঃ এর ইন্তেকালের পর কিছু স্বার্থান্বেষী লোকজন ভন্ড নবী হিসাবে দাবি করেন, নবী হিসেবে দাবি করেন।
যা হবে হিসেবে পরিচিত লাভ করে এক্ষেত্রে দেখা গেল এই ধরনের কিছু মুসলিমরা তারা তাদের কথা বিশ্বাস করল এটা একটা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয় দমন করার জন্য তিনি কঠোর পরিশ্রম কঠোর পদক্ষেপ নিলেন দালাইলামা তাকে প্রতিহত করে এবং উৎখাত করে দেন এছাড়াও বহির্বিশ্বে কার্যতা অবাক করার জন্য ইসলাম প্রচারে মনোনিবেশ করেন এবং মুসলমানদের শৃঙ্খলা বদ্ধ ভাবে ঐক্যবদ্ধ থাকার প্রতিহত করেন। এছাড়া যারা ধর্মত্যাগী করেছিল তাদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন এবং পরবর্তীতে তাদেরকে ইসলামের ছায়াতলে নিয়ে আসেন।
পরবর্তীতে হযরত ওসমান রাঃ ও লেখক জায়েদ বিন সাবিত এর মাধ্যমে কোরআনের বাণী গুলো সংগ্রহ করে পুস্তক আকারে লিপিবদ্ধ করেছিলেন। তাছাড়াও হযরত আবু বকর রাঃ সবচেয়ে বড় অবদান হলো তিনি কেন্দ্রীয় শাসন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং দেশের ভিতর হিংসা বিদ্বেষ গৃহযুদ্ধ বিশৃঙ্খলা সকলকে দমন করেছিলেন। এছাড়াও ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার জন্য কেন্দ্রীয়ভাবে ছিলেন এছাড়া তিনি মদিনাতে পরিচালিত খলিফার শাসনের অন্তর্ভুক্ত করেন।
হযরত আবু বকর রাঃ এর উত্তম চরিত্রের বিভিন্ন দিক
হযরত আবু বকর রাঃ এর উত্তম চরিত্র ছিল তাই হযরত আবু বকর রাঃ এর উত্তম চরিত্রের বিভিন্ন দিক সমূহ মুসলমান হিসেবে জানা প্রয়োজন তাই তার উত্তম চরিত্র সম্পর্কে চলুন বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা যাক
হযরত আবু বকর রাঃ খুবই সহজ সরল ভাবে জীবন যাপন করতেন, তার চরিত্র সম্পর্কে মক্কার কুরাইশ গণ তাকে অত্যন্ত পছন্দ করতেন এবং তিনি অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন। তিনি ইসলামের জন্য তাঁর অর্থ-সম্পদ সকল কিছু দান করেছিলেন। তা ছাড়া তিনি সহজ সরল জীবন যাপন করতে পছন্দ করতেন এবং তিনি কাপড়ের ব্যবসা করতেন। এছাড়াও পোশাক পরিচ্ছেদ আচরণ সবই একদমই সহজ সরল। জীবন যাপন করা সাদাসিধা পোষাক পরিধান করতেন এছাড়াও তিনি পোস্টের চামড়া পোস্টের চামড়া উটের চামড়ায় নির্মাণ করা। তাছাড়া তিনি ব্যবসা করতেন এবং সেই ব্যবসার টাকা দিয়ে জীবিকা অর্জন করতেন।
যখন তিনি খলিফা নির্বাচিত হলেন সেই ক্ষেত্রে সকলের অনুরোধে মাত্র ৬ হাজার দিরহাম গ্রহণ করেছিলেন পরবর্তীতে তিনি সেটা তার সম্পত্তি বিক্রি করে শোধ করে দিয়েছিলেন। তাছাড়া তার চরিত্র সম্পর্কে বলতে গেলে তিনি অসাধারণ গান বংশ মর্যাদা উদারতার চরিত্র মাদূর্য সকলের কাছে শ্রদ্ধার পাত্র ছিল। এছাড়া তিনি সততার জন্য রাসূল সা সিদ্দিক উপাধি দিয়েছিলেন। তিনি মানুষের বিপদে আপদে সুখ শান্তিতে সব সময় পাশে পেতেন। বিশেষ করে রাঃ এর সার্বক্ষণে তিনি সঙ্গী হিসেবে ছিলেন ধৈর্য এবং কষ্ট কঠিন সকল কিছু সহ্য করার মত সক্ষমতা ছিল।
এছাড়াও তিনি ভন্ড নবীদের কে কঠোর দমন করেছিলেন হযরত আবু বকর রাঃ তা'আলা আনহুর চরিত্র সম্পর্কে নিরপেক্ষভাবে বিচার করলে তিনি একজন বেশিক্ষণ ব্যক্তি এবং দৃঢ়-নীতির বাস্তবায়নে সম্পন্ন ব্যক্তি। রাসূল সাঃ উভাদের পর রাসূল সাঃ উত্তরাধিকার হিসেবে তাছাড়াও তিনি ইসলামের খলিফা নির্বাচিত হওয়ার কারণে তিনি রাষ্ট্র সংগঠক হিসাবে যথেষ্ট কৃতিত্ব অর্জন করেছিল। এছাড়াও তিনি শাসনকার্য জনকল্যাণমূলক কাজ করেছিলেন। তাই ঐতিহাসিকগণ বলে থাকেন পৃথিবীতে হযরত মুহাম্মদ সাঃ এর পরে যদি কোন চরিত্রবান এবং সবচেয়ে ন্যায়পরায়ণ ধর্মপরায়ণ কীর্তিমান ব্যক্তি যদি থাকে সেটা হলেন হযরত আবু বকর রাঃ।
উপসংহারঃ হযরত আবু বকর রাঃ এর সংক্ষিপ্ত জীবনী ও তাঁর অবদান সম্পর্কে জানুন
পরিশেষে বলা যায় যে হযরত আবু বকর রাঃ রাসূল সাঃ এর সবচাইতে কাছের বন্ধু এবং সহ সঙ্গী হিসেবে কাজ করেছেন সহযোগিতা করেছেন। তাছাড়া তার বিপদে আপদে সার্বক্ষণিক ছায়ার মত থেকেছেন। যার কারণে রাসূল সাঃ সবচাইতে বেশি তাকে পছন্দ করতেন এবং তাকেই সর্বক্ষণের বন্ধ হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন। তাই বলা যেতে পারে যে তার জীবন বৃত্তান্ত খুবই প্রয়োজন। তাই হযরত আবু বকর রাঃ এর সংক্ষিপ্ত জীবনী ও তার অবদান সম্পর্কে সংক্ষিপ্তভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি, আশাকরি আপনার উপকারে আসবে পোস্টটি যদি আপনার উপকারে আসে সে ক্ষেত্রে আপনার বন্ধু-বান্ধবের নিকট শেয়ার করবেন। ধন্যবাদ
এম আর মাহমুদ ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url