দারিদ্র বিমোচনে কোরআন হাদিসের আলোকে যাকাতের গুরুত্ব সম্পর্কে জানুন
মহান আল্লাহতালা যাকাত সম্পর্কে বলেছেন তোমরা নামাজ কায়েম করবে এবং যাকাত আদায় করো সূরা বাকারা আয়াত নাম্বার ৪৩ তাই এই আয়াত দ্বারা বোঝা যাচ্ছে যে মহান আল্লাহতালা ডাকাতের প্রতি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিয়েছেন কেননা যাদের উপর যাকাত ফরজ হয়েছে তারা অবশ্যই গরিবদেরকে নির্দিষ্ট হারে অবশ্যই যাকাত আদায় করবে যেহেতু কোরআন দ্বারা এটা স্পষ্ট যাতায়াত আদায় করতে হবে সে ক্ষেত্রে যদি কেউ আদায় না করে এবং তাহলে সে গুনাগার হতে হবে আর যদি কোন ব্যক্তি যাকাত ফরজ হয়েছে সেটা অস্বীকার করে তাহলে সে কাফের হয়ে যাবে তাই যাকাত যে আমাদের উপর সামর্থ্যবান ব্যক্তির উপর ফরজ এটা আমাদের স্বীকার করতে হবে
আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর বর্ণনা করেছেন রাসুল সালাম সালাম বলেছেন যদি ততক্ষণ পর্যন্ত আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে মহান আল্লাহতালা ছাড়া কোন উপাস্য নাই এবং হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু সাল্লাম আল্লাহর রাসূল এবং তোমরা নামাজ কায়েম কর যাকাত আদায় কর বুখারী শরীফ তাছাড়া হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন রাসূল সাল্লাল্লাহু সাল্লাম এর ইন্তেকালের পরে কুরাইশরা তারা তাদের সম্পত্তির যাকাত দিতে চাইনি যার কারণে হযরত আবু বকর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন সহি বুখারি হাদিস সুতরাং বলা যায় যে যাকাত অস্বীকার করলে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করা যাবে
তাছাড়া যাকাত আদায়য়ের অনেক গুরুত্ব এবং ফজিলত রয়েছে কেননা আল্লাহর রহমত বর্ষিত হয় তখনই যখন আপনি আপনার ওপর আপনার সম্পদের উপর যাকাত ফরজ হয়েছে কিন্তু আপনি যদি সঠিকভাবে জাকাত আদায় করতে পারেন তাহলে আল্লাহর রহমত পাবেন আর যদি সঠিকভাবে আদায় না করেন তা আল্লাহর রহমত থেকে বঞ্চিত হবেন এতে হাদিসে স্পষ্টভাবে বর্ণনা করা হয়েছে যে ব্যক্তি যে ব্যক্তির উপর যাকাত ফরজ হলো কিন্তু সে যাকাত বন্ধ করলো তার উপর আল্লাহর রহমতের বৃষ্টি বন্ধ হয়ে যাবে হাদিস দ্বারা বোঝা যাচ্ছে যে অবশ্যই আল্লাহর রহমত পেতে হলে আপনার সম্পদের সঠিকভাবে যাকাত প্রদান করবেন
সঠিকভাবে যাকাত আদায় করতে হবে এবং আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করার জন্য পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে যে আল্লাহ নিশ্চয়ই সেই সকল ব্যক্তিদেরকে সাহায্য করবে যারা আল্লাহর কে সাহায্য করতে পারেন এজন্য অবশ্যই দরিদ্র লোকদেরকে যাকাতের অর্থ সঠিকভাবে কন্ট্রোল করতে হবে কেননা আল্লাহতালা পৃথিবীতে কাউকে ক্ষমতা দান করেন যাকে ক্ষমতা দান করবে সে অবশ্যই নামাজ কায়েম করবে এবং যাকাত দেবে সৎকাজের আদেশ করবে অসৎ কাজ থেকে বিরত রাখার পরামর্শ দিবেন কেননা প্রত্যেকটা কাজের জন্যই আপনাকে আল্লাহর নিকট জবাব দিতে হবে যাকাতের গুরুত্ব তাই যাকাতের অত্যন্ত গুরুত্ব রয়েছে
যে ব্যক্তির উপর যাকাত আদায় করা ফরজ হলো সে ব্যক্তি যদি যাকাত আদায় করতে অস্বীকৃতি জানায় বা যাকাত আদায় না করে তাহলে আল্লাহতালা তার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করেছেন মহান আল্লাহতালা বলেছেন হে মমিনরা তোমরা শুনে রাখো ইহুদি ও খ্রিস্টানরা তারা কখনোই মানুষের প্রতি অর্থ সম্পদের দান করেনি এবং তারা অন্যের অন্যায় ভাবে মানুষের সম্পদ ভোগ করেছে এছাড়াও তাদের শোনার উপায় সঞ্জয় রয়েছে যে আল্লাহর পথে ব্যয় করে না তাদের জন্য যন্ত্রণাময় শাস্তি রয়েছে সুতরাং যদি তোমরা নিজেদের অর্থ-সম্পত্তি জমা রাখো তাহলে তার জমা রাখার জন্য তোমার এর শাস্তি উপভোগ করতে হবে সূরা তাওবাহ
রাসূল সাল্লাল্লাহু সাল্লাম বলেছেন যে যে ব্যক্তি তার সম্পদের যাকাত ফরজ হয়েছে কিন্তু জাকাত প্রদান করল না সেই ব্যক্তিকে কিয়ামতের দিন তার এই সম্পদ গুলো টাক মাথা বিশিষ্ট বিষধর সাপের আকৃতি তৈরি করা হবে এবং তার গলায় পরিয়ে দেওয়া হবে যে সাপটি তার মুখের দুই পাশে কামড় দিবে এবং বলতে থাকবে যে আমি তোমার সম্পদ আমি তোমার জমা দিতে সম্ভব সহি বুখারি তাই আপনার সম্পদ শুধু তোমাকেই তো করলে হবে না যদি এটা যাকাতের সমপরিমাণ টাকা হয়ে যায় সে ক্ষেত্রে অবশ্যই গরিবের এটা হক রয়েছে তাই আপনি সঠিক ভাবে যাকাত প্রদান করবেন
যাকাত শুধুমাত্র আমাদের নবীর উপরে যে পালন করার জন্য বলা হয়েছে তা কিন্তু নয় পূর্ববর্তী নবীদের উপর যাকাত আদায় করার জন্য বলা হয়েছে যেমন ইব্রাহিম আলাই সাল্লাম এবং তার বংশধরের আদায় করার কথা বলা হয়েছে সে ক্ষেত্রে মহান আল্লাহতালা তাদের মাধ্যমে মানুষকে সঠিক পথে আসার জন্য এই জায়গাটার অর্থ প্রদান করতে বলেছে এবং বিভিন্ন সময় ওহী নাযিল করে জানিয়ে দিয়েছে যে তোমরা নামাজ কায়েম করো এবং যাকাত প্রদান করবে তাই সর্বোপরি বলা যায় যে যদি যাকাতের কথা শুধু রাসুল সাল্লাহু সাল্লাম এর সময় উল্লেখ করা হয়নি পরবর্তী নবী রাসুলগণের উপর নামাজ এবং যাকাত ফরজ হিসেবে পালন করা আবশ্যক ছিল
তাই এতক্ষণে যে কোরআন হাদিসের আলোকে যাকাত সম্পর্কে আলোচনা করা হলো যদি আপনি সঠিকভাবে আদায় করতে পারেন তাহলে আপনার মনে প্রশান্তি পাবেন এবং সঠিকভাবে পালন করলে মনের ভিতরে শান্তি লাগবে তাই গরিব লোকদেরকে অবশ্যই আপনি আপনার সম্পদের প্রাপ্ত অংশটুকু তাদেরকে দিয়ে দিবেন তারা পরবর্তীতে সচ্ছলভাবে এবং তারা মনের ভিতর প্রশান্তি লাভ করবে এবং তাদের এটা অধিকার কেননা প্রত্যেকটা মানুষের ভালোবাসে সে সম্পর্কে নিজের জীবনকে বা গরিব দেখে আপনি বিলিয়ে দিতে পারেন তাহলে দেখবেন তারা আপনার এই সম্পদের বিনিময়ে জীবন বিলিয়ে দিত দ্বিধাবোধ তাই সম্পদের ভালোবাসার চাইতে অবশ্যই অন্যের অভাব দূর করায় আপনার নিকট পছন্দের আর মহান আল্লাহতালা এই ধনী গরিবের ভারসাম্য করার জন্যই যাকাতের ব্যবস্থা করেছেন
তাছাড়া যদি কোন মুসলমান সঠিকভাবে তার যাকাত ব্যবস্থা প্রদান করতে পারে এবং গরিবদেরকে সচ্ছল ভাবে চলার জন্য ব্যবস্থা করে দিতে পারে তা ক্ষুধার্ত ব্যক্তিদেরকে খাদ্য দান করতে পারে যাকাতের ব্যবস্থা থেকে সালাত পালন করে তাহলে অবশ্যই তার জন্য জান্নাত অবধারিত রয়েছে তাই অবশ্যই আপনি যাকাত পালন করবেন যদি আপনার উপর ফরজ হয়ে থাকে তাছাড়া ও যাকাত পালন করলে ধনী এবং গরিব এর মধ্যে একটি সেতুবন্ধন সৃষ্টি হয় এবং ধনী গরিবের ভেদাভেদ থাকে না তাদের মাঝে একটি ভাতৃত্ব বন্ধনে আবদ্ধ সৃষ্টি হয় তাই দারিদ্র্য বিবেচনের জন্য অবশ্যই যাকাত ব্যবস্থা প্রদান করা দরকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবশ্যই আমরা মুসলমান ভাই ভাই সেই ক্ষেত্রে যদি কোন আবার এক মুসলমান অভাবে থাকে তাকে যাকাতের অংশ থেকে হলেও আপনি তাকে উপকার করবেন এতে তার অভাব অনটন দূর হবে এবং কেয়ামতের দিন আল্লাহ তায়ালা আপনার অভাবগ্রস্ত থেকে মুক্তি দিবেন

এম আর মাহমুদ ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url