গর্ভাবস্থায় কলমি শাক খেলে কি হয়? জেনে নিন গর্ভবতীর জন্য নিরাপদ কিনা
অনেক গর্ভবতী মায়েরা কলমি শাক খেতে পছন্দ করে থাকে, তাই গর্ভাবস্থায় কলমি শাক খেলে কি হয়? এ সম্পর্কে হয়তো অনেকেই বিস্তারিত জানেনা। চলুন, এই কলমি শাকের পুষ্টি সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে জেনে নেওয়া যাক।
অনেক গর্ভবতী জানতে চায় যে, গর্ভাবস্থায় কলমি শাক খেলে কি হয়? বিভিন্ন ধরনের শাকের ভিতরে বিভিন্ন ধরনের পুষ্টি উপাদান থাকে। তবে কলমি শাকের ভিতরে বেশি পুষ্টি থাকে চলুন এ বিষয়ে জেনে নেওয়া যাক।
কলমি শাক গ্রামগঞ্জে সাধারণত বিভিন্ন জায়গায় হয়ে থাকে। এগুলো সাধারণত বাণিজ্যিক হিসেবে তেমন একটা চাষাবাদ করা হয় না। তাই রাস্তাঘাটে বা ক্ষেত খামারে আশেপাশে এই শাকগুলো হয়ে থাকে। এজন্য গ্রামের মানুষ এই সবগুলো তুলে তারা সহজভাবে খেতে পারে। এতে অনেক পুষ্টি পাওয়া যায়। পুষ্টিবিদরা মনে করেন নিয়মিতভাবে যদি একজন গর্ভবতী মা অল্প পরিমাণ করে কলমি শাক খায় সেক্ষেত্রে শরীরের বিভিন্ন ধরনের উপকার হবে। বিশেষ করে ক্যালসিয়াম, ভিটামিন সি ইত্যাদির চাহিদা পূরণ করে থাকে। এর মধ্যে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি থাকে যা ঠান্ডা কাশি থেকে বিরত রাখবে।
গর্ভবতী মায়েরা সাধারণত এই কলমি শাক খেয়ে থাকে। তবে এই কলমি শাক অনেকক্ষণ সময় ধরে রান্না করা যাবে না। এতে এর পুষ্টিগুণ নষ্ট হয়ে যাবে। এর মধ্যে ক্যালসিয়াম থাকে যা গর্ভবতী মায়ের এবং গর্ভস্থ শিশুর হাড় গঠন করতে ক্যালসিয়ামের প্রয়োজন। তাই এই কলমি শাক খেতে পারেন। তাছাড়া গর্ভবতী মায়েদের এই সময় সমস্যা দেখা দেয়। এই সময় কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা যায়। আর এই কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার জন্য কলমি শাক খেতে পারেন। কেননা এর মধ্যে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকে যা আপনার কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে দারুন কাজ করবে। এছাড়া এর মধ্যে এন্টিঅক্সিডেন্ট থাকে যা আপনার শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে দিবে।
এছাড়াও যাদের হজম সমস্যা, কিডনি, ইউরিক এসিডের সমস্যা রয়েছে। তারা কলমি শাক খাবেন না, এই ক্ষেত্রে বড় ধরনের সমস্যা হতে পারে। তবে যাদের কোন সমস্যা নেই তারা এই কলমি শাক খেতে পারেন। এর মধ্যে ভিটামিন এ, আয়রন ইত্যাদি রয়েছে যা গর্ভবতী মায়ের জন্য খুবই প্রয়োজন। এছাড়াও আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে দেবে। গর্ভবতী মায়েদের এই সময় রক্তস্বল্পতা দেখা যায় তাই রক্তস্বল্পতা দূর করার জন্য কলমি শাক খাওয়া যেতে পারে। কেননা এর মাঝে আয়রন রয়েছে যা আপনার রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধ করতে পারবে। তাছাড়া এটা আমাদের শরীরের জন্য অনেক উপকার।
যাদের উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে তারা কলমি শাক খেতে পারেন। কেননা এর মাঝে পটাশিয়াম থাকে যা উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে। হৃদরোগের রোগীদের ক্ষেত্রে অনেক উপকার করবে। এছাড়াও গর্ভবতী মায়েরা এ সময় ত্বকের যত্ন নিতে পারেন না এবং ত্বকে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। বিশেষ করে হরমোনাল সমস্যার কারণে ত্বকে বিভিন্ন ধরনের স্পট রয়েছে। সেক্ষেত্রে কলমি শাক খেতে পারেন। এতে আপনার শরীরে পটাশিয়ামে উপস্থিতি বৃদ্ধি পাবে। এর মধ্যে এন্টিঅক্সিডেন্ট থাকার কারণে ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পাবে এবং তাদের সমস্যা দূর করতে সাহায্য করবে।
যাদের ডায়াবেটিস রয়েছে তারা ডায়াবেটিসকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য কলমি শাক খেতে পারেন। যাদের এলার্জি সমস্যা রয়েছে তারা কলমি শাক খাওয়া থেকে বিরত থাকবেন। এছাড়া যারা নিম্ন রক্তচাপ সম্পন্ন মানুষ তাদের মাঝে মাঝে প্রেশার ডাউন হয়ে যায় সে ক্ষেত্র কলমি শাক খেলে আপনার শরীরে শক্তি পাবেন।তবে যাদের নিম্ন রক্তচাপ রয়েছে তারা অতিরিক্ত পরিমাণ খাবে না এতে করে সমস্যা দেখা দিতে পারে। এছাড়া গর্ভবতী এবং স্তন্যদান কারী মায়েরা সাধারণত চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কলমি শাক অতিরিক্ত খাবেন না এতে করে আপনার শরীরে ক্ষতি হতে পারে এবং গর্ভস্থ শিশুরও ক্ষতি হতে পারে।
লেখক, মোঃ মাহমুদুল ইসলাম, স্বাস্থ্যকর্মী, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, উল্লাপাড়া, সিরাজগঞ্জ।

এম আর মাহমুদ ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url