জিংক বি ট্যাবলেট এর অপকারিতা সম্পর্কে সঠিক তথ্য জেনে নিন

অনেকে জানতে চায়, জিংক বি ট্যাবলেট এর অপকারিতা সম্পর্কে। আসলে প্রত্যেকটা ঔষধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকে। তেমনি জিংক বি এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে। চলুন, এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।
ছবি
জিংক বি ট্যাবলেট আমাদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। এছাড়াও বিভিন্ন ধরনের উপকার করে থাকে, তবে অতিরিক্ত পরিমাণ খেলে অপকারিতা রয়েছে। তাই জিংক বি ট্যাবলেট এর অপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত জানার জন্য আর্টিকেলটি মনোযোগ দিয়ে পড়ুন।

জিংক বি ট্যাবলেট আমাদের শরীরে বিভিন্নভাবে উপকার করে, তবে কিছু পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া আছে। তবে তুলনামূলকভাবে তেমন একটা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। তবে অনেকের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যেতে পারে, যেমন এই ওষুধটি খাওয়ার পরে অনেকের বমি বমি ভাব হতে পারে। তাছাড়া অনেকের পেটের সমস্যা অনেকের বমি হওয়া এবং সর্বশেষ ডায়রিয়া হতে পারে। অনেকের দীর্ঘদিন যাবত এই জিংক বি ট্যাবলেট খেলে স্বাস্থ্য হয়ে যায়। এমনকি মোটা হয়ে যায়, দ্রুত ওজন বাড়তে থাকে। কেননা এটা খাওয়ার পরে অনেক রুচি বৃদ্ধি পায়, যার কারণে প্রচুর পরিমাণ ক্যালরিযুক্ত খাবার প্রতি আকর্ষণ থাকে।

এজন্য ক্যালোরি যুক্ত অতিরিক্ত খাওয়ার কারণে ওজন বৃদ্ধি পায়, তাই যে সকল শিশু উচ্চতা এবং খুবই কম তাদের সাধারণত জিং বি ট্যাবলেট খাওয়ালে তাদের উচ্চতা এবং স্বাস্থ্যগত সমস্যার ক্ষেত্রে উপকার করে থাকে। তবে জিংক বি ট্যাবলেট খেলে যে মোটা হবেন তা কিন্তু নয়, তবে পরিমাণমতো খেলে আপনি সুস্থ থাকবেন। অবশ্যই একজন চিকিৎসকের পরামর্শক্রমেই আপনাকে এই জিংক বি ট্যাবলেট খেতে হবে। তবে শিশুদেরকে বেশি পরিমাণ এই ট্যাবলেট খাওয়ানো যাবে না, জিঙ্ক বি ট্যাবলেট খেলে শরীরে যে ক্ষতিটা হতে পারে। যারা রুগী রয়েছে তাদের বিভিন্ন ডোজ রয়েছে এবং তাদের শরীরের মাত্রা অনুযায়ী খেতে হবে।

জিঙ্ক বি ওষুধ খাওয়ার ক্ষেত্রে অন্যান্য ওষুধ খেলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়, তার মধ্যে যেমন টেট্রাসাইক্লিন এই জাতীয় ঔষধ গুলো যদি আপনি জিংক বি এর সাথে মিশিয়ে খান সেক্ষেত্রে গ্যাস্টিকের সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাছাড়া পেটের বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাছাড়া শরীরের সিরাম লেভেলটা কমে যায়। এজন্য রোগীর অবস্থা বুঝে এই ওষুধ খাওয়া প্রয়োজন। তাছাড়াও এই ওষুধটি খাওয়ার পাশাপাশি অবশ্যই খাদ্য অভ্যাসও পরিবর্তন করতে হবে। তবে অতিরিক্ত পরিমাণ খাওয়া যাবে না, তাহলে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে বমি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে এবং পেটের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

জিংক বি ট্যাবলেট যখন আপনার শিশুকে খাওয়াবেন সে ক্ষেত্রে অবশ্যই একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নিবেন। কেননা একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার অবশ্যই আপনার ওষুধের ডোজ কমপ্লিট করে দিবে। আপনার শিশুটি যখন এই ট্যাবলেট খাবে, তখন শরীরে ক্ষতি হবে না। তবে নিয়ম অনুযায়ী না খেলে এই ট্যাবলেট শরীরে যে ক্ষতি করতে পারে, অনেকের গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং অনেকে বমি করতে পারে। তাই কোন খাবার খাওয়ার সাথে বা পরে খেতে পারেন। এই ট্যাবলেট টি খাওয়ার পরেও সাথে সাথেই যে দুধ বা কফি চা খান সে ক্ষেত্রে এই ওষুধের শোষণের ক্ষেত্রে সমস্যা হতে পারে।

এই ওষুধটি সাধারণত ক্যালসিয়াম ও আয়রন ওষুধের সাথে একসাথে খাওয়া যাবেনা। এই ক্ষেত্রে শোষণের বাধা সৃষ্টি করবে, কমপক্ষে ২ ঘণ্টা বিরত রাখতে হবে। এছাড়াও গর্ভবতী বা স্তন্যদানকারী নারীরা এই ওষুধটি খাওয়ার ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। যে সকল রোগীর কিডনি সমস্যা রয়েছে অথবা গ্যাস্ট্রিক, আলসার এবং আরো বড় ধরনের কিছু রোগের দীর্ঘদিন যাবত ওষুধ খাচ্ছেন তাদের অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে খেতে হবে। তাছাড়া যাদের আইবিএস অথবা হজমজনিত সমস্যা রয়েছে, তারা এই জিংক বি ট্যাবলেট খেলে তাদের আরো পরিপাকতন্ত্রের সমস্যা হবে।

জিংক বি ট্যাবলেট যদি অতিরিক্ত পরিমাণ খান সে ক্ষেত্রে হজমের সমস্যা দেখা দিবে। এছাড়াও অনেকের বমি হতে পারে বা পেটের ব্যথা, ডায়রিয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য বদহজম, অতিরিক্ত গ্যাস, এসিডিটি ইত্যাদি বৃদ্ধি পেতে পারে। তাছাড়া যদি এই ওষুধটা খাওয়া হয় সেক্ষেত্রে অনেকের মুখের স্বাদ বা গন্ধ পরিবর্তন হতে পারে। যদি আপনি দীর্ঘদিন যাবত এই ওষুধটি সেবন করেন সে ক্ষেত্রে কিন্তু আপনার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমতে থাকবে। কেননা এটা শোষণ প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে বাধা দিতে পারে। এই ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে আপনার শরীরে ইনফেকশন বা রোগের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

যদি আপনি জিংক বি ট্যাবলেট অতিরিক্ত খান সে ক্ষেত্রে কিন্তু শরীরে স্নায়বিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। এছাড়াও শরীরে ক্লান্তি আসতে পারে এবং অনেক দুর্বলতা দেখা দিতে পারে। তাই কখনো অতিরিক্ত এই ট্যাবলেট খাওয়া যাবে না, তাছাড়াও এই ট্যাবলেট যদি অতিরিক্ত খান সে ক্ষেত্রে ত্বকের এলার্জি, চুলকানি, বিভিন্ন ধরনের চর্ম রোগের সমস্যা দেখা দিতে পারে। অতিরিক্ত যদি এই ট্যাবলেট খাওয়া হয় সেগুলো রক্তের কোলেস্টেরলের পরিমাণ বৃদ্ধি পেতে পারে। এতে হৃদ রোগের যদি সমস্যা থাকে তাহলে স্ট্রোক করার ঝুকি থাকবে, এটা খাওয়ার কারণে হরমোনাল সমস্যা হতে পারে।

লেখক, মোঃ মাহমুদুল ইসলাম, স্বাস্থ্যকর্মী, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, উল্লাপাড়া, সিরাজগঞ্জ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

এম আর মাহমুদ ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url
Md. Mahmudul Islam
Md. Mahmudul Islam
আমি ডিজিটাল মার্কেটিং এক্সপার্ট ও সরকারি চাকরি করি। আমি অনলাইনে বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করে ইনকাম করি, এছাড়াও ব্লগিং, SEO ও টেকনোলজি বিষয় নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করি। এই কাজের উপর আমার ৩ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে।