গর্ভাবস্থায় বিচি কলা খেলে কি হয়? জেনে নিন কতটুকু নিরাপদ
অনেক গর্ভবতী মহিলা বিভিন্ন ধরনের কলা খেতে পছন্দ করে, তাই গর্ভাবস্থায় বিচি কলা খেলে কি হয়? এ সম্পর্কে হয়তো অনেকেরই জানা নেই। তাই এই সম্পর্কে জানা প্রয়োজন। চলুন, এ বিষয়ে বিস্তারিতভাবে জেনে নেওয়া যাক।
গর্ভবতী মায়েরা এই সময় বিভিন্ন ধরনের ফল খেতে পছন্দ করে তার মধ্যে খোলা অন্যতম। তবে গ্রাম অঞ্চলে সাধারণত বিচি খোলা কলা লোকজন খেতে পছন্দ করে। কিন্তু গর্ভাবস্থায় বিচি কলা খেলে কি হয়? এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানার জন্য পোস্টটি মনোযোগ দিয়ে পড়ুন।
বাংলাদেশে বিভিন্ন ধরনের কলা পাওয়া যায়, তার মধ্যে অন্যতম হলো বিচি কলা। যা গ্রাম অঞ্চলে সবচাইতে বেশি দেখা যায় এবং এর খরচ খুবই কম হয়, যার কারণে অনেকে খেয়ে থাকে। তবে শহরের লোকের তুলনায় সাধারণত গ্রামের লোকেরা এই ধরনের কলা বেশি খেয়ে থাকে। তাছাড়াও এই বিচি কলার অনেক গুনাগুন রয়েছে এবং শরীরের জন্য বিভিন্ন ধরনের উপকার করে থাকে। এছাড়া বিভিন্ন রোগের ক্ষেত্রে ভালো কাজ করে থাকে, তাই এই কলার খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তবে বিচি কলার মধ্যে বিভিন্ন ধরনের প্রকার থাকে এই কলা গুলোর মধ্যে প্রচুর পরিমাণে বেশি থাকে।
আবার অনেকগুলো অল্প বিচি থাকে আবার কিছুগুলো মিষ্টি হয় প্রচুর পরিমাণে, কিছুগুলো মিষ্টি কম হয়ে থাকে। গ্রাম অঞ্চলে প্রায় সারা বছরই এই গাছ দেখা যায় এবং বিচি কলা পাওয়া যায়। যার কারণে এটা গ্রামের লোকের কাছে অনেক চাহিদা, তারা সকালে দেখা যাচ্ছে যে বিচি কলা দিয়ে সাধারণত পান্তা ভাত অথবা মুড়ি দিয়ে নাস্তা করে থাকে। তাই এই বিচি কলা তাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই গর্ভবতী মহিলারাও এই বিচি কলা খেতে পারেন এটা দারুন কাজ করে থাকে।
বিচি কলার মধ্যে বিভিন্ন ধরনের পুষ্টি উপাদান থাকে তার মধ্যে যেমন ভিটামিন বি, এ, সি প্রচুর পরিমাণ ক্যালরি থাকে। এছাড়াও প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম এবং ভিটামিন ডি থাকে। এই পটাশিয়াম আমাদের শরীরের জন্য অনেক উপকার করে থাকে। বিশেষ করে যাদের উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে তাদের ক্ষেত্রে দেখা যায় যে পটাশিয়াম নিয়ন্ত্রণ করতে দারুন কাজ করে থাকে। তাই সে হিসেবে বিচি কলা খাওয়া যেতে পারে। তারা সাধারণত এই বিচি কলা খেতে পারেন, কেননা এটা দারুন কাজ করবে। গর্ভবতী মহিলাদের এই সময় বিভিন্ন ধরনের পুষ্টির প্রয়োজন হয় বিশেষ করে তাদের ভিটামিন বি এর অভাব দেখা যায় যা মুখে ঘা হয়ে থাকে।
এছাড়াও গর্ভবতী নারীদের জন্য আয়রন প্রয়োজন হয় সে ক্ষেত্রে বিচি কলাও খাওয়া যেতে পারে। এই উপাদানগুলো বিচি কলার মধ্যে পাওয়া যায়। এই বিচি কলার মধ্যে প্রচুর পরিমাণ লৌহ থাকে যা গর্ভবতী মায়ের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এর মধ্যে প্রচুর পরিমাণে নাইট্রোজেন, ক্যালসিয়াম আয়রন থাকে যা গর্ভবতী মায়ের গর্ভস্থ শিশুর বৃদ্ধির জন্য দারুন কাজ করবে। তাছাড়া গর্ভবতী মায়েদের সাধারণত এই সময় অনেক সময় পেটের সমস্যা হয়ে থাকে, তাই আমাশয় এর ক্ষেত্রেও দারুন কাজ করে থাকে। তবে যাদের কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা রয়েছে তারা এই বিচি কলা খাওয়া থেকে বিরত থাকবেন।
যাদের দীর্ঘদিন যাবত ডায়রিয়ার সমস্যা রয়েছে তারা বিচি কলা খেতে পারেন। এতে করে অনেক উপকার পাবেন এবং আমাশায় রোগ থেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন। তাছাড়া গর্ভবতী মহিলাদের অনেক সময় আলসার, গ্যাস্ট্রিক এই ধরনের সমস্যা হয়ে থাকে। যদি কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা না থাকে তাহলে অল্প পরিমাণ করে হলেও খাওয়া যেতে পারে। যারা অল্প সময়ের মধ্যে শক্তি পেতে চান তারা অবশ্যই এই বিচি কলা খেতে পারেন। এর মধ্যে প্রচুর পরিমাণে ক্যালোরি থাকে যা আপনার শক্তি যোগাতে সাহায্য করবে।
গর্ভবতী মহিলারা সাধারণত সকাল বেলা নাস্তার ক্ষেত্রে আপনি চিড়া, মুড়ি অথবা দই এর সাথে সাধারণত বিচি কলা মিশিয়ে খাওয়া যেতে পারে। এতে আপনার শরীরের শক্তি যোগাবে, এছাড়াও বিভিন্ন ধরনের উপকার করবে। এছাড়াও বিচি কলার শরবত বানিয়ে খেতে পারেন, তাদের প্রসাবের জ্বালাপোড়া বা এই ধরনের ধরনের সমস্যাগুলো দূর করতে দারুন কাজ করে থাকে। তাই গর্ভবতী মহিলা যাদের প্রসাবে ইনফেকশন রয়েছে বা প্রসাবের জ্বালাপোড়া করে থাকে। তারা সকালবেলা সাধারণত এই বিচি কলা পানির সাথে মিশিয়ে শরবত বানিয়ে খেতে পারেন, এভাবে জ্বালাপোড়া এবং প্রসাবের ইনফেকশন গুলো দূর হতে সাহায্য করবে।
বিচি কলার মধ্যে এক ধরনের প্রোটিন থাকে যা আপনার শরীরে প্রোটিনের চাহিদা পূরণ করবে। তাই গর্ভাবস্থায় যেহেতু প্রচুর পরিমাণে প্রোটিনের প্রয়োজন হয় এবং গর্ভস্থ শিশুর বৃদ্ধির জন্য প্রোটিন জাতীয় খাবার গুলো খেতে হয়। তাই মাছ মাংসের পাশাপাশি আপনি এই বিচি কলা খেতে পারেন। এতে আপনার প্রোটিনের চাহিদা পূরণ করবে। তাছাড়াও বিচি কলার ভিতরে যে উপাদান গুলো থাকে সেটা খাওয়ার চেষ্টা করে, এতে আপনার কিডনি বা মূত্র এর ক্ষেত্রে ভালো কাজ করে থাকে। কেউ যদি দুটি কলা একসাথে খেতে পারে, সে ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে সে ৯০ মিনিটের মত কাজ করবে এরকম শক্তি সে পাবে।
বিচি কলার মধ্যে এমন কিছু পুষ্টি উপাদান থাকে যা আপনার ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধে কাজ করতে পারবে। এছাড়াও বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ থেকে দূরে রাখবে। তাছাড়া গর্ভবতী মহিলাদের অনেক সময় বিভিন্ন ধরনের খাদ্য খেতে পছন্দ হয় না, সে ক্ষেত্রে এই বিচি কলা খাওয়া যেতে পারে। অল্প পরিমাণ করে খেলে শরীরের বিভিন্ন ধরনের উপকার পাওয়া যাবে। তাই গর্ভবতী মহিলাদেরকে সাধারণত এই বিচি কলার সাথে অল্প পরিমাণ মুড়ি নিয়ে খাওয়া যেতে পারে। এতে তার শরীরে পুষ্টির উপাদানও বৃদ্ধি পাবে, এছাড়া কিছু ক্যালোরি শক্তি পেতে সাহায্য করবে। উপরোক্ত বিষয়গুলো যদি আপনি অনুসরণ করতে পারেন তাহলে গর্ভস্থ শিশুর বৃদ্ধি পেতে সাহায্য করবে।
লেখক, মোঃ মাহমুদুল ইসলাম, স্বাস্থ্যকর্মী, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, উল্লাপাড়া, সিরাজগঞ্জ।

এম আর মাহমুদ ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url