মুগ ডাল খেলে কি হয়? জেনে নিন শরীরের জন্য কতটুকু নিরাপদ
আমরা অনেকে মুগ ডাল খেতে পছন্দ করি। তাই মুগ ডাল খেলে কি হয়? এ সম্পর্কে জানা থাকলে আপনার উপকার হবে। কিভাবে খেলে আমাদের শরীরের জন্য উপকার হবে সে সম্পর্কে চলুন বিস্তারিতভাবে জেনে নেওয়া যাক।
আমরা ভাতের সাথে বা বিভিন্ন খাবারের সাথে বিভিন্ন ধরনের ডাল খেতে পছন্দ করি। তার মধ্যে রুটি পরোটা ভাতের সাথে সাধারণত মুগ ডাল খেতে বেশি পছন্দ করে থাকি। তাই মুগ ডাল খেলে কি হয়? এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানার জন্য আর্টিকেলটি মনোযোগ দিয়ে পড়ুন।
আমরা বাঙালিরা সাধারণত ভাত খেতে বেশি পছন্দ করি। তার সাথে ডাল আরও বেশি পছন্দ করে থাকি। এছাড়াও রুটি, পরোটার সাথে ডাল দিয়ে খেতে খুবই ভালো লাগে। হালকা নাস্তার ক্ষেত্রেও আমরা অল্প পরিমাণ ডাল দিয়ে বিভিন্ন ধরনের খাবার খেতে খেয়ে থাকি। তাই বিভিন্ন ধরনের ডাল রয়েছে যার মধ্যে যেমন মুগ ডাল খুবই সুস্বাদু হয়ে থাকে এবং আমাদের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মুগ ডাল দিয়ে ভাত খেতে আরও সুস্বাদু লাগে সে ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের উপকারও আছে। চলুন, মুগ ডাল আমাদের কিভাবে উপকার করে সে সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে জেনে নেওয়া যাক। আপনি যদি নিয়মিত ভাবে মুগ ডাল খেতে পারেন।
তবে পরিমাণ মতো খেতে হবে তাহলে দেখবেন শরীরের ওজন ঠিক থাকবে, বিশেষ করে ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন। কেননা এর মধ্যে যে পুষ্টি উপাদান থাকে তা আমাদের শরীরে বিভিন্ন ধরনের উপকার করবে। এই মুগ ডাল বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে তার মধ্যে খোসা ছাড়া হয়ে থাকে অথবা খোসা সহ পাওয়া যায়। আমরা ডাল হিসেবে যে মুগ ডালটা খেয়ে থাকি সেটা খোসা ছাড়া হয়ে থাকে, এই ধরনের খোসা ছাড়া ডালগুলোর মধ্যে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকে এবং প্রোটিন রয়েছে। এছাড়াও এর মধ্যে ক্যালোরি খুবই কম যার কারণে আমরা যদি এই মুগ ডাল খেয়ে থাকি, তাহলে ওজন বাড়বে না বরং নিয়ন্ত্রণ করবে।
তাছাড়াও যাদের হজমের সমস্যা রয়েছে, তারাও এই ডাল খেতে পারেন। কেননা এর মধ্যে ফাইবার রয়েছে, আর ফাইবার হজম শক্তির ক্ষেত্রে ভালো কাজ করে থাকে। তাই আপাতত দিনে দুইবার করেও অল্প পরিমাণ করে মুগডাল করে খেতে পারেন। যা আপনার হজমশক্তির ক্ষেত্রে দারুন কাজ করবে। তাছাড়াও মুগ ডাল যদি আপনি ভিজিয়ে রাখেন এরপরে কাচা চিবিয়ে যদি খেতে পারেন, সে ক্ষেত্রে দারুন কাজ করবে এবং বিশেষ করে হজমের ক্ষেত্রে ভালো উপকার করে থাকে। আপনি যদি এই মুগ ডাল নিয়মিতভাবে খেতে পারেন সে ক্ষেত্রে আপনার হার্ট ভালো থাকবে।
কেননা এর মধ্যে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে যা আপনার হার্টকে সুস্থ রাখতে ভালো লাগবে এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাবে। এছাড়াও পটাশিয়াম আপনার উচ্চ রক্তচাপ কমাতেও গুরুত্বপূর্ণ কাজ করবে নিয়ন্ত্রণ করবে। যার কারণে আপনার হার্টের অসুখের ক্ষেত্রে ঝুঁকি কম থাকবে। তাছাড়াও বিশেষজ্ঞরা বলেছেন যে যদি আমাদের শরীরে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে চায়, তাহলে মুগ ডাল খাওয়া যেতে পারে। তাই গরমের দিনের সাধারণত শরীরকে ঠান্ডা রাখার জন্য মুগ ডাল খাওয়া যেতে পারে। কেননা অনেকেই গরমে হিট স্ট্রোকের হওয়ার সম্ভাবনা থাকে তাই এই ধরনের স্ট্রোককে কমাতে পারে।
আপনি মুগ ডাল খেতে পারেন, তাছাড়াও যাদের পেট পরিষ্কার নেই তারা এই মুগডাল খাওয়া যেতে পারে।কেননা এর মধ্যে ফাইবার থাকে তাই যাদের পেট পরিষ্কার হয় না বা কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা রয়েছে, তারা মুগডাল খেতে পারেন। এই ক্ষেত্রে দেখবেন আপনার কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়ে যাবে, এই মুগডাল এর মধ্যে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন থাকে বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন পাওয়া যায় তার মধ্যে যেমন ভিটামিন বিটামিন কে ভিটামিন সি ইত্যাদি রয়েছে। যা আমাদের শরীরের জন্য এই ভিটামিন গুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তাই যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম তারা এই ডাল খেতে পারেন।
এতে করে আপনার উপকার হবে কেননা এর ভিতরে এন্টিঅক্সিডেন্ট এবং ভিটামিন সি থাকে, যা আপনার শরীরের ভিতরে বিভিন্ন ধরনের রোগের সংক্রমণকে প্রতিহত করবে। এই ডালের মধ্যে যে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে তা আপনার বিভিন্ন ধরনের রোগের বিরুদ্ধে কিভাবে কাজ করে তা হল যেমন যে সকল রোগের জন্য কাজ করে তার মধ্যে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করবে। যাদের ডায়াবেটিসের সমস্যার সাথে তাদের ডায়াবেটিস কে নিয়ন্ত্রণ করবে। এছাড়াও আপনার শরীরের মস্তিষ্কের স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করবে এবং কোষগুলোকে সুস্থ রাখবে। তাছাড়া আপনার এই কোষগুলো নিয়ন্ত্রণ করার কারণে ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে থাকে।
যাদের অ্যানিমিয়ার সমস্যা রয়েছে বিশেষ করে গর্ভবতী মায়েদের এই সময় প্রচুর পরিমাণ আয়রনের প্রয়োজন হয়। এক্ষেত্রে তাদের আয়রনের স্বল্পতা দেখা যায় তাই এই মুগ ডালটি খাওয়া যেতে পারে। কেননা এর মধ্যে প্রচুর পরিমাণে লৌহ থাকে বা আয়রন থাকে যা আপনার রক্তকণিকাকে উৎপাদন করতে সাহায্য করবে। এছাড়াও অ্যানিমিয়ার মত যে রোগগুলো রয়েছে তার দূর করতে সাহায্য করে থাকে। এক গবেষণায় দেখা গেছে যে এক গ্রামের প্রচুর পরিমাণে অ্যানিমিয়ার সমস্যা ছিল যা কয়েকজন ব্যক্তির উপরে পরীক্ষা করা হয়ে থাকে।
যার কারণে তাদেরকে মুখ ডাল খাওয়ানো হয় এরপরে পরবর্তীতে দেখা যাচ্ছে যে অ্যানিমিয়ার সমস্যা কয়েকদিন পরে অনেকটাই দূর হয়ে গেছে, যার কারণে বোঝা যাচ্ছে যে এই মুগ ডাল অ্যানিমিয়া দূর করতে দারুন কাজ করবে। তাছাড়াও যাদের ত্বকের সমস্যা রয়েছে বা বিভিন্ন মানসিক চাপ তাছাড়া পরিবেশ পরিস্থিতির কারণে অল্প বয়সে দেখা যায় ত্বক সমস্যা হয়ে যায় ত্বকের সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে যায়, যার কারণে আপনাকে টেনশনে থাকে থাকতে হয়। এজন্য এই ধরনের ত্বকের সমস্যা বা সৌন্দর্যকে ফিরে আনতে আপনার মুগ ডাল খেতে পারেন।
পাশাপাশি যদি আপনি মুগডাল পাটায় বেটে এটা যদি আপনি পেস্ট বানিয়ে এরপরে মুখে প্রতিদিন সকালবেলা লাগাতে পারেন, সে ক্ষেত্রে আপনার ত্বকের সৌন্দর্য ফিরে আসবে। কারণ এর মধ্যে ভিটামিন সি রয়েছে যা আপনার ত্বক উজ্জ্বলতাকে ফিরিয়ে আনতে দারুন কাজ করবে। তবে একটু সময় লাগতে পারবে সেজন্য আপনার অবশ্যই ফেসপ্যাক টা বানিয়ে দীর্ঘদিন দিতে হবে। এছাড়াও ধৈর্য ধারণ করে যদি আপনি দিতে পারেন তাহলে ধীরে ধীরে আপনার চোখের নিচে বলি রেখা অথবা ত্বকের বলিরেখা দূর করতে দারুন কাজ করবে। এই মুগ ডাল আমাদের শরীরের হাড়কে শক্ত করতে সাহায্য করবে।
কেননা এর মধ্যে ক্যালসিয়াম রয়েছে তাছাড়া গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে ক্যালসিয়ামের প্রয়োজন হয়। কেননা এ সময় শিশুর হাড়কে শক্ত করতে সাহায্য করে থাকে। তাই এই মুগ ডাল অল্প পরিমাণ করে খাওয়া যেতে পারে। এছাড়াও এর মধ্যে খনিজ পদার্থ রয়েছে যা আপনার শরীরের স্বাস্থ্যের উন্নত ঘটাবে। এছাড়াও যাদের কোমর ব্যথা এবং হাটু ব্যথা রয়েছে তারা নিয়মিতভাবে মুগডাল খেতে পারেন। যাদের কোমর ব্যথা বা হাঁটু ব্যথা যাদের রয়েছে তারা এই মুগ ডাল খেতে পারেন। কেননা এর মধ্যে ক্যালসিয়াম থাকে যা আপনার এই ধরনের ক্যালসিয়ামের অভাবে কারণে যে সমস্যাগুলো হয়ে থাকে সেটা দূর করতে সাহায্য করবে।
তাই সর্বোপরি বলা যায় যে যদি আপনি নিয়মিত ভাবে অল্প পরিমাণে মুগ ডাল খেতে পারেন, তাহলে দেখবেন আপনার শরীরের বিভিন্ন ধরনের উপকার করবে তবে অতিরিক্ত কখনোই খাবেন না। এই ক্ষেত্রে আপনার পেটের সমস্যা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা হতে পারে, তবে আপনি যদি বড় ধরনের কোন রোগ ব্যাধিতে ভুগতে থাকেন সেক্ষেত্রে অবশ্যই একজন চিকিৎসকের বা বিশেষজ্ঞ পুষ্টিবিদের সহযোগিতা নিতে পারেন। যেভাবে আপনাকে ডায়েট চাট করে দিবে সে অনুযায়ী আপনি খেলে উপকার পাবেন। আশাকরি আপনি মুগ ডাল সম্পর্কে পুরোপুরি ধারণা পেয়েছেন।
আজকের এই আর্টিকালের লেখক, মোঃ মাহমুদুল ইসলাম, স্বাস্থ্যকর্মী, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, উল্লাপাড়া, সিরাজগঞ্জ।

এম আর মাহমুদ ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url