মালয়েশিয়া থেকে সিঙ্গাপুর যাওয়ার উপায় সম্পর্কে সর্বশেষ তথ্য জানুন

অনেকে জানতে চায় মালয়েশিয়া থেকে সিঙ্গাপুর যাওয়ার উপায় সম্পর্কে। আসলে এই দুইটি রাষ্ট্র পাশাপাশি হওয়ার কারণে অনেকে বিভিন্ন উপায়ে যাওয়ার চেষ্টা করে থাকে। চলুন, কিভাবে গেলে অসুবিধা হবে না সে সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে জেনে নেওয়া যাক।
ছবি
অনেকে দীর্ঘদিন যাবত মালয়েশিয়াতে কাজকর্ম করে থাকে কিন্তু সেখানে যে বেতনে কাজ করে তার চেয়ে বেশি বেতন দিয়ে থাকে সিঙ্গাপুর। যার কারণে সিঙ্গাপুর যেতে চায়, তাই মালয়েশিয়া থেকে সিঙ্গাপুর যাওয়ার উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত জানার জন্য পোস্টটি মনোযোগ দিয়ে পড়ুন।

আপনি যদি বাংলাদেশী হয়ে থাকেন, সেক্ষেত্রে হয়তো দীর্ঘদিন যাবৎ মালয়েশিয়াতে কাজ করছেন। বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ মালয়েশিয়ায় বেশি কাজ করে থাকে এবং এখানে যাওয়ার জন্য খরচ কম হয় কিন্তু সিঙ্গাপুর বাংলাদেশ থেকে যাওয়ার ক্ষেত্রে অনেক টাকা খরচ হয়ে থাকে। যার কারণে অনেকেই সরাসরি সিঙ্গাপুর যেতে পারে না। এজন্য অনেক প্রবাসীরা বেশি টাকা আয় করার জন্য তারা মালয়েশিয়া থেকে সিঙ্গাপুর যেতে চায়। এক্ষেত্রে কিভাবে কম খরচে এবং সহজ উপায় যাওয়া যায় সেটা হয়তো অনেকের জানা নেই। এজন্য আপনাকে কিছু পদ্ধতি অবলম্বন করতে হবে।

আপনি যদি মালয়েশিয়া থেকে সীমান্ত দিয়ে যেতে চান সে ক্ষেত্রে সিঙ্গাপুর যাওয়ার জন্য যে সীমান্ত রাস্তা রয়েছে। সেটা আপনাকে অতিক্রম করতে হবে, এছাড়াও আপনি বাই রোডে সিঙ্গাপুর যেতে পারবেন। সেক্ষেত্রে মাত্র ৩৫০ কিলোমিটার এর মত। এতে পাঁচ থেকে ছয় ঘন্টার মত সময় লাগবে। এক্ষেত্রে ভাড়াও খুবই কম হয়ে থাকে। আপনি বাস এর মাধ্যমে যেতে পারেন সে ক্ষেত্রে আপনার ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকার মত খরচ হতে পারে। একটি বৈধ রাস্তা যা হাইওয়ে রাস্তা বলা হয়ে থাকে। এর নাম নর্থ সাউথ নর্থ সাউথ এক্সপ্রেসওয়ে।

আপনি মালয়েশিয়া থেকে সিঙ্গাপুর যাওয়ার জন্য আরো একটি সীমান্ত পথ দিয়ে যেতে পারেন। যেমন খুবই সহজ একটি রাস্তা এবং বৈধ উপায় যাওয়া যাবে।যেমন বাংলাদেশ থেকে আপনি যদি ভারতে যেতে চান সে ক্ষেত্রে যশোরের বেনাপোল যে বন্দরটি রয়েছে তার মাধ্যমে আপনি যেতে পারবেন, ঠিক তেমনি মালয়েশিয়া থেকে সিঙ্গাপুরে যাওয়ার ক্ষেত্রে যে বর্ডারটি রয়েছে তার নাম হলো জাহুর বারু এই সীমান্ত দিয়ে আপনি সহজ ভাবে যেতে পারবেন। এই ক্ষেত্রে অনেকেই মালয়েশিয়া থেকে সিঙ্গাপুরে যাচ্ছে তবে এক্ষেত্রে আপনি যদি মালয়েশিয়ার নাগরিক হয়ে থাকেন সেক্ষেত্রে আপনার কোন ভিসা লাগবে না কিন্তু যদি আপনি ভ্রমন করার উদ্দেশ্য গিয়ে থাকেন তাহলে আপনার ভিসা করতে হবে।

অনেকেই মালয়েশিয়াতে দীর্ঘদিন থাকার পরে পরবর্তীতে সিঙ্গাপুরে জাহুর বারু বর্ডারের পাশাপাশি যেকোন পেশার সাথে নিযুক্ত হয়ে যান এবং বিভিন্ন ধরনের প্রফেশনাল কাজ করে থাকেন। অনেকেই চাকরি করে থাকে সিঙ্গাপুরে সকল কিছু দাম বেশি যার কারণে অনেকেই এখানে জব করে এবং বিকালে বা রাত্রিতে বর্ডার দিয়ে এসে মালয়েশিয়াতে রাত্রিতে থাকে বা অনেকেই বাসা ভাড়া করে থাকেন। যার কারণে খুবই কম খরচ থাকে, এভাবে আপনি দীর্ঘদিন মালয়েশিয়া থাকার পরে নাগরিকত্ব অর্জন করে সিঙ্গাপুরের জব করতে পারেন। রাত্রিতে মালয়েশিয়া থাকবেন এতে আপনার খুবই কম খরচ হবে।

যখন আপনি মালয়েশিয়া থেকে এই বর্ডারের মাধ্যমে সিঙ্গাপুর যাবেন সেক্ষেত্রে রাস্তার দুই পাশে খুবই সুন্দর মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যদের দেখতে পারবেন। তাই যারা ভ্রমণ করার উদ্দেশ্যে যেতে চান তারা মালয়েশিয়া থেকে সরাসরি সিঙ্গাপুর যেতে পারেন। এক্ষেত্রে খুবই কম খরচ হবে, যদি আপনি বাংলাদেশ থেকে সিঙ্গাপুর যেতে চান সে ক্ষেত্রে সরাসরি গেলে ভ্রমণ করার জন্য অনেক টাকা খরচ হবে, সে ক্ষেত্রে আপনি সরাসরি মালয়েশিয়াতে যাওয়ার জন্য ভিসা করবেন পাশাপাশি সিঙ্গাপুরের ভিসা করবেন। এরপরে আপনার ভিসার মেয়াদ অনুযায়ী ততদিন মালয়েশিয়া থাকতে পারবেন এরপরে পরবর্তীতে সিংগাপুর চলে যাবেন।

তাছাড়া আপনি যদি মালয়েশিয়া থেকে কাজের উদ্দেশ্যে সিঙ্গাপুর যেতে চান সে ক্ষেত্রে কিন্তু মালয়েশিয়ার নাগরিকত্ব হতে হবে। তাছাড়াও যে কাজের জন্য যাবে সেটা অবশ্যই দক্ষতা সম্পন্ন হতে হবে। কেননা সিঙ্গাপুর উন্নত রাষ্ট্র যেখানে দক্ষতা সম্পন্ন লোকদেরকে বেশি নিয়োগ দিয়ে থাকে এবং বেশি বেতন দিয়ে থাকে। তাই আপনি যদি যেতে চান তাহলে আপনি মালয়েশিয়া থেকে সিঙ্গাপুরের এম্বাসিতে গিয়ে ভিসা করতে পারেন। এরপরে সহজভাবে যেতে পারবেন তবে এক্ষেত্রে অবশ্যই এজেন্সির সহযোগিতা নিতে হবে। এজন্য আপনার সকল প্রয়োজন কাগজপত্র লাগবে।
তবে আপনি ভ্রমণ ভিসায় অথবা যেকোনো পেশার জন্যও যদি যেতে চান সে ক্ষেত্রে আপনার প্রয়োজনীয় কিছু কাগজপত্র লাগবে। অবশ্যই অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে এবং অনলাইন থেকে আবেদন ফরম ডাউনলোড করে তারপরে সঠিকভাবে তথ্যগুলো দিবেন। সঠিক তথ্য আপনাকে দিয়ে ফরমটি পূরণ করতে হবে। এছাড়া আপনার যদি কোন পরিচিত ব্যক্তি সিঙ্গাপুর থেকে থাকে তার স্থানীয় অথবা এর পরিচয় বহনকরে এই রকম একটি কার্ড এর ফটোকপি লাগবে। যদি আপনার পরিচিত কেউ স্থানীয় অধিবাসী না থাকে সে ক্ষেত্রে হোটেল বুকিং বা ফিরতি যে বুকিং টিকিট রয়েছে সেটার ফটোকপি দিতে হবে।

তাছাড়া পাসপোর্ট সাইজের ছবি লাগবে, অবশ্যই সাম্প্রতিক তোলা হতে হবে। এছাড়াও আপনার মালয়েশিয়ায় থাকাকালীন যে সাম্প্রতিক পাসপোর্ট করা রয়েছে যার মেয়াদ ছয় মাস থাকতে হবে। এই ধরনের পাসপোর্ট যে পাসপোর্ট এর সকল ঠিকানা থাকবে এবং নিজের ছবিও থাকবে। এরপরে আবেদন করার জন্য ভিসা ফি দিতে হবে। এক্ষেত্রে আপনার খরচ পড়বে ৩ হাজার টাকার মতো। এ সকল ডকুমেন্টস গুলো যদি আপনার সঠিক ভাবে থাকে তাহলে ৫-৭ দিনের মতো সময় লাগবে। এরপর আপনাকে আবেদন পত্র নিজেই জমা দেওয়া লাগবে। তবে সাধারণত এজেন্সির মাধ্যমে জমা দিলে দ্রুত গতিতে কাজ হবে।

তবে আপনি যখন মালয়েশিয়া থেকে সিঙ্গাপুরে যাবেন সেই ক্ষেত্রে মালয়েশিয়া অবস্থিত সিঙ্গাপুরের যে হাইকমিশন রয়েছে, তাদের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আপনাকে সকল তথ্য জেনে নিতে হবে। তাদের ওয়েবসাইট হল http://www.mfa.gov.sg এরপরে আপনি এখানে সকল তথ্য পাবেন। তাছাড়া অল্প সময়ের মধ্যেই সিঙ্গাপুরের প্রবেশ করতে পারবেন। এক্ষেত্রে মালয়েশিয়া যারা নাগরিক রয়েছে তারা যদি ভ্রমণ করার উদ্দেশ্যে যায়, তাহলে তাদের অল্প সময়ের জন্য গ্রহণ করার ক্ষেত্রে কোন ভিসা প্রয়োজন হবে না কিন্তু যদি দীর্ঘ সময়ের জন্য বা কাজের জন্য যেতে চায় সেক্ষেত্রে কিন্তু আপনার সমস্ত কাগজপত্র প্রস্তুত রাখতে হবে।

আপনি মালয়েশিয়া থেকে সিঙ্গাপুরে যাওয়ার ক্ষেত্রে বিভিন্ন উপায়ে যেতে পারবেন তার মধ্যে বাসের মাধ্যমে যাওয়া যাবে, ট্রেন বিমান ইত্যাদির মাধ্যমে যাওয়া যেতে পারেন। সে ক্ষেত্রে আপনি যদি দ্রুতগতিতে বিমানের মাধ্যমে ফ্লাইট করতে চান সে ক্ষেত্রে আপনার ৩০০০ টাকা থেকে ৫০০০ টাকার মত লাগবে। এজন্য আপনি অবশ্যই বিভিন্ন অনলাইনে মাধ্যমে বিমান কোম্পানির ওয়েবসাইট থেকে টিকিট সংগ্রহ করতে পারবেন। তবে অবশ্যই কিন্তু ফিরতি টিকিটের ব্যবস্থা করতে হবে এবং তার ডকুমেন্ট রাখতে হবে। তাই আপনি বিমানের মাধ্যমে গেলে দ্রুত গতিতে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই যেতে পারবেন।

যেহেতু এই দুটি রাষ্ট্র খুবই পাশাপাশি অবস্থিত যার কারণে আপনি জহর বারু এই সীমান্ত দিয়ে খুবই সহজভাবে সিঙ্গাপুর যেতে পারবেন। এক্ষেত্রে আপনি বাসের মাধ্যমে যেতে পারেন খুবই সহজে যাওয়া যাবে। এমনকি ভাড়াও কম লাগবে সাধারণত অধিকাংশ মানুষ এখানকার বাসের মাধ্যমে গিয়ে থাকে। কেননা অনেক সুন্দর সুন্দর বাস রয়েছে যার ভাড়া খুবই কম। তাছাড়া সার্ভিস অনেক ভালো এছাড়া আপনি ট্রেন যেতে পারেন। এটা খুবই আরামদায়ক এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন। এক্ষেত্রে টিকিটের মূল্য মাত্র ২৫ মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত।

তাছাড়া আপনি বিমানের মাধ্যমে যেতে পারেন এক্ষেত্রে আপনার ভাড়া একটু বেশি পড়বে সে ক্ষেত্রে প্রায় ১০০ মালয়েশিয়া রিংগিত দিতে হবে। এক্ষেত্রে যদি আপনি বাসের মাধ্যমে যেতে চান সে ক্ষেত্রে পুরো বাস যদি ভাড়া করতে চান, তাহলে তাহলে দেখা যাচ্ছে আপনি নিজে ড্রাইভিং করে যেতে পারবেন। এক্ষেত্রে অনেক সময় অসুবিধা সম্মুখীন হতে হয় তবে এখানে প্রায় দ্বিগুণ ভাড়া লাগবে। আর যদি ট্রেনের মাধ্যমে যান তাহলে কিন্তু প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন। উপরোক্ত পদ্ধতি গুলোর মাধ্যমে সহযে সিঙ্গাপুর যেতে পারবেন। আশা করি আপনি এই পোষ্টের মাধ্যমে একটু হলেও উপকৃত হবেন।

আর্টিকেলটির লেখক, মোঃ মাহমুদুল ইসলাম। বি, এ অনার্স; জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

এম আর মাহমুদ ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url
Md. Mahmudul Islam
Md. Mahmudul Islam
আমি ডিজিটাল মার্কেটিং এক্সপার্ট ও সরকারি চাকরি করি। আমি অনলাইনে বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করে ইনকাম করি, এছাড়াও ব্লগিং, SEO ও টেকনোলজি বিষয় নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করি। এই কাজের উপর আমার ৩ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে।