রক্তে কোলেস্টেরল বেড়ে গেলে কি কি সমস্যা হয় সঠিক তথ্য জেনে নিন
অনেকের রক্তের কোলেস্টেরল বেড়ে যায় তাই রক্তে কোলেস্টেরল বেড়ে গেলে কি কি সমস্যা হয়? এ সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানা থাকলে, রক্তের কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন। চলুন, রক্তের এ সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে জেনে নেওয়া যাক।
রক্তে কোলেস্টেরল বেড়ে গেলে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দেয়, তবে কিভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন সেটা জানা প্রয়োজন। তাই রক্তে কোলেস্টেরল বেড়ে গেলে কি কি সমস্যা হয়? এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানার জন্য আর্টিকেলটি মনোযোগ দিয়ে পড়ুন।
যারা অনিয়ন্ত্রিত জীবন যাপন করে, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যগুলো খেয়ে থাকে তাদের সাধারণত এই ধরনের রক্তের কোলেস্টেরল বেড়ে যায়। আর যদি রক্তের কোলেস্টেরল বাড়তি থাকে তাহলে তার বড় ধরনের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। রক্তের কোলেস্টেরল দুই ধরনের হয়ে থাকে বিশেষ করে কিছু কিছু কোলেস্টেরলের ভালো কাজ করে থাকে, আর কিছু খারাপ কোলেস্টেরল রয়েছে যেগুলো বৃদ্ধি পেলে আমাদের শরীরে বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে। যদি আপনার শরীরে কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ করতে না পারেন তাহলে মারাত্মক ধরনের বিপদ হতে পারে।
যদি আপনার এই খারাপ কোলেস্টেরল বেড়ে যায় তাহলে হৃদরোগ, হার্ট অ্যাটাক, এমনকি হার্ট ব্লক হওয়ার সম্ভাবনা থাকে কিন্তু অনেকেই এই রক্তের কোলেস্টেরল বেড়ে যাওয়াকে অবহেলা মনে করে এবং এটা নিয়ে কোন চিকিৎসা করে না। আবার অনেক সময় এর লক্ষণ তেমন একটা প্রথম অবস্থায় দেখা যায় না, তবে প্রাথমিক অবস্থায় যদি দেখা দেয় তাহলে এর চিকিৎসা করা জরুরী। যদি আপনার কোলেস্টেরল বৃদ্ধি পায় সে ক্ষেত্রে কিছু উপসর্গে দেখা দিতে পারে। চলুন সেই বিষয়ে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা যাক। যদি আপনার খারাপ কোলেস্টেরল বৃদ্ধি পেয়ে থাকে সেই ক্ষেত্রে বুকে চাপ লাগতে পারে।
কেননা এই খারাপ কোলেস্টেরল বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে রক্ত প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে এবং চাপ দেয়। যার কারণে ব্যথা হতে পারে, এটা মূলত স্ট্রোকের পূর্ব লক্ষণ হিসেবে ধরা যেতে পারে। তাছাড়া রক্তে খারাপ কোলেস্টেরল বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে আপনার রক্ত প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে, যার কারণে আপনার ঘাড়, কাঁধ এবং চোয়ালে ব্যথা অনুভূতি সৃষ্টি হয়। এতে করে আপনার যখন কোলেস্টেরল অতিরিক্ত বৃদ্ধি পেয়ে যাবে সেই ক্ষেত্রে পায়ে টানটান লাগবে, এছাড়াও প্রচুর পরিমাণে ব্যথা করবে। যদি আপনি বিশ্রামে থাকেন তাহলেও দেখা যাচ্ছে ব্যথা হতে পারে।
আপনার যদি রক্তের খারাপ কোলেস্টেরল বৃদ্ধি পেতে থাকে সেই ক্ষেত্রে আপনার শরীরের স্নায়ুতন্ত্র গুলোতে এবং পেশীতে রক্ত চলাচল করতে পারে না। সেই ক্ষেত্রে আপনার দেখা যাচ্ছে ঝিমঝিম ভাব হতে পারে অথবা অবসের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। যখন আপনার এই খারাপ কোলেস্টেরল গুলো বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে দেখা যাচ্ছে যে মানুষের প্রত্যেকটা অঙ্গ-পতঙ্গের অক্সিজেন সরবরাহ করতে অসুবিধা হয় বা বাধা সৃষ্টি হয়। যার কারণে শরীর অনেক দুর্বল লাগে এবং ক্লান্তি বোধ সৃষ্টি হয়। অনেকের দেখা যাচ্ছে সবসময় মাথাব্যথা করে বা মাথা ঘুরায়।
অনেকের মাথা ঘুরানো শুরু হয় এটা কি কারণে হচ্ছে এটা অনেকে বুঝতে পারে না। তবে অনেক সময় রক্তের কোলেস্টেরল বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে মাথা ঘুরাতে পারে। কেননা মস্তিষ্কে রক্ত চলাচলের ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি হওয়ার কারণে মাথাব্যথা এবং মাথা ঘুরাতে থাকে। এক্ষেত্রে অতিরিক্ত হওয়ার কারণে অনেক সময় ব্রেন স্ট্রোকও করতে পারে। অতিরিক্ত কোলেস্টেরল বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে দেখা যাচ্ছে তার চোখের পাতার ভেতর দিয়ে চর্বিযুক্ত হলুদ রোগের আভাস দেখা যায়। যেটা মূলত রক্ত চলাচল বাধা প্রাপ্ত হওয়ার কারণেই এই ধরনের সমস্যাটা হয়ে থাকে। অনেকের গ্যাস্ট্রিক অথবা বদহজমের সমস্যা হতে পারে।
তবে আসলে কোলেস্টেরল বৃদ্ধি পেলেই যে এ ধরনের সমস্যা হবে তা কিন্তু নয়। অতিরিক্ত কোলেস্টেরল বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে হজমের সমস্যা দেখা দিতে পারে। অনেকের পায়ের পাতাতে দেখা যাচ্ছে যে রক্ত চলাচল করতে বাধা প্রাপ্ত হয় বা রক্ত চলাচলে বাধা প্রাপ্ত হওয়ার কারণে ব্যথা হতে পারে। আর রাতে সাধারণত ঘুমের মধ্যে অনেকের দেখা যায় পা টানটান অবস্থা হয়ে থাকে, পা ঠান্ডা হয়ে যায় বা পেশি গুলো ব্যথা করতে থাকে। এটা মূলত রক্ত চলাচলে বাধা প্রাপ্ত হওয়ার কারণে হয়ে থাকে। মূলত কোলেস্টেরল বেড়ে যাওয়ার কারণে হতে পারে।
উপরোক্ত এই ধরনের সমস্যা গুলো দেখা দিলে অবশ্যই অবহেলা করবেন না। অতিসত্তর একজন চিকিৎসকের নিকট পরামর্শ করবেন। চিকিৎসক প্রথমে আপনার উপযুক্ত চিকিৎসা দেবে এবং জীবন ব্যবস্থা পরিচালনার ক্ষেত্রে তার নিয়ম তান্ত্রিকভাবে জীবন চলার জন্য পরামর্শ দিবেন। আপনার শরীরে যখন অতিরিক্ত কোলেস্টেরল বৃদ্ধি পাবে সে ক্ষেত্রে অন্যান্য রোগ আপনার শরীরে প্রবেশ করবে। বিশেষ করে ডায়াবেটিস, হাই প্রেসার, স্থূলতা ইত্যাদি রোগগুলো যখন আসবে তখন আপনার নিয়মতান্ত্রিকভাবে জীবন যাপন করতে হবে।
তাই অনিয়ন্ত্রিত জীবন যাপন বাতিল করে আপনার নিয়ন্ত্রন জীবন ব্যবস্থার পরিবর্তন করতে হবে। এজন্য একজন পুষ্টিবিদের সহযোগিতা নিতে হবে, আপনাকে খাদ্য তালিকা তৈরি করে দেবে। অনেকের চোখের নিচে দাগ হয়ে থাকে বা হলুদ চোখ হলুদ হয়ে যায়, সে ক্ষেত্রে মনে করে জন্ডিসের কারণে হয়েছে কিন্তু চোখের হলদে ভাব দেখা দিলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। তাই এই বিষয়টি আপনাকে নজরে আনতে হবে এবং পরীক্ষা নিরীক্ষা করতে হবে। অনেকে হাঁটতে গিয়ে দেখা যায় যে শরীর দুর্বল হয়ে যায় পা টেনে ধরে বা পা ব্যথা করে অসুবিধা হতে পারে।
শরীরের চর্বির কারনে কোলেস্টেরল বৃদ্ধি পেয়ে থাকে যার কারণে দেখা যাচ্ছে যে রক্ত চলাচল করতে বাধা প্রাপ্ত হয়। বিশেষ করে শরীরের নিচের অংশগুলোতে রক্ত চলাচল করতে বাধা প্রাপ্ত হয়। যার কারণে পা ব্যথা করে বা চলাচল করতে অসুবিধা হতে পারে। রক্তের কোলেস্টেরল বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে হাতের বা পায়ের নখের উপর এই প্রভাবটা ফেলে। কেননা দেখা যাচ্ছে যে হাতের পায়ের নখ গুলো সাধারণত হলুদ এবং কালো হয়ে যায়। অনেক সময় আপনার জিহবার উপর আবরণ পড়ে এবং ছোট ছোট গোটা দেখা যায়, যা কোলেস্টেরল বৃদ্ধি পেয়েছে কিনা সেটা পরীক্ষা করা যেতে পারে।
দেখা যাচ্ছে কোলেস্টেরল বৃদ্ধি পাওয়ার অন্যতম লক্ষণ যে সকল নারী-পুরুষের তলপেটে চর্বি অতিরিক্ত পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়ে যায়, তাদের সাধারণ কোলেস্টেরল বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি রয়েছে। সে ক্ষেত্রে বোঝা যাবে যে এটা কোলেস্টেরল আগে থেকে আপনাকে প্রস্তুতি নিতে হবে। যদি আপনার কোলেস্টেরল বৃদ্ধি পেয়ে যায় তাহলে সরাসরি আপনার রক্ত চলাচলের ক্ষেত্রে ব্লক হয়ে যায় এবং হার্টের সমস্যা দেখা দিতে পারে এবং হার্ট ব্লক হয়ে যেতে পারে। অবশেষে হার্ট অ্যাটাক করে অনেকে স্ট্রোক করে মারা যেতে পারে।
গবেষণায় দেখা গেছে বাংলাদেশে বিগত কয়েক বছরের সাধারণত হার্টের রোগী সবচাইতে বেশি এবং স্ট্রোক করে মানুষজন বেশি মারা গেছে। মূলত এর পিছনে দায়ী হলো কোলেস্টেরল বৃদ্ধি পাওয়া। তাই আগে থেকেই আপনাকে খাদ্য পরিবর্তন করতে হবে এবং রক্তের কোলেস্টেরল খাবারগুলো খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। সুন্দরভাবে জীবন যাপন করার চেষ্টা করতে নিয়মতান্ত্রিক বা লাইফস্টাইল পরিবর্তন করতে হবে। তাই প্রত্যেকটা নারী-পুরুষের অন্ততপক্ষে ৪০ বছর বয়স হলে অবশ্যই এই কোলেস্টেরল পরীক্ষা নিরীক্ষা করা প্রয়োজন। কেননা এতে আপনার সচেতনভাবে জীবন যাপন করতে পারবেন।
যাদের অতিরিক্ত বৃদ্ধি তা পায় সে ক্ষেত্রে খাবার দাবার নিয়ন্ত্রন ভাবে চললে আপনার কোলেস্টেরল বাড়ার সম্ভাবনা কম থাকবে এবং স্ট্রোকের সম্ভাবনা কম থাকবে। তাই বিশেষ করে বাংলাদেশের বা দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলগুলো লোকজন সাধারণত প্রচুর পরিমাণে ভাত জাতীয় খাবার গুলো খেয়ে থাকে। যার কারণে এর মধ্যে প্রচুর যা ক্যালোরি থেকে কোলেস্টেরল বৃদ্ধি পায়। এজন্য ভাত খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে অথবা কম করে খেতে হবে। এই বিষয়ে অধিকাংশ গবেষণায় দেখা গেছে ও পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হয়েছে সবগুলো বাচ্চার স্থূলতার সমস্যা রয়েছে এবংরক্তে কোলেস্টেরল বৃদ্ধি পাচ্ছে।
তাই অবশ্যই আমাদের খাবার দাবার এবং পরিশ্রমের দিকে খেয়াল রাখতে হবে। কেননা বাংলাদেশের লোকজন অলস সময় পার করে তারা পরিশ্রম করতে চায়না না। যার কারণেই তাদের কোলেস্টেরল বৃদ্ধি পায় তাছাড়া আমরা বেশি মসলা জাতীয় খাবার গুলো বেশি পছন্দ করে থাকি। এই জাতীয় খাবার গুলো এড়িয়ে চলতে হবে এবং এছাড়াও প্রসেসিং খাদ্যগুলো খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে তাহলেই আমাদের কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ থাকবে।
আজকের আর্টিকেল এর লেখক, মোঃ মাহমুদুল ইসলাম, স্বাস্থ্যকর্মী, উল্লাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, উল্লাপাড়া, সিরাজগঞ্জ।

এম আর মাহমুদ ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url