রক্তে ক্রিয়েটিনিন বেড়ে গেলে কি হয়? জেনে নিন এর সঠিক চিকিৎসা

অনেকের রক্তে ক্রিয়েটিনিন বেড়ে যায় তাই রক্তে ক্রিয়েটিনিন বেড়ে গেলে কি হয়? এ সম্পর্কে আপনার জানা থাকলে চিকিৎসা করতে সুবিধা হবে। চলুন, রক্তের ক্রিয়েটিনিন বেড়ে যাওয়ার কি কারণ এবং চিকিৎসা সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে জেনে নেওয়া যাক।
ছবি
রক্তে ক্রিয়েটিনিন বেড়ে গেলে শরীরে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। তাই কি কারণে রক্তের ক্রিয়েটিনিন বেড়ে যায় সেটা জানা প্রয়োজন। তাই রক্তে ক্রিয়েটিনিন বেড়ে গেলে কি হয়? সম্পর্কে বিস্তারিত জানার জন্য আর্টিকেলটি মনোযোগ দিয়ে পড়ুন।

রক্তের ক্রিয়েটিনিন বেড়ে গেলে বিভিন্ন ধরনের অসুবিধা হয়, ক্রিয়েটিনিন মূলত শরীরের বর্জ্য পদার্থগুলো বের করে দেওয়ার কাজ করে থাকে। বিশেষ করে রক্ত থেকে ক্রিয়েটিনিন ছেকে নিয়ে মুত্র হিসেবে কিডনির মাধ্যমে বের করে দিতে পারে। এক্ষেত্রে কিডনি সুস্থ যদি না থাকে তাহলে এই প্রক্রিয়াটা বন্ধ হয়ে যায়। এতে রক্তের ক্রিয়েটিনিন মাত্রা বেড়ে যায়, যার কারণে কিডনি নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই রক্তের ক্রিয়েটিনিন বৃদ্ধি পেলে কিডনি নষ্ট হয়ে যাবে। সাধারণত অতিরিক্ত পরিমাণ প্রোটিনযুক্ত খাবার খাওয়ার কারণে রক্তের ক্রিয়েটিনিন তৈরি হয়ে থাকে। তাই এ বিষয়ে আপনাকে সতর্ক থাকতে হবে।

একজন সুস্থ মানুষের ক্রিয়েটিনিন পয়েন্ট থাকতে হবে পুরুষের ক্ষেত্রে ০.৭ থেকে ১.৩ ml/dl। এছাড়া নারীদের ক্ষেত্রে ০.৬ থেকে ১.১ ml/dl থাকতে হবে। তাছাড়া কিশোর কিশোরীদের ক্ষেত্রে ০.৫ থেকে ১ ml/ dl এবং শিশুদের ক্ষেত্রে ০.৩ থেকে ০.৭ ml/dl। তাহলে অবশ্যই তাকে অসুস্থ ব্যক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এই ধরনের সমস্যা সাধারণত যে সকল রোগীদের হয়ে থাকে এর মধ্যে ডায়াবেটিস, হাই প্রেসার এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকে তাদেরই সাধারণত এই ক্রিয়েটিনিন পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়ে থাকে। এছাড়াও পারিবারিক ইতিহাস যদি থাকে সে ক্ষেত্রেও সমস্যা দেখা দেয়।

যদি বাবা অথবা মায়ের হয় তাহলে তার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তবে এই ধরনের সমস্যা যদি হয়ে থাকে তাহলে দেখা যায় কিডনির কারো নষ্ট হয়ে যায় বা পাশাপাশি নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। সেই ক্ষেত্রে কিন্তু এখন পর্যন্ত সেই ভাবে কোন ওষুধ আবিষ্কার হয়নি। তবে খাবার দাবারের ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ জীবন যাপন করলে সেক্ষেত্রে আপনি সুস্থ থাকবেন বা নিয়ন্ত্রণে থাকবে। এক্ষেত্রে একজন পুষ্টিবিদের সাথে বা ডায়েটিশিয়ানের সাথে পরামর্শ করে কোন খাবার কতটুকু খাবেন সেগুলো একটি চার্ট তৈরি করে দৈনন্দিন জীবনে প্রয়োগ করবেন।

একজন কিডনি এর রোগীদের ক্ষেত্রে সাধারণত ক্যালরি ৩০ থেকে ৩৫ গ্রামের বেশি খাওয়া যাবেনা। কিডনি যখন কাজ করা বন্ধ করে দেয় সেই ক্ষেত্রে ক্রিয়েটিনিন পয়েন্ট বৃদ্ধি পেতে থাকে। এছাড়াও আপনার কিডনিতে যদি সংক্রমণ হয় সে ক্ষেত্রে কিন্তু বৃদ্ধি পাবে। এছাড়াও আপনার কিছু ইন্ট্রিইনফ্লেমেটরি ওষুধ থাকে যেগুলোর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার কারণে আপনার ২৯ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেতে পার। যখন আপনার কিডনি কাজ করে না সে ক্ষেত্রে ক্রিয়েটিনিন বেড়ে গেলে আপনার শরীরে রক্তের সাথে এই ক্রিয়েটিনিন গুলো বৃদ্ধিতে মিশে যায়। যার কারণে আপনার শরীরে বিভিন্ন ধরনের উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

এই ধরনের রোগীদের সাধারণত শ্বাসকষ্ট সমস্যা দেখা দেয়, কেননা এই সময় রোগীর সাধারণত শরীরের ভিতরে তরলের অংশ বৃদ্ধি পায়। যখন কোন রোগীর ক্রিয়েটিনিন পয়েন্ট বেশি বেড়ে যায়, সে ক্ষেত্রে কিন্তু আপনার শরীরের অত্যন্ত ক্লান্তিকর এবং দুর্বল লাগে। এছাড়াও শরীরে যেহেতু তরলের ঔষধ বৃদ্ধি পায় সেজন্য দেখা যাচ্ছে পায়ের পাতা বা পায়ের গোছা ফুলে যেতে পারে। এছাড়া অনেকের বমি ভাব বা বমি হতে পারে। এজন্য যাদের ক্রিয়েটিনিন পয়েন্ট বেশি রয়েছে তারা সাধারণত যে কমানোর জন্য যে কাজগুলো করতে পারেন। প্রথমত প্রোটিন যুক্ত খাবার গুলো কম খাবেন, বিশেষ করে লাল মাংস খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।
নিজেকে ডায়েটের পর্যায়ে নিয়ে আসতে হবে, তাহলে আপনার লাল মাংশে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন থাকে যা আপনার ক্রেটিনাইন পয়েন্ট বৃদ্ধি পাবে। তাছাড়া আপনি ফাইবার যুক্ত খাবার খেতে পারেন। বিশেষ করে যে ফাইবার যুক্ত খাবার গুলো খেতে হবে। যা আপনার রক্তের ক্রিয়েটিনিন কমাতে সাহায্য করবে। এছাড়া আপনি যে খাবারগুলো খাবেন না যেমন আলু, দুগ্ধ জাত খাবার, টমেটো, কলা, কমলালেবু, রান্না করা মাংস, এছাড়াও রেড মিট খাবার। এছাড়াও আপনার আচার যুক্ত খাবার এবং প্রসেসিং খাবার গুলো খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে, প্রচুর পরিমাণে সবুজ শাকসবজি খেতে হবে।

যে শাকসবজি গুলোতে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকে যা খেলে আপনার ক্রিয়েটিনিন অনেক কমতে থাকবে। এছাড়া যারা ধূমপান করেন বা মদ্যপান করেন তারা এগুলো থেকে বিরত থাকবেন। কেননা এটা আরো বৃদ্ধি করবে, যদিও পানি কিডনিকে ভালো রাখে তবে সুস্থ মানুষের ক্ষেত্রে পানি অনেক গুরুত্বপূর্ণ উপাদান কিন্তু যাদের কিডনি কাজ করে না বা ক্রিয়েটিনিন বেশি সে ক্ষেত্রে কিন্তু পানি মেপে খেতে হবে। ক্রিয়েটিনিন পয়েন্টের উপর নির্ভর করবে কতটুকু পানি খাবে সেই ক্ষেত্রে চিকিৎসক আপনাকে পানি মেপে দেবে সেই পরিমাণ পানি খেতে হয়।

সে ক্ষেত্রে অল্প অল্প করে পানি খেতে হবে তা না হলে কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। সোডিয়ামযুক্ত খাবারগুলো কম খেতে হবে যেমন লবণ যে খাবারগুলোতে বেশি রয়েছে সেগুলো খাবার থেকে বিরত থাকতে হবে। কারণ এটা উচ্চ রক্তচাপ বৃদ্ধি করতে পারে এবং বৃদ্ধি করতে পারে। বিশেষ করে যেমন প্রসেসিং খাবার গুলোর মধ্যে লবণ বেশি দেওয়া থাকে, এছাড়াও ফসফরাস, পটাশিয়াম যে খাবারগুলোতে বেশি হয়েছে সেগুলো থেকে বিরত থাকবেন। প্রথম দিকে কিডনির সমস্যা রোগীদের সাধারণত ক্রিয়েটিনিন পয়েন্ট কম থাকে। তবে তারপরেও আপনার সব সময় চিন্তা ভাবনা থাকতে হবে এমন ধরনের খাবার খেতে হবে।

যেন ক্রিয়েটিনিন পয়েন্ট কখনো বৃদ্ধি না পায় সেভাবে জীবন যাপন করতে হবে। সর্বনিম্ন ১.২ এর নিচে আপনাকে নিয়ে আসতে হবে, তাহলে আপনি সুস্থ থাকবেন তা নাহলে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। পুষ্টিবিদরা সাধারণত বলে থাকেন পটাশিয়াম ফসফরাস এবং সোডিয়াম জাতীয় খাবার গুলো কম খেতে এবং নিয়ন্ত্রন ভাবে খেতে হবে। অনেকেই হয়তো জানে না যে কোন খাবারের মধ্যে সোডিয়াম পটাশিয়াম এবং ফসফরাস থাকে সেগুলো সম্পর্কে আপনাকে জানার জন্য একজন পুষ্টিবিদের সাথে সাক্ষাৎ করতে হবে। পুষ্টিবিদরা বলেন, আপনার কোন কোন খাবার খাওয়া যাবে এবং কোন কোন খাবার কতটুকু খেতে হবে।

তারা খাবারের পরিমাণ নির্ধারণ করে দেবে, প্রধানত আলু, মুলা, ফুলকপি, বাঁধাকপি, কলিজা, গরুর মাংস, ডাল, পাতাকপি ইত্যাদি এগুলো খাবার থেকে প্রচুর পরিমাণে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সিম বরবটি এগুলো খাবার থেকে বিরত থাকতে হবে। এই খাবারগুলো থেকে যদি আপনি নিয়ন্ত্রন ভাবে খেতে পারেন তাহলেই সুস্থ থাকবেন। যে সকল রোগীর কিডনির সমস্যা রয়েছে এবং ক্রিয়েটিনিন বৃদ্ধি পেয়েছে তারা খুবই নিয়ম অনুযায়ী জীবন যাপন করতে হবে এবং ডাক্তারের তত্ত্বাবধানে থাকতে হবে। তা না হলে তাদের জীবনের পরিণতি ভয়ঙ্কর হবে এবং বিশেষ করে যদি ক্রিয়েটিনিন বেশি হয়ে যায় সে ক্ষেত্রে ঔষধ বা খাবারের মাধ্যমে কমানো সম্ভব না।

এক্ষেত্রে ডায়ালাইসিস দিতে হবে, আর ডায়ালিসিস দেওয়া খুবই ব্যয়বহুল এবং তার শরীর আর কোন কিছু থাকবে না। কিছুদিন পরে সে মৃত্যুর সম্মুখীন হবে, এছাড়াও অনেকের হয়তো কিডনি প্রতিস্থাপন করা যায় কিন্তু এর চেয়ে ভালো হয় যেন নিয়ম তান্ত্রিক জীবন যাপন করা।

আজকের পোষ্টের লেখক, মোঃ মাহমুদুল ইসলাম, স্বাস্থ্যকর্মী, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, উল্লাপাড়া, সিরাজগঞ্জ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

এম আর মাহমুদ ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url
Md. Mahmudul Islam
Md. Mahmudul Islam
আমি ডিজিটাল মার্কেটিং এক্সপার্ট ও সরকারি চাকরি করি। আমি অনলাইনে বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করে ইনকাম করি, এছাড়াও ব্লগিং, SEO ও টেকনোলজি বিষয় নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করি। এই কাজের উপর আমার ৩ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে।