মাজারে মান্নত করা কি জায়েজ? জেনে নিন কোরআন হাদিসের আলোকে

মাজারে অনেকে মান্নত করে থাকে কিন্তু মাজারে মান্নত করা কি জায়েজ? এ সম্পর্কে কোরআন হাদিস কি বলেছে সেটা আপনার জানা দরকার। চলুন, ইসলামের দৃষ্টিকোণে মান্নত করা জায়েজ কিনা সে সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে জেনে নেওয়া যাক।
ছবি
বাংলাদেশে অনেক মাজার রয়েছে যেখানে বিভিন্ন ধরনের কুসংস্কার মূলক কার্যক্রম হয়ে থাকে, যেটা ইসলামের সম্মত নয়। তাই মাজারে মান্নত করা কি জায়েজ? এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানার জন্য পোস্টটি মনোযোগ দিয়ে পড়ুন।

মানত করা বলতে আসলে আপনার কোন জিনিসের প্রয়োজন অথবা কোন বিপদ হয়েছে, সেজন্য আপনি নিজের ইচ্ছায় মাজারে কিছু দান করতে চাচ্ছেন এটাই মূলত মান্নত করা। অর্থাৎ আপনি যে কোন বিষয়ে সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে, এজন্য আপনার সেই সমস্যার সমাধানের জন্য আপনি আল্লাহর কাছে সেই সমস্যার সমাধান করার ক্ষেত্রে প্রতিজ্ঞা করেন। এটাই মূলত মান্নত করা, এই মান্নত করা বহু কাল থেকেই ভারতে উপমহাদেশে সহ পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন লোকজন বিষয়ের কারণে করে থাকে। অনেকেই মাজারে বিভিন্ন বিষয়ে দিয়ে তার মনের আশা পূরণ করার জন্য মান্নত করে থাকে।

বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন পীর আউলিয়া দের মাজার রয়েছে, অনেকেই সেখানে গিয়ে বিভিন্ন বিষয়ে মাননত করে থাকে। দেখা যায় কিছু কুসংস্কার মূলক বিষয় দেখা যায় কেউ গাছের সাথে লাল সুতা বেঁধে রেখে যে তার মনের বাসনা পূরণ হবে। এটা তাদের মনের একটা বিশ্বাস কিন্তু এটা ইসলামে জায়েজ আছে কিনা সেটা আপনাকে জানতে হবে। এছাড়াও আরো বিভিন্ন ধরনের উদাহরণ আছে, অনেকেই টাকা-পয়সা মাজারের উপরে দান করেন আবার কেউ কেউ বিভিন্ন বিষয়ে বিভিন্ন জিনিস ও দান করে থাকে।

তাই এই ধরনের দান করা এবং মাজারে গিয়ে এই ধরনের কাজ করা যায় কিনা সেটা আপনাকে মুসলমান হিসেবে হাদিস কোরআনের আলোকে জানতে হবে। সাধারণত অনেক মানুষ তার মনের বাসনা পূরণ করার জন্য মানত করে থাকে এবং সেই মান্নত করার জন্য বিভিন্ন মাজারে যায়, আসলে এই ধরনের মাজার গুলো বিভিন্ন পীর আউলিয়া দেরকে যেখানে কবরস্থ করা হয়েছে সেখানে সাধারণত মাজার গড়ে উঠেছে। দেখা যাচ্ছে অনেক বছর আগে আমাদের এই বাংলাদেশে বিভিন্ন দেশ থেকে পীর আউলিয়া এসে বসবাস করেছে তারা পরবর্তীতে ইন্তেকালের পর সেখানে মাজার শরীফ তৈরি করেছে।

অনেক মানুষ সেখানে বসে থাকে অনেকে পীর আউলিয়ার নামে বিভিন্ন ধরনের মান্নত করে থাকে যা ইসলাম পরিপন্থী আবার অনেকেই কবরকে সেজদা করে নাউজুবিল্লাহ এটা একদমই ইসলাম পরিপন্থী। কেননা মৃত মানুষের কাছে কোন চাওয়া পাওয়া থাকে না সে কখনোই আপনার মনের বাসনা পূরণ করতে পারবে না। এ ধরনের কাজকর্ম বাংলাদেশে অহরহ হয়ে থাকে যেটা আসলে ইসলাম পরিপন্থী। এই ধরনের মান্নত করাকে জায়েজ না, অনেকেই সকল মাজারে এসে দান খয়রাত করে থাকে, তাছাড়া গাছের সাথে লাল সুতা বেঁধে রাখে এতে তারা মনে করে এখানে যা আউলিয়া বসে আছেন তিনি আমাদের মনের আশা পূরণ করবে, এক ধরনের শিরক।

কেননা পির আউলিয়া সাধারণত বেঁচে থাকার কালীন মহান আল্লাহ তাআলার হুকুমে তারা বিভিন্ন ধরনের কেরামতি দেখিয়েছেন কিন্তু মৃত্যুর পর তাদের আর সেই ধরনের কেরামতি কাজ করবে না। তাই পীর আউলিয়াদের বাজারে গিয়ে কখনোই মান্নত করা ঠিক হবে না। অনেকে দেখা যায় যে দীর্ঘদিন যাবত সন্তান হয় না, সে ক্ষেত্রে গিয়ে পীরের মাজারে মান্নত করে থাকে যে তাদের সন্তান হলে সেখানে সে ছাগল গরু অথবা হাঁস মুরগি বিভিন্ন ধরনের পশুপাখি দান করবে। এই ধরনের মনের বাসনা পূরণ করার জন্য অনেকেই মাজারে গিয়ে থাকে কিন্তু এটা ইসলাম সম্মত কিনা সেটা হয়তো তারা অনেকে জানে না।

ইসলামে বলা হয়েছে যে আপনার মনের বাসনা বা সকল কিছু পূরণ করার জন্য একমাত্র আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো কাছে কোন কিছু চাওয়া যাবে না। যা একদমই হারাম, এ বিষয়ে মহান আল্লাহতালা কোরআন শরীফে বলেছেন যে তোমাদের সৃষ্টিকর্তা বলেছেন তোমরা আমার কাছে চাও আমি তা কবুল করব এবং তোমাদেরকে সেটা দিয়ে দেবো। সূরা মুমিন আয়াত নাম্বার ৬০। তাই উক্ত আয়াত দ্বারা বুঝানো হয়েছে যে একমাত্র আল্লাহ তায়ালার কাছে ছাড়া অন্য কোন ব্যক্তির মাধ্যমে কোন কিছু পাওয়ার আশা করা যায় না এবং অন্য কোন মানুষের কাছে গিয়ে কোন কিছু চাওয়া যাবে না।

যা আল্লাহর সাথে শরিক করা হবে। তাই মাজারে মান্নত করতে গিয়ে যেন শিরক না হয়, সেদিকে আপনার খেয়াল রাখতে হবে এবং মাজারে গিয়ে যদি আপনি মান্নত করেন সেটা কিন্তু শিরক হয়ে যাবে। আবার অনেকেই মাজারে গিয়ে সেজদা করে থাকে। এটাও এক ধরনের কবিরা গুনাহ, কেননা সিজদা করতে হবে একমাত্র আল্লাহর কাছে। আল্লাহ পাক আপনার সব কিছু মাফ করে দিতে পারে। যদি আপনি তার কাছে প্রার্থনা করেন কিন্তু আল্লাহ ব্যতীত অন্য কোন মানুষের কাছে যদি আপনি সেজদা করেন। এটা এক ধরনের শিরক হয়ে যাবে, যা কখনোই ক্ষমা করবেন না।

শিরক করা মহান আল্লাহতালা পছন্দ করেন না এবং ওই ব্যক্তিকে কখনোই ক্ষমা করবেন না। কেননা মহান আল্লাহতালা কোরআন শরীফে বলেছেন, নিশ্চয় তোমরা আল্লাহর সাথে শরিক করবে না, যা মহান আল্লাহতালা ক্ষমা করবেন না। এই শিরক ব্যতীত আপনি অন্যান্য যদি অপরাধ করে থাকেন তারপরে মহান আল্লাহতালা ইচ্ছা করলে আপনাকে ক্ষমা করে দেবেন এবং যদি কেউ আল্লাহর সাথে শরিক করে সে এক মহাপাপ করে ফেলে। সূরা নিসা আয়াত নাম্বার ৪৮। সুতরাং এই আয়াত দ্বারা বোঝা যাচ্ছে যে মহান আল্লাহতালার আপনার একমাত্র মনের আশা-আকাঙ্ক্ষা সকল কিছু পূরণ করতে পারবেন।

অন্য কোন ব্যক্তি আপনার মনের আশা পূরণ করতে পারবেন না। কেননা মহানবী সাঃ তিনিও বলেছেন যে যত কিছু সমস্যা একমাত্র আল্লাহ তায়ালা সমাধান করবেন। এছাড়া অন্য কারো ক্ষমতা নেই। এ সম্পর্কে রাসূল সাঃ বলেছেন, আমি কি তোমাদেরকে সবচাইতে বড় কবিরা গুনাহ সম্পর্কে অবশ্যই জানিয়েছি? তখন অনেকে সাহাবী বললেন হে আল্লাহর রাসূল অবশ্যই আপনি বলেছেন, আল্লাহর সাথে কাউকে শিরক করবে না। কোন একজন ব্যক্তি মানত করল যে তার এই ধরনের কাজ যদি সমাধান হয়, তাহলে মাজারে একটি ছাগল দেবে।

যখন কাজটা সমাধান হলো তখন জানতে চাইল যে ওই মান্নত আদায় করা কি আসলে জরুরী কিনা? করতে হবে কিনা আর ছাগলটিকে মাজারে দিবে, নাকি অন্য কোথাও দেবে। মাজারের নামে যেহেতু মান্নত করছে সে ক্ষেত্রে কি করবে, আসলে মাজারে মান্নত করলে সেটা মান্নত হবে না। মান্নত করা যাবে তবে সে ক্ষেত্রে একমাত্র আল্লাহর নামেই করতে হবে। আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নামে মান্নত করা যাবে না। সেটা যদি পীর আউলিয়াও হয়ে থাকে, কেননা পীরের নামে মাজারে মান্নত করা একদমই জায়েজ নয়। সুতরাং বোঝা যাচ্ছে যে মান্নত করতে হলে একমাত্র আল্লাহর নামে করা লাগবে।

এক্ষেত্রে যদি আপনি অবৈধভাবে মান্নত করেই থাকেন, তাহলে আল্লাহর কাছে তওবা আস্তাগফিরুল্লাহ করতে হবে। মান্নত করা এমন একটা জিনিস সেটা হল নিজের কোন ভালো কাজ করার ক্ষেত্রে আপনি মান্নত করতে পারেন। এক্ষেত্রে অবশ্যই আল্লাহর নামে করতে হবে। ইসলামের আবির্ভাবের পূর্বেও কিন্তু আরবের সমাজে অনেকে মান্নত করেছে, যেটা একটি প্রাচীন ধর্ম হিসেবে গণনা করা হয়েছে। ইসলামের শরীয়তে এটাকে বৈধ করেছে কিন্তু তেমন একটা উৎসাহ করে নাই। আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রাঃ থেকে বর্ণনা করা হয়েছে, রাসূল সঃ বলেছেন, রাসূল করীম সাঃ মান্নত করা নিষেধ করেছেন। কেননা এটা মানুষের জন্য কল্যাণ করে না, এটা মূলত কৃপণ ব্যক্তি থেকে সম্পদ বের করা। সুনানে নাসাঈ হাদিস নাম্বার ৩৮০১।

এ ধরনের মান্নতগুলো সাধারণত পূর্ববর্তী ধর্মীয় সংস্কৃতিতে প্রচলন ছিল। কেননা এ সম্পর্কেও কোরআনে বলা হয়েছে যে, তোমরা স্মরণ করো যখন ইমরানের স্ত্রী বলেছিল হে আমার প্রতিপালক আমার গর্ভের যেটা আছে তা যদি একান্ত আপনার জন্য উৎসর্গ করলাম। সুতরাং আপনি আমার থেকে সেটা কবুল করে নিন। নিশ্চয় আপনি সর্বশ্রোতা এবং সর্ব জ্ঞানী। সূরা আল ইমরান আয়াত নাম্বার ৩৫। এই আয়াত দ্বারা বুঝা যাচ্ছে যে হয়তো এখানে মহান আল্লাহ তাআলার নামে তিনি মান্নত করেছেন, এটা যদি কবুল করা হয়, তাহলে আল্লাহর কাজের জন্যই নিয়োগ করা হবে।

ইসলামী শরীয়ত মতে মান্নত করা বলতে কোন ব্যক্তি তার নিজের উপরে এমন কোন কিছু কাজ করা অবশ্যক মনে করে কিন্তু যদি শরীয়তে সেটা আবশ্যক করে নাই। এ ধরনের কাজকর্মকে আসলে মানত বলা হয়ে থাকে। যদি কোন ব্যক্তি মান্নত করেই থাকে সেটা তার জন্য পালন করা আবশ্যক হয়ে যায় তখনই যখন সে সাবলক হবে, জ্ঞান বুদ্ধি সম্পন্ন ব্যক্তি হতে হবে এবং তার ইচ্ছা শক্তি থাকতে হবে। শুদ্ধ হওয়ার ক্ষেত্রে আইন বিশেষজ্ঞরা কিছু শর্ত বলে থাকেন। যদি আপনি কোন নেক কাজের আশায় মান্নত করে থাকেন সেটা আপনি পূরণ করতে পারেন।

আপনার সামর্থ্য রয়েছে যেটা দ্বারা পাপ হওয়ার সম্ভাবনা নাই, তাহলে সেটা মান্নত করা যাবে। তবে মান্নত যদি করেই থাকেন সেটা অবশ্যই পূরণ করতে হবে। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে যে তারা যেন অপরিচ্ছন্নতা দূর করে এবং তাদের মান্নতগুলো পূর্ণ করে প্রাচীন ঘরে তওবা করবে। সূরা হজ্জ আয়াত নাম্বার ২৯। তবে যদি কোন ব্যক্তি পাপ কাজের মান্নত করে সেটা কিন্তু পূরণ করা যাবে না। হানাফী মাযহাবের মতে কোন ব্যক্তি যদি পাপ করে থাকে সেটার কাফফারা দেওয়া যাবে।

হযরত আয়েশা রাঃ থেকে বর্ণিত রাসূল সাঃ বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর আনুগত্যের জন্য মানত করে সে যেন সেটা পূরণ করে। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর অবাধ্য হওয়ার জন্য মান্নত করে সেটা যেন তা পূরণ করে না। আবু দাউদ হাদিস নাম্বার ৩২৮৯। তাছাড়া মৃত ব্যক্তির জন্য কোন মান্নত করা যাবে না, কোন ব্যক্তি যদি মারা যায় সেটা যদি আগে থেকে মান্নত করা থাকে, সেটা তার আত্মীয় স্বজন দায়িত্ব নিয়ে তা পূরণ করবে। আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাঃ বলেছেন নবী করীম সাঃ এর কাছে এক লোক আসলো এবং বলল যে আমার বোন মান্নত করেছিল কিন্তু সে তো মারা গেছে, তখন নবী করীম সাঃ বললো যে তার উপর কোন ঋণ যদি থাকে তবে তুমি সেটা আদায় অবশ্যই করতে হবে। তাই আল্লাহর হক কে তুমি আদায় করে দিবে। কারণ আল্লাহর হক আদায় করা অবশ্য কর্তব্য। সহীহ বুখারি হাদিস নাম্বার ৬৬৯৯।

অনেকদিন আগে যদি আপনি কোন মাননত করে থাকেন সেটা অনেকদিন হয়ে গেছে, সেটা পূরণ করা অবশ্যই প্রয়োজন। কেননা আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রাঃ হতে বর্ণিত ওমর রাঃ বলেছেন হে আল্লাহ রাসূল আমি জাহিলি যুগে মসজিদে হারামের ভিতর এক রাকাত নামাজ মান্নত করেছিলাম। রাসূল সাঃ বলল তোমার মান্নত পুরণ করতে হবে। সহীহ বুখারী হাদিস নাম্বার ২০ ৩২। শরীয়তের মতে আপনি যদি কোন ভালো কিছুর জন্য মানত করে থাকেন সেটা পূরণ করা যাবে। তবে শরীয়তের বাহিরে সীমা অতিক্রম করা যাবে না, এক্ষেত্রে হাদিসে বলা হয়েছে যে, ইমাম নববী রহঃ বলেছেন কোন ব্যক্তি যদি সোমবারে রোজা রাখার মানত করে সেদিন যদি ঈদ হয়ে যায় তাহলে কিন্তু ঐ দিন রোজা রাখা যাবে না।

নিজের উপর অনেক কষ্ট হবে যদি এই ধরনের মান্নত করেন সেটা কিন্তু ইসলাম সমর্থ্য করবে না আনাস রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু হতে বলে তো নবী করীম সাল্লাল্লাহু সাল্লাম বলেছেন এক বৃদ্ধ ব্যক্তিকে তার দুই ছেলের উপরে ভর করে হেঁটে যাওয়ার জন্য তিনি দেখলেন তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু সাল্লাম বলেন তার কি হয়েছে তারা বলল তিনি পায়ে হেঁটে হজ করার জন্য মানত করেছেন আল্লাহর রাসূল তখন বললেন লোকটি নিজেকে কষ্ট দিয়ে আল্লাহতালার হক আদায় করা কোন দরকার নাই অথবা তিনি তাকে রাস্তা থেকে চলে যাওয়ার জন্য নির্দেশ করলেন সহীহ বুখারি হাদিস নাম্বার ১৮৬৫

আপনি যদি কোন একটা বিষয়ে মাননত করেছেন সেই জিনিসটা যদি আপনি না দিতে পারেন আপনার জন্য অনেক কষ্ট হয়ে যায় এই ধরনের মান্নত করা ঠিক না তারপরও যদি করেই থাকেন সে ক্ষেত্রে বিকল্প জিনিস ধারা মানত পূরণ করতে পারবেন এটাই ইসলামে বই ধরেছে যেমন জাবের রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু বলেছেন মক্কা বিজয়ের দিন এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বলেছিল নিশ্চয়ই আমি আল্লাহর জন্য মানত করলাম আল্লাহ যদি আপনাকে মক্কায় বিজয়ী করে তবে আমি বায়তুল মুকাদ্দাসে দুই রাকাত নামাজ আদায় করে নেব নামাজ আদায় করে নেব সে ক্ষেত্রে নামাজ আদায় করে নাও তুমি এখানে নামাজ আদায় করে নিতে পারো লোকটি তার কথা পুনরাবৃত্তি করলো তিনি বললেন তুমি এখানে নামাজ আদায় করে নাও লোকটি আবারও বলল তার কথার পুনরাবৃত্তি করল নবী করীম সাল্লাল্লাহু সাল্লাম বললেন এই ব্যাপারে তোমার স্বাধীনতা আছে তুমি ইচ্ছা করলে করতে পারো সোনা আবু দাউদ হাদিস নাম্বার ৩৩০৫

আপনি যদি কোন মান্নত করে থাকেন সেটা কাফফারা করা যাবে যদি আপনি পূরণ করতে না পারেন সেজন্য রাসূল সাল্লাল্লাহু সাল্লাম বলেছেন মান্নতের কাফফারা দেওয়া যেতে পারে যদি আপনি কোন কসম করে থাকেন সেটা কাফফারা দেওয়া যেতে পারে এ সম্পর্কে বলা হয়েছে যে অথবা এর কাফফারা হবে ১০ জন দরিদ্রকে মধ্যম ধরনের খাবার দেওয়া যা তোমরা তোমাদের পরিবারকে দিয়ে থাকো অথবা তাদেরকে কাপড় দান করে দাও কিংবা একজন ক্রীতদাস কে মুক্ত করে দিতে পারো আর যদি সামর্থ্য নাই থাকে তার জন্য তিন দিন রোজা রাখা অবশ্য সূরা মায়েদা আয়াত নাম্বার 89

ইসলামে মূলত মান্নত করা জায়েজ রয়েছে তবে সেটা অবশ্যই আল্লাহ তায়ালার উদ্দেশ্য হতে হবে এবং ভালো কোন কাজের উদ্দেশ্য হতে হবে এবং সেটা যদি করা হয় সে ক্ষেত্রে অবশ্যই পূর্ণ করতে হবে কেননা আল্লাহ তাআলা বলেছেন যেহেতু সে মান্নত করেছে এবং ভালো কাজের উদ্দেশ্যে সে ক্ষেত্রে সেটা জাহাজ রয়েছে তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য মানত করেছে সে যেন আদায় করে নেয় তবে ইসলাম কখনোই এই মান্নত করা উৎসাহিত করেনা এক্ষেত্রে মহান আল্লাহতালা কাছে আপনি প্রার্থনা করতে পারেন

যেকোন বিপদ আপাদের কারণে আল্লাহতালা সাপেক্ষ ইচ্ছাধীন পূরণ করা এটা পছন্দ করেন না সে ক্ষেত্রে আপনি অবশ্যই আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করলে আল্লাহ কবুল করবেন এই মান্নত করা মূলত হাদিসের দ্বারা বলা হয়েছে কেননা কৃপণ ব্যক্তিরা ধন-সম্পদ খরচ করতে চায় না তাই তাদের থেকে টাকা অর্থ-সম্পদ বের করার জন্যই কিন্তু এই মান্নতের বিধান জায়েজ রয়েছে কিন্তু মান্নত করা কখনই মহান আল্লাহতালা পছন্দ করেন না।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

এম আর মাহমুদ ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url
Md. Mahmudul Islam
Md. Mahmudul Islam
আমি ডিজিটাল মার্কেটিং এক্সপার্ট ও সরকারি চাকরি করি। আমি অনলাইনে বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করে ইনকাম করি, এছাড়াও ব্লগিং, SEO ও টেকনোলজি বিষয় নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করি। এই কাজের উপর আমার ৩ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে।