রোজা মানত করা কি জায়েজ জেনে নিন এর সম্পর্কে সঠিক আমল
অনেকের রোজা রাখতে পছন্দ করে তাই রোজা মানত করে থাকে, এজন্য রোজা মানত করা কি জায়েজ? সম্পর্কে হয়তো তারা অনেকের সঠিক তথ্য জানেনা। তাই সঠিক তথ্য জানতে এ বিষয়ে বিস্তারিত ভাবে জেনে নেওয়া যাক।
সাধারণত অনেকে বিভিন্ন কারনে রোজা মানত করে থাকে কিন্তু এ রোজা রাখা ইসলামের দৃষ্টিকোণে জায়েজ হবে কিনা সেটা হয়তো অনেকের জানা নেই। তাই রোজা মানত করা কি জায়েজ? এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে আর্টিকেলটি মনোযোগ দিয়ে পড়ুন।
অনেকে বিভিন্ন কারণে আল্লাহর নামে রোজা রেখে থাকে, আল্লাহর নামে রোজা মান্নত করে থাকে সেই রোজা তার পালন করা ওয়াজিব হয়ে যাবে। তবে এই ক্ষেত্রে শর্ত হল আপনার সন্তানের জন্য যদি মানত করে থাকেন তাহলে সেটা অবশ্যই পূরণ করতে হবে এবং এই ধরনের রোজা রাখা জায়েজ রয়েছে। তবে রাসুল করীম সাঃ মানত করা বেশি একটা পছন্দ করতেন না। তাই রোজা রাখতে তিনি উৎসাহিত করে নাই। হযরত ওমর রাঃ থেকে বর্ণনা করা হয়েছে, তোমাদেরকে মানত করা নিষেধ করা হয় নাই, নবী করীম সাঃ বলেছেন মানত করা এমন একটি বিষয় যেটা রাসূল সাঃ বেশি একটা পছন্দ করতেন না।
যদি কোন ব্যক্তি এবাদতের জন্য মানত করে থাকে সেটা অবশ্যই পালন করতে হবে। এটা পালন করা ওয়াজিব যদি আপনি মানত আদায় না করেন তাহলে গুনাগার হতে হবে। মানত বিভিন্নভাবে করা যায় সেক্ষেত্রে দুই ধরনের হয়ে থাকে যদি নির্দিষ্ট করে মান্নত করা যায় আবার অনির্দিষ্ট ভাবেও করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে কিছু শর্ত থাকে যেমন আপনি মান্নত করলেন আবার এই কাজটি যদি হয়ে যায় তাহলে আমি কিছু টাকা আল্লাহর রাস্তায় দান করে দিব। আবার অনেক সময় শর্ত ছাড়াও আল্লাহর নামে মানত করা যায় যেমন আল্লাহ তাআলা খুশি করার জন্য আমি পাঁচটি রোজা রাখব, সেটা হতে পারে নির্দিষ্ট পাবে আল্লাহর নাম উল্লেখ করে যদি আপনি মান্নত করে থাকেন, এই মান্নত অবশ্যই পালন করতে হবে।
কোন ব্যক্তি যদি বলে থাকে যে হে আল্লাহ আজ আমার এই কাজটি যদি হয়ে যায় তাহলে কাল আমি আপনার নামে একটি রোজা রেখে দেবো। যদি এই ধরনের মানত করে থাকে তাহলে সে ক্ষেত্রে দুপুরে আগ পর্যন্ত এক ঘন্টা আগেও নিয়ত করে থাকে তাহলে সেটা তার মান্নত আদায় হয়ে যাবে। আবার অনেকে জুমার দিনে মান্নত করে থাকে অনেকে বলে থাকে যে আমি একটি নফল রোজা করে দেব, সেক্ষেত্রে এই ধরনের রোজা রাখতে হবে। আর যদি কাজা রোজা নিয়ত করে তাহলে সেই কাযা রোজা আদায় হয়ে যাবে আর একদিন পালন করে দিতে হবে পরে আবার কাজা করে দিতে হবে তা না হলে আপনার মান্নত রোজা হবে না।
সর্বোপরি বলা যেতে পারে যে যদি আপনি রোজা মান্নত করে থাকেন তাহলে অবশ্যই সেটা পালন করে নিতে হবে, তা না হলে আপনাকে গুনাগার হওয়া লাগবে। উপরোক্ত বিষয়ে কোরআন হাদিসের আলোকে এই মান্নত রোজা হিসেবে বলা হয়েছে যে যদি আপনি আল্লাহর নামে কোন শর্ত ছাড়াই রোজা মান্নত করে থাকেন, সেক্ষেত্রে পালন করা ওয়াজিব হয়ে যাবে। আর যদি শর্ত সাপেক্ষে দিয়ে থাকেন সেক্ষেত্র আপনার রোজা রেখে দিতে হবে। আশা করি আল্লাহর এবাদত এর বিষয়ে যদি আপনি মান্নত করে থাকেন তাহলে অবশ্যই পালন করার চেষ্টা করবেন তা না হলে গুনাগার হতে হবে।
আজকের এই আর্টিকেলটি লিখেছেন, মাওলানা মোহাম্মদ ফরহাদ আলী, সহকারী মৌলভী, গোলকপুর সিদ্দিকিয়া ফাজিল ডিগ্রী সিনিয়র মাদ্রাসা, উল্লাপাড়া, সিরাজগঞ্জ।

এম আর মাহমুদ ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url