দেশি মুরগির গুটি বসন্ত রোগের চিকিৎসা সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানুন

অনেকে জানে না দেশী মুরগির গুটি বসন্তের চিকিৎসা সম্পর্কে, তাই দেশি মুরগির গুটি বসন্ত রোগের চিকিৎসা জানা সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানা থাকলে আপনার মুরগি গুলো সুস্থ থাকবে। চলুন, কিভাবে এই গুটি বসন্ত থেকে মুক্তি পাবেন সেই সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।
ছবি
গুটি বসন্ত মুরগির বাচ্চাদেরকে এতটাই ক্ষতি করে যা তারা অত্যন্ত অসুস্থ হয়ে পড়ে, সেজন্য খাওয়া-দাওয়া বন্ধ করে দেয়। এ থেকে আপনাকে মুক্তি দিতে হবে, তাই দেশি মুরগির গুটি বসন্ত রোগের চিকিৎসা সম্পর্কে জানতে পোস্টটি মনোযোগ দিয়ে পড়ুন।

সাধারণত দেশি মুরগি গুলো খুবই ছোটবেলায় গুটি বসন্ত হয়ে থাকে, যার কারণে এর সঠিক চিকিৎসা না করলে বাচ্চাগুলো অসুস্থ হয়ে মারা যেতে পারে। তাই এই সময়টিতে আপনাকে বেশি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। বিশেষ করে ১ থেকে ৩০ দিন বয়সের দেশি মুরগি বাচ্চার গুটি বসন্ত হয়ে থাকে। তাই এ সম্পর্কে যদি আপনার ধারণা না থাকে তাহলে বাচ্চাগুলো বাঁচানো কঠিন হয়ে যাবে। মুরগির বাচ্চা গুলোর যতি বসন্ত হয়ে থাকে, সেই ক্ষেত্রে নাপা সিরাপ ১ এমএল ১ লিটার পানিতে মিশিয়ে খাওয়াতে পারেন, দুই বেলা করে খাওয়াতে হবে। এতে করে মুরগির বাচ্চা গুলো দ্রুত সুস্থ হবে এবং অবশ্যই আক্রান্ত বাচ্চাগুলো আলাদা করতে হবে।

এই সময়ে মুরগির বাচ্চাগুলোর সাধারণত গুটি বসন্ত হওয়ার কারণে শরীরের প্রচণ্ড পরিমাণ জ্বর থাকে। তাই অবশ্যই জ্বরের ওষুধ দিতে হবে, পাশাপাশি যদি ঠান্ডার সমস্যা থাকে তাহলে ঠান্ডার ওষুধে দেওয়া যেতে পারে। তাছাড়া যে সকল স্থানে গুটি বসন্ত হয়েছে, সেই সকল আক্রান্ত স্থানগুলোতে হলুদের গুড়া ও এর সাথে সরিষার তেল মিশিয়ে লাগিয়ে দিতে পারেন, এতে দ্রুত সুস্থ হবে। তাছাড়া সবচাইতে বেশি কার্যকারী ওষুধ হল এক ধরনের পটাশ পাওয়া যায় সেগুলো আক্রান্ত স্থানে লাগিয়ে দিতে হবে। তবে এক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে যেন চোখের ভিতরে না যায়। আর যদি চোখের মধ্যেও এই গুটি বসন্ত আক্রান্ত হয়ে থাকে সে ক্ষেত্রে চোখের ড্রপ দিতে হবে।

তাছাড়া আক্রান্ত মুরগির বাচ্চা গুলোকে ভালো মানের খাবার দিতে হবে, এতে তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভালো থাকবে। তাহলে দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবে, যদি মুরগির বাচ্চাগুলোর বয়স ৩৫ দিন হয়ে যায় অবশ্যই সেক্ষেত্রে এর টিকা দিতে হবে। তাহলে এই ফাউল পক্স হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে না। অনেক মুরগির বাচ্চা গুলো সাধারণত চোখের ভিতরে ফুলে যায়, চোখ বন্ধ হয়ে যায় এমনকি চোখ দিয়ে পানি আসে। এই ক্ষেত্রে অবশ্যই তুলার সাহায্যে সুন্দর করে চোখ পরিষ্কার করতে হবে, এর পরে চোখের ড্রপ দিতে হবে।
এছাড়াও অনেক বাচ্চার দেখা যাচ্ছে চোখের মধ্যে থেকে সাদা এক ধরনের পদার্থ বের হয়, এটা আপনাকে সাবধানে এগুলো বের করে পরিষ্কার করতে হবে। এরপরে চোখের ড্রপ দিতে হবে, সিভোডেক্স ভেট নামের এক ধরনের চোখের ড্রপ পাওয়া যায় সে ক্ষেত্রে দুই ফোটা করে দিনে দুইবার দেওয়া যাবে। এতে দ্রুত চোখের সমস্যা সমাধান হবে, তাই প্রত্যেকটা ছোট বাচ্চাগুলোর খুবই যত্ন নিতে হবে, তা না হলে বাচ্চা বাঁচানো কঠিন হয়ে যাবে এতে আপনি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

ছোট বাচ্চাদের সাধারণত এই ধরনের বসন্ত বিভিন্ন কারণ হতে পারে, বিশেষ করে মশার কামড়ে এই ধরনের বসন্ত বেশি উঠে থাকে। তাই অবশ্যই আপনি মুরগির বাচ্চাগুলোকে মশারি দিয়ে ঢেকে দিতে পারেন অথবা কয়েল ব্যবহার করতে পারেন। তবে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার আসতে হবে পর্যাপ্ত পরিমাণ আলো বাতাসের ব্যবস্থা করতে হবে। এছাড়াও রাত্রিতে আপনি কয়েল জালিয়ে দিতে পারেন সন্ধ্যার আগে কয়েল লাগানোর চেষ্টা করবেন। তাতে মশা দ্রুত চলে যাবে, কেননা এই সময় মশা বেশি কামড় দিয়ে থাকে এতে করে বাচ্চার এই রোগটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে হয়।

সাধারণত গুটি বসন্ত ছোটবেলায় হয়ে থাকে, বিশেষ করে একসাথে অনেকগুলো মুরগী রেখে দিলে এই ধরনের রোগ হতে পারে। তাছাড়াও খামার যদি ভেজা থাকে আশেপাশে পানি জমলে এতে করে মশার উপরুদ্রপ বেশি হয়ে যায়, এতে মুরগির নিঃশ্বাসের মাধ্যমে দ্রুত ছড়াতে থাকে। প্রাথমিকভাবে সে ক্ষেত্রে কিন্তু সারাতে পারেন। দেখবেন সাধারণত এই রোগের লক্ষণগুলো হলো মুরগির বাচ্চা ঝিমাতে থাকবে এক্ষেত্রে অবশ্যই আপনাকে আলাদা করতে হবে। দেখা যাচ্ছে তার ঠোঁটের এবং নাকের চোখের দিকে সকল কিছু পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে, নাকের ভিতর বারেবারে চুলকাতে শুরু করবে এবং প্রচন্ড পরিমাণ জ্বর থাকবে।

দেখবেন যখন বাচ্চা আর খাচ্ছে না এবং প্রচন্ড ভাবে কাঁপছে সেক্ষেত্রে অবশ্যই কিন্তু চিকিৎসা নিতে হবে। এজন্য আপনার কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ রয়েছে সেক্ষেত্রে শীতকালে অবশ্যই আপনাকে গরম রাখতে হবে এবং গ্রীষ্মকালে অবশ্যই ঠান্ডা রাখতে হবে। বাতাসের আদ্রতা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে, এছাড়াও বসন্ত রোগের ক্ষেত্রে অবশ্যই মুরগির রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য ভিটামিন সি দেওয়া যেতে পারে। বিশেষ করে লেবুর রস দিয়ে শরবত বানিয়ে খাওয়ানো যেতে পারে। এছাড়াও আক্রান্ত স্থানটা মুছে দেওয়া হতে পারে এবং জীবাণু নাশক স্প্রে করতে পারেন। তাছাড়াও অনেক সময় অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা যেতে পারে তবে চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে।

আজকের এই পোস্টের লেখক, মোঃ মাহমুদুল ইসলাম
দীর্ঘ ৪ বছর যাবত এই দেশি মুরগির লালন পালন করছি। এরই অভিজ্ঞতার আলোকে আজকের এই পোস্টটি লিখেছি। আশা করি আপনার উপকার হবে। আজকের এই পোস্টটি ধৈর্য সহকারে পড়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

এম আর মাহমুদ ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url
Md. Mahmudul Islam
Md. Mahmudul Islam
আমি ডিজিটাল মার্কেটিং এক্সপার্ট ও সরকারি চাকরি করি। আমি অনলাইনে বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করে ইনকাম করি, এছাড়াও ব্লগিং, SEO ও টেকনোলজি বিষয় নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করি। এই কাজের উপর আমার ৩ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে।