কি খাওয়ালে দেশি মুরগি বেশি ডিম পাড়ে? জানলে অবাক হবেন

দেশি মুরগিকে পুষ্টিকর খাবার খাওয়ালে ডিম বেশি বাড়বে, তাই কি খাওয়ালে দেশি মুরগি বেশি ডিম পাড়ে? সম্পর্কে যদি আপনার সঠিক তথ্য জানা থাকে, তাহলে উপকার পাবেন। চলুন, দেশি মুরগিকে যে খাবার খাওয়ালে বেশি ডিম পারবে সে সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।
ছবি
বাংলাদেশে অনেক আগে থেকে দেশি মুরগি লালন পালন করা হয়ে থাকে। কেননা দেশি মুরগি আমাদের দেশের প্রকৃতির সাথে খাপ খেয়ে নিতে পারেন। তাই কি খাওয়ালে দেশি মুরগি বেশি ডিম পাড়ে? সম্পর্কে বিস্তারিত জানার জন্য আর্টিকেলটি মনোযোগ দিয়ে পড়ুন।

দেশি মুরগিকে সাধারণত বিভিন্ন ধরনের খাবার খাওয়ানো যেতে পারে, বিশেষ করে গ্রাম অঞ্চলের মা-বোনেরা সাধারণত দেশি মুরগিগুলো ছেড়ে পালন করে। যার কারণে তাদেরকে তেমন একটা খাবার দিতে হয় না। এই সকল মুরগিগুলো সাধারণত প্রাকৃতিক খাবার খেয়ে বেঁচে থাকে। তারা বিভিন্ন ধরনের পোকামাকড় শাকসবজি খেয়ে থাকে। যার কারণে তাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভালো থাকে। তাছাড়া তাদের শরীরের প্রচুর পরিমাণে পুষ্টি থাকে, তবে অনেক সময় তারা খাবার খুঁজে না পাওয়ার কারণে শরীরের পুষ্টির ঘাটতি দেখা যায়, যার কারণে কম ডিম দিয়ে থাকে।

তাই বেশি ডিম পাওয়ার জন্য আপনাকে প্রাকৃতিক খাবারের পাশাপাশি কিছু অতিরিক্ত খাবার দিতে হবে। যেমন ধানের গুড়া, গমের ভুষি, ভুট্টা ভাঙ্গা ইত্যাদি গুলো যদি আপনি দিতে পারেন। তাহলে মুরগিগুলো সাধারণত পুষ্টি পাবে। কেননা এগুলোর মধ্যে প্রচুর পরিমাণে পুষ্টি থাকে, যা আপনার মুরগি অতিরিক্ত ডিম পারবে। তাছাড়াও আপনি সয়াবিন দিতে পারেন, এতে করে আপনার খরচ অনেকটাই কম হবে। আর যদি আপনি বাজার থেকে যে রেডিমেট লেয়ার লেয়ার ওয়ান খাবার পাওয়া যায় সেটা খাওয়ালে অনেক টাকা খরচ হয়ে যাবে, যা দেশী মুরগী পালন করে লাভ হবে না।

তাছাড়া দেশী মুরগিকে বেশি ডিম পাড়ানোর ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে যে ক্যালসিয়ামের প্রয়োজন হয়। তাই ক্যালসিয়ামের চাহিদা মিটানোর জন্য আপনি ক্যালসিয়াম জাতীয় খাবার গুলো খাওয়াবেন। তাছাড়া অনেক মুরগির ক্যালসিয়ামের অভাবে দেখা যাচ্ছে যা ডিমের খোসা পাতলা হয়ে যায়। এজন্য অবশ্যই ডিম পাড়া মুরগিকে ডিমের খোসা গরম পানিতে ভিজিয়ে কিছুক্ষণ পর শুকিয়ে নিবেন। এরপরে বেলেন্ডার করে নেবেন। এই ধরনের ডিমের খোসা বিভিন্ন ধরনের হোটেলের রান্না করার পরে এই ডিমের খোসাগুলো সংগ্রহ করতে পারেন। পাশাপাশি আরও বিভিন্ন ধরনের খাদ্য মিশিয়ে পরিমাণ মতো খাওয়ালে পর্যাপ্ত পরিমাণ ডিম দেবে।

প্রথমত ১০টা মুরগি যদি থাকে সেই ক্ষেত্রে যে পরিমাণ খাদ্য আপনি নিতে পারেন, তার মধ্যে প্রথমে ১০ কেজি ধানের গুড়া, এরপরে৪ কেজি গম ভাঙ্গা, ৫ কেজি ভুট্টা ভাংগা, ৫০০ গ্রাম খৈলের গুড়া তাছাড়াও ১৫০ গ্রাম ডিমের খোসা নিবেন, এরপরে ১০০ গ্রাম লবণ নিয়ে খাদ্য তৈরি করবেন। এই খাদ্য ১০টি মুরগিকে খাওয়াতে পারবেন, পুরো ১ মাসের জন্য এভাবে আপনি পরিমাণ মতো যদি খাদ্য খাওয়াতে পারেন। তাহলে মুরগি অনেক ডিম পারবে, এছাড়াও খাদ্যের খরচ কমে যাবে অনেক লাভবান হবেন। পাশাপাশি মুরগিকে যত্ন নিতে হবে তাহলেই ডিমের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।

দেশি মুরগিকে সাধারণত ভালো খাবার দিতে হবে, তার মধ্যে সুষম খাবার দেওয়ার চেষ্টা করবেন। এজন্য ধান, ভুট্টা, গম, খুদ ইত্যাদি দিতে পারেন। তাছাড়া ভিটামিন ও মিনারেল জাতীয় খাবার গুলো দিতে হবে। আপনি যদি এগুলো সঠিকভাবে তৈরি করতে না পারেন, তাহলে বাজারে লেয়ার লেয়ার ফিট পাওয়া যায় এগুলো খাওয়াতে পারেন, তবে ভালো মানের ফিড খাওয়াতে হবে। তাহলে দেখবেন ডিমের উৎপাদন বেশি হবে, ভালো ফলাফল পাবেন। তবে একটি দেশি মুরগির জন্য কমপক্ষে দিনের ৬০ থেকে ৭০ গ্রাম খাবার দিতে হবে, এর চেয়ে কম দেওয়ার যাবে না।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আপনার মুরগির ঘর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা রাখতে হবে, বিষ্ঠা গুলো প্রতিদিন পরিষ্কার করতে হবে। পরিষ্কার পানি দিতে হবে, ফ্রেশ পানি দেওয়ার চিন্তাভাবনা করবেন। এছাড়াও ভিটামিন খনিজ জাতীয় খাবারগুলো দিতে হবে। এজন্য প্রতি মাসে একবার হলেও ওষুধ খাওয়াতে হবে, যেমন এডি৩, ক্যালসিয়াম ও ই-সেল এই ভিটামিন ওষুধ গুলো যদি আপনি দিতে পারেন। তাহলে ডিমের উৎপাদন অবশ্যই বেশি হবে এবং ডিম বেশি বাড়বে। প্রতি দুই মাস অথবা তিন মাস পর পর কৃমির ওষুধ দিতে হবে, কৃমির ওষুধ দেওয়ার পরে অবশ্যই লিভার টনিক দিবেন এতে ডিমের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।

আপনার মুরগির যদি ডিমের উৎপাদন বেশি করতে চান তাহলে অবশ্যই সঠিকভাবে যত্ন নিতে হবে এবং সঠিক ব্যবস্থাপনা করতে হবে। এছাড়াও পাশাপাশি খাবারের দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। উপরোক্ত খাবারগুলো দেওয়ার পাশাপাশি দুপুরে সাধারণত ঘাস লতাপাতা তরকারির খোসা, ভাতের মাড় দিতে পারেন। এতে করে খাবারের পরিমাণ কমে যাবে এবং খাবারের খরচও কমবে। কেননা সবুজ শাকসবজির মধ্যে অনেক ভিটামিন থাকে, তবে খেয়াল রাখতে হবে অতিরিক্ত খাওয়ালে অনেক সময় মুরগির ডায়রিয়া হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই অল্প করে পরিমাণ মতো দিতে হবে।

ডিম বৃদ্ধি পাওয়ার জন্য অবশ্যই আপনাকে খাবারের দিকে খেয়াল রাখতে হবে, পানি পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা দিতে হবে। এছাড়াও ঔষধ দিতে হবে ভিটামিন ঔষধ গুলো দেয়ার চিন্তাভাবনা করবেন। তাছাড়া আলো ও পরিবেশ ঠিক রাখতে হবে, বাতাসের ব্যবস্থাও করতে হবে। আলো বাতাস যেন লাগে সে ধরনের ব্যবস্থা করতে হবে, কমপক্ষে ১২ থেকে ১৪ ঘন্টা আলো পাওয়া লাগবে। তাহলেই মুরগি ডিম বেশি দিবে। এজন্য আপনি সন্ধ্যার পরে ঘন্টাখানিকের মত সাদা বাল্ব লাগিয়ে রাখতে পারেন। এতে বেশি ডিম দেবে, তাছাড়া পরিষ্কার এবং শুকনো রাখতে হবে। সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে কেননা ঠান্ডা লাগতে পারে আবার অতিরিক্ত ঠান্ডা বাতাস যেন না লাগে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে, বৃষ্টিতে যেন না ভিজে যায়।

ডিম পাড়া মুরগিকে সাধারণত নিরাপদ জায়গায় রাখতে হবে এবং ডিম পাড়ার জায়গায় ব্যবস্থা করে দিতে হবে। তারা যেন বেশি ভয় না পায় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে, ভয় পেলে ডিম পাড়া কমিয়ে দেয়। তাছাড়াও আপনাকে নিরিবিলি জায়গায় ডিম পাড়ার জন্য ব্যবস্থা করে দিতে হবে। এছাড়াও যদি কোন মুরগির রোগব্যাধি হয় তাহলে অবশ্যই দ্রুত তাকে আলাদা করতে হবে। আলাদাভাবে চিকিৎসা নিতে হবে, যদি আপনি চিকিৎসার ব্যবস্থা না বুঝতে পারেন তাহলে অবশ্যই একজন ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাবেন। তাহলে আপনি সঠিক চিকিৎসা পাবেন। উপরোক্ত নিয়ম গুলো যদি আপনি অনুসরণ করতে পারেন তাহলে আশা করা যায় দেশি মুরগি থেকেও অনেক বেশি ডিম পাবেন এবং লাভবান হবেন।

আজকের এই পোষ্টে লিখেছেন, মোঃ মাহমুদুল ইসলাম। দীর্ঘ ৪ বছর যাবত দেশি মুরগি পালন করার অভিজ্ঞতা রয়েছে। আশাকরি আপনাকে সঠিক তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করতে পারব।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

এম আর মাহমুদ ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url
Md. Mahmudul Islam
Md. Mahmudul Islam
আমি ডিজিটাল মার্কেটিং এক্সপার্ট ও সরকারি চাকরি করি। আমি অনলাইনে বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করে ইনকাম করি, এছাড়াও ব্লগিং, SEO ও টেকনোলজি বিষয় নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করি। এই কাজের উপর আমার ৩ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে।