দেশি মুরগির ঠান্ডা রোগের চিকিৎসা সম্পর্কে সঠিক তথ্য জেনে নিন
দেশি মুরগির সাধারণত ঠান্ডা জড়িত সমস্যা বেশি হয়ে থাকে, তাই দেশি মুরগির ঠান্ডা রোগের চিকিৎসা সম্পর্কে জানা থাকলে আপনার মুরগিকে সুস্থ রাখতে পারবেন। চলুন, ঠান্ডা লাগলে কিভাবে চিকিৎসা করবেন সে সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।
দেশি মুরগির সাধারণত ঘন ঘন ঠান্ডা লেগে থাকে যার কারণে পরবর্তীতে নিউমোনিয়া হয়ে যায়। ঠান্ডা জনিত কারণেই বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই দেশি মুরগির ঠান্ডা রোগের চিকিৎসা সম্পর্কে বিস্তারিত জানার জন্য আর্টিকেলটি মনোযোগ পড়তে থাকুন।
সাধারণত দেশি মুরগি গুলো ছেড়ে বেশি লালন পালন করা হয়, যার কারণে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়ায় এ কারণে ঠান্ডা লাগতে পারে। এছাড়াও সকালবেলা বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়, যার কারণে দেখা যাচ্ছে যে বিভিন্ন কারণে ঠান্ডা লাগতে পারে। বিশেষ করে শীতকালে দেশি মুরগি অনেক ভোরবেলা ছাড়ার কারণে তাদের ঠান্ডা জনিত সমস্যা হয়ে থাকে। তাই আপনি যদি দেশি মুরগির ছেড়ে পালতে চান সে ক্ষেত্রে আপনাকে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। বিশেষ করে শীতকালে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে, শীতকালে অবশ্যই দেরিতে মুরগি ছাড়তে হবে। অত্যাধিক শীতের মাঝে অবশ্যই আপনার ঘরকে উষ্ণতা রাখার চেষ্টা করতে হবে।
দেশি মুরগি সাধারণত ঠান্ডা বেশি লাগে এজন্য ঠান্ডা চিকিৎসা সম্পর্কে জানতে হবে। প্রথমত আপনাকে দেখতে হবে মুরগিটা ঠান্ডা লেগেছে কিনা, ঠান্ডা লাগলে বিভিন্ন লক্ষণ দেখা যায় যেমন নাক দিয়ে পানি পড়তে পারে। তাই আপনি নাক চাপ দিতে পারেন এছাড়াও জ্বর আসতে পারে। বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে খাওয়া দাওয়া বন্ধ করে দেবে। এ ধরনের লক্ষণ যদি দেখতে পারেন তাহলে তার চিকিৎসা নিতে হবে। সাধারণত মুরগির মাইকোপ্লাজমাসিস, সিআরডি এবং সি সি আর ডি রোগ হয়ে থাকে। এই রোগ গুলো কি সেটা আপনাকে আগে জানতে হবে, মাইকোপ্লাজমাসিস রোগটা বেশি হয়ে থাকে।
মাইকোপ্লাজমাসিস এমন একটি রোগ এই জীবাণু সংক্রামক ব্যাধি যার কারণে এক মুরগি থেকে আরেকটা মুরগি দ্রুত ছড়ায় থাকে। শ্বাসতন্ত্রের সাহায্যে বায়ুর মাধ্যমে একে অপরের সাথে দ্রুত ছড়ায়। এটা সাধারণত দেশি মুরগিগুলো ছেড়ে পালন করা হওয়ার কারণে একজনের থেকে আরেকজনের ছড়িয়ে পড়ে। এটা মূলত ঠান্ডা জনিত সমস্যা তাই এর সঠিক চিকিৎসা নিতে হবে। কেননা মুরগির বয়স অনুযায়ী এবং ডিম পাড়া মুরগি কিনা সেই ধরনের সবকিছু নিয়েই আপনাকে চিকিৎসা নিতে হবে। সে ক্ষেত্রে অবশ্যই একজন ভেটেনারি রেজিস্টার চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
এই রোগটি হওয়ার কারণে দেখা যাচ্ছে মুরগির সাধারণত শ্বাসতন্ত্রে বেশি আক্রান্ত হয়ে থাকে। ২ থেকে ৬ সপ্তাহের মধ্যে যে সকল মুরগিগুলো রয়েছে তাদেরকে বেশি আক্রান্ত করে থাকে। শীতকালে সবচাইতে বেশি হয়ে থাকে, এমন একটি ব্যাকটেরিয়া ভাইরাস দ্বারা গঠিত যার দীর্ঘস্থায়ী রোগের সৃষ্টি করতে পারে। সাধারণত বায়ুর মাধ্যমে এই রোগটি ছড়াতে পারে। সাধারণত এটি এমন একটি রোগ যদি আক্রান্ত হয়ে থাকে এর জীবাণু বের হয়ে খাদ্য, পানি বা লিটারের সাথে দূষিত হয়ে যায়। এর মাধ্যমে যদি সুস্থ মুরগি সেখানে থাকে তাহলে সেটাও কিন্তু আক্রান্ত হবে। ইঁদুরের মাধ্যমে এই রোগটি সংক্রমিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
এই রোগটি হওয়ার কারণে সাধারণত শ্বাসনালির ভিতর ঘড় ঘড় শব্দ করবে, নাক দিয়ে পানি আসতে পারে, কাশি হতে পারে। তাছাড়াও যে শব্দ আসবে, খাওয়ার প্রতি অনিহা আসবে ওজন কমে যায়, ডিম পাড়া বন্ধ করে দিবে। এই ডিম একেবারে ২০% এর নিচে কমে যাবে এবং অনেক সময় মারাও যেতে পারে। এজন্য আপনার বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে, এই রোগটি হওয়ার কারণে সাধারণত হৃদপিণ্ড বড় হবে শ্বাসনালী লালচে হয়ে যাবে, ফুলে যায়। এজন্য এই রোগটি নির্ণয় করার জন্য রক্ত পরীক্ষা করা যেতে পারে, এক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে যে মুরগিগুলো একসাথে থাকে সেগুলো থেকে পরীক্ষা নিরীক্ষা করতে হবে।
এ ধরনের সমস্যাগুলো আপনি যদি দেখতে পারেন তাহলে অবশ্যই আপনার চিকিৎসা নিতে হবে। এজন্য প্রাণী চিকিৎসকের কাছে আপনাকে যেতে হবে। মুরগীটা নিয়ে তাকে দেখানো যেতে পারে তাহলে ভালোভাবে চিকিৎসা নিতে পারবেন। যদি আপনার ডিম পাড়া মুরগি হয়ে থাকে। সাধারণ যে ঔষধটা দিয়ে থাকে, আমি সাধারণত ফার্মে ঠান্ডার চিকিৎসার জন্য যে ওষুধটা দিয়ে থাকি তাহলো টাইলসিন গ্রুপের ওষুধ যা প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম করে মিশিয়ে ৩ থেকে ৫ দিন খাওয়াতে পারেন। এ ধরনের আরো অনেকগুলো ওষুধ রয়েছে।
টিয়ামুলিন ৪৫% প্রতি লিটারে ১ গ্রাম করে খাওয়াতে পারেন, টাইলোভেট ২০০ এই ওষুধটি প্রতি লিটারে ২ গ্রাম করে ওষুধ দিতে পারেন। তবে দেশি মুরগির সাধারণত যদি ঠান্ডা লেগে থাকে সেক্ষেত্রে রেনামাইসিন ট্যাবলেট রয়েছে সেই ট্যাবলেট গুড়ো করে ভাতের সাথে মিশিয়ে খাওয়ানো যেতে পারে। এক্ষেত্রে ৫ দিন খাওয়ালে ভালো উপকার পাওয়া যায়। তবে রোগ হওয়ার আগে আপনি প্রতিরোধ নেওয়ার চেষ্টা করবেন, এক্ষেত্রে রোগ জীবাণু যেন প্রবেশ করতে না পারে যার কারণে মাঝে মাঝে জীবাণু নাশক স্প্রে করতে হবে। মানসম্মত খাবার দিতে হবে, পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে, লিটার সবসময় শুকনো থাকে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে, সময় মত ভ্যাকসিন করা লাগবে।
তবে দেশি মুরগিকে সাধারণত রোগ হওয়ার আগেই প্রতি সপ্তাহে প্রাকৃতিক চিকিৎসা নেওয়া যেতে পারে। ঠান্ডার জন্য আপনি অল্প পরিমাণ আদা রসুন মিশ করে পানিতে খাওয়ানো যেতে পারে। এক্ষেত্রে তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে এবং ঠান্ডা জনিত সমস্যা হবে না। তাই আপনি চেষ্টা করবেন ভালো মানসম্মত খাবার দেওয়ার পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা রাখা এবং ঠান্ডা যেন না লাগে সেদিকে সতর্কতা রাখতে হবে। সব সময় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখবেন এবং ভিটামিন ক্যালসিয়াম জাতীয় খাবার গুলো খাওয়ানো হতে পারে। এতে করে আপনার মুরগির রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে, যার কারণে ঠান্ডা লাগার সম্ভাবনা কম থাকবে।
আজকের এই পোস্টটি লিখেছেন, মোঃ মাহমুদুল ইসলাম, দীর্ঘদিন দেশি মুরগি লালন পালন করে থাকি, সেই অভিজ্ঞতার আলোকে আপনাদেরকে পরামর্শ দেওয়ার চেষ্টা করেছি। আশা করি উপকৃত হবেন।

এম আর মাহমুদ ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url