জিংক 20 ট্যাবলেট এর খাওয়ার নিয়ম এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে জানুন

অনেকে জানতে চায় যে, জিংক 20 ট্যাবলেট এর খাওয়ার নিয়ম সম্পর্কে। তাই জিংক ট্যাবলেট খেলে শরীরে কি উপকার হবে সে সম্পর্কে জানা প্রয়োজন। চলুন, জিংক ট্যাবলেট খাওয়ার নিয়ম সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে জেনে নেওয়া যাক।
ছবি
শিশুদের সাধারণত রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকে, যার কারণে বিভিন্ন ধরনের খাবার খাওয়ায় পাশাপাশি জিঙ্ক খাওয়াতে পারেন। তাই জিংক 20 ট্যাবলেট এর খাওয়ার নিয়ম সম্পর্কে জানতে আর্টিকেলটি মনোযোগ দিয়ে পড়ুন।

অনেকে প্রশ্ন করে থাকে জিংক 20 ট্যাবলেট এর খাওয়ার নিয়ম সম্পর্কে। এটা এমন একটি ঔষধ যা আমাদের শরীরে বিভিন্ন ধরনের উপকার করে থাকে। চলুন, এই জিংক ট্যাবলেট খাওয়ার নিয়ম সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।

জিংক ট্যাবলেট একদম শিশু থেকে শুরু করে বয়স্ক লোক সবাই খেতে পারবেন। তবে এর নিয়ম রয়েছে সেই নিয়ম সম্পর্কে আপনাকে সঠিক তথ্য জানতে হবে, তা না হলে পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হয়ে আপনার শরীরে ক্ষতি হতে পারে। যে কোন ওষুধই খাওয়ার ক্ষেত্রে অবশ্যই একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। কেননা প্রত্যেকটা ওষুধের নিয়ম রয়েছে, তাই জিংক ট্যাবলেট খাওয়ার ক্ষেত্রে নিয়ম আছে। এছাড়াও এই জিংক ট্যাবলেটের পাশাপাশি বাচ্চাদের জন্য সিরাপ পাওয়া যায়, যেটা বাচ্চাদের ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সেক্ষেত্রেও এই সিরাপ খাওয়ার ক্ষেত্রে নিয়ম অনুযায়ী খাওয়াবেন। চলুন এই সিরাপ খাওয়ার নিয়ম সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে জেনে নেওয়া যাক।

যে সকল শিশুদের ওজন ১০ কেজির কম আছে সে সকল শিশুদের জিংক সিরাপ এক চামচ পরিমাণ দিনে দুইবার খাওয়াবেন, অবশ্যই যে কোন খাবার খাওয়ার পরে খাওয়াতে হবে। এছাড়া যে সকল শিশুর ওজন ১০ থেকে ৩০ কেজির মধ্যে সেই সকল শিশুরা দৈনিক দুই চামচ পরিমাণ তিনবার খেতে পারবেন। তাছাড়া যারা প্রাপ্তবয়স্ক রয়েছেন এবং ৩০ কেজির উপরে যে সকল লোকজন রয়েছেন তাদের ৪ চামচ পরিমাণ দিনে তিনবার খাওয়া যেতে পারেন। নিয়ম অনুযায়ী আপনি যদি খেতে পারেন তাহলে আপনার শরীরে কাজ করবে এ ছাড়াও আপনি একজন চিকিৎসকের পরামর্শক্রমেই খেতে পারেন এবং তিনিই ডোজ নির্ধারণ করে দিবেন।

সাধারণত অল্প বয়সের শিশুগুলো ঘন ঘন ডায়রিয়া হতে থাকে কেননা ছোট বাচ্চারা সাধারণত বিভিন্ন খাবার মুখে দিয়ে ফেলে এতে করে জীবাণু থাকার কারণে তাদের ডায়রিয়া হতে পারে। ডায়রিয়া হলে প্রধানত অবশ্যই খাবার স্যালাইন খাওয়াতে হবে। পাশাপাশি শরীরে খনিজ পদার্থ পূরণ করার জন্য এবং এই সময় মুখে রুচি কমে যায় এজন্য জিংক সিরাপ খাওয়ানো যেতে পারে। তাছাড়াও চিকিৎসকরা সাধারণত ডায়রিয়ার শিশুদেরকে অবশ্যই খাবার স্যালাইন পাশাপাশি জিংক সিরাপ খাওয়াতে বলেন। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ ক্রমেই খেতে হবে।

তবে ডায়রিয়া হলে বাচ্চাদেরকে যে নিয়মে খাওয়াতে হবে যেমন দুই থেকে ছয় মাস বয়সী শিশুদেরকে দৈনিক দশ মিলিগ্রাম জিংক সিরাপ খাওয়ানো যেতে পারে। দশ দিনের মত খেতে পারে, এছাড়াও ছোট শিশুদেরকে যদি আপনি যে জিংক ট্যাবলেট খাওয়ান সে ক্ষেত্রে দিনে একটি করে দশ দিন খাওয়াতে হবে। এক চামচ পরিমাণ পানির মাঝে একটি করে জিংক ট্যাবলেট পানিতে মিশিয়ে খাওয়ানো যেতে পারে। এক্ষেত্রে শিশুরা খাবে কেননা অত্যন্ত মিষ্টি এবং সুস্বাদু লাগে। তাই আপনার শিশু যদি ডায়েরি হয় ওর স্যালাইনের পাশাপাশি অবশ্যই জিংক ট্যাবলেট অথবা সিরাপ খাওয়াতে পারেন।

এছাড়াও যে সকল শিশুদের ৬ মাস থেকে পাঁচ বছর বয়স হয়েছে তারা দৈনিক ট্যাবলেট জিঙ্ক ২০ ট্যাবলেট খাওয়ানো যেতে পারে ২০ মিলিগ্রাম জিঙ্ক ট্যাবলেট খাওয়ানো যেতে পারে, সেই ক্ষেত্রে ১০ দিন থেকে ১৪ দিনের মত খাওয়ানো যাবে। তবে জিংক ট্যাবলেট খাওয়ানো দুটি নিয়ম রয়েছে। খাবারের এক ঘন্টা আগে খাওয়ানো যেতে পারে আর খাবার খাওয়ার দুই ঘন্টা পরে সবচাইতে ভালো হবে এবং কার্যকারিতা বেশি দেখাবে। তাছাড়া পরিপাকতন্ত্রের সমস্যা হতে পারে এবং যদি পরিপাকতন্ত্রের সমস্যা দেখা দেয় তাহলে খাবারের সাথে সাথে খাওয়া যেতে পারে।

ডায়রিয়া হলে সাধারণত শিশুদের কোন কিছু খাবার খেতে মন চায় না, সে ক্ষেত্রে মুখের রুচি ফেরানোর জন্য জিংক সিরাপ খাওয়ানো যেতে পারে। এক্ষেত্রে কতটুকু খাওয়ানো যেতে পারে সেক্ষেত্রে অবশ্যই একজন চিকিৎসক নির্ধারণ করে দিবেন। তবে জিংক সিরাপ দুই বেলা করে খাওয়ানো যেতে পারে। যদি ১০ কেজি ওজনের বাচ্চা হয় সে ক্ষেত্রে এক চামচ পরিমাণ ৫ কেজি ওজনের বাচ্চা মানুষ হতে পারে তাহলে সে ক্ষেত্রে আধা চামুচ দিনে দুইবার খাওয়াবেন এতে আপনার বাচ্চা সুস্থ থাকবে। তাছাড়া ডায়রিয়া যদি বেশি হয়ে যায় এবং বমি করতে থাকে সে ক্ষেত্রে জিঙ্ক সিরাপ বন্ধ রাখতে হবে।

তবে বাজারে বিভিন্ন ধরনের জিংক সিরাপ পাওয়া যায় সে ক্ষেত্রে আপনি যে কোম্পানি ভালো এবং বাচ্চারা খেতে চাচ্ছে, সেই কোম্পানির খাওয়ারটা খাওয়াতে পারেন। আর যারা প্রাপ্তবয়স্ক নারী রয়েছে তারা জিংক ট্যাবলেট খেতে পারেন সে ক্ষেত্রে জিঙ্ক ২০ এমজি ট্যাবলেট খাওয়া যেতে পারে। সকাল বিকালে সকাল রাত্রিতে এক থেকে দুটি করে ট্যাবলেট খাওয়া যাবে। জিংক ট্যাবলেট খাওয়ার ক্ষেত্রে অবশ্যই সতর্কতা থাকতে হবে, খাওয়ার আগে যদি খেতে চান সেক্ষেত্রে এক ঘন্টা আগে খাবেন আর খাওয়ার পরে যদি খেতে চান তাহলে ২ ঘন্টা পরে খেতে হবে।

অবশ্যই খাওয়ার আগে বা পরে কেন খাবেন এটার কারণ অবশ্যই আছে, কেননা খাবার খেলে পাকস্থলীতে এসিডিটি পরিমাণ কিন্তু বৃদ্ধি পেতে পারে সে ক্ষেত্রে জিঙ্ক খাওয়ার কারণে সেটা শোষণ ক্ষমতা তার বেড়ে যেতে পারে এছাড়া যদি খালি পেটে খেতে থাকেন সে ক্ষেত্রে অনেকের বমি হতে পারে এবং অস্বস্তিকর লাগতে পারে সে ক্ষেত্রে অবশ্যই জিংক ট্যাবলেট খাওয়া বন্ধ রাখতে পারেন। তিন মাস খাওয়া যেতে পারে তবে চিকিৎসকের পরামর্শ ক্রমেই খেতে হবে। আপনার শরীরের কি অবস্থা তার উপর নির্ভর করবে কতদিন খেতে হবে আর যদি চিকিৎসক আপনার শরীরে জিংকের ঘাটতি বেশি দেখে তাহলে সে অনুযায়ী আপনাকে সময় নির্ধারণ করে দিবে।

তবে অতিরিক্ত ভাবে নিজেই প্রতিনিয়ত আপনি খাবেন অথবা আপনার শিশুকে অরুচি হলেই ঘনঘন আপনি খাওয়াতে পারবেন না। এতে শিশুর ক্ষতি হতে পারে অতিরিক্ত খেলে পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা দেবে। তাছাড়া জিঙ্ক ট্যাবলেট খাওয়ার অবশ্যই সঠিক সময় এবং ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী খেতে হবে তা না হলে শরীরের জিংকের ঘাটতি পূরণ হবে না ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকবে। যদি আপনি দীর্ঘ মেয়াদী চিকিৎসা নিতে চাচ্ছেন এবং সুস্থ থাকতে চাচ্ছেন সেই ক্ষেত্রে অবশ্যই জিংক ট্যাবলেট খেতে পারেন। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ ক্রমে খেতে হবে। এই ট্যাবলেট খেলে শরীরে শক্তি পাবেন এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।

আরেকটি বিষয় খেয়াল রাখবেন রাত্রিতে যদি আপনি এই ট্যাবলেট খান সেক্ষেত্রে এর সাথে আরও বিভিন্ন ধরনের ঔষধ যেমন ক্যালসিয়াম আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম সাপ্লিমেন্ট এগুলো একসাথে খাবেন না। এতে আপনার শোষণ হবে না এবং সাপ্লিমেন্টে খেলে কোন উপকার পাবেন না। অবশ্যই দুই থেকে তিন ঘন্টার ব্যবধান রাখতে হবে। তাহলেই আপনার এই ওষুধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং শোষণ করতে পারলে আপনার শরীরে কার্যকারিতা বৃদ্ধি পাবে। তবে জিঙ্ক ট্যাবলেট আপনি রাত্রিতে খেতে পারবেন এক্ষেত্রে আপনার ঘুম ভালো হবে। এছাড়াও আপনার হরমোনের ভারসাম্য রক্ষা পাবে এবং কার্যকারিতা বৃদ্ধি পাবে।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

এম আর মাহমুদ ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url
Md. Mahmudul Islam
Md. Mahmudul Islam
আমি ডিজিটাল মার্কেটিং এক্সপার্ট ও সরকারি চাকরি করি। আমি অনলাইনে বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করে ইনকাম করি, এছাড়াও ব্লগিং, SEO ও টেকনোলজি বিষয় নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করি। এই কাজের উপর আমার ৩ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে।