গর্ভাবস্থায় পাঙ্গাস মাছ খেলে কি হয়? জানলে অবাক হবেন

অনেকে জানে না যে গর্ভাবস্থায় পাঙ্গাস মাছ খেলে কি হয়? এই মাছ সম্পর্কে অনেকে মনে করে যে গর্ভবতী মায়েরা খেলে গর্ভস্থ শিশুর ক্ষতি হবে। চলুন, এই পাঙ্গাস মাছ খেলে গর্ভবতী মায়েদের কি হবে সে সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে জেনে নেওয়া যাক।
ছবি
আমাদের বাংলাদেশে প্রচুর পরিমাণে পাঙ্গাস মাছ উৎপাদন হয়ে থাকে, যা দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং দামে খুবই কম। তাছাড়া গর্ভবতী মায়েদের পাঙ্গাস মাছ অনেক উপকার করে থাকে। তাই গর্ভাবস্থায় পাঙ্গাস মাছ খেলে কি হয়? এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানার জন্য আর্টিকেলটি মনোযোগ দিয়ে পড়ুন।

পোস্টসূচিপত্রঃগর্ভাবস্থায় পাঙ্গাস মাছ খেলে কি হয়? জানলে অবাক হবেন

গর্ভাবস্থায় পাঙ্গাস মাছ খেলে কি হয়

গর্ভাবস্থায় বিভিন্ন ধরনের খাবারের সমস্যা থাকে, তাই গর্ভাবস্থায় পাঙ্গাস মাছ খেলে কি হয়? গর্ভাবস্থায় বিভিন্ন ধরনের মাছ খেতে সমস্যা হতে পারে। চলুন, পাঙ্গাস খাওয়ার কারণে কি হতে পারে সে সম্পর্কে বিস্তারিত ভাবে জেনে নেওয়া যাক।

গর্ভবতী মায়েরা এই সময়ে চর্বি জাতীয় মাছ-মাংস অতিরিক্ত পরিমাণ খেলে শরীরে উপকারের চেয়ে ক্ষতি হবে। তবে পরিমাণ মতো যদি পাঙ্গাস মাছ খায় সেক্ষেত্রে গর্ভস্থ শিশুর দ্রুত বৃদ্ধি পাবে। কেননা এর মধ্যে ওমেগা ৩ ফ্যাটি এসিড থাকে, যা গর্ভবতীর শরীরের জন্য উপকার এবং গর্ভস্থ শিশুর মস্তিষ্ক ভালো রাখবে। যার কারণে চিকিৎসকগণ এই মাছ খাওয়ার ক্ষেত্রে নিষেধ করেন না। তবে অতিরিক্ত খাওয়া যাবে না, যেহেতু এই মাছ অনেক পাওয়া যায় যার কারণে দামও খুবই কম। এজন্য দরিদ্র মানুষ গুলো কিনতে পারে। তাই গর্ভবতী মায়ের পুষ্টির চাহিদা পূরণ করার জন্য এই পাঙ্গাস মাছ খেতে পারে।

গর্ভাবস্থায় গর্ভস্থ শিশুর হাড় ও দাঁত গঠনের জন্য ফসফরাস ক্যালসিয়াম এর প্রয়োজন হয়। তাই এই সময়ে শিশুর হাড় গঠন করতে পাঙ্গাস মাছ খাওয়া যেতে পারে। কেননা এর মধ্যে থাকে ফসফরাস ক্যালসিয়াম যা গর্ভস্থ শিশুর হাড় এবং দাঁত মজবুত করতে সাহায্য করবে। তাই পরিমাণ মতো খাওয়া যেতে পারে, আমাদের দেশে সাধারণত এই মাছটি অনেক পাওয়া যায় এবং দাম খুবই কম। রান্না করা খুবই সহজ এবং পুষ্টি রয়েছে। পুষ্টিবিদরা বলে থাকেন যে পাঙ্গাস মাছের মধ্যে এমাইনো অ্যাসিড থাকে যা আমিষের চাহিদা পূরণ করবে এবং অন্যান্য শাকসবজি বা শস্যদানার চেয়ে বেশি আমিষ থাকে।

যেহেতু আমিষ তৈরির করার জন্য অ্যামাইনো এসিড প্রয়োজন। তাই আপনি পাঙ্গাস মাছ খেতে পারেন, কেননা এর মধ্যে প্রচুর পরিমাণে অ্যামাইনো এসিড থাকে। এজন্য গর্ভবতী মায়েরা সাধারণত খেতে পারেন। এই মাছ খাওয়া খুবই সহজ, কেননা এই মাছের অতিরিক্ত কাটা নেই যা খেতে অসুবিধা হয় না। তাছাড়া গর্ভবতী মায়েদের পাশাপাশি জন্মের ছয় মাস থেকে বড় শিশুরাও সাধারণত এই মাছ খেতে পছন্দ করে। বিশেষ করে ছোট শিশুদের প্রথম পছন্দ এই পাঙ্গাস মাছ। তবে যেহেতু এর মধ্যে অতিরিক্ত চর্বি থাকে তাই শিশুকে অতিরিক্ত খাওয়াবেন না। এতে পেটের সমস্যা বা ডায়রিয়া হতে পারে।

যাদের হার্টের সমস্যা রয়েছে বা কোলেস্টরেল বেশি তারা বিভিন্ন ধরনের মাছ বা মাংস খেতে পারে না। সে ক্ষেত্রে পাঙ্গাস মাছ খেতে পারে, কেননা এর মধ্যে যে চর্বি থাকে সেটা কোলেস্টেরলকে নিয়ন্ত্রণ করবে এবং খারাপ কোলেস্টেরল বৃদ্ধি পাবে না। এতে হার্টের কোন সমস্যা দেখা দেবে না। তাছাড়াও এটা রোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ করবে। এর মধ্যে অসম্পৃক্ত চর্বি খুবই কম থাকে যা পুষ্টির ক্ষেত্রে অসুবিধা হবে না। সে ক্ষেত্রে একজন গর্ভবতী মা এই মাছ খেলে অসুবিধা হবে না। পাঙ্গাস মাছ খাওয়ার ক্ষেত্রে অনেক উপকার থাকে যা অনেকে জানেনা। যা আমাদের শরীরে পুষ্টির ঘাটতি পূরণ করবে।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

এম আর মাহমুদ ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url
Md. Mahmudul Islam
Md. Mahmudul Islam
আমি ডিজিটাল মার্কেটিং এক্সপার্ট ও সরকারি চাকরি করি। আমি অনলাইনে বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করে ইনকাম করি, এছাড়াও ব্লগিং, SEO ও টেকনোলজি বিষয় নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করি। এই কাজের উপর আমার ৩ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে।