ফানজিডাল এইচসি এর কাজ সম্পর্কে জেনে এর সঠিক ব্যবহার জানুন

অনেকে জানতে চায় ফানজিডাল এইচসি ক্রিম এর কাজ সম্পর্কে। আসলে ফানজিডাল এইচসি ক্রিম ব্যবহারবিধির নিয়ম রয়েছে তা জানতে হবে। চলুন, কিভাবে ফানজিডাল এইচসি ক্রিম কাজ করে সে সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে যেন নেওয়া যাক।
ছবি
ফানজিডাল এইচসি ক্রিম বিভিন্ন ধরনের চর্ম রোগের ক্ষেত্রে দারুন কাজ করে থাকে। তবে কোন ধরনের চর্ম রোগের জন্য এটা ব্যবহার করতে হবে সেটা জানতে হবে। তাই ফানজিডাল এইচসি ক্রিম এর কাজ সম্পর্কে বিস্তারিত জানার জন্য আর্টিকেলটি মনোযোগ দিয়ে পড়ুন।

কিছু চুলকানি রয়েছে যেগুলো খুবই কষ্টদায়ক এবং এমন জায়গায় হয়ে থাকে যেটা অসহ্যকর, লজ্জা জনক। সাধারণত এই ধরনের চুলকানিগুলো ত্বকের উপরে লালচে ভাব দেখা যায় এবং বিভিন্ন জায়গায় ছড়াতে থাকে। বিশেষ করে কুচকির মধ্যে চুলকানি হয়ে থাকে যা আপনাকে অস্বস্তিকর অবস্থায় ফেলে দেয়। এই ধরনের চুলকানি গুলো সাধারণত ইনফেকশন বলা হয় বা ছত্রাক এর মাধ্যমে সংক্রমণ করে থাকে। যা অত্যান্ত বিরক্তকর এটা প্রত্যেকটা মানুষকে শারীরিকভাবে কষ্ট দিয়ে থাকে তাছাড়া মানসিকভাবে কষ্ট পেয়ে থাকে। তাই এই ধরনের সমস্যাগুলো দূর করার জন্য ফানজিডাল ক্রিম ব্যবহার করতে পারেন।

ফানজিডাল এইচসি ক্রিম আপনার শরীরে ইনফেকশন কে ধ্বংস করতে পারবে। এছাড়া তীব্র চুলকানি বা প্রদাহ কমাতে সাহায্য করবে। তাছাড়াও এই ধরনের ক্রিম আপনার সব ধরনের ইনফেকশন এর জন্য ব্যবহার করা যাবে না। অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শক্রমেই আপনাকে ব্যবহার করতে হবে এবং চিকিৎসক আপনার কোন ধরনের ফাংগাল ইনফেকশন হয়েছে, সেই ফাঙ্গাল ইনফেকশনের সাথে তীব্র চুলকানি বা প্রদাহ আছে কিনা সেটা বিবেচনা করে তারপর আপনাকে ফানজিডাল এইচসি ক্রিমটা দিতে পারে।

তবে এই ক্রিমটি মুখমন্ডল সহ দেহের যেকোনো জায়গায় আপনি দিতে পারবেন, চুলকানির চিকিৎসার ক্ষেত্রে এটা ব্যবহার করা হয়ে থাকে। তবে বিশেষ করে এটা কাজ করে থাকে নারী ও পুরুষের গোপনাঙ্গে চুলকানি হয়ে থাকে সেক্ষেত্রে আপনার দারুণ কাজ করে থাকে। বিশেষ করে নারী বা পুরুষের রানের চিপায় এই ধরনের চুলকানি হয়ে থাকে, খোশ পাঁচড়া হয়ে থাকে তাছাড়া অনেকের দাউদের মতো সমস্যা দেখা দিয়ে থাকে, এই ধরনের সমস্যা দূর করতে ফানজিডাল দারুন কাজ করে থাকে। এছাড়াও যে কোন ছত্রাক এর মাধ্যমে যদি আপনার দাউদ একজিমা বিখাউজ হয়ে থাকে সে ক্ষেত্রেও এর চিকিৎসার জন্য ফানজিডাল ব্যবহার করতে পারেন।

এই ক্রিমটি সাধারণত এন্টিফাঙ্গাল উপাদান হিসেবে কাজ করে থাকে, এর প্রধান কাজই হল ফাঙ্গাস এবং ছত্রাক কে মেরে ফেলবে। এছাড়াও ফাঙ্গাসের কোষের সুরক্ষা প্রাচীর রয়েছে সেটা নষ্ট করে দিবে। যার কারণে ফাঙ্গাস গুলো মারা যাবে এবং ইনফেকশন হবে না। এক কথায় এটি ইনফেকশন এর মূল কারণ ধ্বংস করে দিবে। এর মধ্যে যে উপাদানটি রয়েছে সেটি হল কর্টিকোস্টেরয়েড যা আপনার ত্বকের চুলকানি জ্বালাপোড়া ত্বকের লাল হয়ে যাওয়া ব্যথা করা এই ধরনের সমস্যাগুলো দূর করতে পারে। ত্বকে পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা যায়, প্রচন্ড পরিমাণে চুলকানি হতে পারে সেই ক্ষেত্রে এটি দারুন কাজ করে।
তাছাড়া ফানজিডাল এইচসি ক্রিম এর কাজ হলো প্রচন্ড পরিমাণ চুলকানিতে দ্রুত আরাম দিতে সাহায্য করে। তাছাড়াও ফানজিডাল এইচসি ক্রিম ইনফেকশনকে দূর করবে। এছাড়াও জীবাণুকে মেরে ফেলবে অন্যদিকে যে চুলকানি বা লাল ভাব হবে সেটা কমাতে সাহায্য করবে। আর যদি কারো দাউদের সাথে তীব্র চুলকানি থাকে তাহলে এই ক্রিমটি ব্যবহার করতে পারেন। তবে যদি লাল ভাব বা প্রদাহ থাকে তবে এই ক্রিমটি মুখে ব্যবহার করতে পারবেন কিনা তা একজন চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে ব্যবহার করবেন। কেননা এই ক্রিমের মধ্যে এক ধরনের স্টেরয়েড থাকার কারণে ত্বক পাতলা হয়ে যেতে পারে।

তবে ফানজিডাল এইচসি ক্রিম ব্যবহার করার কারণে ব্রণ বা র‍্যাশ উঠতে পারে। এছাড়া বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে, তবে আপনার চুলকানি বা ইনফেকশন গুলো পুরোপুরি নির্মল হয়ে যাবে না। যদি আপনি চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ব্যবহার করতে থাকেন। ত্বকের গভীর থেকে যদি ফাঙ্গাসকে দূর করতে চান সে ক্ষেত্রে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে ৭ থেকে ১৪ দিন ব্যবহার করতে হবে। তবে শিশুদের ক্ষেত্রে এটি ব্যবহার করবেন না, যেহেতু তাদের ত্বক পাতলা এবং সংবেদশীল সেই ক্ষেত্রে এটি ব্যবহার করলে শিশুদের ক্ষতি হবে। অবশ্যই শিশু বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শক্রমে আপনি এই ক্রিমটি ব্যবহার করতে পারেন।

শিশুদের অনেকের ডায়াপার পড়ানোর কারণে সুখে থাকে রেশ উঠে থাকে, এতে আপনার যদি এই ক্রিম ব্যবহার করেন তাহলে আরো ক্ষতি হবে তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ব্যবহার করবেন। ফানজিডাল এইচসি ক্রিম ব্যবহার করার অবশ্যই নিয়ম রয়েছে। যদি আপনি নিয়ম অনুযায়ী ব্যবহার করতে পারেন তাহলে দ্রুত সুস্থ হতে থাকবেন। বিশেষ করে এটা ব্যবহার করার জন্য রাত্রিতে ব্যবহার করা উত্তম, ঘুমানোর পূর্বে অথবা গোসলের পরে আপনি হালকাভাবে নিয়ে আক্রান্ত স্থানে ব্যবহার করে নিবেন। সেক্ষেত্রে ২ থেকে ৩ বার ব্যবহার করতে পারেন। এই ক্ষেত্রে এই ক্রিমটি ১০ থেকে ১৪ দিন পর্যন্ত ব্যবহার করা যেতে পারে।

এই ক্রিম ব্যবহার করার পূর্বে অবশ্যই আপনার হাত পরিষ্কার করে নিতে হবে, এক্ষেত্রে ব্যবহারের পরে আপনি সাবান দিয়ে ভালো করে হাত ধুয়ে ফেলবেন। তাছাড়াও এর একটি নির্দিষ্ট কোর্স রয়েছে যেটা আপনাকে সম্পূর্ণ করতে হবে। সে ক্ষেত্রে চিকিৎসক যে কয়েকদিন ব্যবহার করতে বলে সে কয়েকদিন ব্যবহার করবেন। সাধারণত ৭ থেকে ১৪ দিন পর্যন্ত ব্যবহার করতে বলে। যদি আপনি সম্পূর্ণ না করেন তাহলে ত্বকের গভীরে ফাঙ্গা্ল ইনফেকশ পরবর্তীতে আবার বেরিয়ে আসবে এবং খারাপ রূপ ধারণ করতে পারে। তাই অবশ্যই চিকিৎসকের নিয়ম অনুযায়ী আপনাকে ব্যবহার করতে হবে।

লেখক মোঃ মাহমুদুল ইসলাম স্বাস্থ্যকর্মী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স উল্লাপাড়া সিরাজগঞ্জ

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

এম আর মাহমুদ ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url
Md. Mahmudul Islam
Md. Mahmudul Islam
আমি ডিজিটাল মার্কেটিং এক্সপার্ট ও সরকারি চাকরি করি। আমি অনলাইনে বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করে ইনকাম করি, এছাড়াও ব্লগিং, SEO ও টেকনোলজি বিষয় নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করি। এই কাজের উপর আমার ৩ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে।