গর্ভাবস্থায় পুঁইশাক খেলে কি হয় জেনে নিন কতটা নিরাপদ
অনেক গর্ভবতী জানতে চায় যে, গর্ভাবস্থায় পুঁইশাক খেলে কি হয়? আসলে পুইশাকের মধ্যে কি ভিটামিন থাকে সেটা জানা প্রয়োজন। চলুন, পুঁইশাকের মধ্যে কি ভিটামিন থাকে যা উপকার করবে সে সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।
গর্ভবতী মায়েরা সাধারণত বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি খেতে পছন্দ করে থাকে, সেক্ষেত্রে পুঁইশাক খাওয়া যেতে পারে। কারণ এটা শরীরের জন্য অনেক উপকার। তাই গর্ভাবস্থায় পুঁইশাক খেলে কি হয়? এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানার জন্য আর্টিকেলটি মনোযোগ দিয়ে পড়ুন।
গর্ভবতী মায়েদের সাধারণত এই সময় প্রচুর পরিমাণে রক্তস্বল্পতা দেখা দিতে পারে, সেজন্য রক্ত বৃদ্ধি করার জন্য আয়রন জাতীয় শাকসবজি খাওয়া প্রয়োজন। তার মধ্যে আপনি পুঁইশাক খেতে পারেন কেননা এর মধ্যে প্রচুর পরিমাণে আয়রন রয়েছে। যা আপনার রক্তস্বল্পতা দূর করবে, তবে যদি আপনার গ্যাস্ট্রিকের প্রচুর পরিমাণে সমস্যা থাকে তাহলে পুঁইশাক না খাওয়াই ভালো। এতে আপনার গর্ভস্থ শিশু দ্রুত বৃদ্ধি পাবে। তাছাড়াও এর মধ্যে ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম রয়েছে যা গর্ভস্থ শিশুর হাড় ও দাঁত মজবুত করতে সাহায্য করবে। এছাড়াও এর মধ্যে ফাইবার থাকে যা কোষ্ঠকাঠিন্যে সমস্যা দূর হবে।
পুইশাকের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ এবং সি রয়েছে, যা গর্ভবতী মায়েদের এ সময় রোগ ব্যাধি বেশি হয়ে থাকে, যার কারণে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য পুঁইশাক খাওয়া যেতে পারে। তবে অতিরিক্ত খাওয়া যাবে না এতে পেট ফাপা বা গ্যাস হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, অবশ্যই ভালো করে পরিষ্কার করে খাবেন। যদিও পুঁইশাকের মধ্যে ক্যালোরি এবং ফ্যাট কম থাকে যার কারণে এটা শরীরের জন্য উপকার। এছাড়া এর মধ্যে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, বিটা ক্যারোটিন রয়েছে যা আপনার ত্বকের সমস্যা দূর করবে। তাছাড়া এর মধ্যে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন থাকে যা গর্ভস্থ শিশুর দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি পাবে।
এছাড়াও পুঁইশাকের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন বি৬, ফলিক এসিড এবং ভিটামিন বি এর বিভিন্ন উপাদান পাওয়া যায় যা অনেক উপকার। গর্ভাবস্থায় যদি পুঁইশাক খেতে পারেন সে ক্ষেত্রে চোখের সমস্যা দূর হবে। কেননা এর মধ্যে রয়েছে লুটেইন যা চোখের রেটিনা ভালো রাখে, এতে চোখকে ভালো রাখে। এর মধ্যে লিপোইক এসিড থাকে যা রক্তের শর্করার মাত্রা কমিয়ে দিবে। এছাড়াও ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য উপকার কেননা এটা ইনসুলিন ভারসাম্য রক্ষা করে। এছাড়াও এর মধ্যে ম্যাগনেসিয়াম থাকে যা শরীরের শক্তি যোগাতে ম্যাগনেসিয়াম হিসাবে পুঁইশাক খেতে পারেন।
অনেকের গর্ভাবস্থায় সাধারণত অ্যাজমার সমস্যা হতে পারে সে ক্ষেত্রে এই পুঁইশাক খেতে পারেন। কেননা পুঁইশাক এর মধ্যে বিটা ক্যারোটিন থাকে যা এজমাকে প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। অনেক গর্ভবতী মায়ের সাধারণত এই সময় উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা দেখা দিতে পারে সে ক্ষেত্রে পটাশিয়ামের প্রয়োজন হতে পারে, যা আপনার উচ্চ রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করবে। এছাড়াও সোডিয়ামের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। এর মধ্যে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন-কে থাকে যা আপনার শরীরের কোথাও কেটে গেলে রক্ত বন্ধ করতে সাহায্য করবে। তাছাড়া যাদের বদহজমের সমস্যা রয়েছে অথবা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা এসিডিটির সমস্যা থাকে তারা পুইশাক খাওয়া থেকে দূরে থাকবেন।
গর্ভাবস্থায় সাধারণত ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা থাকে বিশেষ করে অনেকের ব্রণ উঠে এক্ষেত্রে আপনি ভিটামিন সি জাতীয় খাবার গুলো খেতে পারেন। তার মধ্যে পুঁইশাক খাওয়া যেতে পারে, এর মাঝে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন সি থাকে। এছাড়াও অনেকের পাইলসের সমস্যা থাকে তারা সাধারণত পুঁইশাক খেতে পারেন। কেননা এটা কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে, এছাড়াও এর মধ্যে অ্যান্টিইনফ্লেমেটরি থাকে যা শরীরে বিভিন্ন ধরনের ব্যথা বা ফুলে যাওয়া ইত্যাদি ধরনের সমস্যা দূর করতে সাহায্য করবে। এছাড়াও যাদের চুলকানি থাকে তারাও খেতে পারেন তাছাড়াও মাথা ব্যথাকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য পুঁইশাক খেতে পারেন।
লেখকঃ মোঃ মাহমুদুল ইসলাম, স্বাস্থ্যকর্মী, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, উল্লাপাড়া, সিরাজগঞ্জ।

এম আর মাহমুদ ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url