গাজর খেলে কি গ্যাস হয় জেনে নিন এর ক্ষতিকর দিক সমূহ
অনেকে জানতে চায় যে, গাজর খেলে কি গ্যাস হয়? আসলে যে কোন সবজি অথবা ফল যদি আপনি অতিরিক্ত খেয়ে থাকেন তাহলে সমস্যা হতে পারে। চলুন, গাজর খাওয়ার কারণে গ্যাস্ট্রিক হবে কিনা সে সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।
গাজর শরীরে বিভিন্নভাবে উপকার করবে বিশেষ করে যাদের ভিটামিন এ এর অভাব রয়েছে তারা পর্যাপ্ত পরিমাণ গাজর খেতে পারেন। তবে অতিরিক্ত খেলে গ্যাস্ট্রিক হতে পারে। তাই গাজর খেলে কি গ্যাস হয়? এ সম্পর্কে জানার জন্য আর্টিকেলটি মনোযোগ দিয়ে পড়তে থাকুন।
গাজরের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন রয়েছে, ভিটামিন এ, বিটা কারোটিন যা আমাদের শরীরে বিভিন্নভাবে উপকার করে থাকে। তবে এই সবজিটি যদি উপযুক্তভাবে ব্যবহার না করতে পারেন এবং পরিমাণ মতো না খান তাহলে ক্ষতিও হতে পারে। বিশেষ করে যারা অতিরিক্ত পরিমাণে গাজর খেয়ে ফেলে তাদের পেটের সমস্যা বা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা দেখা দিতে পারে। গাজরের মধ্যে যে হলুদ অংশটি থাকে সেটা পেটের ভিতরে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা হতে পারে। এজন্য অনেকে যদি গাজর অতিরিক্ত খেয়ে ফেলে সেক্ষেত্রে পেট ব্যথা পেটের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা হতে পারে।
আপনি অতিরিক্ত পরিমাণ গাজর খেয়ে ফেলেন সে ক্ষেত্রে অনেকের পেট ফাঁপা, গ্যাস্ট্রিক ডায়রিয়া এছাড়াও পেটের সমস্যা বা পাকস্থলীর বিভিন্ন ধরনের সমস্যা হতে পারে। গাজরের মধ্যে এক ধরনের ফাইবার থাকে যা পরিমাণ মতো খেলে আপনার কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা দূর হবে। এছাড়াও আরো অনেক উপকার করবে কিন্তু যদি অতিরিক্ত পরিমাণ ফাইবার গ্রহণ করেন, তাহলে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে অবশ্যই আপনি এই সবজি খাওয়ার সময় পরিমাণমতো খাবেন অতিরিক্ত খাবেন না। তাহলে আপনার শরীরে অনেক ক্ষতি হতে পারে।
গাজরের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকার কারণে অনেকের পেটের হজমের সমস্যা হতে পারে। বিশেষ করে যাদের আইবিএস এর সমস্যা রয়েছে তাদের এই গাজর অতিরিক্ত খাওয়ার কারণে সমস্যা হতে পারে হজমের সমস্যা হতে পারে এবং পেটের মাঝে গন্ডগোল শুরু হতে পারে তাছাড়াও অতিরিক্ত খাওয়ার কারণে আপনার পেট অম্বল হতে পারে এবং গ্যাস্ট্রিকের। আবার আপনি গাজরের সাথে যদি অন্য কোন খাবার মিশিয়ে খেয়ে থাকেন সেক্ষেত্রেও কিন্তু গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা হতে পারে। এমতাবস্থায় যদিও গ্যাসের সৃষ্টি হতে পারে তবে এটা নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। তাই পরিমাণ মতো খেলে আপনার নিয়ন্ত্রণ থাকবে।
আপনি অতিরিক্ত পরিমাণ খেয়ে ফেলেন সে ক্ষেত্রে আপনার পূর্বে থেকে যদি এলার্জি সমস্যা থাকে তাহলে এলার্জি সমস্যা বৃদ্ধি পেতে পারে। অনেকের মুখ কান শরীরের বিভিন্ন অংশে চুলকানি হতে পারে আমরা অনেকে খাবার খেতে অসুবিধা হতে পারে এছাড়াও যাদের থাইরয়েড এর রোগী রয়েছে। তারা সাধারণত অসুবিধায় পড়তে পারেন বিশেষ করে ভিটামিন এবং ভিটামিন কে শোষণ করতে পারে না। এতে ক্ষতি হতে পারে যেহেতু এটা এই গাজর দূষিত মাটি ও পানির মাধ্যমে হয়ে থাকে যার কারণে এর ভিতরে প্রচুর পরিমাণে মেটাল থাকে যা আপনার ক্ষতি হতে পারে।
গাজরের মত অতিরিক্ত রাসায়নিক কীটনাশক সার ব্যবহার করা হয়ে থাকে যার কারণে শরীরে পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। যদি আপনি দূষিতভাবে উৎপাদন করে থাকে সে ক্ষেত্রে হেপাটাইটিস এ সালমানেলা ইত্যাদি ভাইরাস গুলো আপনাকে আক্রমণ করতে পারে। তাই ভালো করে পরিষ্কার করে খাবেন সন্তানকে যে সকল মায়েরা সন্তানকে দুধ পান করান তারা অতিরিক্ত পরিমাণ খাবেন না। এতে করে আপনার সন্তানের খাওয়ার ক্ষেত্রে অসুবিধা হবে। গাজর যদি আপনি অতিরিক্ত পরিমাণ খেতে পারেন খেয়ে থাকেন সে ক্ষেত্রে ভিটামিন এ এর পরিমাণ যদি বেশি হয়ে যায় সে ক্ষেত্রে বমি বমি হতে পারে অথবা মাথা ঘুরানি শুরু হতে পারে।
এছাড়াও কাচা গাজর যদি খেয়ে থাকেন সেক্ষেত্রে হজমের সমস্যা হতে পারে। এছাড়া আপনার গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা দেখা দিতে পারে। গাজর অতিরিক্ত খাওয়ার কারণে। আপনার রক্তকে পাতলা করে দিতে পারে, এতে করে যদি কোথাও কেটে যায় সে ক্ষেত্রে রক্ত জমাট বাঁধতে সমস্যা হতে পারে, অনেকের এই গাজর খাওয়ার কারণে দম বন্ধ হওয়ার মত সমস্যা দেখা দিতে পারে সে ক্ষেত্রে ছোট বাচ্চাদের না খাওয়াই ভালো। এর মধ্যে প্রচুর পরিমাণে প্রাকৃতিকগতভাবে চিনি থাকে যা আপনার ডায়াবেটিসের রোগীদের ক্ষেত্রে ক্ষতি হতে পারে।
গাজরের মধ্যে প্রোটিনের পরিমাণ খুবই কম রয়েছে যা আপনার শরীরের যদি প্রোটিন হিসেবে এটা উৎস করে নেন। সে ক্ষেত্রে বেশি একটা উপযুক্ত হবে না, গাজর যদি সঠিকভাবে আপনি পরিষ্কার না করে খান সেক্ষেত্রের খারাপ ব্যাকটেরিয়া আপনার শরীরে ক্ষতি করতে পারে। এছাড়াও এর মধ্যে অক্সালেট বেশি থাকে যা অনেকের কিডনিতে পাথর হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাছাড়া বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে, তবে যদি আপনি পরিমাণ মতো খেতে পারেন এই ক্ষেত্রে কোন অসুবিধা হবে না। কখনো অতিরিক্ত খাবেন না এবং অপরিষ্কার ভাবে কখনোই খাওয়ার চেষ্টা করবেন না।
আজকের পোষ্টের লেখকঃ মোঃ মাহমুদুল ইসলাম, স্বাস্থ্যকর্মী, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, উল্লাপাড়া, সিরাজগঞ্জ।

এম আর মাহমুদ ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url