রুটি খেলে কি গ্যাস হয় জেনে নিন কিভাবে খেলে গ্যাস হবে না
অনেকের রুটি খেলেই পেটে গ্যাস হয়, তাই রুটি খেলে কি গ্যাস হয়? এ সম্পর্কে জানতে চায় কিন্তু কিভাবে খেলে গ্যাস্ট্রিক হবে না, তা জানা প্রয়োজন। চলুন, রুটি খেলে আসলে গ্যাস্ট্রিক হয় কিনা সে সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।
আমরা অনেকে রুটি খেতে পছন্দ করি, বিশেষ করে যারা ডায়াবেটিস, হাই প্রেসার বড় ধরনের রোগ ব্যাধি রয়েছে তারা রুটি খেয়ে থাকে। তবে অনেকের গ্যাস্ট্রিক হতে পারে। তাই রুটি খেলে কি গ্যাস হয়? এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানার জন্য আর্টিকেলটি মনোযোগ দিয়ে পড়ুন।
অনেকে জানতে চায় যে, রুটি খেলে কি গ্যাস হয়? আসলে রুটি খেলে গ্যাস হতে পারে তবে কিভাবে খেলে গ্যাস হবে না সেটা জানা প্রয়োজন। চলুন, এ বিষয়ে বিস্তারিতভাবে জেনে নেওয়া যাক।
আমরা অনেকে রুটি খেতে পছন্দ করি বিশেষ করে রাত্রিতে অনেকে রুটির সাথে বিভিন্ন ধরনের তরকারি অথবা বিভিন্ন ধরনের সবজির ভাজি খেতে পছন্দ করি আবার অনেকে রুটির সাথে ডিম ভাজা খেতে পছন্দ করে। তবে এই রুটি খেলে আমাদের গ্যাস হবে কিনা সেটা আমাদের জানা খুবই প্রয়োজন। আগে জানতে হবে রুটির মধ্যে কি থাকে, রুটির মধ্যে মূলত থাকে ফাইবার যা আমাদের শরীরে বিভিন্ন ধরনের উপকার করতে পারে। তবে ফাইবার থাকা সত্ত্বেও এই রুটি খেলে কেন গ্যাস হয় সেটা জানা প্রয়োজন। অনেকের এই রুটি খেলে গ্যাস হতে পারে।
এর মধ্যে এক ধরনের গ্লুটেন থাকে যা আপনার হজমের ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দিতে পারে। যার কারণে গ্যাস্টিক হতে পারে কেননা অনেকের পেটে গমের তৈরি খাবারগুলো হজম করতে পারে না। যার কারণে গ্যাস হতে পারে বিশেষ করে যারা গমের রুটি খান তাদের অনেকেরই গ্যাস এসিডিটি এমন কি পেট ব্যথা, বমি হওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। এছাড়া যারা আইবিএস এর রোগী রয়েছে তাদের সাধারণত এই গমের রুটি বা গমের তৈরি খাবারগুলো খেলে ডায়রিয়া হতে পারে। কারণ তাদের হজম হবে না, তাই এই ধরনের যারা রোগী রয়েছেন তারা রুটি খাওয়া থেকে বিরত থাকবেন।
তবে আপনি যদি নিয়মিতভাবে গমের রুটি খেতে চান সেই ক্ষেত্রে আপনার আগে পরীক্ষা করতে হবে যে আপনার পেটে গমের রুটি হজম করে কিনা। কেননা অনেকেরই এই রুটি খাওয়ার কারণে পেটের গ্যাস বা কোন ধরনের সমস্যা হয় না। সে ক্ষেত্রে আপনি এই রুটি খাওয়ার ক্ষেত্রে একটু সতর্ক থাকবেন সেই ক্ষেত্রে অনেকক্ষণ চিবিয়ে খাবেন। এছাড়াও এই রুটির সাথে আপনার কোন ধরনের খাবার খেলে গ্যাস বেশি হয় সেটা বাদ দিতে হবে। তারপরে হজম করছে কিনা এবং গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা দূর হয়েছে কিনা, তাহলে খেতে পারবেন। তবে এ বিষয়ে একজন নিউট্রিশিয়ানের পরামর্শ নিন।
অনেকের রুটি খেলেই গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা বেশি হয়ে যায় এবং এসিডিটি বৃদ্ধি পায়, কোষ্ঠকাঠিন্য অথবা ডায়রিয়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে। সে ক্ষেত্রে আপনি রুটি খাওয়া সাময়িক বন্ধ করতে পারেন। কেননা পরবর্তীতে আপনি অল্প অল্প করে খেয়ে দেখবেন যে আপনার পেটে হজম হচ্ছে কিনা এবং গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা দেখা দিচ্ছে কিনা তাহলে আপনি খেতে পারবেন। তবে যদি আপনার সমস্যা বেশি হয়ে যায় সে ক্ষেত্রে রুটির পরিবর্তে ভাত খেতে পারেন। কেননা ভাত আপনার অতি দ্রুত হজম হবে সে ক্ষেত্রে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা একটু কম হবে এবং পেট খারাপের মতো সমস্যাগুলো একটু কম হবে।
তবে যারা ডায়াবেটিসের রোগী তাদের সাধারণত চিকিৎসকরা রুটি খেতে বলেন, তবে এক্ষেত্রে যদি আপনার পেটের সমস্যা হয় তাহলে ভাত খেতে পারবেন। তবে চিকিৎসক যদি আপনাকে পরামর্শ দেয় কেননা অতিরিক্ত ভাত খেলে আপনার সুগার বেড়ে যাবে এবং ডায়াবেটিসের বিরুদ্ধে কাজ করবেন।আপনি রুটি খেলে যেহেতু গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা দেখা দেয় সে ক্ষেত্রে কিভাবে খেলে আপনার এই সমস্যা হবে না সেটা আপনার জানা প্রয়োজন। এজন্য আপনি প্রথমত কিছু নিয়মকানুন মেনে চলবেন যেমন ফাস্টফুড জাতীয় খাবার গুলো খাবেন না।
এছাড়াও গমেরবা ময়দার তৈরি সকল প্রসেসিং খাদ্যগুলো খাবেন না। যেমন বেকারির খাদ্য বিস্কিট এ ধরনের খাবার গুলো খেলে হজমের এবং গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা হতে পারে। তবে আপনি রুটি খেতে পারবেন সে ক্ষেত্রে যারা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যায় পড়ছেন তারা সাধারণত এই রুটি খাওয়ার পূর্বে পানি খাবেন না এবং রুটি খাওয়ার ৪৫ মিনিট পরে পানি খেলে হজমটা অতি দ্রুত হয়ে যাবে। তাছাড়া রুটির সাথে ঝোল জাতীয় যে সবজিগুলো রয়েছে সেই ধরনের সবজি দিয়ে খেতে পারেন। ভাজি পোড়া দিয়ে রুটি খাবেন না। এতে আরো গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা বৃদ্ধি পাবে। দিনে কমপক্ষে ৩ লিটারের মতো পানি পান করতে হবে।

এম আর মাহমুদ ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url