পুরাতন কবরের উপর বাড়ি করা যাবে কিনা জেনে নিন কোরআন হাদিসের আলোকে
কবরের উপর বাড়ি করা সম্পর্কে অনেকে জানতে চায়, তাই পুরাতন কবরের উপর বাড়ি করা যাবে কিনা? এ সম্পর্কে জানা প্রয়োজন। চলুন, পুরাতন কবরের উপর বাড়ি ঘর করতে পারবেন কিনা সে সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।
আমাদের বসতবাড়ি করার প্রয়োজনে অনেক সময় কবরস্থানের উপর বাড়ি ঘর করতে হয় কিন্তু এই কবরের উপর বাড়ি করা যাবে কিনা সেটা জানতে হবে। তাই পুরাতন কবরের উপর বাড়ি করা যাবে কিনা? সম্পর্কে জানতে আর্টিকেলটি মনোযোগ দিয়ে পড়ুন।
অনেকে জানতে চায় যে, পুরাতন কবরের উপর বাড়ি করা যাবে কিনা? আসলে এটা নির্ভর করবে কোরআন হাদিসের আলোকে। তাই আপনাকে সঠিক তথ্য জানতে হবে। চলুন, কোরআন হাদিসের আলোকে বিস্তারিতভাবে জেনে নেওয়া যাক।
আপনার জায়গা জমি কম থাকার কারণে দেখা যায় যে বাড়ির পাশে পূর্বপুরুষের কেউ না কারোর কবর দেওয়া হয়েছে। সে ক্ষেত্রে অনেক পুরাতন কবরস্থান কিন্তু ঘর বাড়ি করা খুবই জরুরী হয়ে গেছে। যার কারণে এই পুরাতন কবরস্থানের উপরে ঘর তুলতে চাচ্ছেন, এই ক্ষেত্রে আসলে কোরআন হাদিসে কি ব্যাখ্যা রয়েছে তা জানা প্রয়োজন। এখানে কিছু বিষয় উল্লেখ করা যেতে পারে যেমন আপনি হয়তো জানেন না যেখানে কবরস্থান ছিল বা কবরের কোন অস্তিত্ব নাই। অনেক আগে কবরস্থান দেওয়া হয়েছিল কিন্তু তার অস্তিত্ব নাই বা কবরের মাঝে কোন হাড়গোড়াও দেখা যাচ্ছে না সে ক্ষেত্রে বাড়ি করতে পারবেন।
তাছাড়া আপনি আরও একটি কাজ করতে পারেন সেটা হল কবরস্থান খুলে দেখতে পারেন সেখানে কোন কিছু অবশিষ্ট আছে কিনা, যদি থাকে তাহলে অন্যত্র কবরস্থান দিয়ে আপনি সেখানে বাড়ি করতে পারবেন। আর যদি কোন কিছু চিহ্ন না থাকে তাহলে বাড়ি করাতে কোন সমস্যা নেই যদি এই কবরস্থানের জায়গা আপনার হয় কিন্তু অনেক পুরাতন সে ক্ষেত্রে যদি কবরে ব্যক্তির হাড্ডি মাংস সব কিছুই মাটির সাথে মিশে গেছে সে ক্ষেত্রে কবরের মালিক ইচ্ছা করলে সেই জায়গাতে বাড়ি করতে পারবে এটা ইসলামে জায়েজ রয়েছে। তবে নতুন কবরস্থান হলে এখানে বাড়ি ঘর করা যাবে না এটা জায়েজ নাই।
আবার আপনি হয়তো জানেন না যে এখানে অনেক পুরাতন কবরস্থান ছিল সেক্ষেত্রে আপনি জায়গা কিনেছেন বা মালিক আপনাকে বলে নাই সে ক্ষেত্রে আপনি বাড়ি ঘর করতে পারবেন এতে কোন সমস্যা হবে না। তবে ইসলামের দৃষ্টিকোণে কবরের উপর বাড়ি ঘর করে বসবাস করা এ ক্ষেত্রে ইসলাম নিষেধ রয়েছে। কেননা হযরত আবু হুরায়রা রাঃ বর্ণিত তিনি বলেন রাসূল সাঃ বলেছেন, তোমরা কবরের উপরে যদি আগুনের ফুলকির উপর বসো তবে তারপরে যে বস্ত্র রয়েছে সেটা পুড়ে গিয়ে তার শরীরে আগুনের চামড়া পর্যন্ত পৌঁছে যাবে। তাই কবরে উপর বাসা উত্তম হবে না। সহীহ মুসলিম শরীফ।
তবে আপনার যদি খুবই বিশেষ প্রয়োজন হয় সে ক্ষেত্রে ঘরবাড়ি অথবা মসজিদ করতে পারবেন। তবে লাশ স্থানান্তর করতে হবে এছাড়াও যদি অনেক পুরাতন কবরস্থান হয় সে ক্ষেত্রে কবরস্থান ব্যক্তির হাড্ডি মাংস মাটির সাথে মিশে যায় সে ক্ষেত্রে আপনি কবরটি সমান করে নিয়ে তারপরও ঘরবাড়ি করতে পারবেন, এক্ষেত্রে জায়েজ আছে। তবে কবরস্থানের উপর হাটা চলাফেরা করা যাবে না। এর উপর দিয়ে চলাফেরা করা মাকরুহ। তাছাড়া জাবের রাঃ হতে বর্ণিত নবী করীম সা কে দেখেছেন কবর পাকা করা তার উপরে লেখা কবর উপর বাড়ি নির্মাণ করা মায়ের প্রতি হাটা চলাফেরা করা এগুলো নিষেধ করেছেন। সুনানে তিরমিজি।
দেখা যায় অনেক সময় কবরস্থানে আরেকটি মানুষকে দাফন করার ক্ষেত্রে অন্য কবরের উপর দিয়ে হেঁটে যাওয়া লাগে এক্ষেত্রে যাওয়া যাবে। তবে পদদলিত যেন না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে দূরে থেকে দোয়া করাই সবচেয়ে ভালো। কবরের উপর ঘরবাড়ি করা বা কবরের বসবাসের ঘরের নিচে কবর দেওয়া একদমই নিষেধ করা হয়েছে। তবে নবী করীম সা বলেছেন তোমরা কবরের উপরে পাকা করে দাও লেখালেখি করা অনেকেই দেখা যায় যে বা মসজিদ বা ঘর বাড়ি বানায় এটা একদমই নিষেধ করা হয়েছে। তবে প্রয়োজনের খাতিরে আপনি জায়গা জমি না থাকলে সেক্ষেত্রে বাড়ি করতে পারবেন।

এম আর মাহমুদ ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url