তায়াম্মুম করার পদ্ধতি ও তা ভঙ্গ হওয়ার কারণ সম্পর্কে জেনে নিন

ওযুর পরিবর্তে আমরা সাধারণত তাইয়াম্মুম করি, তাই তায়াম্মুম করার পদ্ধতি ও তা ভঙ্গ হওয়ার কারণ সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানতে হবে। চলুন, কিভাবে সঠিক পদ্ধতিতে তায়াম্মুম করা যাবে এবং কি কারনে ভঙ্গ হয় সেটা বিস্তারিতভাবে জেনে নেওয়া যাক।
ছবি
নামাজ পড়ার পূর্বে আমরা অবশ্যই পবিত্র হওয়ার জন্য অজু করে থাকি কিন্তু এমন একটি স্থানে গেছেন যেখানে পানি পাওয়া যাচ্ছে না, সে ক্ষেত্রে তায়াম্মুম করে নামাজ পড়া যাবে। তাই তায়াম্মুম করার পদ্ধতি ও তা ভঙ্গ হওয়ার কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানার জন্য আর্টিকেলটি মনোযোগ দিয়ে পড়ুন।

পবিত্রতা অর্জন করার জন্য আমরা সাধারণত ওযু করে থাকি। নামাজ পড়ার পূর্বে অজু করতে হয় কিন্তু যদি ওযু করার জন্য পানি না পাওয়া যায় সে ক্ষেত্রে তায়াম্মুম করা যেতে পারে। তায়াম্মুম করার জন্য কিছু নিয়মকানুন এবং পদ্ধতি রয়েছে তা জানা প্রয়োজন। চলুন, জেনে নেওয়া যাক; প্রথমত পবিত্রতা অর্জন করার জন্য অবশ্যই নিয়ত করা লাগবে, পবিত্র মাটির উপরে হাত মারতে হবে এরপরে সেই হাত দিয়ে সমস্ত মুখমন্ডল মাসেহ করবেন, এরপরে দুই হাত মাটিতে আবার মেরে দুই হাতের কনুই সহ মাসেহ করবেন, এভাবে আপনাকে অবশ্যই সঠিক পথে তায়াম্মুম করতে হবে।

এছাড়াও আরো কিছু নিয়ম কানুন রয়েছে যেমন বিসমিল্লাহ বলতে হবে, দুই হাত যখন মাটিতে মারবেন তখন সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে, আবার পিছনের দিকে নিয়ে আসবেন। হাত মাটিতে মারার পরে ঝেরে ফেলে দিতে হবে। তাছাড়াও মাটিতে হাত মারার পরে আঙ্গুলগুলো ফাঁকা করতে হবে। এছাড়া মাসেহ সঠিকভাবে করতে হবে, মাসেহ করার সময় অবশ্য একটু বিরতিহীনভাবে করতে হবে। এক্ষেত্রে দেরি করা যাবে না, তাছাড়া যদি আপনার ধারণা থাকে যে পানি পাবেন এক্ষেত্রে একটু অপেক্ষা করতে হবে। এই ধরনের অপেক্ষা করা এক প্রকার মুস্তাহাব আর যদি দেখেন যে পানি পাওয়ার কোন সম্ভাবনা নাই সে ক্ষেত্রে তায়াম্মুম করে নামাজ পড়তে হবে।

এ বিষয়ে হাদিসে বর্ণনা করা হয়েছে যে পবিত্রতা অর্জনের জন্য যে সকল উপকরণের প্রয়োজন এবং যেখানে সেজদা করবেন সেই জিনিস গুলো পবিত্র হতে হবে। তাছাড়া নামাজের সময় হলে অবশ্যই নামাজ পড়তে হবে কিন্তু আপনি এমন একটা স্থান আছেন যেখানে পানি পাওয়ার সম্ভাবনা নেই, সে ক্ষেত্রে অজু করা সম্ভব না। তাই নামাজ আদায় করতে হবে এক্ষেত্রে পানি না পাওয়া গেলে পবিত্র মাটি দ্বারা তায়াম্মুম করে, নামাজ আদায় করা যাবে। (বুখারী মুসলিম)। তাই এই হাদিস দ্বারা স্পষ্টভাবে বুঝা যাচ্ছে যে নামাজ আদায় করার জন্য অবশ্যই পবিত্রতা হতে হবে এবং এক্ষেত্রে তায়াম্মুম করা জায়েজ রয়েছে।

ওযু করার ক্ষেত্রে যেমন ভঙ্গ হওয়ার কিছু কারণ থাকে ঠিক তেমনি তায়াম্মুম করার ক্ষেত্রেও সমস্যা হতে পারে। তাই চলুন যে সকল কারণে তায়াম্মুম ভঙ্গ হয় সে সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক। প্রথমত যে সকল কারণে ওযু ভঙ্গ হবে সেই সকল কারণে তায়াম্মুম ভঙ্গ হবে, প্রসাব পায়খানা রাস্তা দিয়ে কোন কিছু বের হলে, ওযু ভঙ্গ হয়ে যায় ঠিক তেমনি তায়াম্মুম হয়ে যাবে। অনেকে মুখ ভর্তি বমি করে দেয় এছাড়াও শরীরে কোথাও কেটে গেলে রক্ত বের হলে বা পুঁজ বের হলে, থুতুর সঙ্গে রক্ত আসলে এবং বেশি হওয়ার সম্ভাবনা থাকলে অনেকে হেলান দিয়ে শুয়ে থাকতে ঘুমিয়ে যায়, পাগল মাতাল যদি অচেতন হয়ে যায় নামাজের মধ্যে উচ্চস্বরে হাসলে।

এছাড়াও যদি কেউ এমন ভাবে হেলান দিয়েছে যা ঘুমিয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এক্ষেত্রে তায়াম্ম ভঙ্গ হয়ে যায়। যদি পানি না পান সেক্ষেত্রে তায়াম্মুম করতে হবে কিন্তু যদি একটু পরে পানি পেয়ে যান সে ক্ষেত্রে তায়াম্মুম ভঙ্গ হয়ে যাবে। যদি এমন কিছু অপারগতা রয়েছে যেগুলো তার ভুল করা সম্ভব না সেগুলো যদি সেরেও যায় তারপরে তার ভঙ্গ হয়ে যাবে আবার এমনকি অনেকেই অসুস্থতা হয়েছে যার কারণে তায়াম্মুম করতে হচ্ছে কিন্তু অসুস্থ যদি ভালো হয়ে যায় সেক্ষেত্রে তায়াম্মুম ভঙ্গ হয়ে যাবে। তবে সে ক্ষেত্রে অবশ্যই অজু করে নামাজ পড়তে নামাজ পড়া লাগবে, এরকম শর্ত নেই। তবে কেননা পানি না পাওয়ার কারণে কিন্তু এক্ষেত্রে পবিত্রতা অর্জন করে ফেলেছে যার কারণে নামাজ হবে।

তাছাড়া অনেকেই সফরে যায় অথবা যদি কেউ প্রসাব পায়খানা করে কিংবা স্ত্রীর সাথে মেলামেশা করে থাকে এর পরে যদি পানি না পায় সে ক্ষেত্রে পবিত্র মাটি দ্বারা তায়াম্মুম করতে পারেন। এক্ষেত্রে অবশ্যই তোমাদের মুখমন্ডল এবং দুই হাত পবিত্র মাটি দ্বারা মাসেহ করবে, আল্লাহ তাআলা তাদের উপর কোন সমস্যা সৃষ্টি করতে চায় না বরং তিনি তোমাদের পবিত্র রাখতে চান। সূরা মায়েদা আয়াত নাম্বার ৬। তবে যদি আপনি পানি ব্যবহার সক্ষম হয়ে যান সে ক্ষেত্রে অবশ্যই পানি ব্যবহার করতে হবে।

বিভিন্ন কারণে তায়াম্মুম ভঙ্গ হয়ে যায় যদিও তেমন ব্যক্তির নামাজের মধ্যে থাকে নামাজরত অবস্থায় যদি পানির সমস্যা দূর হয়ে যায়, তাহলে তাৎক্ষণিক নামাজ ছেড়ে দিয়ে অজু করবে অথবা গোসলের মাধ্যমে পবিত্রতা অর্জন করে তারপরে পুনরায় নামাজ পড়া যাবে। তবে নামাজ শেষে অবশ্যই তাৎক্ষণিক এর মধ্যে যে সমস্যা হয়েছে সেটা পুনরায় আদায় করে নিতে হবে। উল্লেখ্য যে উক্ত নামাজ জরুরী কিন্তু তার অন্য কোন নামাজ হবে বা পবিত্রতা অর্জন করা আবশ্যক নয় এবং পানি দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করা লাগবে কারণ সমস্যার কারণে তার বৈধতা দেওয়া হয়েছে।

লেখক, মোঃ ফরহাদ আলী, সহকারী মৌলভী, গোলকপুর সিদ্দিকিয়া ফাজিল ডিগ্রী মাদ্রাসা, হাটিকুমরুল, উল্লাপাড়া, সিরাজগঞ্জ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

এম আর মাহমুদ ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url
Md. Mahmudul Islam
Md. Mahmudul Islam
আমি ডিজিটাল মার্কেটিং এক্সপার্ট ও সরকারি চাকরি করি। আমি অনলাইনে বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করে ইনকাম করি, এছাড়াও ব্লগিং, SEO ও টেকনোলজি বিষয় নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করি। এই কাজের উপর আমার ৩ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে।