গর্ভাবস্থায় কফি খেলে কি হয়? জেনে নিন গর্ভবতীর জন্য কতটা নিরাপদ

অনেক গর্ভবতী মা আছে যারা চা বা কফি খেতে পছন্দ করে। তাই গর্ভাবস্থায় কফি খেলে কি হয়? গর্ভবতী মায়েদের কফি খাওয়া যাবে কিনা সেটা জানার খুবই প্রয়োজন। চলুন, গর্ভবতী মায়েরা কফি খেলে কি হবে? সে সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে জেনে নেওয়া যাক।
ছবি
গর্ভাবস্থায় বিভিন্ন ধরনের খাবারের প্রতি আকর্ষণ থাকে তার মধ্যে যেমন চা বা কফি খেলে শরীরের মধ্যে অনেক ভালো লাগে মনটা চাঞ্চল্যকর থাকে। যার কারণে অনেক গর্ভবতী মা কফি খেতে পছন্দ করে কিন্তু গর্ভাবস্থায় কফি খেলে কি হয়? সম্পর্কে বিস্তারিত জানার জন্য আর্টিকেলটি মনোযোগ দিয়ে পড়ুন।

একজন গর্ভবতী মা গর্ভধারণের পূর্বে যে খাবারগুলো খেয়েছেন সেটা গর্ভাবস্থায় খাওয়া অনেক সমস্যা হতে পারে। বিশেষ করে গর্ভস্থ শিশুর সমস্যা দেখা দিতে পারে। কেননা গর্ভবতী মা যদি বিষাক্ত খাবার খায় সেটা কিন্তু তার গর্ভস্থ শিশুরও প্রভাবিত হবে এবং তার ক্ষতি সাধন হবে। সেক্ষেত্রে একজন গর্ভবতী মা যদি দিনের শুরুতে এক কাপ কফি খায় সেটা তার মন হয়তো ভালো থাকবে, মেজাজ ভালো থাকবে কিন্তু এটা তার শিশুর উপর প্রভাবিত হতে পারে। সে ক্ষেত্রে গর্ভাবস্থায় চা বা কফি খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা এবং আলোচনা রয়েছে, সেটা জানা খুবই প্রয়োজন।

সে ক্ষেত্রে যদি একজন গর্ভবতী মা নিয়মিতভাবে কফি পান করে এবং অতিরিক্ত পরিমাণ কফি খেয়ে থাকে। সেই ক্ষেত্রে কিন্তু এর মধ্যে যে প্রচুর পরিমাণ ক্যাফেইন থাকে যা একজন শিশুর অত্যন্ত ক্ষতিসাধন করতে পারে। এমনকি গর্ভপাত হওয়ার সম্ভাবনাও থাকে। তাই এ ব্যাপারে অবশ্য সতর্কতা থাকতে হবে। সপ্তাহে দুই একদিন খাওয়া যেতে পারে তবে পরিমাণে খুবই কম। কোনক্রমেই বেশি পরিমাণ খাওয়া যাবে না। পুষ্টিবিদরা বলেন যে যদি গর্ভবতী মা নিয়মিত ভাবে কফি খেতে থাকে, সেক্ষেত্রে গর্ভপাত হওয়ার সম্ভাবনা আছে এবং বাচ্চার ওজন কম হতে পারে।

গবেষণায় দেখা গেছে যে কফির ভিতরে যে ক্যাফিন থাকে সেটা হিমোগ্লোবিন শোষণ করতে পারে না। তাই একজন গর্ভবতী মায়ের যেহেতু এই সময়ে রক্তস্বল্পতা হয়ে থাকে, যার কারণে রক্ত বৃদ্ধির জন্য আয়রন জাতীয় খাবার এবং আয়রন সাপ্লামেন্টারি প্রয়োজন হয়। তাই এই অবস্থায় কফি না খাওয়াই ভালো। কেননা হিমোগ্লোবিন বৃদ্ধিতে বাধা দিতে পারে। এছাড়াও একজন গর্ভবতী মা যদি অতিরিক্ত পরিমাণ কফি খায় সে ক্ষেত্রে তার মুখে রুচি কমে যাবে। খাবারের প্রতি আগ্রহ কমে যাবে, এক্ষেত্রে বাচ্চার ওজন কম হবে। সেক্ষেত্র অপুষ্টিকর বাচ্চা হতে পারে, এতে নিউমোনিয়া হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

তাই এক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে। আবার দেখা যাচ্ছে গর্ভবতী মায়েদের সাধারণত এই সময় কোষ্ঠকাঠিন্য বেশি দেখা যায়, সেই ক্ষেত্রে কফি যদি নিয়মিত ভাবে পান করা হয় তাহলে কিন্তু আপনার কোষ্ঠকাঠিন্য আরো বেড়ে যাবে। এছাড়াও আবার দেখা যাচ্ছে গর্ভবতী মায়েদের কিন্তু দুপুরের খাবার পরে বিশ্রাম নিতে হয়। এছাড়াও তাদের অতিরিক্ত ঘুমাতে হবে, একটু বেশি ঘুমাতে হবে। তাহলে বাচ্চা সুস্থ হবে কিন্তু দেখা যাচ্ছে যদি নিয়মিতভাবে কফি খাওয়া হয় সে ক্ষেত্রে আপনার ঘুমের ব্যাঘাত ঘটবে। এতে আপনার অসুবিধা হবে, আপনি যদি চা এর চাইতে কফি খেতে বেশি পছন্দ করেন।
যেহেতু কফিতে বেশি ক্যাফিন থাকে যার কারণে আপনার বেশি ক্ষতি হবে। তাছাড়া চা অথবা এই কফির সাথে যদি আপনি দুধ দিয়ে জাল দিয়ে খেতে চান সে ক্ষেত্রে কিন্তু ক্যাফেইন আরো বৃদ্ধি পাবে। এতে আপনার শরীরে বেশি থাকবে, তাই পুষ্টিবিদরা বলে থাকেন এই বাচ্চা হওয়া গর্ভধারণের পরে থেকে নয় দীর্ঘ নয় মাসে খুবই কম খেতে হবে। তবে না খাওয়াটাই ভালো হয়। কেননা এতে আপনার সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই গবেষণায় দেখা গেছে যদি অতিরিক্ত পরিমাণ একজন গর্ভবতী মা অতিরিক্ত পরিমাণ চা অথবা কফি খায় সেক্ষেত্রে শরীরে ক্ষতি হবে।

এছাড়াও গর্ভস্থ শিশুর লিভারের ক্ষতি হতে পারে, তাই বারে বারে বলা হচ্ছে যে অতিরিক্ত পরিমাণ কফি খেলে সন্তান গর্ভপাত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এজন্য এমনকি যদি গর্ভপাত নাও হয় সেক্ষেত্রে গর্ভস্থ শিশুর ওজন কম হবে এবং এমন কি মৃত্যু হতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে ২০০ জন গর্ভবতী নারীদেরকে ২০০ মিলি গ্রামের মতো কফি পান করানো হয়। সেই ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে যে তাদের পরবর্তীতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পর দেখা যায় প্রচুর পরিমাণ ক্যাফেইন বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে বাচ্চার সমস্যা হতে পারে।এছাড়াও অতিরিক্ত কফি পান করার কারণে দেখা যাচ্ছে যে গর্ভবতী মায়ের স্থূলতা বৃদ্ধি পায়।

একজন সাধারণ মানুষ যদি কফি পান করে সেই ক্ষেত্রে এই ক্যাফিন রক্তের সাথে মিশে যেতে প্রায় ৫ ঘন্টার মত সময় লাগতে পারে। কিন্তু একজন গর্ভবতী মা যদি এই কফি পান করে সেক্ষেত্রে অনেক সময় ১৮ ঘন্টাও সময় লাগতে পারে। সেক্ষেত্রে এই ক্যাফিন কতটা ক্ষতি হতে পারে। তাই সর্বোপরি বলা যেতে পারে গর্ভবতী মায়েদের সাধারণত কফি পান করা থেকে বিরত থাকায় সবচাইতে ভালো হবে। তাছাড়াও দীর্ঘদিন যাবত কফি পান করার কারণে গর্ভবতী মায়েরা সাধারণত অসুস্থ বোধ করে। এছাড়াও গর্ভস্থ শিশুর লিভারের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

এক্ষেত্রে এক বিজ্ঞানী অন্তঃসত্তা ইঁদুরের উপর গবেষণা করে, দেখা যায় যে দীর্ঘ সময় তার কফি পান করানোর কারণে তার বাচ্চার ওজন কম হয়েছে এবং তার লিভারের সমস্যা দেখা দিয়েছে। তবে আপনার যদিও অসুবিধা নাও হয় সে ক্ষেত্রেও অধিকাংশ গর্ভবতী মায়ের সমস্যা দেখা দিতে পারে। এজন্য গর্ভবতী অবস্থায় কফি পান করা থেকে বিরত থাকবেন। তাছাড়া যাদের হার্টের সমস্যা রয়েছে তারা এই কফি পান করা থেকে বিরত থাকবেন, সে ক্ষেত্রে কিন্তু হার্টের সমস্যা হতে পারে অথবা উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

এছাড়াও যদি আপনি একবার অতিরিক্ত পরিমাণ কফি পান করেন সেক্ষেত্রে দেখা যাবে বুকে জ্বালাপোড়া করতে পারে গ্যাসের সমস্যা হতে পারে, ঘন ঘন প্রসাবের সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে অল্প পরিমাণে দিনে একবার অথবা সপ্তাহে এক থেকে দুইবার খাওয়া যেতে পারে। এতে করে আপনার তেমন ক্ষতিগ্রস্ত হবেনা। তাছাড়াও অন্যান্য খাবারের সাথে আপনি কখনোই কফি খাবেন না। একটু পরে খেতে পারেন, সে ক্ষেত্রে ক্ষতি একটু হলেও কম হবে। তবে কফি কিন্তু আয়রন বৃদ্ধি করতে বাধা বিঘ্নত ঘটাতে পারে। যা গর্ভবতী মহিলাদের জন্য বড় বিপদের কারণ হতে পারে।

তাদের এই সময় প্রচুর পরিমাণে আয়রনের প্রয়োজন হয়, তাছাড়া আপনি যখন এই কফি পান করবেন সে ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে। কিন্তু শেষের দিকে যখন কফি পান করবেন সেক্ষেত্রে আপনার বাচ্চার হওয়ার পরেও আপনার বাচ্চা যখন বুকের দুধ খাবে সে ক্ষেত্রে তার শরীরে প্রবেশ করে করতে পারে এবং ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই আশা করি উপরোক্ত এই বিষয়গুলো মাথায় রেখে আপনি কফি পান করবেন, কি করবেন না সেটা সিদ্ধান্ত আপনার। তবে গবেষণায় বা বিশ্লেষনে দেখা গেছে যে কফি গর্ভাবস্থায় ক্ষতি করতে পারে। সেক্ষেত্রে এই কফি খাওয়া থেকে বিরত থাকাটাই সবচাইতে ভালো হবে।

এই পোষ্টের লেখক, মোঃ মাহমুদুল ইসলাম। স্বাস্থ্যকর্মী, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, উল্লাপাড়া, সিরাজগঞ্জ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

এম আর মাহমুদ ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url
Md. Mahmudul Islam
Md. Mahmudul Islam
আমি ডিজিটাল মার্কেটিং এক্সপার্ট ও সরকারি চাকরি করি। আমি অনলাইনে বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করে ইনকাম করি, এছাড়াও ব্লগিং, SEO ও টেকনোলজি বিষয় নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করি। এই কাজের উপর আমার ৩ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে।