সৌদি আরব থেকে বাহরাইন যাওয়ার উপায় সম্পর্কে সর্বশেষ সঠিক তথ্য জানুন
অনেক সৌদি প্রবাসী জানতে চায় সৌদি আরব থেকে বাহরাইন যাওয়ার উপায় সম্পর্কে। আসলে বৈধ উপায় যদি যেতে চান সে ক্ষেত্রে কি পদ্ধতি অবলম্বন করতে হবে সেটা জানতে হবে। চলুন, সৌদি থেকে কিভাবে বাহরাইন যাবেন সে সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা যাক।
অনেকে সৌদি আরব থেকে বাহরাইন যেতে চায় কিন্তু কিভাবে যাবে সেটা হয়তো জানা নেই। যার কারণে অনেকে অবৈধ পথে যাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই সৌদি আরব থেকে বাহরাইন যাওয়ার উপায় সম্পর্কে জানতে আর্টিকেলটি মনোযোগ দিয়ে পড়ুন।
সৌদি থেকে বাহারাইন যেতে চান সে ক্ষেত্রে বিভিন্ন উপায়ে যাওয়া যেতে পারে। যেমন অনেকে ভিজিট ভিসায় যায় আবার যদি কাজের জন্য যেতে চান সে ক্ষেত্রে ওয়ার্ক পারমিট ভিসা যেতে হবে। তবে এই ক্ষেত্রে অবশ্যই সরকারের অনুমতি লাগবে। এছাড়া এখানে দীর্ঘদিন কাজের অভিজ্ঞতা সনদ দিতে হবে। তবে আপনি যদি সৌদি থেকে বাহরাইন ভ্রমণ করার উদ্দেশ্যে যেতে চান তাহলে কোন ভিসা করার প্রয়োজন হবে না। শুধুমাত্র পাসপোর্ট থাকলে চলবে, তবে একটা বিষয় খেয়াল রাখতে হবে আপনি সেখানে কতদিন অবস্থান করবেন সেটা স্পষ্ট করতে হবে এবং এর একটি নির্দিষ্ট সীমারেখা রয়েছে।
তবে আপনি যদি কাজের উদ্দেশ্যে যেতে চান সেই ক্ষেত্রে ভিসা করতে হবে এবং ওয়ার্ক পারমিট ভিসা করতে হবে। এজন্য আপনার কাজের অভিজ্ঞতা লাগবে। কেননা অভিজ্ঞতা সম্পন্ন লোক ছাড়া কখনোই তারা নেবে না। এজন্য আপনি সৌদি আরবে যে দীর্ঘদিন যাবৎ কাজ করছেন, সেই কোম্পানির কাজের প্রমাণপত্র জমা দিতে হবে। এছাড়াও যে কোম্পানির মালিকের কাছে কাজ করেছেন তার অনুমতি পত্র লাগবে। তাহলে আপনি বাহরাইন কাজের জন্য আবেদন করতে পারবেন। এজন্য আপনাকে অনলাইনের মাধ্যমে বিভিন্ন কোম্পানিগুলো রয়েছে তাদের ওয়েবসাইটে আবেদন করবেন।
এরপরে যদি কোম্পানিগুলো আপনাকে পছন্দ করে থাকে তাহলে অবশ্যই জব অফার লেটার পাঠিয়ে দিবে সে ক্ষেত্রে আপনি ভিসা কার্যক্রম সম্পন্ন করে যেতে পারবেন। সৌদি আরব থেকে বাহারাইন যাওয়ার জন্য বিভিন্ন উপায়ে রয়েছে তার মধ্যে যেমন আপনি সীমান্ত দিয়ে যেতে পারবেন। এজন্য এই দুটি রাষ্ট্রের মাঝে কিং ফাহাদ কজওয়ে যে সীমান্ত রয়েছে সেখান দিয়ে আপনি যেতে পারবেন। এক্ষেত্রে আপনার ওখানে যে সীমান্ত পাহারাদার অফিসাররা রয়েছেন তারা আপনার পাসপোর্ট ভিসা আইডি কার্ড কাস্টমস সকল কিছুই পরীক্ষা করবে। এছাড়া আপনি যদি ব্যবসা বাণিজ্য করতে যেতে চান সেক্ষেত্রে আপনার পণ্যগুলো দেখতে পারে।
আপনি সৌদি আরব থেকে বাহারাইনে আরো একটি উপায় যেতে পারেন। তার মধ্যে হল বাসে যাওয়া যেতে পারে, তাই সীমান্ত দিয়ে বাসের মাধ্যমে গেলে ছয় ঘন্টার মত সময় লাগবে। সে ক্ষেত্রে আপনার খরচ পড়বে মাত্র ২৫ থেকে ৭৫ ডলারের মতো। যদি আপনি এই পথে যেতে চান তবে যেহেতু এই দেশটি উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের একটি অন্তর্ভুক্ত দেশ, যার কারণে এই দেশের নাগরিক ছাড়া যদি আপনি বাহারাইন ভিজিট করার জন্য উদ্দেশ্য যেতে চান তাহলে আপনার ভিসা লাগবে। তাই আপনাকে অবশ্যই সৌদি আরবের নাগরিকত্ব অর্জন করতে হবে, তাহলে আপনি সহজ ভাবে যেতে পারবেন।
যদি আপনি সৌদি আরব থেকে বাসের মাধ্যমে যেতে চান তাহলে দ্রুতগতিতেও যাওয়া যাবে, সেই ক্ষেত্রে আপনার পরিকল্পনা করতে হবে। যদিও এই পদ্ধতিতে গেলে আপনার সময় কম লাগবে, সে ক্ষেত্রে কাস্টমসে আপনার কিছু কাগজপত্র দেখাতে হবে এবং অল্প কিছু পরিমাণ ভিজিট দিতে হবে। এছাড়া আপনার গাড়িটা পরিদর্শন করবে সীমান্ত পৌঁছানোর পরে, কাগজপত্র প্রস্তুতি রাখতে হবে। যেন সবকিছু দ্রুত ভাবে তারা দেখতে পারে। বর্তমানে যখন বাহারাইনে যাওয়ার জন্য ভিজিট ভিসা করবেন সে ক্ষেত্রে কিন্তু ই ভিসা করতে হবে। ই ভিসা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আবেদন করবেন।
এছাড়া আপনার সাথে পাসপোর্ট, বিমানের টিকিট থাকতে হবে যখন আপনার এটা অনুমোদন করবে সে ক্ষেত্রে আপনি ৩০ দিনের মতো ভিসাটা ব্যবহার করার করতে পারবেন। তাছাড়া আপনি যতদিন এই বাহারাইনে থাকবেন সে ক্ষেত্রে অবশ্যই আপনার থাকা খাওয়া বা সকল কিছু নিজের বহন করতে হবে। যখন আপনি সৌদি থেকে বাহরাইন প্রবেশ করবেন সেই ক্ষেত্রে ড্রাইভাররা বীমা কেনার অনুমতি পাবেন। এছাড়াও এর সাথে গ্যারান্টি স্বাক্ষর থাকে তাই আপনি যদি এভাবে যেতে পারেন সে ক্ষেত্রে সহজ পদ্ধতিতে যেতে পারবেন।
সৌদি আরব থেকে আপনি স্থলপথে যাওয়ার জন্য ব্যবস্থা করতে পারেন, সেই ক্ষেত্রে অনেকেই বাণিজ্যিক উপায়ে যেতে চায় সেক্ষেত্রেও বিকল্প পদ্ধতি চালু করা আছে, সীমান্ত কিং ফাহাদ কজওয়ে যে সীমান্ত রয়েছে সেখানে খোলা রয়েছে। এখান থেকেও আপনি যেতে পারবেন তবে সেক্ষেত্রে আপনার খরচ হবে ২৭০ রিয়াল এর মত। এই সীমান্ত ভিসাটা আপনি প্রবেশ করতে পারলে এক সপ্তাহের জন্য আপনি বৈধ হিসেবে পাবেন। এরপরে যদি আপনি বাড়তি করতে চান সে ক্ষেত্রে ৪০০ রিয়াল দিতে হবে। তাই এই পদ্ধতিতে আপনি সীমান্ত দিয়েও বাহারাইনে সঠিকভাবে যেতে পারবেন।
আপনি চাইলে বাহরাইন গিয়ে স্থায়ী বসবাসের জন্য সুযোগ পাবেন, সেক্ষেত্রে আপনার পরিবারের কোনো সদস্য সেখানে থাকতে হবে যদি আপনার স্ত্রী সন্তান বা বাবা-মা কেউ যদি থাকে সে ক্ষেত্রে আপনি যেতে পারবেন অথবা অনেকেই এদেশে কর্মসংস্থানের আবেদন করে থাকে, সেক্ষেত্রে আপনি এখানে আবেদন করলে যেতে পারবেন। তবে এক্ষেত্রে অবশ্যই ই ভিসা এর মাধ্যমে দ্রুততম সহজ পদ্ধতিতে যেতে পারবেন। এক্ষেত্রে আপনার অনলাইনের মাধ্যমে সকল কিছু জমা দিতে হবে। যদি আবেদন পত্র অনুমোদন হয়ে যায় তাহলে আপনি ইলেকট্রিক্যাল পদ্ধতিতে ই ভিসা পেয়ে যাবেন।
আপনি যদি সৌদি আরব থেকে বাহরাইন যেতে চান সে ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের কাজ করা যাবে। বিশেষ করে মহিলাদের জন্য সুযোগ-সুবিধা রয়েছে তারা গাড়ি চালাতে পারবে অথবা বিভিন্ন কাজ করার অনুমতি পাবে। তবে কিছু নিয়ম কানুন রয়েছে বিদেশি মহিলা যারা থাকবেন তারা মাথা ঢেকে রাখা লাগবে অর্থাৎ ওই দেশের লম্বা পোশাক পরতে হবে। এছাড়াও ওই দেশের খাবার ক্ষেত্রে কিছু নির্দিষ্টতা রয়েছে যেমন শুয়োরের মাংস অথবা অ্যালকোহল জাতীয় খাবার গুলো খাওয়া মুসলমানদের জন্য নির্দিষ্ট হলেও যদি আপনি অন্য ধর্মালম্বী হন সে ক্ষেত্রে এগুলো পাওয়া যাবে লাইসেন্স প্রাপ্ত রেস্টুরেন্ট থেকে আপনাকে নিতে হবে।
আপনি যদি সৌদি আরব থেকে বাহারাইনে ভ্রমন ভিসা করতে চান সেই ক্ষেত্রে আপনি তিন মাসের জন্য বৈধ হবেন। তিন মাসের জন্য একাধিকবার আপনি যেতে পারবেন তবে দুই সপ্তাহের বেশি অবস্থান করতে পারবেন না। এক্ষেত্রে আপনার ২৭০ রিয়ালের মতো খরচ হবে। যদি আপনি সৌদি আরবে আবাসিকভাবে জীবন যাপন করে থাকেন সেক্ষেত্রে বাহারাইনে যদি ভ্রমণ করতে চান তাহলে অবশ্যই ই ভিসার জন্য আবেদন করা লাগবে। আর যদি আপনি সৌদি আরবের নাগরিক হয়ে থাকেন সেক্ষেত্রে কিন্তু আপনার ভিসা করার প্রয়োজন নাই শুধুমাত্র পাসপোর্ট হলেই চলবে।
তবে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রগুলো আপনার অবশ্যই এই ভিসার মাধ্যমে আবেদন করতে হবে যতক্ষণ না আপনার কাছে এই দেশের পারমিট পাবেন ততক্ষণ পর্যন্ত আপনি যেতে পারবেন না। এখানে তিন মাসের জন্য আপনি বৈধভাবে থাকতে পারবেন। আপনি যখন অনলাইনে মাধ্যমে আবেদন করবেন সে ক্ষেত্রে ৫ দিনের মতো লাগে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পাঁচ দিনের মতো লাগে। এরপর আপনার আবেদন অনুমোদিত হবে। তবে মাধ্যমে গেলে আপনি দ্রুততম পদ্ধতিতে ভিসা পেয়ে যাবেন অথবা সহজ উপায় এর মাধ্যমে ভ্রমণকারীরা তারা আবেদন করতে পারে এবং অনলাইনের মাধ্যমে সকল কাগজপত্র জমা দিতে পারে।
প্রাথমিক এবং মধ্যম স্তরে প্রবাসীরা প্রতি মাসে আপনার ৮০০ থেকে ২০০০ দিরহাম অনেকে কাজ করে থাকে সে ক্ষেত্রে তারা প্রায় ১৯ হাজার থেকে ৫০০০ মার্কিন ডলারের মত ইনকাম করে থাকে। সেখানে শিক্ষকতা জুনিয়র হিসাবরক্ষক প্রাথমিক ক্যারিয়ার আইটি পেশা ইত্যাদি ক্ষেত্রে আপনি কাজ করার অনুমতি পাবেন। সর্বোপরি বলা যায় যে সৌদি আরব থেকে বাহানে যাওয়ার জন্য বিভিন্ন উপায় রয়েছে তার মধ্যেও গুরুত্ব এ বিষয়গুলো আলোচনা করা হলো, আশা করি আপনি বুঝতে পারছেন।
এই আর্টিকেলটি লিখেছেন, মোঃ মাহমুদুল ইসলাম, বি,এ অনার্স জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ঢাকা।

এম আর মাহমুদ ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url