গর্ভাবস্থায় চকলেট খাওয়া যাবে কি? জেনে নিন গর্ভবতীর জন্য নিরাপদ কিনা
গর্ভাবস্থায় এই সময় বিভিন্ন খাবারের ক্ষেত্রে নিষেধ থাকে। তাই গর্ভাবস্থায় চকলেট খাওয়া যাবে কি? এ সম্পর্কে অনেকের জানা থাকে না। চলুন, গর্ভবতী মায়েরা চকলেট খেতে পারবে কিনা সে সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে জেনে নেওয়া যাক।
একজন গর্ভবতী মা সাধারণত এই সময়ে তার বিভিন্ন খাবারের প্রতি আকর্ষণ থাকে। তার মধ্যে যেমন চকলেট জাতীয় খাবার গুলো খেতে বেশি পছন্দ করে। তাই গর্ভাবস্থায় চকলেট খাওয়া যাবে কি? এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানার জন্য আর্টিকেলটি মনোযোগ দিয়ে পড়ুন।
পোস্টসূচিপত্রঃগর্ভাবস্থায় চকলেট খাওয়া নিরাপদ কিনা? জেনে নিন
গর্ভাবস্থায় চকলেট খাওয়া যাবে কি
অনেক গর্ভবতী মা জানতে চায় যে, গর্ভাবস্থায় চকলেট খাওয়া যাবে কি? আসলে চকলেট এর মধ্যে কি উপাদান রয়েছে সেটা আগে আপনার জানতে হবে। চলুন, গর্ভবতী মায়েরা চকলেট খেতে পারবে কিনা সে সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে জেনে নেওয়া যাক।
গর্ভাবস্থায় অনেকের বিভিন্ন খাদ্যের প্রতি আকর্ষণ থাকে, তার মধ্যে অনেকেই চকলেট খেতে পছন্দ করে। বিভিন্ন ধরনের চকলেট রয়েছে তার মধ্যে বেশিরভাগ ডার্ক চকলেট গুলো খেতে বেশি পছন্দ করে থাকে। চকলেট খাওয়া নিয়ে বিভিন্ন ধরনের কথা রয়েছে যেমন অনেকের ধারণা যে চকলেট খেলে ওজন বেড়ে যাবে, দাঁতে পোকা হতে পারে, ত্বকে ব্রণ উঠতে পারে। তাই গর্ভবতী অবস্থায় মায়েরা যদি চকলেট খায় সে ক্ষেত্রে গর্ভস্থ শিশুর ক্ষতি হবে কিনা অথবা কি ধরনের ক্ষতি হতে পারে সেটা জানা প্রয়োজন অথবা এই গর্ভাবস্থায় চকলেট খেলে উপকার হবে নাকি ক্ষতি হবে সে সম্পর্কে জানা প্রয়োজন।
যদি একজন গর্ভবতী মা চকলেট খায় সেক্ষেত্রে কি শিশুর ক্ষতি হবে নাকি সুরক্ষিত থাকবে। তবে গবেষণায় দেখা গেছে যে যদি গর্ভবতী মা ডার্ক চকলেট খায় তবে সেক্ষেত্রে গর্ভে শিশুর ক্ষতি হবে না এক্ষেত্রে শিশুর বেড়ে উঠবে। এতে কোন অসুবিধা হওয়ার সম্ভাবনা নেই। তাই গর্ভাবস্থায় ডার্ক চকলেট খাওয়া যেতে পারে। তবে অতিরিক্ত খাওয়া যাবে না, যদি গর্ভবতী মায়েরা অতিরিক্ত মানসিক টেনশনে থাকেন সে ক্ষেত্রে শরীরে অনেক দুর্বলতা লাগে এবং ক্লান্ত হয়। যা শিশুর জন্য অনেকটা ক্ষতিকর। তাই গবেষণায় দেখা গেছে যে যদি কোন মা চকলেট খেতে থাকে সেক্ষেত্রে তার ক্লান্তি একটু দূর হয় এবং এতে শিশুর তেমন ক্ষতি হবে না।
একজন গর্ভবতী মা যদি চকলেট খায় বিশেষ করে ডার্ক চকলেট খেতে থাকে সে ক্ষেত্রে ওজন নিয়ন্ত্রণ থাকবে কিনা সেটা আমাদের জানা প্রয়োজন। ডার্ক চকলেট সাধারণত মিষ্টি ননতা হয়ে থাকে যা ফ্যাট জাতীয় খাবার, এতে আপনার ওজন বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম থাকে। এটা মূলত খেলে অন্যান্য খাবার খাওয়ার ক্ষেত্রে আগ্রহ হবে না। এতে ওজন নিয়ন্ত্রণ থাকবে, তাই রাতে ঘুমানোর পূর্বে ডার্ক চকলেট খাওয়া যেতে পারে। এতে আপনার ওজন নিয়ন্ত্রণ থাকবে, তবে মিষ্টি খাওয়ার চাহিদা পূরণ হয়ে গেল, এছাড়া চকলেট খেলে সেক্ষেত্রে শিশুর দ্রুত বৃদ্ধি পাবে, কোন ক্ষতি হবে না বরং নিরাপদ থাকবে।
গর্ভবতী মহিলার রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করা সমস্যা সৃষ্টি হয়, সে ক্ষেত্রে আপনার যদি উচ্চ রক্তচাপ থাকে তাহলে ডার্ক চকলেট খেতে পারেন। কেননা এর মধ্যে প্রচুর পরিমাণে ম্যাগনেসিয়াম থাকে যা আপনার রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করবে। তাছাড়াও গর্ভবতী মায়ের সাধারণত বিভিন্ন ধরনের মানসিক টেনশন থাকে বিশেষ করে তাদের এই সময় হরমোনের পরিবর্তন হয় যার কারণে তাদের বিভিন্ন মানসিক চাপ এবং হতাশা গ্রস্ত দেখা যায় এই ধরনের মানসিক চাপ থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য বানিয়ন্ত্রণ করার জন্য ডার্ক চকলেট খাওয়া যেতে পারে। এতে করে আপনার মানসিক চাপ অনেকটাই দূর হয়ে যাবে।
চকলেট খেলে কি ওজন বাড়ে
অনেকে জানতে চায় যে চকলেট খেলে কি ওজন বাড়ে? আসলে চকলেট কোন ধরনের খেলে ওজন বাড়বে সেটা আপনাকে জানতে হবে। চলুন, এ বিষয়ে বিস্তারিতভাবে জেনে নেওয়া যাক।
চকলেটের মধ্যে ক্যালোরি থাকে যার কারণে অতিরিক্ত যদি খাওয়া হয় সেক্ষেত্রে আপনার ওজন বৃদ্ধি পাবে। অতিরিক্ত চকলেট খাওয়া যাবে না, তবে চকলেটের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের চকলেট রয়েছে যেমন ডার্ক চকলেট যদি খাওয়া হয় সে ক্ষেত্রে উপকার হবে। তবে নিয়মিতভাবে খেতে হবে গবেষণায় দেখা গেছে যে আপনি যদি ডার্ক চকলেট গর্ভাবস্থায় খেতে পারেন সে ক্ষেত্রে উপকার হবে। কেননা ডার্ক চকলেটের মধ্যে চিনি কম থাকে যার কারণে ওজন বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা একটু কম থাকে। পরিমাণ মত ডার্ক চকলেট খেতে পারেন। তারপরেও যদি অতিরিক্ত খেয়ে ফেলেন সে ক্ষেত্রে হালকা শারীরিক ব্যায়াম করা যেতে পারে।
চকলেট খেলে কি ওজন কমে
যারা ওজন কমাতে চায় তারা জানতে চায় যে চকলেট খেলে কি ওজন কমে? আসলে বিভিন্ন ধরনের চকলেট রয়েছে কোনটা খেলে আপনার ওজন কমবে সে বিষয়ে জানতে হবে। চলুন, এ বিষয়ে বিস্তারিত ভাবে জেনে নেওয়া যাক।
গবেষণায় দেখা গেছে যে যদি কোন ব্যক্তি অনেক ক্ষুধা লাগে সে ক্ষেত্রে যদি ডার্ক চকলেটে অল্প পরিমাণ খায় সে ক্ষেত্রে তার পেট ভরা মনে হবে। এক্ষেত্রে অন্য খাবারের প্রতি আকর্ষণ কম হবে এবং অল্প পরিমাণ খেতে পারবে যার কারণে ওজন নিয়ন্ত্রণ থাকবে। চকলেট এর মধ্যে যে ক্যালরি রয়েছে তার মধ্যে সবচাইতে ডার্ক চকলেট গুলো ক্যালোরি কম থাকে। তবে কিছু চকলেট রয়েছে যার মধ্যে প্রচুর পরিমাণে চিনিযুক্ত রয়েছে সেই সকল চকলেট গুলো খাবেন না। এতে ক্যালোরি থাকে বেশি এতে আপনার ওজন আরো বৃদ্ধি পাবে। তবে খাওয়ার ক্ষেত্রে অবশ্যই সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
চকলেট খেলে কি ক্ষতি হয়
অনেকে জানে না চকলেট খেলে কি ক্ষতি হয় সে সম্পর্কে আপনার জানা থাকলে শরীরের ক্ষতি হবে না। এছাড়াও উপাদান সম্পর্কে আপনাকে জানতে হবে। চলুন, বিস্তারিতভাবে জেনে নেওয়া যাক।
যদি আপনি নিয়মিত ভাবে অতিরিক্ত পরিমাণে চকলেট খান সেক্ষেত্রে আপনার শরীরে ব্রণ উঠতে পারে। এর মধ্যে থাকে বাটার বিভিন্ন ধরনের উপাদান থাকে যার কারণে অতিরিক্ত খাওয়ার কারণে আপনার মুখে ব্রণ উঠতে পারে। চকলেটের মধ্যে প্রায় পটাশিয়াম থাকে যা আপনারা খেলে উচ্চরক্ত চাপের সমস্যা হতে পারে। এছাড়া যারা কিডনি রোগে আক্রান্ত হয়েছেন তারা এই অতিরিক্ত পটাশিয়াম খেলে তাদের কিডনি রোগের সমস্যা আরো বেড়ে যাবে। তারা এই ধরনের চকলেট গুলো খাবেন না।
আপনি যদি অতিরিক্ত পরিমাণ চকলেট খান সেই ক্ষেত্রে কোলেস্টেরল বৃদ্ধি পাবে। এক্ষেত্রে যাদের হার্টের সমস্যা রয়েছে তারা এই সকল চকলেট খাওয়া থেকে বিরত থাকবেন। এটা খাওয়ার কারণে মাথাব্যথা শরীর দুর্বল আরো বিভিন্ন ধরনের সমস্যা হতে পারে। তাছাড়াও যাদের ডি হাইড্রেশনের সমস্যা রয়েছে তারা অতিরিক্ত পরিমাণ চকলেট খাবেন না। তাদের আরো হাইড্রেশনের সমস্যা বৃদ্ধি পাবে। এছাড়াও যাদের রাত্রিতে ঘুম কম হয় তারা অতিরিক্ত পরিমাণ চকলেট খাবেন না। এতে আপনার রাত্রিতে ঘুম আরো কমে যাবে এবং অনিদ্রা হলে আপনার শরীর দুর্বল হয়ে যাবে।
চকলেট খেলে কি দাঁতে পোকা হয়
অনেকে জানে না যে চকলেট খেলে আসলে দাঁতে পোকা হয় কিনা চকলেট খেলে কি দাঁতে পোকা হয়। এ সম্পর্কে বিস্তারিত আপনাদের জানা উচিত তাহলে একটি ভালো সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। চলুন, এ বিষয়ে বিস্তারিত ভাবে জেনে নেওয়া যাক।
প্রচলিত কথা রয়েছে যে, চকলেট খেলে দাঁতে পোকা হতে পারে বিশেষ করে শিশুদেরকে এই কথা বলা হয় কিন্তু এটা আসলে ভুল ধারণা। কেননা চকলেট খেলে আপনার দাঁতে পোকা হবে এটা ভুল কথা। কেননা মুখের ভিতরে প্রচুর পরিমাণে ব্যাকটেরিয়া থাকে আর এই ব্যাকটেরিয়া গুলো যখন কোন খাবার খাওয়া হয় সেই খাবারগুলো দাঁতের ফাঁকে আটকে গেলে ব্যাকটেরিয়া গুলো সেখানের খাবার গুলো খেতে বেশি পছন্দ করে থাকে। তাই যদি চকলেট খাওয়া হয় দাঁতের মধ্যে লেগে থাকে তাহলে ব্যাকটেরিয়া সেটা দাঁতের ক্ষয় রোধ করবে। যারা মিল্ক জাতীয় চকলেটগুলো খায় সেই ক্ষেত্রে দাঁতের ক্ষয় হতে পারে।
তবে ডার্ক চকলেট যদি খাওয়া হয় সে ক্ষেত্রে আপনার এই ধরনের সমস্যা কম হয়। কেননা এর মাঝে মিষ্টি কম থাকে যার কারণে আপনার দাঁতের ক্ষয় একটু কম হতে পারে। আমাদের মুখের ভিতর হাজার হাজার বা মিলিয়ন পরিমাণ ব্যাকটেরিয়া থাকে যা আমাদের শরীরের জন্য অনেক ক্ষতি করে। তবে অল্প পরিমাণ যদি চকলেট খাওয়া হয় সে ক্ষেত্রে মেজাজ ভালো থাকে এবং শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণ থাকে। আরও বিভিন্ন ধরনের উপকার করে থাকে যদিও চকলেট কখনো সরাসরি ক্ষতি করে না। কারণ এর ভিতরে যে চিনি বা মিল্ক থাকে যা অ্যাসিড তৈরি করে যা দাঁতের ক্ষয় বৃদ্ধি পায়।
চকলেট খেলে কি প্রেসার বাড়ে
যাদের হাই প্রেসার হয়েছে তারা জানতে চায় চকলেট খেলে কি প্রেসার বাড়ে? আসলে এ সম্পর্কে আমাদের জানা খুবই প্রয়োজন। কেননা আপনি যদি চকলেটের গুনাগুন না দেখে খেতে থাকেন তাহলে অসুবিধা হতে পারে। চলুন এ বিষয় যেনে নেওয়া যাক।
চকলেটের বিভিন্ন উপাদান রয়েছে যদি চকলেটের মধ্যে এই উপাদান থাকে এতে প্রেসার বৃদ্ধি করবে। তাই এই ধরনের চকলেট খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। তবে ডার্ক চকলেট এর মধ্যে যে উপাদান গুলো থাকে তা যদি অল্প পরিমাণ খেতে পারেন সেই ক্ষেত্রে প্রেসার বাড়বে না বরং কমতে থাকবে। তবে অবশ্যই একজন চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে চকলেট খেতে হবে। তা না হলে আপনার শরীরে ক্ষতি হবে, ডার্ক চকলেটের মধ্যে এক ধরনের কোকোযুক্ত থাকে যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। তবে বাজারে যে সকল মিল্ক চকলেট অথবা প্রচুর পরিমাণে চিনি দেওয়া থাকে এ ধরনের চকলেট খান তাহলে প্রেসার বৃদ্ধি পাবে।
লেখকের শেষ মন্তব্যঃ
পরিশেষে বলা যায় যে যদি গর্ভাবস্থায় চকলেট খান সেক্ষেত্রে আপনার শরীরে অসুবিধা হতে পারে। তবে যদি ডার্ক চকলেট খাওয়া যায় সে ক্ষেত্রে তেমন একটা ক্ষতি হবে না। শরীরে উপকার করতে পারে কিন্তু আপনার শরীরে যদি বড় ধরনের কোন রোগ থাকে তাহলে বা যেকোনো ধরনের চকলেট খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। তবে যদি কোন অসুবিধা না হয় তাহলে আপনি ডার্ক চকলেট খেতে পারেন। তাই গর্ভাবস্থায় চকলেট খাওয়া যাবে কি? এ সম্পর্কে আজকের আর্টিকেলে বিস্তারিত ভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি, পোস্টটি ভাল লাগলে আপনার বন্ধু বান্ধবের নিকট শেয়ার করবেন। ধন্যবাদ



এম আর মাহমুদ ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url