ইসলামে ব্যবসায় লাভ করার নিয়ম সম্পর্কে জেনে হালাল ব্যবসা করুন
আপনি যদি ইসলামিক নিয়মে ব্যবসা-বাণিজ্য করতে চান সে ক্ষেত্রে কিছু নিয়ম কানুন মেনে চলতে হবে। তার মধ্যে যেমন প্রথমত অবশ্যই আপনি যে বিষয়ে যে বস্তুটি নিয়ে যে পণ্যটি নিয়ে ব্যবসা করবেন সেই পণ্যের মালামাল অবশ্যই হালাল হতে হবে এবং মানুষের সেবা মনে করে ব্যবসা করতে হবে। আপনি যে পণ্যটি নিয়ে ব্যবসা করবেন সেটার পুরোপুরি মালিকানা আপনার হতে হবে তারপর আপনি ব্যবসা করতে পারবেন। কেননা রাসূল সাঃ এমন কিছু পণ্য বিক্রি করতে মানা করেছেন যেগুলো বিক্রি করলে অসুবিধা হবে। তাই রাসূল সাঃ বলেছেন যদি কোন ব্যক্তি পণ্য ক্রয় করে তা ততক্ষণ পর্যন্ত বিক্রি করা যাবে না যতক্ষণ পর্যন্ত বস্তুটি সম্পন্ন আপনার নিয়ন্ত্রণ না আসে। বুখারী শরীফ ২১৩৬
ব্যবসা করার জন্য সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো যে পণ্যটি আপনার ক্রেতা কিনবে সেটা সম্পর্কে সঠিকভাবে উপস্থাপন করতে হবে। এছাড়া বাজে ব্যবহার বা প্রতারণা করবেন না। কেননা অনেক ব্যবসায়ী দেখা যায় একটি পণ্য দেখিয়ে আবার অন্য একটি পণ্য দিয়ে থাকে, যা এক ধরনের ধোঁকাবাজি বলা হয়ে থাকে, এছাড়া আপনি যে পণ্যটি বিক্রি করেন সেটার সঠিক দাম নির্ধারণ করা লাগবে। তাছাড়াও যখন বাকি বেচা কেনা করবেন সে ক্ষেত্রে মূল্য নির্ধারণ করে দিতে হবে। পণ্য বিক্রয় করার সময় অবশ্যই সত্য কথা বলতে হবে, অন্যের মাল নিয়ে সঠিক তথ্য দেওয়া লাগবে কোন মিথ্যা আশ্রয় নেওয়া যাবে না।
যে সকল পণ্য ওজন করে দিতে হয় সেগুলোর অবশ্যই ওজন কম দেওয়া যাবে না। এটা একটি বড় ধরনের পাপ হয়ে যাবে। কেননা হযরত শোয়াইব আঃ এর সময়ে তার সম্প্রদায়ের লোকজন ওজন কম দিলে তাদেরকে দুনিয়ার উপরে আযাব দিয়েছিল, যা কখনো ব্যবসা করার ক্ষেত্রে অন্যকে ঠকাবেন না এবং বিশেষ করে বেশি লাভ করার আশায়। কেননা এতে করে আপনার ব্যবসা পরবর্তীতে ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। ব্যবসার ক্ষেত্রে উভয় ব্যক্তির সম্মতি থাকা লাগবে অনুমান করে কখনোই ব্যবসা করবেন না। এক্ষেত্রে ব্যবসার সঠিক নিয়ম কানুন মানা হয় না। সঠিক নির্ধারিত দাম এবং ওজন সব কিছুই সঠিকভাবে করতে হবে।
অন্যায় ভাবে কারোর মাল নিজের ভক্ষণ করা যাবে না। এক্ষেত্রে মহান আল্লাহ তা'আলা এই বিষয়ে বলেছেন যে, তোমরা কারো মাল অন্যায় ভাবে আত্মসাৎ করবে না। কেননা এটা করা হারাম, এছাড়াও আরো একটি নিয়ম হল বাকিতে যখন পণ্য বিক্রয় করবেন বা ক্রয় করবেন সে ক্ষেত্রে অবশ্যই লিখে রাখা প্রয়োজন। এভাবেই ব্যবসা-বাণিজ্য করতে হবে। এটাই ইসলামের নিয়ম এভাবে যদি আপনি বাস্তবে প্রয়োগ করতে পারেন। তাহলে ইসলামিক ভাবে ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা করা হয়ে যাবে। আর এই ধরনের ব্যবসা বাণিজ্য পরিচালনা করলে আল্লাহ তা'আলা বরকত দিবেন।
ব্যবসা করতে হলে অবশ্যই হালাল পন্যের ব্যবসা করতে হবে। সে ক্ষেত্রে ভেজাল দেওয়া যাবে না, এক্ষেত্রে বরকত নষ্ট হয়ে যাবে। কখনোই হারাম ভাবে ব্যবসা করবেন না, এতে আপনি মুনাফা অর্জন করতে পারবেন না। এক্ষেত্রে আপনার দুশ্চিন্তা থাকবে, হতাশা হবেন। এছাড়াও ক্ষতিগ্রস্ত হবেন, এ বিষয়ে রাসূল সাঃ বলেছেন, তোমরা অসৎ উপায়ে কখনোই সম্পদ উপার্জন করবে না। এতে করে নিজে যেই সম্পদ খাবে এবং এই ক্ষেত্রে কিন্তু পরিতৃপ্তি পাবে না। (মুসলিম শরীফ ২৩১১)। তাই চেষ্টা করবেন অবশ্যই হালাল পন্থায় ব্যবসা করলে লাভবান হবেন।
ব্যবসা করতে হলে সঠিক সময়ে আপনাকে ব্যবসা করতে হবে। এই ক্ষেত্রে অবশ্যই আপনাকে ভোরবেলায় বের হতে হবে। কেননা রাসূল সাঃ বলেছেন যে, ভোর বেলায় কাজ করলে আল্লাহতালা বেশি বরকত দিয়ে থাকেন। এজন্য ভোরবেলায় কাজ করলে অনেক সময় পাওয়া যায়। সে ক্ষেত্রে নবী করীম সাঃ ভোর বেলায় কাজ করতে বেশি পছন্দ করতেন। আপনার যদি ব্যবসায় যদি থাকে তাদের সাথে অবহেলা করবেন না এবং তাদের হক নষ্ট করবেন না এতে করে আপনার লস হবে ক্ষতি হবে কেননা তারা যদি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করে সে ক্ষেত্রে আপনার হকটাও নষ্ট হয়ে যাবে বুখারী শরীফ ২২ ২৭ ক্যানাডা আল্লাহ তায়ালা নিজেই কারো ক্ষতি পছন্দ করেন না এবং কারো প্রতি যদি রাগ হয়ে যায় সে ক্ষেত্রে দুনিয়া এবং আখেরাতের দুইটার শাস্তি দিয়ে থাকেন
আপনি যদি ব্যবসা বাণিজ্য করেন সে ক্ষেত্রে যদি অনেক লাভবান হতে থাকেন এক্ষেত্রে টাকা পয়সা হওয়ার কারণ আপনি আল্লাহতালাকে স্মরণ করতে ভুলে যান সে ক্ষেত্রে কিন্তু আপনার ব্যবসায় ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা হয় থাকে কেননা পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে ওই সাফল্য যাদের ব্যবসা-বাণিজ্য এবং ক্রয় বিক্রয় আল্লাহর স্মরণ থেকে এবং নামাজ কায়েম করা যাকাত প্রদান করা ইত্যাদি থেকে যদি বিরত থাকে যারা আল্লাহকে ভয় পায় না তাদের অন্তরে অন্তর দৃষ্টি বিপর্যস্ত হয়ে পারে তবে যদি তারা ভালোভাবে ব্যবসা করে হক কথায় ব্যবসা করে সেই ক্ষেত্রে সে ক্ষেত্রে আল্লাহ তায়ালা তাদের কর্মের উৎকৃষ্ট তম প্রতিদান দিয়ে থাকবেন শুধু কর্মের প্রতিদানে দিয়ে শেষ হবেন না বরং আল্লাহ তা'আলা নিজের কৃপায় তাদের এবং নিয়ামত দান করবে সূরা নূর 37 থেকে 38
ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে সততা এবং তাকিত হবে কেননা কিয়ামতের দিন ব্যবসায়ীকে সর্বোচ্চ মর্যাদা দেওয়া হবে এক্ষেত্রে যদি আপনি এই সততা এবং তারপর পরিত্যাগ করেন তাহলে কিয়ামতের দিন সবচেয়ে পাপিষ্ঠ ব্যক্তি হবেন তাই ব্যবসা সততা এবং তারপর অবলম্বন করা অবশ্যই দরকার তিরমিজি শরিফ নাম্বার ১২১০ তাছাড়াও রাসূল সাল্লাল্লাহু সাল্লাম বলেছেন যদি ব্যবসার পণ্য নিয়ে কেউ মিথ্যা কসম কাটে সে ক্ষেত্রেও বরকত নষ্ট হয়ে যাবে বুখারী শরীফ ২০২৭ তাছাড়া আপনি যৌথভাবে ব্যবসা-বাণিজ্য করতে পারেন এক্ষেত্রে অবশ্যই সততা থাকতে হবে মহান আল্লাহতালা রহমত ব্যবসায় বরকত দেবেন
সেই ক্ষেত্রে বলেছেন নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ বলেন আমি নিশ্চয়ই আমি দুই অংশীদারের মধ্যে তৃতীয় অংশীদার যতক্ষণ না যতক্ষণ তারা একে অপর অন্যের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা না করে যখন এক অংশ দ্বারা খেয়ানত করবে তখন আমি তাদের থেকে সরে যাব আবু দাউদ ৩৩৮৩ এই হাদিস দ্বারা স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে যে যৌথভাবেও যদি আপনি বিশ্বাস তো তার সাথে যদি ব্যবসা করতে পারেন সে ক্ষেত্রে মহার আল্লাহতালাও আপনাদের সাথে রয়েছেন এবং আপনার ব্যবসায় বরকত হবে এবং লাভবান হতে পারবেন
হালালভাবে যদি ব্যবসা করতে চান অবশ্যই ইসলামের বিধিবিধান মেনে আপনাকে ব্যবসা-বাণিজ্য করতে হবে এক্ষেত্রেই আপনি মমিন ব্যক্তি হতে পারবেন এবং সফল ব্যবসায়ী হতে পারবেন তাছাড়া আপনার রিজিকের বিষয়ে আল্লাহতালা পথ বন্ধ করে দিবেন কেননা ওমর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু বলেছেন যার দিন প্রসঙ্গে সঠিক জ্ঞান রয়েছে সেই যেন আসলে আমাদের সাথে ব্যবসা করতে পারে তিরমিজি শরীফ ৪৮৭ এক্ষেত্রে ব্যবসার বরকত নষ্ট হয়ে যেতে পারে যদি আপনি অবৈধভাবে ব্যবসা-বাণিজ্য করতে থাকেন তাই অবশ্যই আপনি ভালোভাবে ব্যবসা-বাণিজ্য করার চেষ্টা করবেন
ব্যবসা বাণিজ্য করার ক্ষেত্রে অবশ্যই কারো ক্ষতি করার মন মানসিকতা থাকা যাবে না কারো যেন ক্ষতি না হয় সেদিকে খেয়াল করতে হবে কেননা রাসূল সাল্লাল্লাহু ওয়া সাল্লাম বলেছেন নিজে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং অন্যের ক্ষতি করা তা কোনোটি ঠিক হবে না শুনানি ইবনে মাজাহ ২৩৪১ তাছাড়া ব্যবসার ক্ষেত্রে ধোকা প্রতারণা ফাঁকিবাজি এই ধরনের কাজকর্ম করা যাবে না এটা ইসলামের মানবাধিকার লঙ্ঘন করা এক্ষেত্রে মন্দ জিনিসগুলো আপনি এ ধরনের কাজ করা কিন্তু এক ধরনের হারাম আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু বলেছেন
একদিন রাসূল সাল্লাল্লাহু সাল্লাম একজন খাদ্য বিক্রেতার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি খাদ্যের ভিতরে হাত প্রবেশ করে দেখলো খাদ্যগুলো ভেজা এবং নিম্ন মান রাসূল সাল্লাল্লাহু সাল্লাম বললেন হে পণ্যের মালিক এটা কি লোকটি বলল হে আল্লাহর রাসূল এতে বৃষ্টি হয়েছে যার কারণে ভিজে গেছে তখন রাসুল সাঃ বলেন তুমি এগুলো খাবারের স্তুপ এর উপরে রেখে দিয়েছো কেন এটা রাখবে না কেননা লোকজন তবে তোমার উচিত ছিল ভেজাগুলো পড়ে রাখা তুমি ভিতরে রাখছো কেন লোকজন কে এক ধরনের ধোকা দেওয়া আর যে ব্যক্তি ধোকা দেয় সে আমার উম্মত না মুসলিম শরীফ 102

এম আর মাহমুদ ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url