ইসলামে নারী শিক্ষার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানুন

ইসলাম নারী-পুরুষের শিক্ষার প্রতি গুরুত্ব দিয়েছেন, তাই ইসলামে নারী শিক্ষার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সঠিক ধারণা নিতে হবে। চলুন, ইসলাম নারী শিক্ষার ক্ষেত্রে কি বলেছে এবং সমাজে কতটা গুরুত্বপূর্ণ সে সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।
ছবি
ইসলাম সবার জন্য শিক্ষা অর্জন করা আবশ্যক করেছে, কেননা নারী-পুরুষ দুজনেরই শিক্ষা অর্জন করার প্রয়োজন। কারণ নারীদের শিক্ষিত করতে হলে নারীদের প্রয়োজন। তাই ইসলামে নারী শিক্ষার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে জানতে আর্টিকেলটি মনোযোগ দিয়ে পড়ুন।

কোরআন মাজিদে শিক্ষা বিষয়ে খুবই গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, বিশেষ করে যখন রাসূল করীম সাঃ এর উপর প্রথম অহি নাযিল হলো তখন আল্লাহ তা'আলা বলেছিলেন ইকরা, এই শব্দটি মহান আল্লাহ তা'আলা বলেছিলেন এর অর্থ হল পড় অর্থাৎ সূরা আলাকের প্রথম আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলছিলেন হে রাসূল সাঃ আপনার সৃষ্টিকর্তার জন্য পড়ুন, তোমার প্রভুর নামে যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন। তাই এই শব্দটি দ্বারা বোঝা যাচ্ছে যে কোরআন শরীফে নারী-পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রে শিক্ষা অর্জন করা প্রয়োজন।

তাছাড়া মহানবী সাঃ বলেছেন প্রত্যেক নর নারীর জন্য শিক্ষার অর্জন করা ফরজ। ইবনে মাযাহ ২২৪ নাম্বার হাদিস। তাই হাদীস শরীফেও জ্ঞান অর্জনের জন্য নারী পুরুষ উভয়ের জন্য আবশ্যক করেছেন।নারীদের শিক্ষার ক্ষেত্রে প্রাচীনকাল থেকেই এই শিক্ষা ব্যবস্থা চালু হয়ে আসছে, শিক্ষার গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। রাসূল করীম সাঃ নারীদের শিক্ষার ক্ষেত্রে গুরুত্ব দিয়েছেন। হযরত আয়েশা রাঃ শিক্ষা ক্ষেত্রে দারুণ, তিনি একাধারে আল হাদিস, চিকিৎসা এবং কাব্য সাহিত্যে ভালো পারদর্শী দেখিয়েছেন।

অনেক সাহাবী হযরত আয়েশা রাঃ কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের ফতুয়া এবং ফিকহ, হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তার থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছেন। রাসুল সাঃ এর যুগে কিছু নারী রাসূল সাঃ কে জিজ্ঞেস করেছিলেন যে নারীদের শিক্ষার ক্ষেত্রে আলাদা একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা আলাদা শিক্ষা ব্যবস্থার চালু করলে নারীদের উপকার হবে। তাই রাসূল করীম সাঃ নারীদের শিক্ষার জন্য আলাদা শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করেছিলেন। মুসলমানদের যেমন শিক্ষা ব্যবস্থা করেছিলেন।

রসুল করীম সাঃ প্রত্যেক নর-নারীর উপর শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করেছিলেন এবং এখানে মহান আল্লাহতালা তিনি প্রত্যেক মুসলমানের উপর শিক্ষা ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করেছিলেন। কেননা আল্লাহতালা বলেছেন আমি জিন ও মানুষ জাতিকে একমাত্র আমার এবাদত করার জন্য সৃষ্টি করেছি। সূরা যারিয়াত ৫৬ নাম্বার আয়াত। তাই এই আয়াত দ্বারা বোঝা যাচ্ছে যে এখানে মানুষ বলতে সাধারণত নারী পুরুষ উভয়দেরকে বোঝানো হয়েছে। তাই সবারই আবশ্যক ইসলামের বিধান অনুযায়ী প্রত্যেক নর-নারীর যেমন নামাজ পড়ে থাকে সবার উপর যেমন ফরজ ঠিক তেমনি শিক্ষা ব্যবস্থাও প্রত্যেক নর নারীর উপর ফরজ।

কেননা মহান আল্লাহতালা নামাজ এবং রোজা হজ্ব যাকাত সকল কিছুই কিন্তু আলাদাভাবে শুধুমাত্র পুরুষের যে পালন করা লাগবে তা কিন্তু নয়, পাশাপাশি নারীদের পালন করা আবশ্যক করেছেন। তাই প্রত্যেক নর-নারীর উপর শিক্ষা অর্জন আবশ্যক করা হয়েছে। পুরুষেরা যেভাবে শিক্ষা জ্ঞান অর্জন করে তারা দেশের জন্য কাজ করবে ঠিক তেমনি নারীদেরও দেওয়া হয়েছে। তারাও পর্দায় রেখে রাষ্ট্রের জন্য কাজ করতে পারবে এতে কোন বাধা নেই। এজন্য সবারই জরুরী অর্জন করা। যে জাতি যত শিক্ষিত সে জাতি তত উন্নত। শিক্ষা সম্পর্কে নেপোলিয়ন বলেছিলেন যে, 'তোমরা আমাকে একটি শিক্ষিত মা দাও, আমি তোমাদেরকে একটি শিক্ষিত জাতি উপহার দেব।'

সেই বিবেচনায় বলা যেতে পারে একজন নারীর শিক্ষার যোগ্যতা থাকলে সে দেশটিকে অনেক উন্নত করতে পারে। তাছাড়া তার নিজের সন্তানকে সাধারণত হাতে খড়ি বা প্রাথমিক শিক্ষা দিয়ে থাকে। মহান আল্লাহ তায়ালা এই পৃথিবীতে সর্বপ্রথম মানবজাতির পিতা সৃষ্টি করার পর তাকে নাম শিক্ষা দিয়েছিলেন। সূরা বাকারা আয়াত নাম্বার ৩০-৩১। কেননা মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাঃ এর প্রথম শিক্ষক ছিলেন, তিনি স্বয়ং নিজেই তাকে জিব্রাইলের মাধ্যমে শিক্ষা ব্যবস্থার গ্রহণ করেছেন। মহান আল্লাহতালা নবী করীম সাঃ এর প্রধান শিক্ষক ছিলেন।
শিক্ষা সম্পর্কে মহানবী সাঃ বলেছেন যে, প্রত্যেক নর-নারীর শিক্ষা অর্জন করা ফরজ। তাই অবশ্যই প্রতিটা নারীর প্রতি শিক্ষার জন্য গুরুত্ব দেওয়া অপরিসীম। কেননা বলা হয়ে থাকে যে শিক্ষিত সে অনেক উন্নত করতে পারবে এবং সে রাষ্ট্রের ব্যবস্থা পর্যন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করতে সক্ষম হবে। মহান আল্লাহতালা শিক্ষা ব্যবস্থার ক্ষেত্রে বারে বারে কোরআন হাদিস বলা হয়েছে। কেননা শিক্ষা অর্জন করা প্রত্যেকেরই জন্য জরুরী, তবে এখানে এককভাবে শুধু পুরুষকে বলা হয়নি পাশাপাশি নারীদেরকেও শিক্ষা অর্জন করার কথা বলা হয়েছে।

একজন নারী সাহাবী রাসূল সাঃ কে বললেন আপনি যেমন পুরুষদেরকে শিক্ষা দিয়ে থাকেন ঠিক তেমনি আমাদেরও শিক্ষা অর্জন করা প্রয়োজন। তাই তিনি নারীদেরকে উপযুক্ত শিক্ষা দেওয়ার জন্য তিনি বিশিষ্ট জ্ঞানী বিশেষ করে হযরত আয়েশা রাঃ, রাসূল সাঃ এর নিজের কন্যা ফাতেমা রাঃ এছাড়াও আরো অনেক সাহাবি যারা খুবই শিক্ষিত বা অনেক জ্ঞানীগুনি সেই সকল মহিলাদেরকে তাদের কাছে শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য পাঠিয়ে দেন। এতে বোঝা যাচ্ছে যে রাসূল সাঃ শুধুমাত্র পুরুষদের কে যে শিক্ষা দিয়েছেন তা কিন্তু নয়, নারীদের জন্য শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করেছিলেন।

যেখানে তারা চিকিৎসা, স্বাস্থ্য থেকে শুরু করে সাহিত্য কাব্য, এছাড়াও কোরআন হাদিস থেকে ইত্যাদি বিষয়ে তিনি শিক্ষা দিয়েছিলেন। তবে বর্তমান যুগে নারীদের শিক্ষা ব্যবস্থা খুবই উন্নত করা প্রয়োজন। কেননা একজন নারী পরিবার সমাজ এবং রাষ্ট্রের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাদের প্রত্যেকটা কাজের জন্য অবদান রয়েছে। তাই অবশ্যই তাদের ক্ষেত্রে গুরুত্ব দিতে হবে, অনেক নারীরা বর্তমানে তারা বিভিন্ন পেশায় কাজ করে যাচ্ছে। বিশেষ করে ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার শিক্ষা এছাড়াও আইন সকল বিষয়ে তারা কাজের অবদান রেখে যাচ্ছে। তাছাড়াও ইসলামী জ্ঞান কুরআন হাদিসের শিক্ষা গ্রহণ করে।

নারীরা শিক্ষা ব্যবস্থায় অগ্রগতি করতে পারবে, তাই ইসলামের দৃষ্টিকোণে নারীদের শিক্ষা ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। আমাদের বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার ক্ষেত্রে নারীদেরকে বেশি একটা গুরুত্ব দেওয়া হয় না। যার কারণে তারা উচ্চশিক্ষা ও গ্রহণ করতে পারে না। তবে বর্তমানে যোগ্যতার দিকে এগিয়ে রয়েছে, তাই নারীদের শিক্ষার ক্ষেত্রে ইসলাম যেহেতু গুরুত্ব দিয়েছে। তাই আমাদের মুসলমান হিসেবে নারী শিক্ষার গুরুত্ব দিতে হবে। কেননা নারীদের শিক্ষার ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্ব। যেহেতু ইসলাম নারী শিক্ষার গুরুত্ব দিয়েছে, তাই আমাদেরও দেয়া উচিত।

ইসলামে যেহেতু নারীদেরকে পর্দার বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে যার কারণে আমরা অনেকেই শুধু ইসলামিক বিষয়ে পড়ালেখা করায় তা কিন্তু নয়, ইসলাম শুধু কোরআন হাদিসের জ্ঞান অর্জন করতে হবে তা শুধু নয়। কোরআন হাদিসের জ্ঞানের পাশাপাশি অবশ্যই আপনাকে আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত হতে হবে। বিজ্ঞান বিষয়গুলোতে যদি নারীদের এগিয়ে রাখা হয় তাহলে তারা দেশের জন্য উন্নত করবে। বিশেষ করে মনে করেন আপনার স্ত্রীর একটি অপারেশন করার প্রয়োজন সে ক্ষেত্রে ইসলামের দৃষ্টিকোণে পুরুষ যদি অপারেশন করা হয় সে ক্ষেত্রে অসুবিধা পর্দার খেলাপ হতে পারে।

তাই সে ক্ষেত্রে যদি একজন নারী চিকিৎসক হয় তাহলে খুবই ভালো হবে। অপারেশনটা ভালোভাবে করা যাবে এবং পর্দার ক্ষেত্রেও কোনো অসুবিধা হবে না। তাই অবশ্যই নারীদের কেউ চিকিৎসক ইঞ্জিনিয়ার ব্যারিস্টার আইন শৃঙ্খলা সকল কিছুর দিকে এগিয়ে রাখা আমাদের জরুরী। তাই অবশ্যই নারীদেরকে শিক্ষিত করা অত্যন্ত জরুরী।

লেখক, মোঃ মাহমুদুল ইসলাম। বি,এ অনার্সঃ ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

এম আর মাহমুদ ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url
Md. Mahmudul Islam
Md. Mahmudul Islam
আমি ডিজিটাল মার্কেটিং এক্সপার্ট ও সরকারি চাকরি করি। আমি অনলাইনে বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করে ইনকাম করি, এছাড়াও ব্লগিং, SEO ও টেকনোলজি বিষয় নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করি। এই কাজের উপর আমার ৩ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে।