রক্তে পটাশিয়াম বেড়ে গেলে কি হয়? জেনে নিন এর সঠিক চিকিৎসা
অনেকের রক্তের পটাশিয়াম বেড়ে যায় কিন্তু রক্তে পটাশিয়াম বেড়ে গেলে কি হয়? এ সম্পর্কে হয়তো বিস্তারিত জানা নেই, তাই আপনাকে সঠিক তথ্য জানতে হবে। চলুন, রক্তের পটাশিয়াম বেড়ে যাওয়ার কারণে কি হতে পারে সে সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে জেনে নেওয়া যাক।
অনেকের রক্তের পটাশিয়াম বৃদ্ধি পায় কিন্তু তারা বুঝতে পারে না, আসলে যাদের কিডনির সমস্যা উচ্চ রক্তচাপ ইত্যাদি ধরনের রোগ রয়েছে। তাদের সাধারণত পটাশিয়াম বৃদ্ধি পায়। তাই রক্তে পটাশিয়াম বেড়ে গেলে কি হয়? সম্পর্কে জানতে আর্টিকেলটি মনোযোগ দিয়ে পড়ুন।
আমাদের শরীরে বিভিন্ন ধরনের ভিটামিনের প্রয়োজন হয় আবার পটাশিয়াম এর প্রয়োজন আছে। কিন্তু প্রয়োজনের চেয়ে বেশি যদি হয়ে থাকে সে ক্ষেত্রে শরীরে বিভিন্ন ধরনের ক্ষতি হতে পারে। কেননা পটাশিয়াম যদি বৃদ্ধি পায় তাহলে শরীরে হঠাৎ করে দেখা যায় শ্বাসকষ্ট শুরু হতে পারে, কাজ করার পর দেখা যায় শরীরের ভিতরে হাপিয়ে ওঠে এবং বুক ধরফর করতে থাকে। আমাদের শরীরকে সুস্থ রাখার জন্য খনিজ পদার্থ মিনারেলস ভিটামিন, পটাশিয়াম মিনারেলস প্রয়োজন। যা আমাদের শরীর ভালো রাখবে তবে অতিরিক্ত বৃদ্ধি পাওয়া যাবে না।
এটা শরীরে স্নায়ুতন্ত্র এবং বিভিন্ন ধরনের গঠনমূলক কাজ করে থাকে। তাই আপনার শরীরে যদি বৃদ্ধি পায় সে ক্ষেত্রে যে ক্ষতিগুলো হতে পারে; প্রথম সমস্যা হলো আপনার পেশীতে ব্যথা করবে, এছাড়াও পেশী গুলো দুর্বল হয়ে যাবে, হাত পা দুর্বল হয়ে যাবে। এছাড়াও হাত অবশ লাগবে এবং হাতে শক্তি পাবেন না। আপনার মনে হবে যে শরীরে কোন ইলেকট্রিক্যাল শক লেগেছে, এছাড়াও আপনার হাতে ব্যথা করবে। যেহেতু আমাদের পেশীগুলো সাধারণত বিভিন্ন স্নায়ুতন্ত্রের সাথে সংযোগ থাকে, তাই বিভিন্ন স্নায়ুতন্ত্র গুলো সমস্যা দেখা দিবে।
মূলত পটাশিয়াম বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে সর্বপ্রথম আঘাত হানে পেশীগুলোতে আর বেশিগুলোতে যখন আঘাত হয়। সে ক্ষেত্রে স্নায়ুতন্ত্র সমস্যা হয় এবং হাত-পা অবশ বা প্যারালাইজড হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। যাদের এই পটাশিয়াম বৃদ্ধি পায় তাদের শরীরের সাধারণত এমন একটা ভাব আছে ঘা ছাড়া ভাব চলে আসে এবং সার্বক্ষণিক বমি বমি ভাব শুরু হয়, বমি হতে পারে, খাবার খেলে বমি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। এই ধরনের সমস্যাগুলো দেখা যায়, তাছাড়া পটাশিয়াম শরীরে যখন বৃদ্ধি পায় সে ক্ষেত্রে শরীরে হার্টবিট বৃদ্ধি পেতে পারে বা হার্ট এর সমস্যা দেখা দিতে পারে।
আপনার শরীরে যদি পটাশিয়াম বৃদ্ধি পায় সে ক্ষেত্রে দেখা যাবে অত্যন্ত ঘুম হলেও শরীর দুর্বল লাগবে। সার্বক্ষণ শরীর শুধু ঢুলতে থাকবে। তবে যে সকল কারণে সাধারণত বেড়ে যায় তার মধ্যে যেমন যাদের কিডনি বিকল হয়ে যায়, তাদের ক্ষেত্রে কিডনিতে পটাশিয়াম জমে থাকে। তাই এক্ষেত্রেও অসুবিধা সৃষ্টি হতে পারে, তাছাড়া আপনার যদি শরীরে অতিরিক্ত পটাশিয়াম বৃদ্ধি পায়, সে ক্ষেত্রে শরীরে হরমোন উৎপাদনের ক্ষেত্রে অসুবিধা দেখা দিবে। এছাড়াও আপনার শরীরে যদি পটাশিয়াম বৃদ্ধি পায় সে ক্ষেত্রে রক্তের যে টিস্যুগুলো রয়েছে সেগুলো ব্যাঘাত করতে পারে।
এছাড়াও আপনার শরীরে যদি কিডনির সমস্যা থাকে সেক্ষেত্রে কিডনি রোগের ঔষধ খেলে বৃদ্ধি পেতে পারে। এ ছাড়াও আপনার শরীরে উচ্চ রক্তচাপ থাকে সেই ধরনের ওষুধ খেলেও পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হিসেবে পটাশিয়াম বৃদ্ধি পায়। পটাশিয়াম বেড়ে যাওয়ার কারণে শরীরে অনেকের লক্ষণ বোঝা যায় আবার অনেকের লক্ষণ আস্তে আস্তে বৃদ্ধি পেতে থাকে। পরবর্তীতে দ্রুত গতিতে বৃদ্ধি পায়, যে লক্ষণ গুলো দেখা যায় সেটা আমাদের জানা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মূলত পেশীতে আঘাত লাগে এবং পেশি ব্যথা করে, বুকে ব্যথা, বমি বমি ভাব, ডায়রিয়া শ্বাসকষ্ট, হৃদপিণ্ড সমস্যা এবং হার্টবিট বৃদ্ধি পায়।
তাই আপনার শরীরে যদি এই ধরনের সমস্যাগুলো দেখা যায়, অবশ্যই একজন চিকিৎসকের নিকট যাবেন এবং পরবর্তীতে সেটা পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে চিকিৎসা নিবেন। আপনার শরীরে পটাশিয়াম বৃদ্ধি পেয়েছে কিনা সেটা পরীক্ষা করার জন্য রক্ত নেবে রক্তের মাধ্যমে আপনার শরীর পরীক্ষা নিরীক্ষা করবে। সাধারণত ৩.৫ থেকে ৫.৫ পর্যন্ত স্বাভাবিক পর্যায়ে থাকে। এছাড়া অনেক সময় ইসিজি করার মাধ্যমে হার্টবিট কেমন রয়েছে সেটা দেখার জন্য পরীক্ষা করা হয়। উপরুক্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পরে অবশ্যই চিকিৎসক যেভাবে ওষুধ লিখে দেবে সেটা খাবেন।
এছাড়াও খাবারের ক্ষেত্রে নিয়ম তান্ত্রিকভাবে খেতে হবে, উচ্চ পটাশিয়াম জাতীয় জাতীয় খাবার গুলো খাওয়া যাবেনা। তাছাড়া ও চিকিৎসকের মাধ্যমে সাপ্লিমেন্ট হিসেবে পটাশিয়াম এর ওষুধ খাওয়া যেতে পারে। নিয়ন্ত্রণ করার জন্য ওষুধ খাওয়া যেতে পারে, এছাড়া আপনার পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি খেতে হবে। তাছাড়াও পটাশিয়ামকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য পালং শাক, কলা জাতীয় খাবার গুলো খেতে হবে এবং ডাক্তারের তত্ত্বাবধানে থাকতে হবে। নিয়মিতভাবে ওষুধ খেতে হবে, এছাড়াও আপনার এটা প্রতিরোধ করার জন্য ব্যবস্থা নিতে হবে। তাছাড়া যদি জটিল আকার ধারণ করে অবশ্যই একজন চিকিৎসকের নিকট যাবেন।
আজকের পোষ্টের লেখক, মোঃ মাহমুদুল ইসলাম, স্বাস্থ্যকর্মী, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, উল্লাপাড়া, সিরাজগঞ্জ।

এম আর মাহমুদ ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url