জন্ডিস বা রক্তে বিলিরুবিন বেড়ে গেলে কি হয়? জেনে নিন এর সঠিক চিকিৎসা

অনেকে জানতে চায় যে রক্তে বিলিরুবিন বেড়ে গেলে কি হয়? আসলে রক্তের বিলিরুবিন বেড়ে যায় কি কারনে সেটা জানতে হবে এবং রক্ত বিলিরুবিন বেড়ে গেলে কি রোগ হতে পারে। চলুন, এ বিষয়ে বিস্তারিতভাবে জেনে নেওয়া যাক।
ছবি
অনেকের দেখা যায় রক্তের বিলিরুবিন বেড়ে যায় এবং তখন হয়তো বুঝতে পারে না, কি করতে হবে। মূলত এই রক্তের বিলিরুবিন বেড়ে যাওয়ার কারণে মানুষের জন্ডিস হয়ে থাকে। তাই রক্তে বিলিরুবিন বেড়ে গেলে কি হয়? সম্পর্কে বিস্তারিত জানার জন্য পোস্টটি পড়তে থাকুন।

রক্তের বিলিরুবিন বেড়ে যাওয়ার বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে তার মধ্যে অন্যতম হলো লোহিত রক্তকণিকা যখন অধিক পরিমাণ ভাঙতে থাকে, অনেকের লিভারে প্রচন্ড পরিমাণে প্রদাহ হয়ে থাকে। এ কারণে দেখা যাচ্ছে রক্তের বিলিরুবিন বেড়ে যেতে পারে। পিত্তথলিতে রক্তনালী চলাচলা করার ক্ষেত্রেও এ ধরনের সমস্যা হতে পারে। অনেক মানুষ জন্ডিসের সমস্যা নিয়ে ডাক্তারের কাছে আসে, তাছাড়াও বিভিন্ন ধরনের সমস্যা থাকে। রক্তের বিলিরুবিন বেড়ে যাওয়ার কারণে যে সমস্যা হয় সাধারণত জন্ডিসের সমস্যা হয়। মানুষজন জন্ডিস বলেই এটা বিবেচনা করে থাকে।

অনেকে রক্তের বিলিরুবিন বেড়ে গেছে তারা মনে করে জন্ডিস হয়েছে, জন্ডিসের চিকিৎসা করতে হবে। এজন্য দেখা যাচ্ছে গ্রাম অঞ্চলের অনেক মানুষ এর শরীর হলুদ হয়ে যায়, প্রসব হলুদ হয়ে যায়, জন্ডিশ মনে করে বিভিন্ন কবিরাজ এর কাছে জন্ডিস নামাতে যায় কিন্তু এটা ঠিক নয়। এই জন্ডিস হওয়ার কারণই হলো রক্তে বিলিরুবিন বেড়ে যায়। এজন্য আপনার রক্তের বিলিরুবিন কমানোর জন্য অবশ্যই একজন চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। সে অনুযায়ী চিকিৎসা নিলে আপনার জন্ডিস সেরে যাবে। মূলত এটা লিভারের বিভিন্ন ধরনের সমস্যা হয়ে থাকে, সেটা হতে পারে লিভার সিরোসিস ইত্যাদি।

তাই অবশ্যই একজন চিকিৎসক দেখানো খুবই জরুরী, লিভার বিশেষজ্ঞ একজন চিকিৎসকের কাছে আপনার পরামর্শ নিতে হবে। যদি আপনি এ ধরনের বুঝতে পারেন এ ধরনের উপসাগর গুলো যদি বোঝা যায় সে ক্ষেত্রে অবশ্যই দ্রুত চিকিৎসার পরামর্শ নিয়ে নিবেন, কখনোই অবহেলা করবে না এবং কোন কবিরাজ এর কাছে বিষ নামাতে যাবেন না। আবার একদম নবজাতকের জন্ডিসের সমস্যা হতে পারে। চিন্তার কোন কারণ নেই, মধ্যে একাই আবার সেরে যাবে। যদি বাবা-মায়ের হেপাটাইটিস বি বা লিভারের বিভিন্ন ধরনের সমস্যা থাকে সে ক্ষেত্রে সন্তানেরও হতে পারে।

রক্তের বিলিরুবিন বেড়ে যাওয়ার কারণে যে জন্ডিসের সমস্যা দেখা যায়, সেটা সাধারণত লক্ষণগুলো প্রসব হলুদ হতে পারে, চোখে হলুদ হতে পারে, অরুচি চলে আসতে পারেন অনেকের এই ধরনের সমস্যা নাও হতে পারে দেখা যায়। এতে দেখা যায় পেট ব্যথা, জ্বর রুচি কমে যাওয়া, ওজন কমে যাওয়া ইত্যাদি সমস্যা গুলো দেখা দেয়। অনেকেরই ধরনের কারণ হয়ে থাকে সাধারণত দেখা যায় অনেক পরিশ্রম করে ভারী কাজকর্ম করে কিন্তু খাবার দাবার প্রতি উদাসীন থাকে কম খাবার খায় বেশি এবং প্রসেসিং খাবার বেশি খায়। যার কারণে লিভারের বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে।
তবে আপনার এই রক্তের বিলিরুবিন যদি দীর্ঘদিন যাবৎ বৃদ্ধি পেতে থাকে, যদি কোন চিকিৎসা না নেওয়া হয়। খাবারের প্রতি উদাসীন হয়ে যান বা নিয়ন্ত্রণ করতে না পারেন। তাহলে একসময় মস্তিষ্ক এটা গিয়ে প্রভাব পড়বে এমনকি মস্তিষ্কের ক্যানসার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একজন শিশু জন্মের পর যদি তার প্রসব কালে দেখা যায় চেহারায় হলুদের দীর্ঘদিন যাবত থাকে, সেক্ষেত্রে অবশ্যই কিন্তু চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যেতে হবে। যদি উপযুক্ত সময়ে তাহলে কিন্তু শিশুটা মারাও যেতে পারে অনেকে বলে থাকে জন্ডিস একটি রোগ আসলে জন্ডিস কোন রোগ নয়।

এটা রক্তের বিলিরুবিন বেড়ে যায় এই যে সমস্যাগুলো দেখা যায় আমরা হয়তো এটাকে জন্ডিস বলে থাকি। তবে রক্তের বিলিরুবিন বেড়ে গেলে বা জন্ডিসের সমস্যা দেখা দিতে পারে। একজন রোগীর যখন বিলিরুবিন বেড়ে যায় অর্থাৎ গ্রামের ভাষায় যেটা জন্ডিস বলা হয় যখন দেখা দেয় চোখমুখ হলুদ হয়ে যায়। এছাড়াও প্রসব হলুদ হয়ে যায় সে ক্ষেত্রে সাত দিন থেকে ২৮ দিনের মধ্যে একা একাই সেরে যায়।আবার এই বিলিরুবিনের মাত্রা কমে যায় এবং স্বাভাবিক অবস্থায় সেরে যেতে পারে কিন্তু যদি না সাড়ে তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

তখন অবশ্যই আপনাকে বিশ্রাম নিতে হবে এখন আপনার গ্রামের ভাষায় যেটাকে বলা হয় জন্ডিস একমাত্র চিকিৎসায় হল তাকে বিশ্রাম নিতে হবে মাত্রা এবং সুস্থ হতে থাকবে। এই সময়ে আপনি অবশ্যই ব্যথা জাতীয় ঘুমের ঔষধ ওষুধগুলো খাওয়া থেকে বিরত থাকবেন। তবে আপনার যদি কোন ওষুধ খাওয়ার প্রয়োজন হয় সে ক্ষেত্রে অবশ্যই একজন চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে খাবেন। এই সময়ের তরল জাতীয় খাবার গুলো বেশি বেশি খেতে হবে। বিশেষ করে ডাবের পানি যদি শরীর থেকে যে খারাপ টক্সিন গুলো রয়েছে সেগুলো বের করে দিলে আপনার রক্তের বিলিরুবিনের মাত্রা কমে যাবে।

তাছাড়া আপনি যদি গ্রিন ট্রি অথবা কফি দিনে নিয়মিতভাবে কিছু আপনার রক্তের বিলিরুবিন কমতে সাহায্য করবে। গ্রাম অঞ্চলের অনেক মানুষই বলে যখন জন্ডিস হবে তখন আখের রস খেতে হবে আসলে সরল জাতীয় খাবার গুলো খাওয়াই সবচাইতে বেশি জরুরী। সে ক্ষেত্রে আখের রস খাওয়া যেতে পারে অথবা আখের গুড় দিয়ে শরবত বানিয়ে খাওয়া যেতে পারে। এক্ষেত্রে রক্তের বিলিরুবিন মাত্রা কমে আসবে, ত্রিফলা নামের ত্রিফলা চূর্ণ আপনি সারারাত ভিজে রেখে যদি এটা নিয়মিতভাবে খেতে পারেন সে ক্ষেত্রেও আপনার কমে যাবে এবং আস্তে আস্তে নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে।

এছাড়াও বেশি বেশি করে মালটা অথবা কমলা জাতীয় পাওয়া যেতে পারে। এক্ষেত্রে আপনার এর মাত্রা কমবে।আশা করি বুঝতে পেরেছেন যে জন্ডিস এবং বিলুরুবিন কি জিনিস সেটা অনেকে না নিয়ন্ত্রণে চলে আসব তাই এ সকল কুসংস্কার থাকবেন নমস্কার মূলক কাজ থেকে বিরত থাকবেন।

লেখক, মোঃ মাহমুদুল ইসলাম, স্বাস্থ্যকর্মী, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, উল্লাপাড়া সিরাজগঞ্জ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

এম আর মাহমুদ ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url
Md. Mahmudul Islam
Md. Mahmudul Islam
আমি ডিজিটাল মার্কেটিং এক্সপার্ট ও সরকারি চাকরি করি। আমি অনলাইনে বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করে ইনকাম করি, এছাড়াও ব্লগিং, SEO ও টেকনোলজি বিষয় নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করি। এই কাজের উপর আমার ৩ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে।