গর্ভাবস্থায় ঠান্ডা পানি খাওয়া যাবে কি? জেনে নিন সঠিক পদ্ধতি
গর্ভাবস্থায় অনেকের বিভিন্ন কিছু খাওয়া নিষেধ থাকে, তাই গর্ভাবস্থায় ঠান্ডা পানি খাওয়া যাবে কি? এ সম্পর্কে যদি আপনার সঠিক ধারণা না থাকে, তাহলে শরীরের ক্ষতি হবে। চলুন, গর্ভবতী মায়েদের ঠান্ডা পানি খাওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যা হবে কিনা বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।
গর্ভবতী মায়েরা যখন শরীরে প্রচন্ড পরিমাণ গরম লাগে, সেই ক্ষেত্রে পানির তৃষ্ণা পায়। এজন্য দেখা যায় অনেকেই ঠাণ্ডা পানি খেয়ে থাকে। তবে অতিরিক্ত খাওয়া যাবে না, তাই গর্ভাবস্থায় ঠান্ডা পানি খাওয়া যাবে কি? এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানার জন্য আর্টিকেলটি মনোযোগ দিয়ে পড়তে থাকুন।
গ্রীষ্মকালে সাধারণত গর্ভবতী মায়েদের অনেক কষ্ট হয়ে থাকে, বিশেষ করে তাদের প্রচুর পরিমাণে হয় পানির তৃষ্ণা হয়। যার কারণে অনেক ঠান্ডা পানি খেয়ে থাকে সে ক্ষেত্রে ফ্রিজের ঠান্ডা পানি খেলে ক্ষতি হবে কিনা এটা অনেকে জানতে চায় তাছাড়া অনেক গর্ভবতী মহিলা তারা এই ফ্রিজের ঠান্ডা পানি খেয়ে থাকে। এতে গর্ভস্থ শিশুর বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে। তাই কি ধরনের ক্ষতি হতে পারে এবং কতটুকু ঠান্ডা পানি খাওয়া যাবে এ সম্পর্কে সঠিক ধারণা নিতে হবে। তাছাড়াও একজন গর্ভবতী মাকে ঠান্ডা পানি খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে, যেন গর্ভস্থ শিশুর ঠান্ডা না লাগে। এতে পরবর্তীতে নিউমোনিয়া হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
যদি আপনি ফ্রিজের ঠান্ডা পানি না খেয়ে শুধু মাত্র ঠান্ডা পানি খান, সে ক্ষেত্রে সরাসরি তেমন একটা ক্ষতি হবে না। তবে আপনার শরীরের তাপমাত্রা অনুযায়ী পানি খেতে হবে। কেননা আপনার প্রচন্ড পরিমাণ শরীর থেকে ঘাম ঝরতে থাকে এবং প্রচুর পরিমাণে ঘেমে গেলে বা পরিশ্রম করলে সাথে সাথে যদি ঠান্ডা পানি খাওয়া হয়, সে ক্ষেত্রে শিশুর ঠান্ডা লাগবে। তাই ঠান্ডা পানি খাওয়া যাবে কিন্তু ফ্রিজের ঠান্ডা পানি খেলে ক্ষতি হতে পারে। যদিও গর্ভবতী মায়েদের সময় শরীরে প্রচুর তাপমাত্রা থাকে, যার কারণে শরীরে প্রচুর পরিমাণে ঘাম হয়, ক্লান্তি লাগে এজন্য অনেকেই ঠান্ডা পানি খেয়ে থাকে।
গর্ভবতী মহিলারা সাধারণত ঠান্ডা পানি খাওয়ার জন্য ফ্রিজের পানি ছাড়া যদি ঠান্ডা পানি খেয়ে থাকে, সেক্ষেত্রে তাৎক্ষণিকভাবে অনেকটাই স্বস্তি পাবে। এছাড়াও ড্রিহাইডেশন সমস্যা দূর হবে, মাথা ঘোরা, ক্লান্তি লাগা এই ধরনের সমস্যা অনেকটাই দূর হয়ে যাবে। এজন্য আপনার শরীরের চাহিদা অনুযায়ী পানি খেতে পারেন। ঠান্ডা পানি খেলে ক্ষতি হবে না, অনেকে অত্যন্ত গরম লাগার কারণে গর্ভবতী মহিলারা সাধারণত বরফ দিয়ে পানি খেয়ে থাকে। যার কারণে শরীরে অনেক ক্ষতি হতে পারে যেমন হঠাৎ করে ঠান্ডা লাগবে, গলা ব্যথা হবে, নাক দিয়ে পানি আসতে পারে তাই এই ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
যে সকল গর্ভবতী মায়েদের হজমের সমস্যা হয় তারা ঠান্ডা পানি খাওয়ার সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। এতে করে গ্যাস্ট্রিক, এসিডিটি এবং পেটের বিভিন্ন ধরনের সমস্যা হতে পারে। তবে যদি কোন গর্ভবতী মহিলা এই ধরনের সমস্যা না হয়, তাহলে প্রাকৃতিগত ঠান্ডা পানি খাওয়া যাবে। তবে ফ্রিজের ঠান্ডা পানি খাওয়া যাবে না। এই ক্ষেত্রে ঠান্ডা হয়ে যাবে তখন এছাড়াও বিশুদ্ধ এবং নিরাপত্তা পানি পান করতে হবে। এক্ষেত্রে অনেক সময় দূষিত পানি খেলে শরীরে ক্ষতি হতে পারে এবং গর্ভস্থ শিশুর ক্ষতি হবে। এজন্য পানি ফুটিয়ে খাওয়ার চেষ্টা করবেন অথবা ফিল্টারিং করতে পারেন। এক্ষেত্রে আপনার নিশ্চিত হওয়া লাগবে যে পানিটা নিরাপদ আছে কিনা।
একজন গর্ভবতী মহিলা দিনে কতটুকু পানি পান করবে, সেটা তার জানা প্রয়োজন এবং শরীরের জন্য কতটুকু দরকার গর্ভস্থ শিশুর ক্ষতি হবে না এ বিষয়গুলো অনেকেই জানেনা। একজন স্বাভাবিক মানুষের ক্ষেত্রে ৮ থেকে ১০ গ্লাস পানি পান করা যাবে। তবে এর বেশি খেলে অনেক সময় ক্ষতি হতে পারে। আবার এর চেয়ে কম খেলেও শরীরের ডিহাইড্রেশনের সমস্যা হবে। তবে পানি খাওয়ার নিয়ম হলো অল্প অল্প করে ঘন ঘন খাওয়া যেতে পারে। একসাথে বেশি করে পানি খেলে পেটে সমস্যা হতে পারে, আপনার শরীরের প্রসাব যদি গাঢ় হয়ে যায় সে ক্ষেত্রে পানির চাহিদা বৃদ্ধি করতে হবে।
অনেক সময় গরমে সুস্থ থাকার জন্য আপনাকে তরল জাতীয় খাবার গুলো খেতে হবে, বিশেষ করে ডাবের পানি লেবুর শরবত তাছাড়া বিভিন্ন ধরনের ফলের রস খাওয়া যেতে পারে। এতে করে আপনার শরীরে ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণ থাকবে, চেষ্টা করবেন সুতি কাপড় পড়ার জন্য এবং ঢিলেঢালা হালকা রঙের সাদা রঙের পোশাক করার চেষ্টা করুন। তাহলে গরম কম লাগবে তাছাড়াও প্রচন্ড রোদে বাহিরে নিয়ে যাবেন না। এই ক্ষেত্রে ছাতা নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করবেন অথবা মাথায় ওড়না দিবেন যদি আপনার অত্যন্ত গরমে শরীরে খারাপ লাগে তাহলে বিশ্রাম নিতে হবে।
গর্ভবতী মায়েদের সাধারণত নিজের শরীরের প্রতি যত্ন নিতে হবে, বিশেষ করে শরীরের তাপমাত্রা কেমন রয়েছে সে অনুযায়ী পানি পান করতে হবে। এজন্য ঠান্ডা পানি খাওয়া যেতে পারে তবে প্রাকৃতিকগত ঠান্ডা পানি খেতে হবে। এক্ষেত্রে সচেতন থাকতে হবে এরপরে যদি আপনি সুস্থতা মনে করেন তাহলে নিয়মিতভাবে অল্প পরিমাণ ভাবে পানি খেতে পারেন। তাহলে আপনার গর্ভস্থ শিশু ভালো থাকবে এবং সুস্থ থাকবে। কেননা মায়ের শরীরের খাদ্যনালীর সাথে গর্ভস্থ শিশুর যোগাযোগ থাকে এক্ষেত্রে মায়ের শরীর থেকে বাচ্চা পানি অক্সিজেন পুষ্টি এগুলো পেয়ে থাকে, যার কারণে শিশুকে আস্তে আস্তে বৃদ্ধি পেতে থাকে।
গর্ভবতী নারীরা যে সকল খাবার খেয়ে থাকে সেই ক্ষেত্রে তার খাদ্য লালির মাধ্যমে পাকস্থলীতে চলে যায়, সেজন্য বিভিন্ন ধরনের পুষ্টিকর খাবার দিতে হবে। বিশেষ করে ফলিক এসিড, কার্বোহাইড্রেট, অ্যামাইনো এসিড, মিনারেল এবং ভিটামিন ইত্যাদির প্রয়োজন হয়। এ পুষ্টিগুলো যখন একজন মা গ্রহণ করে থাকে, সেক্ষেত্রে তার রক্তের মাধ্যমে গর্ভস্থ শিশুর শারীরিক গঠন বৃদ্ধি করে। এতে করে গর্ভবতী মায়ের লিভার এবং কিডনি ভালো থাকে তাই একজন মা যদি ঠান্ডা পানি খেয়ে থাকে তবে সরাসরি গর্ভস্থ শিশুর তেমন ক্ষতি হবে না। এতে করে তবে একজন গর্ভবতী মায়ের সাধারণত স্বাভাবিক তাপমাত্রা থাকতে হবে ৯৮.৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট।
যখন একজন গর্ভবতী মা ঠান্ডা পানি খেয়ে থাকে সে ক্ষেত্রে তার পাকস্থলীতে জমা হয় এবং একজন গর্ভবতী মায়ের তাপমাত্রা স্বাভাবিকভাবে চলে আসে। তখন গর্ভস্থ শিশু ভালো থাকে এই ক্ষেত্রে বাচ্চা অনেকটাই নড়াচড়া করে। এই ক্ষেত্রে গবেষণায় দেখা গেছে যে ঠান্ডা পানি খাওয়ার সাথে সাথেই বাচ্চাটা নড়াচড়া করবে। এই ব্যাপারে বৈজ্ঞানিক তথ্য পাওয়া যায়নি, তবে মা যদি মিষ্টি জাতীয় কিছু খাবার খায় সে ক্ষেত্রে বাচ্চা নড়াচড়া করতে পারে। এজন্য গর্ভবতী মা যদি ঠান্ডা পানি অতিরিক্ত পরিমাণ খায় সে ক্ষেত্রে বাচ্চার ক্ষতি হতে পারে। যদি মায়ের ঠান্ডা লেগে যায়, সর্দি কাশি হয়ে থাকে সে ক্ষেত্রে কিন্তু তার শরীরের শারীরিক সমস্যা হবে এতে করে গর্ভস্থ শিশুর উপরও প্রভাব পড়বে।
এই পোস্টটির লেখক, মোঃ মাহমুদুল ইসলাম, স্বাস্থ্যকর্মী, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, উল্লাপাড়া, সিরাজগঞ্জ।

এম আর মাহমুদ ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url