ছোট বাচ্চাদের কৃমির ঔষধ খাওয়ানোর নিয়ম জেনে সঠিক চিকিৎসা নিন

ছোট বাচ্চাদের কৃমির সমস্যা সমাধানের জন্য কৃমির ওষুধ খাওয়ানো প্রয়োজন। তাই ছোট বাচ্চাদের কৃমির ঔষধ খাওয়ানোর নিয়ম সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানতে হবে। চলুন, কিভাবে ছোট বাচ্চাদের কৃমির ওষুধ খাওয়াবেন সে সম্পর্কে বিস্তারিত ভাবে জেনে নেওয়া যাক।
ছবি
ছোট বাচ্চারা সাধারণত মাটিতে খেলাধুলা করে এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা খুবই কম থাকে। এক্ষেত্রে দেখা যায় যে তাদের কৃমি হতে পারে, এদেরকে ওষুধ খাওয়াতে হবে। তাই ছোট বাচ্চাদের কৃমির ঔষধ খাওয়ানোর নিয়ম সম্পর্কে জানার জন্য আর্টিকেলটি মনোযোগ দিয়ে পড়ুন।

শিশুদেরকে কৃমি মুক্ত করতে হলে অবশ্যই নিয়মিতভাবে কৃমির ডোজ সম্পন্ন করতে হবে এবং কার্যকারী চিকিৎসা নিতে হবে। এই ওষুধ খাওয়ার নিয়ম হলো প্রতি দুই থেকে চার মাস পর পর খাওয়ানো উচিত। তবে সবচাইতে ভালো হয় যদি আপনি চিকিৎসকের মাধ্যমে কৃমি সংক্রমণ পরীক্ষা করা, শিশুর মল পরীক্ষা করে নিশ্চিত হওয়া যায় যে কৃমির সংক্রমণ আছে কিনা। তাহলে আপনি একটি কার্যকারী চিকিৎসা নিতে পারবেন। ২ বছরের বেশি শিশুদের যদি কৃমি সংক্রমণ দেখা দেয় সে ক্ষেত্রে ২ চামচ অ্যালবেন্ডাজল সিরাপ খাওয়াতে হবে। তাছাড়াও ১ থেকে ২ বছরের যে সকল শিশু রয়েছে তাদের ১ চামচ পরিমাণ এই সিরাপ খাওয়াতে হবে।

তাছাড়াও অনেকের ১ বছরের বেশি বয়সের অনেক শিশু রয়েছে সংক্রমণ দেখা যায় সে ক্ষেত্রে যদি বাচ্চার ওজন ঠিক থাকে সেক্ষেত্রে আপনি কৃমির ডোজ করাতে পারেন। তাছাড়া মেবেনডাজল নামের সিরাপ পাওয়া যায় সেটা শিশুকে দিতে পারেন। ২ বছরের বেশি শিশুদেরকে ১ চামচ দিনে দুইবার খাওয়ানো যাবে তিনদিন পর্যন্ত এটা দেওয়া যাবে। তাছাড়াও বাজারে লিভোমিসন নামের ঔষধ পাওয়া যায় যেটা শিশুর ওজন অনুযায়ী খাওয়ানো যেতে পারে। ২ বছরের পরে সাধারণত বাচ্চাদের কৃমির সংক্রমণ বেশি দেখা যায় তবে দুই থেকে তিন বছরের বাচ্চাদেরকে সাধারণত একই নিয়মে খাওয়াবেন।

তবে চেষ্টা করবেন বাড়ির সবাই একসাথে কৃমির ওষুধ খাওয়া এক্ষেত্রে কৃমি সহজে মুক্ত হবে। তবে সুস্থ মানুষ অথবা শিশুরা যদি চার বা পাঁচ মাস পর কৃমির ওষুধ না খায় তাহলে শরীরের ক্ষতি হবে। আর যদি কৃমি ওষুধ নিয়মিত ভাবে খায় তাহলে শরীরের ক্ষতি হবে না। বর্তমানে দুই বছরের কম বয়সী শিশুদেরকেও কৃমির ওষুধ খাওয়ানো লাগতে পারে। যদি তার কৃমির সংক্রমণ দেখা যায় তবে এক্ষেত্রে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ করে খাওয়াতে হবে তা না হলে শিশুর ক্ষতি হবে। এক্ষেত্রে দেখা যায় চিকিৎসকরা মেবেনডাজল কৃমির ঔষধ দিয়ে থাকে তাহলে খেতে পারবেন।

এই ওষুধটি সাধারণত দুই সপ্তাহ পরে আবার খাওয়ানো যেতে পারে, শিশুদের জন্য সবচাইতে মেবেনডাজল ট্যাবলেট ভালো রেজাল্ট। এই ওষুধটি খাওয়ানো প্রয়োজন বিশেষ করে দুই বছরের অধিক যে সকল দিয়ে থাকে এক্ষেত্রে দুই বছরের শিশুদেরকে তবে অনেক শিশুর দেখা যায়। কারো গুড়া কৃমি হয়ে থাকে যা খুবই কষ্টদায় এক্ষেত্রে আপনি ওষুধ পরপর তিন দিন একটানা খেয়ে দেখা যায় গুড়া কৃমি মুক্ত হবে। অনেকেই ধারণা করে থাকে শুধুমাত্র শীতকালে কৃমির ওষুধ খেতে হবে গ্রীষ্মকালে খাওয়া যাবে না এটা একদমই ভুল ধারণা।

কৃমি যখন সংক্রমণ হবে সে ক্ষেত্রে শীতকাল অথবা গরম কাল যেটাই হোক না কেন ওষুধ খাওয়ানো যাবে, এতে কোন ক্ষতি হবে না। তবে বিভিন্ন ধরনের কৃমি রয়েছে যা আপনার শরীরে ক্ষতি করতে পারে এবং বিশেষ করে শিশুদের ক্ষতি করবে বেশি। এক্ষেত্রে শিশুরা খেতে চাইবে না এবং পেটে ব্যথা করবে তাছাড়াও রক্তস্বল্পতা দেখা দিতে পারে, শরীর দুর্বল হবে অপুষ্টিতে ভুগতে থাকবে, শরীর শুকিয়ে যাবে পেট ফাঁপা দিবে তাছাড়া ডায়রিয়া হতে পারে আবার অনেকের এলার্জি চুলকানি, শ্বাসকষ্ট এবং কাশির মত সমস্যাগুলো দেখা দিতে পারে।

যখন অতিরিক্ত কৃমি দেখা যায় সে ক্ষেত্রে আপনি ওষুধ খাওয়ানোর পরেও যদি না কমতে থাকে, তাহলে অবশ্যই একজন চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে চিকিৎসা নিতে হবে। এছাড়াও কৃমি মুক্ত হওয়ার পর অবশ্যই পুষ্টিকর খাদ্য দিতে হবে এবং শরীরে পুষ্টি যোগানোর ব্যবস্থা করতে হবে। শিশুর মানসিক বা শারীরিক বৃদ্ধি পাবে। তাছাড়াও এক বছরের বেশি বয়সে শিশুদেরকে ঔষধ খাওয়ানো যাবে, তবে এর নিচে খাওয়ানো যাবে না। এই ওষুধ ১ থেকে ৫ বছর বয়সে যারা শিশু রয়েছে তারা ছয় মাস পর পর একবার করে খেতে হবে। আর পাঁচ বছরের উপরে যাদের বয়স তারা ছয় মাস পরপর খাওয়ানো যাবে।

ওষুধ খাওয়ানোর নিয়ম হলো খাবারের পরে খাওয়ানো যেতে পারে। এক্ষেত্রে ডাক্তারের নির্দেশনা বাধ্য হবে। তবে অনেক চিকিৎসক সাধারণত খাবারের পূর্বে রাত্রিতে খেতে বলেন। অনেক মানুষ বলে থাকে যে ওষুধ খাওয়ানোর পর মিষ্টি জাতীয় খাবার খাওয়া যাবে না। এসব সংস্কারমূলক কথা এগুলো ভ্রান্ত ধারণা আপনার শিশুকে কৃমি থেকে মুক্ত করার জন্য এবং প্রতিরোধ করার জন্য আপনার যে কাজগুলো করতে হবে। শিশুকে সবসময় হাত ধোয়ার অভ্যাস করাতে হবে। খাবারের পূর্বে হাত ধোয়া এবং টয়লেট থেকে ফিরে আসার পরও সাবান দিয়ে হাত ধোয়া। এছাড়া নখ ছোট ছোট রাখবেন এবং পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা থাকা লাগবে।

এই পোস্টের লেখকঃ মোঃ মাহমুদুল ইসলাম, স্বাস্থ্যকর্মী, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, উল্লাপাড়া, সিরাজগঞ্জ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

এম আর মাহমুদ ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url
Md. Mahmudul Islam
Md. Mahmudul Islam
আমি ডিজিটাল মার্কেটিং এক্সপার্ট ও সরকারি চাকরি করি। আমি অনলাইনে বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করে ইনকাম করি, এছাড়াও ব্লগিং, SEO ও টেকনোলজি বিষয় নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করি। এই কাজের উপর আমার ৩ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে।