৫ ওয়াক্ত নামাজের পর গুরুত্বপূর্ণ আমল করলে যে সওয়াব পাওয়া যায়
অনেকে জানেনা ৫ ওয়াক্ত নামাজের পর গুরুত্বপূর্ণ আমল গুলো সম্পর্কে। আসলে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে অতি দ্রুতই বের হয়ে আসা ঠিক নয়, কিছু আমল রয়েছে সেগুলো পালন করবেন। চলুন, সে সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।
যারা নিয়মিতভাবে নামাজ পড়েন তারা ফরজ নামাজের পরে দ্রুত চলে আসবেন না, কিছুক্ষণ নামাজের পর কিছু আমল আছে সেগুলো পালন করতে হবে। তাই ৫ ওয়াক্ত নামাজের পর গুরুত্বপূর্ণ আমল সম্পর্কে জানতে আর্টিকেলটি মনোযোগ দিয়ে পড়ুন।
অনেকে ৫ ওয়াক্ত নামাজের পর গুরুত্বপূর্ণ আমল সম্পর্কে জানে না। তাই যদি আপনি এই পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের পরে যে আমল গুলো রয়েছে সেগুলো পালন করেন তাহলে অনেক সওয়াব পাবেন। চলুন, এই বিষয়ে বিস্তারিত ভাবে আলোচনা করা যাক।
আমরা মুসলমান হিসেবে নামাজ পড়ে থাকি এবং আমাদের উপর পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করা হয়েছে, যা পালন করা অত্যাবশাকীয়। যদি আমরা এই পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ নিয়মিত ভাবে না পড়ি তাহলে মহান আল্লাহতালা আমাদেরকে গুনাহ দেবেন। তবে এই পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের পর আরো কিছু বরকতময় আমল আছে, যেগুলো আমাদের হয়তো অনেকের জানা নেই। তবে মহান আল্লাহতালা এই আমলগুলো করলে খুবই খুশি হন। তাই মহান আল্লাহর কাছে আমরা প্রতিদিন পাঁচবার করে সেজদায় পড়ে যায়।
নামাজের পর এই আমলগুলো করলে আমাদের আত্মার শান্তি হয়, অনেকেই হয়তো নামাজ পড়ে দৈনন্দিন কাজের জন্য দ্রুত বের হয়ে আসেন। কিন্তু রাসূল সাঃ তিনি ফরজ নামাজের শেষে কিছু ছোট ছোট আমল করতেন যেগুলো আমাদেরও করা উচিত। এতে করে হৃদয়ের প্রশান্তি হয়, ঈমান পরিশুদ্ধ হয়ে থাকে। এছাড়াও আল্লাহর নিকট লাভ করা যায় এবং আল্লাহ তা'আলা আমাদের উপর বরকত নাযিল করেন। আমরা চেষ্টা করব নামাজ পড়ে দ্রুত বের না হয়ে কিছুক্ষণ মসজিদে অবস্থান করে ছোট ছোট আমলগুলো করবেন।
সাধারণত ফরজ নামাজের পরে আমাদের কিছু ছোটখাটো আমল করতে হয় কেননা রাসূল সাল্লাল্লাহু সাল্লাম প্রত্যেক ফরজ নামাজের পরে তিনি তিনবার আস্তাগফিরুল্লাহ পড়তেন। কেননা এর দ্বারা মহান আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া হয়, তাছাড়া তিনি আরো একটি দোয়া পড়তেন 'আল্লাহুম্মা আনতাস সালাম ওয়া মিনকাস সালাম তাবারাকতা ইয়াজাল জালালী ওয়াল একরাম।' এর অর্থ হলো এই যে হে আল্লাহ তাআলা আপনি শান্তি দিয়ে থাকেন, আপনার পক্ষ থেকে শান্তি আসে, আপনি বরকতময়। এতে মহান আল্লাহতালা খুশি হবেন। এই আমলটি মূলত সহীহ মুসলিম শরীফের ১২১২ নাম্বার হাদিস থেকে বর্ণনা করা হয়েছে।
রাসুল সাঃ বলেছেন যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরজ নামাজের পরে ৩৩ বার সুবাহানাল্লাহ ৩৩ বার আলহামদুলিল্লাহ ৩৩ বার আল্লাহু আকবার নিয়মিতভাবে পড়তে থাকে এবং সর্বশেষ কালেমা শাহাদাত পাঠ করে থাকবে। এই আমলগুলো যদি আপনি করতে পারেন তাহলে মহান আল্লাহতালা আপনার ছোটখাটো গুনাহ গুলো মাফ করে দিবেন। তাছাড়া রাসূল সাঃ আরো বলেছেন, যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরজ নামাজের পরে আয়তুল কুরসি পাঠ করবে মহান আল্লাহ তাআলা তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। শুধুমাত্র মৃত্যু ছাড়া আর তার কোন বাধা থাকবে না। (সুনানে নাসায়ী ৯৯২৮)। তাই এ আমল গুলো আপনি করতে পারেন।
রাসূল সাঃ বলেছেন, ফজর ও মাগরিবের নামাজের পরে ৭ বার আল্লাহুম্মা আজিরনি মিনান্নার হে আল্লাহ তুমি আমাকে জাহান্নাম থেকে রক্ষা করবে করো। (মিশকাতুল মাসাবি ২৩৯৬ নাম্বার হাদিস)। নামাজের পরে আপনি কোরআন তেলাওয়াত করতে পারেন যেটা মহান আল্লাহতালা খুশি হবেন। অধিকাংশ সাহাবীরা তারা ফরজ নামাজের পরে কোরআন তেলাওয়াত করতেন। এছাড়া বিভিন্ন সূরা পাঠ করতেন যেমন সূরা ইয়াসিন, তাছাড়াও জোহরের নামাজের পরে সুরা ফাতেহা পড়তে পারেন। এছাড়াও এশার নামাজের পরে সুরা মুলুক পড়ে শেষ করতে পারেন। তারপরে ঘুমানোর পূর্বে কোরয়ান তেলাওয়াত করতে পারেন।
ফজরের নামাজের পরে যে আমলগুলো করলে আপনার মনকে প্রশান্তি করে তুলবে। সেই আমলগুলো আপনার জীবনের জন্য বরকতময়, জীবনের এই ইবাদতগুলো কাজে লাগবে। তাই মহান আল্লাহতালাকে সন্তুষ্ট করার জন্য পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়বেন এবং পাশাপাশি ছোটখাটো কিছু দোয়া বা তেলাওয়াত করতে পারেন। কোরআন তেলাওয়াত করতে পারেন, এতে মহান আল্লাহতালা আপনার উপর রহমত বর্ষিত করবেন। হযরত উম্মে সালমা রাঃ থেকে বর্ণনা করা হয়েছে।
ফজর নামাজের পরে রাসুল সাঃ সালাম ফিরিয়ে তিনি বলতেন যে, আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা ইলমন নাফেয়া ওয়া রিযকান তাইয়েবা ওয়া আমালান মুতাক্কাব্বালা, হে আল্লাহ আপনার কাছে আমি কিছু জ্ঞান চাচ্ছি এবং রিজিকের ব্যবস্থা করে দাও। এছাড়াও আমার দোয়া তুমি কবুল করে নাও, এই আমলগুলো কবুল করে নিন। (ইবনে মাজাহ, মুস্নাদে আহমাদ)। তুমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করতে পারো এবং যা কিছু চাওয়া রয়েছে, মহান আল্লাহর কাছে বলতে পারবে। এছাড়াও নবী করীম সাঃ ফরজ নামাজের পরে সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক, সূরা নাস এগুলো তেলাওয়াত করতেন এবং পাঠ করছেন।

এম আর মাহমুদ ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url