ডায়াবেটিস রোগী মধু খেতে পারবে কিনা জেনে নিন কতটুকু নিরাপদ

অনেকে জানতে চায় যে ডায়াবেটিস রোগী মধু খেতে পারবে কিনা? এ সম্পর্কে যদি আপনার জানা না থাকে তাহলে ডায়াবেটিস রোগীদের বিশাল বড় ক্ষতি হয়ে যাবে। চলুন, মধু খাওয়ার কারণে ডায়াবেটিসের রোগীদের কি হতে পারে সে সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে জেনে নেওয়া যাক।
ছবি
মধুর মধ্যে বিভিন্ন ধরনের পুষ্টি উপাদান থাকে যা একজন সুস্থ মানুষ যদি নিয়মিতভাবে খেতে পারে সে ক্ষেত্রে তার উপকার হবে। তবে ডায়াবেটিস রোগী খেতে পারবে কিনা সেটা জানা প্রয়োজন। তাই ডায়াবেটিস রোগী মধু খেতে পারবে কিনা? এ সম্পর্কে জানতে আর্টিকেলটি মনোযোগ দিয়ে পড়ুন।

মধু এমন একটি পুষ্টি উপাদান যা মানুষের শরীরে বিভিন্নভাবে উপকার করে থাকে। তবে ডায়াবেটিসের রোগীরা এই মধু খেতে পারবে কিনা সেটা জানা প্রয়োজন। কেননা এর মধ্যে গ্লুকোজ থাকে প্রায় ৮০% তাছাড়া এর মধ্যে এন্টিইনফ্লেমেটরি, এন্টি ব্যাকটেরিয়াল এবং এন্টিঅক্সিডেন্ট থাকে। যা আপনার শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে দিবে। তাছাড়াও মধু হরমোনের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। গবেষণায় দেখা গেছে যে এত কিছু পুষ্টির উপাদান থাকা সত্ত্বেও মধু ডায়াবেটিসের রোগীরা খেতে পারবে না। কেননা এতে শরীরে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দিবে। তাই অনেক ডায়াবেটিসের রোগীরা সাধারণত চিনির পরিবর্তে মধু খেয়ে থাকে।

গবেষণায় দেখা গেছে যে মৌমাছিরা সাধারণত উদ্ভিদ থেকে চিনি যুক্ত যে উপাদানটা সংগ্রহ করে থাকে তা থেকে মধু তৈরি হয়। যা মূলত ডায়াবেটিস রোগীদের সাবধানতার সাথে খেতে হবে। কেননা অতিরিক্ত পরিমাণ যদি মধু খাওয়া হয় সে ক্ষেত্রে গ্লুকোজের মাত্রা বৃদ্ধি পাবে। এতে করে ডায়াবেটিস আক্রান্ত রোগীরা সাধারণত আরো অসুস্থ হয়ে পড়বে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ডায়াবেটিস রোগীদের কখনোই মধু খাওয়া যাবে না। যদি আপনি অতিরিক্ত পরিমাণ মধু খেয়ে ফেলেন, তাহলে ক্ষতি পারে। একজন ডায়াবেটিসের রোগী সাধারণত তারা ইনসুলিন গ্রহণ করে, এতে তার কার্বোহাইড্রেট খাবারের দিকে নজর রাখতে হবে।

ডায়াবেটিস আক্রান্ত টাইপ-২ ডায়াবেটিসের রোগী যারা রয়েছেন তারা সাধারণত কার্বোহাইড্রেট এবং ফাইবার যুক্ত খাবার গুলো দিকে নজর দিতে হবে। তাছাড়া রক্তের শর্করার মাত্রা বৃদ্ধি পাবে। টাইপ-২ রোগীদের ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞের মতামত ছাড়া কোন ওষুধ পরিবর্তন করা যাবে না। এজন্য যারা ডায়াবেটিসের রোগী রয়েছেন, তাদের মধু খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা রয়েছে। কেননা বিশেষজ্ঞরা বলেছে যে ডায়াবেটিস রোগীরা অল্প পরিমাণ মধু খেতে পারবেন। কেননা ডায়াবেটিসের রোগীরা সাধারণত ডায়েট মেনে জীবন যাপন করতে হয়। এক্ষেত্রে যদি মধু বেশি খেয়ে ফেলে তাহলে কিন্তু ডায়াবেটিস লেভেলটা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে।
বর্তমানে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী মধুর পরিবর্তে চিনি মিশিয়ে মধু তৈরি করার চেষ্টা করে। এক্ষেত্রে মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাবে এবং শরীর শক্তিশালী থাকতে পারবে না। তাছাড়া যারা গর্ভবতী রয়েছে এবং দুর্বল প্রকৃত লোক তারাও বাজার থেকে এই ধরনের মধু খাবেন না। যে মধুতে চিনি মেশানো হয়েছে আর যদি সেই চিনি যুক্ত মধু যদি খাওয়া হয় সেক্ষেত্রে ডায়াবেটিসের রোগীদের অসুবিধা বেশি হবে। আর যদি ডায়াবেটিসের রোগী চিনি যুক্ত খাবার খেয়ে ফেলে সেক্ষেত্রে কিন্তু আরো দ্রুত ডায়াবেটিস বৃদ্ধি পাবে। এছাড়াও এই ধরনের মধু আপনি কেনা থেকে বিরত থাকবেন।

আপনি যদি ডায়াবেটিসের রোগী হয়ে থাকেন কখনোই আপনি বেশি মধু খাওয়ার চেষ্টা করবেন না। এক্ষেত্রে আপনার শরীরের ক্ষতি হতে পারে। বিশেষ করে যদি ১ চামচ পরিমাণ মধু খেয়ে থাকেন সেক্ষেত্রে দেড় কাপ ভাত কম খেতে হবে অথবা রুটি কম খেতে হবে। এক কথায় কম ক্যালরি যুক্ত খাবার খেতে হবে। এক্ষেত্রে যদি আপনি সুন্দর মত নিয়ম মেনে চলতে পারেন, তাহলে আপনার রক্তের শর্করা বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা কম থাকবে এবং ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ থাকবে। তাই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করার জন্য আপনি নিয়মতান্ত্রিক ভাবে জীবন যাপন করবেন।

তবে বাংলাদেশের টাইপ-২ ডায়াবেটিস সবচাইতে বেশি রোগী রয়েছে। এর অধিকাংশ রোগীরা মিষ্টি জাতীয় খাবার খাওয়ার কারণেই ডায়াবেটিস বেশি হয়। সেই ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারগণ সাধারণত মিষ্টি জাতীয় খাবার খাবারের নিষেধ করে থাকেন। তবে অনেকেই বিকল্প হিসেবে মধু খাওয়ার চিন্তাভাবনা করে কিন্তু যদি সে ইনসুলিন নিয়ে থাকে তাহলে কার্বোহাইড্রেটের দিকে সতর্কতা রাখতে হবে। কারণ ডায়াবেটিস রোগির কার্বোহাইড্রেট ও ফাইবার যুক্ত খাবারের দিকে খেয়াল রাখা লাগবে। তাহলেই সে সুস্থভাবে জীবন যাপন করতে পারবে।

লেখক, মোঃ মাহমুদুল ইসলাম, স্বাস্থ্যকর্মী, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, উল্লাপাড়া, সিরাজগঞ্জ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

এম আর মাহমুদ ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url
Md. Mahmudul Islam
Md. Mahmudul Islam
আমি ডিজিটাল মার্কেটিং এক্সপার্ট ও সরকারি চাকরি করি। আমি অনলাইনে বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করে ইনকাম করি, এছাড়াও ব্লগিং, SEO ও টেকনোলজি বিষয় নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করি। এই কাজের উপর আমার ৩ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে।