সকালে খালি পেটে কাঁচা রসুন খেলে কি হয়? সঠিক তথ্য জেনে নিন

রসুন আমাদের শরীরে বিভিন্ন ধরনের উপকার করে, তাই সকালে খালি পেটে কাঁচা রসুন খেলে কি হয়? এ সম্পর্কে সঠিক তথ্য না জানা থাকলে আপনার ক্ষতি হতে পারে। চলুন, কিভাবে খেলে আপনার শরীরের উপকার হবে সে সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে জেনে নেওয়া যাক।
ছবি
অনেকে রসুন খেতে পছন্দ করে তাই সকালে খালি পেটে কাঁচা রসুন খেলে কি হয়? এ সম্পর্কে হয়তো সঠিক তথ্য জানেনা। তবে না জানা থাকলে ক্ষতি হতে পারে। চলুন, সকালবেলা খালি পেটে রসুন খাওয়ার কারণে কি হতে পারে সে সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে জেনে নেওয়া যাক।

রসুনের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে পুষ্টি থাকে বিশেষ করে এটা আমাদের শরীরে বিভিন্নভাবে উপকার করে। রসুন আমরা বিভিন্ন ভাবে ব্যবহার করে থাকি বিশেষ করে তরকারিতে ব্যবহার করা যায়। এছাড়াও রসুন দিয়ে বিভিন্ন ধরনের ভর্তা তৈরি করা যায় আবার অনেকে কাঁচা রসুন খেয়ে ফেলে। তাই প্রতিদিনে যদি সকাল বেলা খালি পেটে রসুন খেতে পারেন। তাহলে দেখবেন আপনার বিভিন্ন ধরনের উপকার করবে। রসুনকে সাধারণত প্রাকৃতিক এন্টিবায়োটিক বলা হয়ে থাকে, যা আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে পারে। তবে সবার জন্য খাওয়া ঠিক হবে না, যদি আপনার বড় ধরনের সমস্যা হয়ে থাকে সেক্ষেত্রে সতর্কতা রয়েছে।

যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম অল্প কিছুতেই রোগব্যাধি হয়ে যায়। তারা নিয়মিতভাবে কাঁচা রসুন খেতে পারেন। এর মধ্যে এক ধরনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে দিবে। এছাড়াও বিভিন্ন রোগের বিরুদ্ধে কাজ করবে, তাই নিয়মিতভাবে আপনি পরিমাণ মতো রসুন খেতে পারেন। যাদের রক্তচাপের সমস্যা রয়েছে বা রক্ত প্রবাহে বাধা প্রাপ্ত হয়, সেই ক্ষেত্রে রক্ত চলাচল বৃদ্ধি করতে পারে, উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করবে এবং হার্টের রোগীদের জন্য উপকার করে থাকে। কেননা এটা খারাপ কোলেস্টেরলকে দূর করতে সাহায্য করবে এবং ভালো কোলেস্টেরল বৃদ্ধি করতে পারে।

আমাদের শরীরে প্রতিদিনে বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিকর পদার্থ যুক্ত হয় এই ধরনের ক্ষতিকর পদার্থ গুলোকে দূর করার জন্য রসুন খাওয়া যেতে পারে। কেননা এর মধ্যে সালফার জৈব থাকে যা আপনার শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ গুলো বের করবে এবং শরীরে দীর্ঘস্থায়ী রোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করবে। এছাড়াও যাদের হজমের সমস্যা রয়েছে তারা নিয়মিতভাবে সকাল বেলা খালি পেটে রসুন খেতে পারেন। এতে আপনার গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা দূর হবে, এছাড়াও হজমের ক্ষেত্রে ভালো কাজ করে থাকে। কেননা এর মধ্যে এন্টিমাইক্রোবিয়াল থাকার কারণে শরীরে বিভিন্ন ধরনের পরজীবী ও মাইক্রোবিয়ালকে দূর করতে সাহায্য করবে।
যাদের কোন খাবার খেলে বুক জ্বালাপোড়া করে থাকে এবং গ্যাস্ট্রিক, প্রচুর পরিমাণে এসিডিটি তৈরি হয়। তারা সাধারণত সকালবেলা এক কোয়া করে রসুন খেতে পারেন। কেননা এর মধ্যে সালফার থাকে যা আপনার শরীরে এন্টিফ্লেমেটারি প্রভাব ফেলতে পারে, সে ক্ষেত্রে আপনার বুকের জ্বালাপোড়া বা শরীরে জ্বালাপোড়া অনেক কমে যাবে। তাছাড়া রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে, যাদের শরীরে হাড়ের ক্ষয় রয়েছে তারা এই রসূন খেতে পারেন। কেননা এর মধ্যে ভিটামিন সি, ভিটামিন বি- ৬, ম্যাঙ্গানিজ ইত্যাদি যে পুষ্টি গুলো থাকে তা আপনার হাড়কে শক্তিশালী করবে এবং সুস্থ রাখবে।

যাদের ত্বকের বিভিন্ন ধরনের দাগ হয়ে থাকে তারা ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করার জন্য বিভিন্ন ধরনের ক্রিম ব্যবহার করে। যা আপনার রক্ত প্রবাহ বৃদ্ধি করবে এবং পেশীতে অক্সিজেন সরবরাহ করতে সাহায্য করবে। এছাড়াও শারীরিক কার্যক্রম বৃদ্ধি পাবে এবং ব্যায়াম করলে আপনার শরীর দুর্বল লাগবে। কিন্তু আপনি যদি ঘরোয়া পদ্ধতিতে রসুন ব্যবহার করতে পারেন। তাহলে দেখবেন আপনার এই ধরনের দাগ দূর হয়ে যাবে। এছাড়াও ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করবে। রসুনের মধ্যে যে নাইট্রিক অক্সাইড, এলিসিন থাকে যা কিডনিকে নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করবে।

যাদের শরীরের সারা বছর ঠান্ডা লেগেই থাকে কোনমতেই কমতে থাকে না, তারা এই রসুন খেতে পারেন। তাই সকালবেলা খালি পেটে যদি এক কোয়া রসুন খেতে পারেন, সে ক্ষেত্রে দেখবেন ঠান্ডা দূর হয়ে যাবে। এভাবে টানা দুই সপ্তাহ খেতে পারেন এই ক্ষেত্রে ঠান্ডার সমস্যা দূর হতে সাহায্য করবে। রসুন যদি নিয়মিতভাবে খেতে পারেন সে ক্ষেত্রে আপনার রক্ত পরিষ্কার করবে। এছাড়াও এর মধ্যে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট থাকার কারণে এটা আমাদের রক্ত পরিশোধ করতে পারে, রক্তের শর্করা পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। এছাড়াও নিয়মিতভাবে সকালবেলা কাঁচা রসুন খাওয়ার চেষ্টা করবেন।

যারা এই কাঁচা রসুন খেতে চান তারা সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে খাওয়ার চেষ্টা করবেন। এক্ষেত্রে ১ থেকে ২ কোয়ার মত রসুন চিবিয়ে খেলে ভালো উপকার পাওয়া যাবে। সেই সাথে যদি হালকা গরম পানি খেতে পারেন তাহলে আরো উপকার পাওয়া যাবে এবং গন্ধ অনেকটাই নষ্ট হয়ে যাবে। তবে এক্ষেত্রে কিছু সতর্কতা রয়েছে যাদের পেটের সমস্যা রয়েছে বা গ্যাস অথবা আইবিএস এর সমস্যা রয়েছে এছাড়াও যাদের আলসারের সমস্যা হয়েছে তারা পরিমাণ মতো খাবেন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ করে খেতে হবে। কখনোই বেশি খাবেন না এ ক্ষেত্রে কিন্তু বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে।

এই পোষ্টের লেখক,
মোঃ মাহমুদুল ইসলাম
স্বাস্থ্যকর্মী, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স।
উল্লাপাড়া, সিরাজগঞ্জ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

এম আর মাহমুদ ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url
Md. Mahmudul Islam
Md. Mahmudul Islam
আমি ডিজিটাল মার্কেটিং এক্সপার্ট ও সরকারি চাকরি করি। আমি অনলাইনে বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করে ইনকাম করি, এছাড়াও ব্লগিং, SEO ও টেকনোলজি বিষয় নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করি। এই কাজের উপর আমার ৩ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে।