গর্ভাবস্থায় নাপা খাওয়া যাবে কিনা জেনে নিন কতটা নিরাপদ
অনেকে জানতে চায় যে, গর্ভাবস্থায় নাপা খাওয়া যাবে কিনা? গর্ভবতী নারীদের বিভিন্ন ওষুধ খাওয়ার নিষেধ থাকে তবে ক্ষেত্রে নাপা খাওয়া যাবে কিনা সেটা জানা প্রয়োজন। চলুন, গর্ভবতী মায়েরা নাপা ট্যাবলেট খেতে পারবে কিনা সে সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে জেনে নেওয়া যাক।
গর্ভবতী মায়েরা সাধারণত এই সময়ে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। বিশেষ করে তাদের জ্বর হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে, এইজন্য অনেকে নাপা ওষুধ খেয়ে থাকে কিন্তু গর্ভাবস্থায় নাপা খাওয়া যাবে কিনা? এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানার জন্য আর্টিকেলটি মনোযোগ দিয়ে পড়ুন।
গর্ভবতী নারীরা সাধারণত বিভিন্ন কারণে জ্বর অথবা শরীরের ব্যথা হয়ে থাকে। তবে এই সময় ব্যথা নাশক সকল ওষুধ খাওয়া নিষেধ থাকে। কিন্তু জ্বরের জন্য নাপা ট্যাবলেট খাওয়া যেতে পারে, তবে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ মতে খেতে হবে। তাছাড়া গর্ভস্থ শিশুর বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে যে যদি গর্ভাবস্থায় অত্যাধিক জ্বর আসে সে ক্ষেত্রে নাপা ট্যাবলেট না খেলে গর্ভস্থ শিশুর ক্ষতি হতে পারে। এমনকি বাচ্চা নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এজন্য ২৪ ঘন্টার মধ্যে ৪ গ্রাম নাপা ওষুধ খাওয়া যাবে। এর বেশি খাওয়া যাবে না, এতে কিডনি ও লিভারের মারাত্মক ভাবে ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
একজন গর্ভবতী নারীর যদি এই সময়ে শরীরের জ্বর আসে সে ক্ষেত্রে ঘরোয়া চিকিৎসা করার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করতে হবে কিন্তু যদি এতে কাজ না হয় সে ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্যারাসিটামল বা নাপা জাতীয় ওষুধ খাওয়া যেতে পারে। যদি চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া গর্ভবতীরা প্যারাসিটামল বা নাপা ট্যাবলেট অতিরিক্ত খেয়ে ফেলে সেক্ষেত্রে গর্ভস্থ শিশুর শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে হাঁপানি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শক্রমেই খেতে হবে। চিকিৎসকরা সাধারণত প্যারাসিটামল এর ন্যূনতম ডোজ বলে দিলে তাহলে আপনি খেতে পারবেন।
ডাক্তাররা সাধারণত গর্ভবতী নারীদের যদি জ্বর হয়ে থাকে সেই ক্ষেত্রে ৫০০ মিলিগ্রাম প্যারাসিটামল খাওয়ার অনুমতি দিয়ে থাকে। তবে পরবর্তী শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে চিকিৎসক পরিমাণটা কমাতে বা বৃদ্ধি করতে পারে। সাধারণত প্যারাসিটামল জ্বর এবং ব্যথার জন্য কাজ করে থাকে। তার মধ্যে বিভিন্ন ধরনের ব্যথা থাকতে পারে যেমন দাঁতের ব্যথা, মাথাব্যথা, শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে ব্যথা এক্ষেত্রে প্যারাসিটামল খাওয়া যেতে পারে কিন্তু অবশ্যই আগে চেষ্টা করবেন ঘরোয়া পদ্ধতি চেষ্টা করার কিন্তু যদি এতে কাজ না হয় তাহলে একজন চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে নাপা খাওয়া যেতে পারে।
গর্ভবতী নারীরা অনেক সময় সাধারণ ব্যথার জন্য প্যারাসিটামল খাওয়া যেতে পারে। তবে ব্যথার জন্য বিভিন্ন ধরনের ঔষধ খাওয়া হয় যা কিডনিতে এবং গর্ভস্থ শিশুর ক্ষতি করবে। তাই আপনি নাপা বা প্যারাসিটামল খেতে পারেন তবে ব্যথা নাশক যে ওষুধগুলো রয়েছে সেগুলো কখনোই খাবেন না। এতে শিশুর বড় ধরনের ক্ষতি সম্মুখীন হতে হবে, তবে প্যারাসিটামল বা নাপা ওষুধ একটানা কখনোই খাওয়া যাবে না। এক্ষেত্রে সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে আর এই ওষুধটি সাধারণত একটানা সাত দিন খাওয়া ঠিক হবে না। এই ওষুধটা সাধারণত একটি অথবা দুটি গর্ভবতী নারীদের জন্য খাওয়া যেতে পারে।
বিজ্ঞানীরা গবেষণা করেছেন গর্ভবতী মায়েরা সাধারণত যদি জ্বরের ওষুধ অতিরিক্ত খেয়ে ফেলে সেক্ষেত্রে গর্ভস্থ শিশুর ক্ষতি হতে পারে। বিশেষ করে অতিরিক্ত এই ওষুধটি সেবন করার ফলে শরীরে যে রাসায়নিক উপাদান প্রবেশ করবে সে ক্ষেত্রে গর্ভস্থ শিশুর মস্তিষ্কের ক্ষতি করতে পারে। বিশেষ করে প্রতিবন্ধী হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এছাড়াও শিশুর স্নায়ুতন্ত্রের বিকাশের ব্যাঘাত ঘটতে পারে। পরবর্তীতে অটিজম হিসেবে রূপ নিতে পারে। গর্ভবতী নারীরা সাধারণত নিজে নিজে অনেকেই ওষুধ খেয়ে ফেলে, এতে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা হতে পারে যার কারণে এই ধরনের নিজের সিদ্ধান্ত নিয়ে ওষুধ কখনো খাবেন না।
তবে একজন গর্ভবতী মায়ের যদি হালকা জ্বর হয়ে থাকে সেক্ষেত্রে আপনি ঘরোয়া পদ্ধতিতে নিরাময় করতে পারবেন। এক্ষেত্রে কিছু ঘরোয়া প্রতিকার আপনাকে জানতে হবে। চলুন, এ বিষয়ে জেনে নেওয়া যাক, অবশ্যই ঠান্ডা পানির মধ্যে কিছু কাপড় ভিজিয়ে নিয়ে আপনি কপালে রাখতে পারেন। এতে করে জ্বর অনেকটা কমে যাবে। এছাড়াও ঠান্ডা পানির মধ্যে শুকনা কাপড় ভিজিয়ে হাত ও শরীরে মুছে দেওয়া যেতে পারে, এতে তাপমাত্রা অনেকটা কমে যাবে। আর অবশ্যই হালকা গরম পানি দিয়ে প্রতিদিন গোসল করাতে হবে।
জ্বর আসলে আরো কিছু ঘরোয়া পদ্ধতি অবলম্বন করা যায় তার মধ্যে যেমন আদা চা খাওয়া যেতে পারে। এতে আপনার জ্বর অনেকটা কমবে, বিশেষ করে গবেষণায় বলা হয়েছে যে এতে এন্টিপাইরেটিক থাকার কারণে শরীরে বড় ধরনের বিপদ থেকে রক্ষা পাবেন। তাছাড়া এর মধ্যে আরও অনেক উপাদান থাকে যা গর্ভবতী মায়েদের অনেক উপকার করবে। এছাড়াও যদি আপনার মানসিক চাপ বেশি থাকে তাহলে জ্বর আরো বেশি হবে। এছাড়া এই সময়ে হালকা পাতলা ঢিলেঢালা পোশাক পরার চেষ্টা করবেন, তাহলে জ্বর অনেকটা কমতে থাকবে এবং নিয়ন্ত্রণ চলে আসবে।
লেখক, মোঃ মাহমুদুল ইসলাম, স্বাস্থ্যকর্মী, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, উল্লাপাড়া, সিরাজগঞ্জ।

এম আর মাহমুদ ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url