চোখের নিচের পাতা লাফালে কি হয়? জানলে অবাক হবেন

অনেকে জানতে চায় যে, চোখের নিচের পাতা লাফালে কি হয়? আসলে এটা কেন হচ্ছে সেটা আপনাকে আগে জানতে হবে, তাহলে এর সমাধান পাওয়া যাবে। চলুন, কি কারনে এই ধরনের সমস্যা হয়ে থাকে সেটা বিস্তারিতভাবে জেনে নেওয়া যাক।
ছবি
অনেকে বুঝতে পারে না যে কি কারনে চোখের নিচের পাতা লাফায়, এজন্য আপনাকে সঠিক তথ্য জানতে হবে। তাই চোখের নিচের পাতা লাফালে কি হয়? এ সম্পর্কে জানতে আর্টিকেলটি মনোযোগ দিয়ে পড়ুন।

এই ধরনের সমস্যা অনেকের হয়ে থাকে তবে এটা নিয়ে তেমন একটা চিন্তা করার কারণ নেই। আগে আপনাকে খুঁজে বের করতে হবে কি কারণে আপনার এই চোখের পাতা লাফাচ্ছে। এর পরে আপনি চিকিৎসা নিতে পারবেন, চোখের পেশি শক্তি যদি বৃদ্ধি পেয়ে থাকে সেক্ষেত্রে চোখের পাতা লাফাতে পারে। সেটা হতে পারে উপরে কিংবা নিচে অথবা দুই চোখেই লাফাতে পারে। এতে অনেকটা অস্বস্তিকর লাগে এবং খুবই খারাপ লাগে। যা এটা সাধারণত অনেকেরই হয়ে থাকে এটা একটি স্বাভাবিক বিষয়। তবে অনেক লোকের এমন জোরে কাঁদতে থাকে যা সহ্য করা যায় না বা অনেকে চোখেও দেখতে পারেনা।

এই ধরনের সমস্যাকে সাধারণত ব্লেফারোস্পাজম বলা হয়ে থাকে, এই ধরনের সমস্যা সাধারণত দুই থেকে তিন মিনিটের মত থাকে। এরপরে দেখা যায় অনেকের ঠিক হয়ে যায় কিন্তু যদি আপনার ঠিক না হয় তাহলে অবশ্যই একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। তবে কিছু ক্ষেত্রে যদি না সেরে যায় তাহলে কিন্তু বড় ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। যেমন মস্তিষ্কের সমস্যার কারণেও এই ধরনের সমস্যা হতে পারে অথবা স্নায়ু দুর্বল এর কারণেও চোখের পাতা লাফাতে থাকে। অনেকের মুখের একপাশে প্যারালাইজড এর কারণেও চোখের পাতা লাফাতে থাকে।

এই ধরনের সমস্যা সাধারণত দিনে ২বারের মতো দেখা যেতে পারে, তবে যদি অতিরিক্ত হয়ে থাকে তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। চোখের ভিতরে ছোট ছোট কিছু স্নায় থাকে যা এই পেশীতে যখন চাপ লাগে তখন এর কারণে দেখা যায় চোখের পাতা লাফাতে থাকে। এছাড়াও বিভিন্ন কারণে এই চোখের পাতা লাফাতে থাকে, তার মধ্যে যেমন খুবই ক্লান্ত হলে, ঘুম কম হওয়ার কারণে অথবা অনেকের প্রচণ্ড পরিমাণ মানসিক চাপের কারণেও দেখা যায় চোখের পাতা লাফাতে থাকে। অতিরিক্ত চা পান করা, দীর্ঘক্ষণ কম্পিউটারে কাজ করা, মোবাইল বেশিক্ষণ দেখলে ইত্যাদি।

অনেকের চোখের চুলকানির কারণেও এই ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে, ধূমপান করার কারণে সমস্যা হতে পারে। অতিরিক্ত ওষুধ খাওয়ার কারণে তার পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হিসেবে এই সমস্যা দেখা দিতে পারে। যদি এই চোখের সমস্যা অতিরিক্ত দেখা যায় যেমন অনেকের চোখ ঝাপসা হয়ে আসে এবং মাথা ঘুরানি সাথে থাকে, তাহলে এটা হাই প্রেসার এর লক্ষণ হিসেবেও দেখা দিতে পারে। তাছাড়া অনেকের ধুলামুয়লা বা দুর্গন্ধ আবর্জনা এবং রাসায়নিক পদার্থের কারণে অনেক সময় এ ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

যখন চোখের পাতা দীর্ঘক্ষণ যাবৎ বা দীর্ঘদিন যাবত লাফাতে থাকে বিশেষ করে এক সপ্তাহের বেশি যদি হয়ে যায়, সে ক্ষেত্রে এক পাশে যদি অবস লাগে এবং ফোলা ফোলা ভাব হয়ে থাকে, চোখ লাল হয়ে যায় সে ক্ষেত্রে অবশ্য একজন চিকিৎসকের নিকট পরামর্শ নিতে হবে। এই ধরনের সমস্যা সাময়িকের জন্য হয়ে থাকে, তাহলে কোন ওষুধ খেতে হবে না। একাই সেরে যাবে হ্যাঁ যদি আপনার এই ধরনের সমস্যা হয়ে থাকে তাহলে অবশ্যই চোখের যত্ন নিতে হবে এবং বিশ্রাম নিতে হবে। ঘুমাতে হবে, চা পান কম খেতে হবে। অনেকের এলার্জির সমস্যার কারণে ধরনের সমস্যা হতে পারে।

দূষিত বায়ু আবর্জনা এগুলো দুর্গন্ধের কারণে দেখা যায় এই ধরনের সমস্যা হতে পারে। এজন্য আপনাকে আর কম্পিউটার বা ডিজিটাল জিনিসপত্র ব্যবহার করা কম করতে হবে এবং কম্পিউটার বা মোবাইলের স্ক্রিন এছাড়াও আপনাকে তাহলে বেশি আলোতে থাকলে এ ধরনের সমস্যা হতে পারে। অনেকের রোদের কারণে এ ধরনের সমস্যা হয় তাই সে ক্ষেত্রে এমন ধরনের চশমা ব্যবহার করতে হবে যেন চোখের কোন ধরনের সমস্যা না হয়। আপনার যদি চোখের এই ধরনের সমস্যা দেখা দেয় সে ক্ষেত্রে প্রথমে চোখের সমস্যা থাকতে পারে।

অনেকের চোখে ছানি পড়া অথবা চোখে কম দেখা বা লেন্সের সমস্যা থাকতে পারে সে ক্ষেত্রে চোখের ডাক্তার দেখাতে হবে। যদি আপনি নিয়মিতভাবে চিকিৎসা না নেন তাহলে আপনার চোখের সমস্যা আরো বাড়িয়ে যাবে, পাতা লাফাতে আরও থাকবে যদি আপনার এই সমস্যা বেশি হয়ে যায় সেক্ষেত্রে ৮ ঘন্টা কমপক্ষে ঘুমানোর চেষ্টা করবেন এবং বিশ্রাম নিতে হবে। এছাড়াও পাশাপাশি ক্যালসিয়াম বা পুষ্টিকর জাতীয় খাবার খেতে হবে। যদি শরীর দুর্বল থাকে তাহলেও চোখের পাতা লাফাতে পারে, এ ধরনের সমস্যা হলে সাধারণত চিকিৎসকরা ম্যাগনেসিয়াম জাতীয় ওষুধ দিয়ে থাকে।

এছাড়াও ভিটামিন জাতীয় ওষুধ খেলে সাধারণত সুস্থ হয়ে যায় তবে আপনাকে অবশ্যই সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। কেননা তার চোখের লাফানোকে অনেকে বার থাকে বা বিভিন্ন ধরনের কুসংস্কারমূলক কথা বলে থাকে। এই ধরনের চিকিৎসা দেবেন না অথবা কোন হকারের বা কোন অবৈজ্ঞানিক চিকিৎসকে চোখ থেকে বিরত থাকবেন কেননা এগুলো হলো অবৈজ্ঞানিক চিন্তাভাবনা এ ছাড়া অনেকে যারা ফুল দিয়ে থাকে এবং কবিরাজের ট্রিটমেন্ট নিয়ে থাকে চিকিৎসা নিয়ে থাকে যা আর আপু দিলে নাকি সুস্থ হয়ে যাবে এগুলো সব কিছুই একটাও কুসংস্কার মূলক কথা।

তাই চোখের এই ধরনের লাফানি বা যদি বেশি হয়ে থাকে বা সাত দিনের বেশি হয়ে যায় সে ক্ষেত্রে অবশ্যই চিকিৎসা নিতে হবে আপনার এই ধরনের সমস্যা যদি দীর্ঘদিন থাকে তাহলে অবশ্যই একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। যেমন কুসংস্কার মূলক কথার মধ্যে বলতে পারে যে হলে ভালো সংকেত হতে পারে এজন্য আপনি কবিরাজ এর কাছে যান। এই ধরনের ঝুঁকি কখনোই নেবেন না। আশা করি আজকের এই আর্টিকেলের মাধ্যমে আপনি ভালোভাবে বুঝতে পারছেন, এতে কুসংস্কার মূলক কথার থেকে আপনি বিরত থাকবেন। অবশ্যই প্রকৃত চিকিৎসা দেবেন এবং যদি অসুবিধা মনে করেন, তাহলে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের কাছে যাবেন।

লেখক মোঃ মাহমুদুল ইসলাম, স্বাস্থ্যকর্মী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স উল্লাপাড়া, সিরাজগঞ্জ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

এম আর মাহমুদ ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url
Md. Mahmudul Islam
Md. Mahmudul Islam
আমি ডিজিটাল মার্কেটিং এক্সপার্ট ও সরকারি চাকরি করি। আমি অনলাইনে বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করে ইনকাম করি, এছাড়াও ব্লগিং, SEO ও টেকনোলজি বিষয় নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করি। এই কাজের উপর আমার ৩ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে।