সৌদি আরব থেকে মালয়েশিয়া যাওয়ার উপায় সম্পর্কে সাম্প্রতিক তথ্য জানুন

অনেকে সৌদি আরব থেকে মালয়েশিয়া যেতে চায়, তাই সৌদি আরব থেকে মালয়েশিয়া যাওয়ার উপায় সম্পর্কে সঠিক ধারণা নিতে হবে। তাহলে প্রতারণা হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকবে। চলুন, কিভাবে সঠিক পথে যাবেন সে সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।
ছবি
অনেকে দীর্ঘদিন যাবত সৌদি আরব থাকার পরে মালয়েশিয়াতে যেতে চায় কিন্তু কিভাবে যাবে সেটা হয়তো বুঝতে পারে না। তাই সৌদি আরব থেকে মালয়েশিয়া যাওয়ার উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত জানার জন্য আর্টিকেলটি মনোযোগ দিয়ে পড়ুন।

সৌদি আরব থেকে অনেকে বিভিন্ন দেশে গিয়ে থাকে তার মধ্যে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি লোকজন বেশি যাওয়ার চেষ্টা করে থাকে। তবে বিভিন্ন ক্যাটাগরির ভিসা মাধ্যমে যাওয়া যায়, সে ক্ষেত্রে আপনি ভিজিট ভিসা, ওয়ার্ক পারমিট ভিসা, বিজনেস ইত্যাদি ভিসা গুলোতে যেতে পারবেন। তবে অবশ্যই বৈধ উপায়ে যাওয়ার চেষ্টা করবেন, তা না হলে অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। তবে সৌদি আরব থেকে মালয়েশিয়া যদি অল্প খরচে যেতে চান সেক্ষেত্রে ভিজিট ভিসায় যেতে পারেন। তবে এক্ষেত্রে সৌদি আরবের যে মালিকের কাজ করেন তার অনুমতি লাগবে, তাহলে বৈধ উপায় যেতে পারবেন।

আপনি যদি বৈধভাবে সৌদি আরব থেকে মালয়েশিয়া ওয়ার্ক পারমিট ভিসায় যেতে চান, সে ক্ষেত্রে অবশ্যই কাজের দক্ষতা থাকতে হবে এবং আপনি যে দীর্ঘদিন যাবৎ সৌদি আরবে কাজ করেছেন, সেই বিষয়ে প্রমান থাকতে হবে। তাছাড়া আপনার মালিকের অনুমতি লাগবে, তাহলে আপনি খুবই সহজে সৌদি আরব থেকে মালয়েশিয়ায় ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবেন। তবে আপনার আর্থিক সক্ষমতা এবং আপনি যে ভাল পেশায় থাকেন সেগুলোর ট্রাভেল রেকর্ড থাকা খুবই জরুরী। এছাড়া আপনি যে একজন দক্ষ শ্রমিক সেই বিষয়ে কাজের সনদ থাকতে হবে।

অনেকে মালয়েশিয়া যাওয়ার জন্য বিভিন্ন এজেন্সির মাধ্যমে চেষ্টা করে থাকে কিন্তু নিজে নিজেও আপনি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন। তবে বৈধভাবে যেতে হলে কিছু প্রয়োজনীয় কাগজপত্র লাগবে। এছাড়াও মালয়েশিয়া ইমিগ্রেশন যে ওয়েবসাইট রয়েছে সেটা ব্যবহার করতে পারবেন এবং অনলাইন এর মাধ্যমে ভিসা আবেদন করতে হবে। ভিসা আবেদন ফি অবশ্যই জমা দেওয়া লাগবে, এরপর ভিসা এম্বাসিতে গিয়ে কাগজপত্র জমা দেবেন। এছাড়া একটি সাক্ষাৎকার দিবেন এজন্য অবশ্যই আগে থেকে আপনার সকল কিছু প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে হবে।

আপনি যদি থেকে মালয়েশিয়া যাওয়ার জন্য পরিকল্পনা করে থাকেন সেক্ষেত্রে অবশ্যই দুটি পদ্ধতির মাধ্যমে যেতে পারবেন। এজেন্সির মাধ্যমে আপনি ভিসা আবেদন করতে পারবেন এজন্য অবশ্যই সরকারি যে ওয়েবসাইট রয়েছে সেই লিংকে প্রবেশ করা লাগবে। এরপরে আপনি যে ভিসাতে যাবেন তার ক্যাটাগরি পছন্দ করতে হবে, তারপরে সেই ফর্মটা ডাউনলোড করে নিতে হবে। সঠিকভাবে ফর্মটা পূরণ করে নিয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র অবশ্যই এজেন্সির মাধ্যমে অথবা আপনি নিজেও ভিসা এম্বাসিতে জমা দিতে পারবেন। এক্ষেত্রে অবশ্যই ভিসা ফি জমা দিতে হবে।

অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন ছাড়াও আপনি প্রবাসী অ্যাপের মাধ্যমে ও মালায়েশিয়ায় যাওয়ার জন্য আবেদন করতে পারবেন। এক্ষেত্রে মোবাইল থেকে গুগল প্লে স্টোরে গিয়ে "আমি প্রবাসী" নামক অ্যাপটি ডাউনলোড করে নিবেন। এরপরে ওয়ার্ক পারমিট ভিসা যেখানে রয়েছে সেখানে গিয়ে এই অ্যাপের মাধ্যমে আবেদন করা লাগবে। "আমি প্রবাসী" অ্যাপের মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন করে আপনার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র স্ক্যান করে জমা দেওয়া লাগবে। মালয়েশিয়া ভিসা আবেদন করার জন্য দেখা যাচ্ছে যে ৩ দিনের মত সময় লাগতে পারে ভিসা প্রসেসিং হতে।
এরপরে যাচাই-বাছাই করার পরে আপনাকে জানিয়ে দিবে, "আমি প্রবাসী" অ্যাপে নিয়মিত লগইন করা লাগবে এবং চাকরি খুঁজে নিতে হবে। এরপরে যে সকল চাকরি আপনার ভালো লাগে সেগুলোতে আবেদন করবেন। এরপর আবেদন যখন গৃহীত হবে আপনাকে মেসেজের মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে। তাছাড়া আপনি যখন বৈধ উপায়ে মালেশিয়া যাবেন সেক্ষেত্রে কিছু কাগজপত্র সঠিক থাকতে হবে। যেমন বৈধ পাসপোর্ট, পাসপোর্ট সাইজের ছবি, মেডিকেল সার্টিফিকেট, জাতীয় পরিচয় পত্র, ট্রাভেল ইন্স্যুরেন্স, ব্যাংকের স্টেটমেন্ট এছাড়া জব অফার লেটার লাগবে।

এছাড়া আপনি যে দীর্ঘদিন যাবত সৌদিতে কাজ করেছেন তার কাজের অভিজ্ঞতার প্রমাণ দিতে হবে। যদি একাডেমিক সার্টিফিকেট থাকে তার সার্টিফিকেট লাগবে। এছাড়া আপনি যদি ভিজিট ভিসা বা টুরিস্ট ভিসায় যেতে চান সেই ক্ষেত্রে অবশ্যই আপনার পাসপোর্ট এর বৈধ ৬ মাসের মত মেয়াদ থাকতে হবে, জাতীয় পরিচয় পত্র থাকতে হবে। এছাড়া হোটেল বুকিং, ব্যাংকের স্টেটমেন্ট, বিমানের রিটার্ন টিকিট, এছাড়াও যদি আপনি কারো আমন্ত্রণে গিয়ে থাকেন তার রেফারেন্স লেটার এবং পূর্বে যদি কোথাও ভ্রমন করে থাকেন তার ভিসার কপি জমা দিতে হবে।

সৌদি আরব থেকে যদি আপনি মালয়েশিয়া যেতে চান, তাহলে এজেন্সি বা দালালের মাধ্যমে যেতে পারেন। তবে এক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে, যদি আপনি সরকারি ভাবে যেতে চান তাহলে সৌদিতে যে মালয়েশিয়ার দূতাবাস রয়েছে সেখানে গিয়ে আপনি সহজ ভাবে আবেদন করতে পারবেন। আবার আপনি দালানের মাধ্যমে যেতে চান, তাহলে কমপক্ষে ৪ থেকে ৫ লাখ টাকার বেশি খরচ হতে পারে। আর যদি আপনি সরকারি ভাবে যেতে চান সে ক্ষেত্রে ১ থেকে দেড় লক্ষ টাকার মধ্যে যেতে পারবেন। এছাড়াও যদি কোন এজেন্সির মাধ্যমে পরামর্শ নেন সে ক্ষেত্রেও ১ লক্ষ টাকার মত লাগে।

তাছাড়া আপনি বর্তমানে এখন মালয়েশিয়ায় যেতে চান সেক্ষেত্রে কলিং ভিসা কার্যক্রম আছে। এক্ষেত্রে অসংখ্য মানুষজন শ্রমিক কাজ করার জন্য যাচ্ছে, বিভিন্ন কোম্পানি কলিং ভিসা চালু করেছে। এছাড়াও সার্কুলার দেয় সেই সার্কুলার অনুযায়ী আপনাকে অনলাইনে মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। কেননা বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষই দেখা যায় সৌদি থেকে মালয়েশিয়াতে যাওয়ার চেষ্টা করে থাকে। এক্ষেত্রে এই ভিসায় সবচেয়ে বেশি সুযোগ সুবিধা ৫ বছর পাবেন। যখন ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে সেই ক্ষেত্রে পুনরায় বাড়িয়ে নেওয়ার সুযোগ আছে।

বর্তমানে মালয়েশিয়ায় যারা প্রবাসী রয়েছেন তারা দীর্ঘদিন যাবত যদি কোন কোম্পানিতে কাজ করে থাকেন। তারা মালয়েশিয়ায় বিভিন্ন ফ্রি সুযোগ সুবিধা গুলো নিতে পারে, এছাড়া তাদের ইচ্ছামতো যে কোন কোম্পানিতে চাকরি করার অনেকে সুযোগ পায়। যদি আপনি পরবর্তীতে ফ্রি ভিসা করে নিতে পারেন, তাহলে নিজের ইচ্ছা মত ওভার টাইম করে অনেক টাকা উপার্জন করতে পারবেন। যেহেতু মালয়েশিয়া বর্তমানে উন্নত একটি দেশ যার কারণে অনেক সুযোগ সুবিধা আছে। অসংখ্য মানুষ কিন্তু পরবর্তীতে ফ্যামিলি ভিসা নিয়ে মালয়েশিয়ায় বসবাস করছে।

লেখক, মোঃ মাহমুদুল ইসলাম। বি,এ অনার্স জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা। বিভিন্ন বিষয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ অভিজ্ঞতার সাথে লেখালেখি করি।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

এম আর মাহমুদ ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url
Md. Mahmudul Islam
Md. Mahmudul Islam
আমি ডিজিটাল মার্কেটিং এক্সপার্ট ও সরকারি চাকরি করি। আমি অনলাইনে বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করে ইনকাম করি, এছাড়াও ব্লগিং, SEO ও টেকনোলজি বিষয় নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করি। এই কাজের উপর আমার ৩ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে।