বাচ্চাদের মিষ্টি খাওয়ালে কি হয়? জেনে নিন কতটা নিরাপদ
অনেক বাচ্চা মিষ্টি জাতীয় খাবার গুলো পছন্দ করে। তাই বাচ্চাদের মিষ্টি খাওয়ালে কি হয়? এ সম্পর্কে প্রত্যেকটি বাবা মা সঠিক তথ্য জানা প্রয়োজন। চলুন, বাচ্চাদের মিষ্টি জাতীয় খাবার গুলো খাওয়ানোর কারণে কি হতে পারে সে সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে জেনে নেওয়া যাক।
আমরা অধিকাংশ মা-বাবারা সাধারণত বাচ্চাদেরকে প্রথম দিকে মিষ্টি জাতীয় খাবার গুলো খাওয়াতে বেশি পছন্দ করে থাকি কিন্তু এই মিষ্টি জাতীয় খাবার গুলো শিশুর জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। তাই বাচ্চাদের মিষ্টি খাওয়ালে কি হয়? এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে আর্টিকেলটি মনোযোগ দিয়ে পড়ুন।
পিতা-মাতা সাধারণত ছোট বাচ্চাদের অনেক খাবার খাওয়াতে আগ্রহী থাকে। এজন্য প্রথম অবস্থায় মিষ্টি জাতীয় খাবার গুলো খাওয়াতে থাকে কিন্তু এই মিষ্টি জাতীয় খাবার গুলো যদি বাচ্চাকে প্রতিনিয়ত খাওয়ানো হয়, সেক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা হতে পারে। এ বিষয়ে শিশু বিশেষজ্ঞরা বলেন মিষ্টি জাতীয় খাবার অতিরিক্ত খাওয়ানোর কারণে বাচ্চাদের স্থলতা, দাঁত এবং চোখের সমস্যা বেশি দেখা যায়। তাছাড়াও এই মিষ্টি জাতীয় খাবার কারণে পরবর্তীতে টাইপ টু ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, ক্যান্সার ইত্যাদির সমস্যাগুলো দেখা দিতে পারে। এজন্য শিশুদের খাদ্য খাওয়ানোর ক্ষেত্রে অবশ্যই কিছু বিষয়ে পরিবর্তন করতে হবে।
একদল গবেষক বলেছেন যে বাচ্চাদের মিষ্টি জাতীয় খাবারের ক্ষেত্রে আগ্রহী বেশি থাকে, তবে এটাকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। এক্ষেত্রে আপনি যেভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন। যখন শিশু খাওয়া শিখবে তখন প্রথমত সবজি জাতীয় খাবার গুলো খাওয়ালে শিশুর পুষ্টির যোগান দেবে। এ বিষয়ে শিশু বিশেষজ্ঞ ডাক্তাররা সতর্ক করে বলছেন যে, মিষ্টি জাতীয় খাবারগুলোতে বেশি পরিমাণে চিনি থাকে সেই খাবারগুলো থেকে শিশুদের জন্য বিরত রাখতে হবে। তবে মিষ্টি জাতীয় খাবার যেহেতু শিশুরা বেশি পছন্দ করে সেক্ষেত্রে আপনি মধু কিংবা ফলের রস খাওয়াতে পারেন।
এক্ষেত্রে আপনার শিশুর মিষ্টির চাহিদাটা পূরণ হয়ে যাবে। মিষ্টির পাশাপাশি অবশ্যই টক জাতীয় খাবার গুলো খাওয়ানোর অভ্যাস করতে হবে। যুক্তরাজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ রিপোর্টে বলা হয়েছে যে শিশুদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা নিরীক্ষা করার পর দেখা গেছে যে প্রত্যেকটা শিশু মোটা হয়ে যায়। আবার অনেক শিশুর দাঁতের ক্ষয় হওয়ার প্রবণতা বেশি দেখা দিতে পারে। যা শুধুমাত্র মিষ্টি জাতীয় খাবার গুলো খাওয়ানোর কারণে এই সমস্যাটি সারাবিশ্বেই বেশি বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে চিনি জাতীয় খাবার খেলে শিশুদের স্থূলতা বেশি দেখা যায়, আমাদের শিশুদেরকে প্রাকৃতিকগত খাবার খাওয়াতে হবে।
তাছাড়াও বিভিন্ন দেশে তারা শিশুদের বিষয়ে পুষ্টিকর খাবার খাওয়ানোর চেষ্টা করেছে। বিশেষ করে যুক্তরাজ্যের শিশুদের ক্ষেত্রে পরীক্ষা নিরীক্ষা করার পর দেখা যায় স্থূলতা তাদের মাঝে বেশি, যা এই দেশে ২০৩০ সালের মধ্যে অবশ্যই শিশুরা যেন অনেক মোটা না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে এবং সরকার সে দিকে নজর দিবে। তাই যেসব খাবার চিনি এবং চর্বি জাতীয় খাবার গুলো খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। যদিও সরকার চেষ্টা করে থাকে চিনি জাতীয় খাবার গুলোর উপর বেশি কর আরোপ করা, এতে করে শিশুদের খাদ্যের চিনির পরিমাণ খুবই কম থাকবে।
এক্ষেত্রে মিষ্টি জাতীয় যে খাবার গুলো শিশুদের খাওয়ানো যেতে পারে যেমন বিভিন্ন ফলের রস মিশ্রিত করে খাওয়ানো যাবে। এছাড়া বিভিন্ন পদ্ধতিতে শরবত বানিয়ে তার সাথে হালকা চিনি মিশিয়েও কিন্তু খাওয়া যাবে। তবে বাচ্চাদেরকে না দেওয়াই উচিত। তবে চিনি জাতীয় শরবত না হয় উল্লেখযোগ্য হারে। চিকিৎসকরা বলেছেন যে সকল খাবার গুলোর মধ্যে মিষ্টি বেশি দেওয়া রয়েছে সে খাবার গুলো পরিহার করতে হবে। এছাড়াও চিকিৎসকরা বলেছে অতিরিক্ত ভাবে যদিচিনি জাতীয় খাবার গুলো খেয়ে থাকে তাহলে পরে ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে।
বিশেষজ্ঞরা বলেছেন যে শিশুদেরকে চিনি জাতীয় বা মিষ্টি জাতীয় খাবার গুলো কম খাওয়াতে হবে। তাদেরকে ফলের মিষ্টি জাতীয় খাবার গুলো খাওয়ানোর চেষ্টা করবেন, ফল গুলো দিয়ে আপনি শরবত খাওয়াতে পারবেন। এতে কোন চিনিই যুক্ত করবেন না, তাহলে প্রাকৃতিক গুনাগুন থাকবে না। তাহলে বাচ্চারা পরিণত হারে বেড়ে উঠবে। চিকিৎসক মিষ্টি জাতীয় যেসব খাবারগুলো রয়েছে সেই খাবারগুলো বাচ্চাদের খাওয়াতে নিষেধ করেন। তাই তারা বলেন শিশুদেরকে সবসময় তাজা ফল মিষ্টি ছাড়া দুধ জাতীয় খাবারগুলো খাওয়ানোর অভ্যস্ত করতে করতে হবে।
পুষ্টিবিদরা বলেছেন যে যদি আপনার বাচ্চাকে দুধ ছাড়ানোর ইচ্ছা করে থাকেন সেক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের সবজি জাতীয় খাবার গুলো খাওয়ানোর চেষ্টা করবেন। গবেষকরা বলেছেন যে আমাদের দেশের মা-বাবারা বাচ্চাদেরকে সাধারনত মিষ্টি জাতীয় খাবার অভ্যাস করে থাকে। যখন তারা এই বাচ্চাগুলো মায়ের বুকের দুধ ছড়ানোর জন্য ব্যবস্থাটা করে থাকে, তখন তারা মিষ্টি জাতীয় খাবার গুলো বেশি খাওয়ায় থাকে। এইভাবে বিগত কয়েক দশক ধরে চলে আসছে, এজন্য শিশুরা সাধারণত অনেকেই মোটা হয়ে যায়।
কেননা চিনির মাঝে যে শর্করা থাকে তা ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তাই চিকিৎসকরা সাধারণত সবসময় বলে থাকে যে মিষ্টি জাতীয় খাবারগুলো খাওয়ানো থেকে বিরত রাখতে হবে। এক কথায় যে সকল খাবার মধ্যে চিনি দেওয়া রয়েছে সেই সকল খাবার গুলো থেকে বিরত থাকায় ভালো। তাই উপরোক্ত নিয়মগুলো যদি আপনি মেনে চলতে পারেন তাহলে আপনার শিশু ভালো ও সুস্থ থাকবে।
এই পোস্টের লেখক, মোঃ মাহমুদুল ইসলাম, স্বাস্থ্যকর্মী, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, উল্লাপাড়া, সিরাজগঞ্জ।

এম আর মাহমুদ ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url