দেশি মুরগির বাচ্চার ঝিমানো রোগের ঔষধ সম্পর্কে জেনে চিকিৎসা নিন

দেশি মুরগির বাচ্চার বিভিন্ন রোগের লক্ষণ হিসেবে ঝিমানো দেখা যায়। তাই দেশি মুরগির বাচ্চার ঝিমানো রোগের সম্পর্কে যদি আপনার ধারণা থাকে, তাহলে চিকিৎসা করতে পারবেন। চলুন, ঝিমানোর কারণ এবং চিকিৎসা সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।
ছবি
দেশি মুরগির বাচ্চা বিভিন্নভাবে রোগে আক্রান্ত হতে পারে, এজন্য যখন মুরগির বাচ্চা গুলো ঝিমাতে শুরু করে তখন আপনার বুঝতে হবে কোন একটি রোগে আক্রান্ত হয়েছে। তাই দেশি মুরগির বাচ্চার ঝিমানো রোগের ঔষধ সম্পর্কে বিস্তারিত জানার জন্য আর্টিকেলটি মনোযোগ দিয়ে পড়ুন।

আপনি যদি দেশি মুরগি পালন করতে চান সে ক্ষেত্রে আপনার রোগ সম্পর্কে আগে সঠিক ধারণা নিতে হবে। তাহলেই উপযুক্ত চিকিৎসা ও ওষুধের মাধ্যমে আপনার মুরগির বাচ্চাকে সুস্থ করতে পারবেন। সাধারণত আপনার মুরগির বাচ্চার যদি ভাইরাসজনিত কোন রোগে আক্রান্ত হয়, সেক্ষেত্রে সেই মুরগির বাচ্চাকে বাঁচানো কঠিন হয়ে যায়। কোন রোগের কারণে আপনার মুরগির বাচ্চা ঝিমাচ্ছে সেটা আগে জানতে হবে, যদি ভাইরাস জনিত কারণে হয়ে থাকে সেক্ষেত্রে চিকিৎসা আলাদাভাবে করতে হবে। আর যদি ব্যাকটেরিয়া কারণে হয়ে থাকে সে ক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিক এর কোর্স কমপ্লিটের মাধ্যমে চিকিৎসা নিলে সুস্থ হবে। চলুন, মুরগির বাচ্চার কি কারণে ঝিমাচ্ছে সেটা সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে জেনে নেওয়া যাক।

সাধারণত মুরগির বাচ্চা ১ম দিন থেকে ৭ম দিনের মধ্যে নিউমোনিয়ার কারণে বাচ্চা ঝিমাতে পারে। এক্ষেত্রে যদি তাপমাত্রা সঠিকভাবে না দেওয়া হয়, তাহলে সেই বাচ্চা ঠান্ডা এবং নিউমোনিয়া হয়ে ঝিমাতে থাকে। পরবর্তীতে মারাও যেতে পারে এবং প্রায় বাচ্চাগুলো পাঁখা ঝুলে যায়। পরবর্তীতে ঝিমাতে শুরু করলে সেই বাচ্চাকে বাঁচানো কঠিন হয়ে যায়। তাই আপনার মুরগির বাচ্চার তাপমাত্রা সঠিকভাবে পাচ্ছে কিনা সেদিকে সর্তকতা রাখতে হবে। এছাড়াও যদি তাপমাত্রা সঠিকভাবে না দেন তাহলে বাচ্চা ঝিমাতে থাকবে। প্রথমত এ কারণেও আপনার মুরগির বাচ্চা ঝিমাতে পারে।

আপনার মুরগির বাচ্চার বয়স যদি ১০ থেকে ১৫ দিন বয়স হয়ে থাকে, সেক্ষেত্রে গাম্বুরা রোগ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এই সময়ে গাম্বুরার ভ্যাকসিন দিতে হয়, যদি আপনার মুরগির বাচ্চার ভ্যাকসিন না দিতে পারেন সে ক্ষেত্রে গাম্বুরা হলে বাচ্চা ঝিমাতে থাকবে, খাওয়া-দাওয়া ঠিকই করবে কিন্তু ঝিমাতে থাকবে। এই বয়সের বাচ্চা সাধারণত গাম্বুরা রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকে, পরবর্তীতে মারা যেতে পারে। তাই এই বয়সের বাচ্চা গুলো সাধারণত ঝিমানোর কারণ হিসেবে গাম্বুরার রোগ শনাক্ত করা যেতে পারে। সাধারণত এই রোগটি ৩ থেকে ৬ সপ্তাহের মধ্যে সবচাইতে বেশি দেখা যায় এবং তীব্র আকারে ধারণ করে থাকে। তবে ২ মাস পরে সাধারণত গাম্বুরা রোগ হয় না।

আপনি যদি দেশি মুরগির বাচ্চা পালন করতে চান, সেই ক্ষেত্রে প্রথম অবস্থায় তাপমাত্রা সঠিক রাখলে এবং পুষ্টিগুণ থাকলে বাচ্চার বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়া ভাইরাস আক্রমণ হবে না। এতে করে এই সময়ে মুরগির বাচ্চার বিভিন্ন ধরনের রোগব্যাধি হয়ে থাকে, তার মধ্যে আক্রান্ত হলে সাধারণত পাখা ঝুলে যেতে পারে, এছাড়াও এই রোগটি সাধারণত মুরগির পায়খানার মাধ্যমে ভাইরাসে আক্রান্ত হয়, দূষিত খাবার খাওয়ার কারণে হতে পারে পানি লিটারের সমস্যা যদি হয়ে থাকে সে ক্ষেত্রেও এই ভাইরাসটা আক্রান্ত করলে বাচ্চা ঝিমানো শুরু করতে পারে।

আপনার মুরগির বাচ্চার বয়স যদি ৬ সপ্তাহের মধ্যে হয়ে থাকে সেক্ষেত্রে গাম্বুরা রোগের এই ভাইরাসটা আক্রান্ত হওয়ার কারণে সকল বাচ্চাই মারা যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কারণ এটা একটি ছোঁয়াচে রোগ এই ভাইরাসটা সাধারণত সংক্রমিত হয়ে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। যার কারণে বাচ্চার লসিকা গ্রন্থী আক্রান্ত করে থাকে এবং ইনফেকশন হয়ে থাকে। যার কারণে বাচ্চাকে অ্যান্টিবায়োটিক দিয়েও কাজ হয় না। এক্ষেত্রে বাচ্চাকে ভ্যাকসিন দিতে হবে, কেননা ভাইরাস কখনো এন্টিবায়োটিক দিয়ে দমন করা সম্ভব না। এক্ষেত্রে মৃত্যুর হার বেশি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তাই গাম্বুরা রোগ সনাক্ত করার পূর্বেই আপনাকে সতর্ক ভাবে গাম্বুরার ভ্যাকসিন দিতে হবে। তবে সাধারণত দেশি মুরগির বাচ্চার গাম্বুরা রোগ কম হয়ে থাকে যার কারণে গাম্বুরার ভ্যাকসিন অনেকে করে না।

তবে অবশ্যই দেশি মুরগির বাচ্চাকে ঝিমানো যদি দেখেন সে ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে। এক্ষেত্রে প্রথমে ঝিমানোর কারণ বের করতে হবে, তারপরে আপনাকে একজন ভেটেনারি চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে ওষুধ খাওয়াতে হবে। তাহলে দেখবেন আস্তে আস্তে সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। সর্বপ্রথম কাজ হল আপনাকে যে বাচ্চাটা ঝিমাচ্ছে সেই বাচ্চাটিকে আলাদা করতে হবে এবং এই বাচ্চাটি নিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। কেননা ভাইরাসজনিত যদি আক্রমণ হয়ে থাকে, সেক্ষেত্রে চিকিৎসা নেওয়া যায় না। এক্ষেত্রে প্রতিরোধই আসল চিকিৎসা এজন্য যে প্রথমেই যদি আপনি রোগের শনাক্ত করতে পারেন এবং মুরগির বাচ্চাটা আলাদা করতে পারেন। তাহলে দেখবেন অন্যান্য মুরগির বাচ্চাগুলো সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে চিকিৎসা নিলে অন্যান্য বাচ্চাগুলো সুস্থ থাকবে, এজন্য রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য ভিটামিন সি জাতীয় ঔষধ গুলো খাওয়াতে হবে। এতে ভালো ফলাফল পাওয়া যাবে। তাই চেষ্টা করবেন রোগ শনাক্ত করে, এরপর আলাদা করার পর সুস্থ মুরগিগুলোকে ভিটামিন সি জাতীয় যেমন রেনা-সি বাজারে পাওয়া যায়। তাছাড়াও ভিটামিন সি আরও বিভিন্ন ধরনের কোম্পানির ওষুধ পাওয়া যায় সেটা খাওয়াতে পারেন এবং প্রাকৃতিক খাবার গুলো খাওয়াতে পারেন। তাছাড়াও শরীরে যেন ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ করতে না পারে, সেক্ষেত্রে শরীরকে অ্যান্টি বডি তৈরি করার জন্য ইলেকট্রোলাইট দেওয়া যেতে পারে।

তবে আপনার মুরগির বাচ্চা যদি বয়স ১০ থেকে ১৫ দিন হয়ে থাকে সেক্ষেত্রে যদি দেখেন মাথা ঝিমাচ্ছে তাহলে সর্বপ্রথম রোগ যদি সনাক্ত করতে না পারেন, তাহলে প্রথমে এমোক্সাসিলিন জাতীয় ওষুধটা দেওয়া যেতে পারে। এই গ্রুপের ওষুধটা যদি আপনি দিতে পারেন সে ক্ষেত্রে দেখবেন বাচ্চা ঝিমানো অনেকটাই কমে যাবে। এক্ষেত্রে অবশ্যই ১ লিটার পানির মধ্যে ১ গ্রাম করে ওষুধ মিশিয়ে খাওয়ানো যেতে পারে। তাছাড়াও পাশাপাশি স্যালাইন খাওয়ানো যাবে, স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ ভালো রাখতে হবে। এতে করে আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভালো থাকবে। সাধারণত মুরগির বাচ্চার ঠান্ডা লাগার কারণেই বেশিরভাগ সীমাতে থাকে। এজন্য ঠান্ডা যেন না লাগে সেদিকে তাপমাত্রা ভালো রাখতে হবে।

মুরগির বাচ্চার যদি পুষ্টির ঘাটতি থাকে সেক্ষেত্রে অনেক সময় ভিটামিনের অভাবে দেখা যায় বাচ্চা অসুস্থ হয়ে পড়ে। এছাড়াও ক্যালসিয়াম, ফসফরাস প্রোটিনের ঘাটতি থাকার কারণে বাচ্চা গুলো ঝিমাতে থাকে। এজন্য অবশ্যই মুরগিকে পুষ্টিকর খাবার দিতে হবে এবং প্রোটিনযুক্ত সবুজ শাকসবজি প্রচুর পরিমাণে দিলে দেখা যাবে মুরগির এই পুষ্টির ঘাটতি পূরণ হয়ে যাবে। মুরগির বিভিন্ন কারণে রোগব্যাধি হতে পারে, সে কারণেও ঝিমাতে পারে যেমন শ্বাসকষ্ট হতে পারে, রোগের লক্ষণ হিসেবে ঠান্ডা লাগতে পারে। এছাড়া ডায়রিয়া, নাক দিয়ে পানি পড়া কাশি ইত্যাদি কারণে সমস্যা দেখা দিতে পারে সেই ক্ষেত্রেও রোগের চিকিৎসা নিতে হবে।
মুরগির সাধারণত পরজীবী এর কারনেও ঝিমাতে পারে যেমন কৃমি এবং উকুন এই দুইটা কারণে অনেক সময় মুরগি অস্বস্তি বোধ করে এবং স্বাস্থ্যের সমস্যা করে। তার পুষ্টিগুলো নষ্ট করে দেয় যার কারণে পুষ্টির অভাবে মুরগির ঝিমাতে থাকে। তাই সঠিক সময়ে পরজীবী সংক্রমণ করার জন্য চিকিৎসা নিতে হবে। বিশেষ করে ২ মাস পর পর এবং প্রথম বাচ্চা অবস্থায় করা যেতে পারে, ক্রিমির ঔষধ খাওয়ালে দেখা যাবে পরজীবী থেকে মুক্তি পাবে এবং মুরগির সুস্থ হবে। মুরগি যদি বেশি তাপমাত্রা দিয়ে ফেলেন এবং বায়ু চলাচল যদি না করতে পারে। সেই ক্ষেত্রে কিন্তু মুরগির বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে এবং স্ট্রেস বেড়ে যেতে হয়, সেজন্য আচরণগত পরিবর্তন হতে পারে এ কারণেও মুরগির ঝিমাতে পারে।

মুরগির বাচ্চা সাধারণত সবসময় পানি দিয়ে রাখতে হবে, পানি শূন্যতা দেখা দিলে ডি হাইড্রেশনের সমস্যা হতে পারে। এতে করে তার শরীরে আবহাওয়া জনিত সমস্যা হতে পারে, দুর্বল রাখতে পারে এবং ঝিমাতে শুরু করে। তাই পরবর্তীতে এটার গুরুত্ব মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। এজন্য পরিষ্কার পানি খাওয়ানোর ব্যবস্থা করতে হবে। আপনার মুরগির খাদ্যের ভিতরে বিষাক্ত পদার্থ এবং বিষক্রিয়া আছে কিনা সেদিকে খেয়াল করতে হবে। এক্ষেত্রে যদি বিষক্রিয়া থাকে তাহলে কিন্তু খাবার খাওয়ার পরে ঝিমাতে পারে, বমি করতে পারে, ডায়রিয়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে, এজন্য দেশি মুরগির সাধারণত এই খাবারের মাঝে সমস্যার কারণেও কিন্তু ঝিমাতে পারে। তবে বিশেষ করে দেশে মুরগির ঠান্ডা কারণেই ঝিমাতে থাকে। এজন্য ঠান্ডা যেন না লাগে সেদিকে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

ঠান্ডা না লাগার কারণে ঠান্ডা রোগের প্রতিরোধ করার জন্য আপনি সপ্তাহে ২ থেকে ৩ বার আদা রসুন এর পানি বা খাবা্রের সাথে মিশিয়ে দিলে মুরগির ঠান্ডা লাগার সম্ভাবনা কম থাকে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। মুরগির ঝিমানো কোন রোগ নয় তবে তার ভিতরে বড় ধরনের রোগ হয়েছে যার কারণে সে ঝিমাচ্ছে। এজন্য আপনাকে আগে রোগ নির্ণয় করতে হবে তাহলে চিকিৎসা করলে মুরগির বাচ্চা আর ঝিমাবে না। অনেক সময় নাক দিয়ে পানি পড়তে পারে গড়গড় শব্দ করতে পারে এছাড়াও কাশি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, এই ক্ষেত্রে আপনি দ্রুত কার্যকরী প্রয়োজনীয় ওষুধ খাওয়ানো যেতে পারে। তবে ঘরোয়া পদ্ধতিতে চিকিৎসা করলে আদা রসুন মিশ্র করে খাওয়ালে অনেক সময় সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

মুরগির বাচ্চা যখন ঝিমানো শুরু করে সে ক্ষেত্রে দেখবেন মুরগি সাধারণত চাঞ্চল্যতা কমে যাবে, এছাড়াও খাওয়া-দাওয়া বন্ধ করে দিতে পারে এ ছাড়াও শুয়ে থাকে ঘুম ঘুম ভাবের মতো দেখা যায় চোখ বন্ধ করে থাকে ঝিমানো শুরু করে দেয়। এছাড়াও খাদ্য পানি খাওয়া সাধারণত বন্ধ করে দিতে পারে এবং আগ্রহ তেমন একটা থাকে না। এছাড়াও তাদের পালক গুলো ফুলে রাখে এবং আলাদা করে রাখার চেষ্টা করে। এই লক্ষণ গুলো যদি আপনি দেখতে পারেন তাহলে তার সঠিক চিকিৎসা নেওয়া যাবে। তবে লক্ষণ বুঝে আপনাকে রোগ নির্ণয় করতে হবে তাহলে চিকিৎসা দিলে দ্রুত মুরগির বাচ্চাগুলো সুস্থ হবে।

মুরগিকে সুস্থ রাখার জন্য এবং ঝিমানো বন্ধ করার জন্য তাকে সুষম খাদ্য দিতে হবে। পুষ্টিকর খাবার তৈরি করে দিতে হবে অথবা বাজারে বিভিন্ন ধরনের ভালো কোম্পানির সুষম খাদ্য পাওয়া যায়। সেগুলো আপনি ব্যবহার করে দেখতে পারেন, এছাড়াও শস্য প্রোটিন এবং তাজা শাকসবজি বিশুদ্ধ পানি খাওয়ার ব্যবস্থা করবেন। মুরগিকে নিয়মিতভাবে খাবার দেওয়ার পরে দেখতে হবে যে মুরগি খাচ্ছে কিনা এবং কিভাবে ঝিমাচ্ছে, কি কারনে ঝিমাচ্ছে এরপর চিকিৎসা নিতে হবে। এছাড়াও নিয়মিত যত্ন নিতে ও খেয়াল করতে হবে।

সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আপনার নিয়মিত পরিচর্যা করতে হবে, মুরগির বাচ্চাগুলোর আচরণ চেহারা এগুলো দেখে আপনাকে বুঝতে হবে যে কোন মুরগিটি অসুস্থ সে মুরগিটিকে দ্রুত আলাদা করে সাময়িকভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা নিতে হবে। এরপরে যদি সুস্থ না হয় তাহলে অবশ্যই ঝিমানো বাচ্চাটি একজন রেজিস্টার ভেটেনারি চিকিৎসকের নিকট নিয়ে যেতে হবে এবং সে দেখার পরে যে ওষুধ গুলো লাগবে সেগুলো খাওয়ার পরে আপনার মুরগির বাচ্চা সুস্থ হবে, চেষ্টা করবেন প্রাকৃতিক উপায়ে মুরগি পালন করার জন্য এতে করে তাদের রোগব্যাধি কম হয়ে থাকে।

মুরগির বাচ্চা যখন ঝিমাতে থাকে যদি আপনি বুঝতে না পারেন সে ক্ষেত্রে রোগ সনাক্ত করতে না পারলেও যদিও হালকা কোনো কারণে ঝিমাতে থাকে, সেই ক্ষেত্রে সিপ্রোফ্লাক্সিন নামের যে গ্রুপের ওষুধ রয়েছে সেগুলো আপনি খাওয়াতে পারেন। এক্ষেত্রে আড়াই মিলি ওষুধ ১ লিটার পানির সাথে মিশে খাওয়ালে ৫ থেকে ৭ দিন খাওয়ালে দ্রুতগতিতে সুস্থ হয়ে যাবে। ডক্সিসাইক্লিন গ্রুপের যে ওষুধগুলো পাওয়া যায় সেটা অর্থাৎ ডক্সিভেট নামের যে ওষুধটি পাওয়া যায়, সেটা আপনি ১ গ্রাম পানির মাঝে ১ গ্রাম ওষুধ ১ লিটার পানির মাঝে মিশিয়ে ৫ থেকে ৭ দিন খাওয়ালেও ঝিমানো রোগটা দূর হতে পারে।

তবে মনে রাখতে হবে যে প্রথমে ঔষধ কি আপনার পানির সাথে আলাদা করে বসিয়ে নিতে হবে। এরপরে ওষুধটি মিশ্রিত পানি অসুস্থ মুরগিকে খাওয়ানোর চেষ্টা করবেন, এছাড়াও আমরা ভাইরাসজনিত কোন জিনিসের সমস্যা হয়ে থাকে। ভাইরাস জনিত রোগের জন্য অবশ্যই নিয়মিত ভ্যাকসিন করতে হবে এবং সিডিউল অনুযায়ী ভ্যাকসিন করলে আপনার ভাইরাস জনিত রোগের তেমন একটা আক্রমণ করতে পারবে না। তবে মাঝে মাঝে অবশ্যই আপনাকে জীবাণু নাশক স্প্রে করতে পারেন। যাতে করে আপনার ভাইরাস আক্রমণ করতে না পারে, সাধারণত বিভিন্ন মুরগির সাথে মেলামেশা করার কারণেও দেখা যাচ্ছে যে ভাইরাস আক্রান্ত হতে পারে। সেজন্য অন্যান্য মুরগি থেকে আলাদা করার চেষ্টা করবেন এবং খাঁচায় অথবা অর্ধ নেট দিয়ে পালন করার চেষ্টা করবেন।

লেখক, মোঃ মাহমুদুল ইসলাম।
দীর্ঘ ৪ বছর যাবত এই মুরগি পালনের সাথে যুক্ত রয়েছি। আশা করি যে চিকিৎসা সম্পর্কে পরামর্শ দেওয়া হল। যদি আপনি সঠিকভাবে পরিচালনা করতে পারেন সে ক্ষেত্রে মুরগির বাচ্চা সুস্থ থাকবে।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

এম আর মাহমুদ ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url
Md. Mahmudul Islam
Md. Mahmudul Islam
আমি ডিজিটাল মার্কেটিং এক্সপার্ট ও সরকারি চাকরি করি। আমি অনলাইনে বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করে ইনকাম করি, এছাড়াও ব্লগিং, SEO ও টেকনোলজি বিষয় নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করি। এই কাজের উপর আমার ৩ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে।