দেশি মুরগির কৃমির ওষুধ খাওয়ার নিয়ম সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানুন

দেশি মুরগির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো কৃমি মুক্ত করা। তাই দেশি মুরগির কৃমির ওষুধ খাওয়ার নিয়ম সম্পর্কে যদি আপনার সঠিক ধারণা না থাকে, তাহলে মুরগি অসুস্থ হবে। চলুন, কিভাবে কৃমির ওষুধ খাওয়াবেন সে সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে জেনে নেওয়া যাক।
ছবি
আমাদের গ্রাম অঞ্চলে সাধারণত যে দেশী মুরগী গুলো ছেড়ে পালন করা হয়। তাদের সাধারণত কৃমির ওষুধ খাওয়ানো হয় না, তাই দেশি মুরগির কৃমির ওষুধ খাওয়ার নিয়ম সম্পর্কে বিস্তারিত জানার জন্য আর্টিকেলটি মনোযোগ দিয়ে পড়ুন।

দেশি মুরগি কৃমি মুক্ত করার পূর্বে আপনাকে সঠিক তথ্য জানতে হবে। কেননা কখন কৃমির ওষুধ খাওয়াবেন কিভাবে খাওয়াবেন ইত্যাদি সম্পর্কে যদি ধারণা না থাকে, তাহলে আপনার মুরগির ক্ষতি হবে। মুরগির যদি কৃমি হয়ে থাকে সে ক্ষেত্রে মুরগি আস্তে আস্তে শুকিয়ে যাবে, ওজন কমতে থাকে, খাবার কম খায়, রুচি কমে যায়। তাছাড়াও এই মুরগিগুলোর পুষ্টি কমে যায়, কেননা কৃমি তার পুষ্টিগুলো খেয়ে ফেলে। এছাড়া যদি ডিম পাড়া মুরগি হয়ে থাকে সে ক্ষেত্রে ডিম কম দেবে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাবে। এতে করে অসুস্থ হয়ে মারা যেতে পারে, অনেক সময় বিভিন্ন রোগের ওষুধে কাজ করে না। কেননা কৃমি যদি ওষুধ খেয়ে ফেলে তাহলে মুরগির কাজ করবে না।

মুরগির বিভিন্ন ধরনের কৃমি হয়ে থাকে তার মধ্যে সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ গোল কৃমি, যা মুরগির শরীরের ভিতর দীর্ঘদিন যাবৎ বসবাস করতে থাকে এবং এই কৃমি গুলো অনেক লম্বা হয়ে থাকে। যার কারণে মুরগির মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। যখন একটি মুরগির বয়স পরিপূর্ণ হয়ে যায় সে ক্ষেত্রে মুরগি খাদ্যনালীতে কৃমি ডিম পাড়তে থাকে। যা পায়খানার মাধ্যমে কৃমির ডিম গুলো বের হয়ে যায়। এখান থেকে খাদ্যের লিটার পানিতে দূষিত হয়ে যায়। এতে করে দূষিত খাদ্য পানি যদি ভালো মুরগী গুলো খেয়ে ফেলে তাহলে তাদের শরীরেও প্রবেশ করে এবং সুস্থ মুরগি গুলো কৃমিতে আক্রান্ত হতে পারে।

কৃমির কারণে মুরগির বিভিন্নভাবে ক্ষতি করে এবং বিভিন্ন লক্ষণ দেখা দিতে পারে, যেমন মুরগির মাথার উপরে যে ঝুটি থাকে সেটা সাদা হয়ে যেতে পারে এবং ফ্যাকাসে দেখা যায়। তাছাড়া রক্তশূন্যতার অভাব দেখা যায়, বুকের হাড় গুলো বের হয়ে যায়, মুরগিগুলো শুকাতে থাকে, মুরগির পালক গুলো ভালো থাকে না, মুরগির ওজন বাড়তে বাধা প্রাপ্ত হয়। ডিম পাড়া মুরগিগুলো ডিম পাড়া বন্ধ করে দিবে, মাঝে মধ্যে মুরগির পাতলা পায়খানা করতে পারে। এই ধরনের লক্ষণগুলো দেখলে দ্রুত আপনাকে কৃমির ডোজ করা লাগবে। তাহলে মুরগির সুস্থ থাকবে যদি আপনি কৃমি মুক্ত না করতে পারেন, তাহলে এই মুরগি থেকে লাভ করতে পারবেন না।

কৃমির ওষুধ কখন খাওয়াবেন এবং কিভাবে খাওয়াবেন সেটা সম্পর্কে আপনাকে বিস্তারিত ভাবে জানতে হবে। কৃমির ওষুধ খাওয়ানোর নিয়ম হলো ঠান্ডা আবহাওয়া থাকতে হবে, যদি গ্রীষ্মকাল হয়ে থাকে সে ক্ষেত্রে অবশ্যই যেদিন বৃষ্টি নামে সেদিন খাওয়াতে পারেন। তাহলে ভালো হবে এবং ঠান্ডা আবহাওয়া থাকবে আর যদি বৃষ্টি নাই হয় তাহলে গরমের দিনে ভোরবেলা খাওয়ানো যেতে পারে অথবা রাত্রিতে আবহাওয়া যখন ঠান্ডা হয় সে ক্ষেত্রে কৃমির ওষুধ খাওয়ানো যেতে পারে। তবে এই ক্ষেত্রে একটু আগে খাবার দেবেন যাতে করে হজম হয়ে যায়, এছাড়াও আবহাওয়া যদি ঠান্ডা হয় তাহলে কৃমির ওষুধ খাওয়ালে ভালো কাজ করে।

বাজারে বিভিন্ন ধরনের কৃমির ওষুধ পাওয়া যায় তার মধ্যে সবথেকে বেশি ব্যবহার করা হয়। পেরাভেট নামের ওষুধটি খাওয়ানো যেতে পারে, তবে খাওয়ানোর পূর্বে অবশ্যই মুরগির ওজন হিসেবে ওষুধের পরিমাণ নির্ধারণ করতে হবে। সাধারণত ওষুধের গায়ে লেখা থাকে তবে ১ কেজি মুরগির ওজনের জন্য ০.০৮ গ্রাম ওষুধ খাওয়ানো যেতে পারে। এক্ষেত্রে আপনার কতগুলো মুরগী রয়েছে সেগুলোর ওজন কত কেজি হতে পারে সে অনুযায়ী ওষুধের পরিমাণ গুণ করে এই পরিমাণ ওষুধ পানির সাথে মিশাতে হবে। এখন প্রশ্ন আসে পানি কতটুকু দিবেন এই ক্ষেত্রে আপনি আগের দিন পানি বিকালে বন্ধ করে দিবেন, পরবর্তী দিন সকালবেলা পানির পরিমাণটা খেয়াল করবেন কতটুকু খাচ্ছে।

আপনার মুরগি কতটুকু পানি খাচ্ছে সেটা পরিমাণ করে রেখে দিবেন, তাহলে পরবর্তী দিনে একটি ধারণা পাবেন এরপরে আগের দিন অবশ্যই পানির পাত্র বিকেল বেলা পানির পাত্র সরিয়ে ফেলবেন সকালবেলা দেখবেন প্রচুর পরিমাণে পানি খাবে। এই ক্ষেত্রে ওষুধের কাজটা ভালো করবে তত দ্রুত ওষুধ কাজ করতে থাকে। তবে ওষুধ মেশানোর পরে সাধারণত ২ থেকে ৩ ঘণ্টার মধ্যে খাওয়ানোর চেষ্টা করবেন। এরপরে যদি অবশিষ্ট পানি থাকে তাহলে সেই পানিগুলো ফেলে দিতে হবে। এরপরে মুরগিকে অবশ্যই সাদা পানি দিবেন তারপরে একদিন পরে অবশ্যই লিভার টনিক দিতে হবে তাহলে মুরগির লিভার ভালো থাকবে।
যখন আপনি কৃমির ওষুধ খাওয়াবেন সেই ক্ষেত্রে পরের দিন থেকে লিভার টনিক দেওয়া শুরু করবেন। বাজারে বিভিন্ন ধরনের লিভার টনিক পাওয়া যায় লিভা ভিট এছাড়াও লিভা টোন আরো বিভিন্ন নামে পাওয়া যায়। সেই ধরনের ওষুধ গুলো খাওয়াতে হবে ১ গ্রাম ঔষধ ১ লিটার পানির মাঝে গলিয়ে খাওয়ানো যেতে পারে। তবে কৃমির ওষুধ খাওয়ানোর পরে যদি বমি করে সেক্ষেত্রে খাবার স্যালাইন দেওয়া যেতে পারে। এই ক্ষেত্রে ২ গ্রাম খাবার স্যালাইন এর সাথে ১ লিটার পানি মিশিয়ে খাওয়ানো যাবে। এছাড়া লিভার টনিক আপনি সাতদিন পর্যন্ত খাওয়াতে পারবেন।

দেশি মুরগিকে অবশ্যই আপনি ২ মাস পর পর কৃমির ওষুধ খাওয়াবেন। এতে করে আপনার মুরগিগুলো ভালো থাকবে। তবে কৃমির ওষুধ খাওয়ানোর পর লিভার টনিক দিবেন। তারপর ১৪ দিন পর আবার আপনি বুস্টার ডোজ হিসাবে আবার কৃমির ওষুধ খাওয়ানো যেতে পারে। এক্ষেত্রে কৃমির একেবারে মুক্ত হয়ে যাবে। তবে খুবই সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে যে নতুন মুরগি যদি ২-১ দিনের মধ্যে ডিম পারবে এই ধরনের মুরগিকে সাধারণত কৃমির ওষুধ পরবর্তীতে দিলে অনেক ভালো হবে। এছাড়া অসুস্থ মুরগিকে কখনোই আপনি কৃমির ওষুধ খাওয়াবেন না, পরবর্তীতে সুস্থ হলে তাকে আলাদাভাবে কৃমির ওষুধ খাওয়ানো যেতে পারে।

আবার অনেকেই বাজার থেকে নতুন মুরগি কিনে নিয়ে আসে সে ক্ষেত্রে অবশ্যই এই মুরগির কৃমির ডোজ করতে হবে। কেননা তারা কৃমি ডোজ করেছে কিনা সেটা আপনার জানা নেই এবং এই ধরনের মুরগিগুলোকে সাধারণত বুস্টার ডোজ সহ করাতে হবে। কৃমির ওষুধ খাওয়ানোর পূর্বে অবশ্যই দুই-তিন ঘন্টা পানি বন্ধ রাখবেন। তবে নতুন মুরগিকে সাধারণত ৪০ দিন পরেই কৃমি ডোজ করা লাগবে। তবে এক্ষেত্রে অবশ্যই খালি পেটে করলে সবচাইতে ভালো কাজ করে থাকে। তবে কোন মতেই তিন ঘন্টা যেন পার না হয় সেদিকে খেয়াল রাখবেন, তাহলে ওষুধের কার্যকারিতা নষ্ট হয়ে যাবে।

যদি আপনার মুরগিগুলো পানি খেতে না চায় সেক্ষেত্রে আপনি ১ মিলি করে পানি তুলে সরাসরি খাওয়ায়ে দিতে পারেন। এক্ষেত্রে দেখবেন মুরগির দ্রুত কাজ করতে থাকবে। বিশেষ করে সিরিঞ্জ দিয়ে আপনি খাওয়াতে পারেন তবে যদি বেশি মুরগী হয়ে থাকে সেক্ষেত্রে কিন্তু খাওয়ানো সম্ভব নয়। এক্ষেত্রে অবশ্যই আগের দিন পানি না খেয়ে রাখবেন দেখবেন সকাল বেলা প্রচুর পরিমাণে পানি খাবে। তবে আরেকটি বিষয় খেয়াল রাখবেন প্রথমে যে কৃমির ওষুধটা খাওয়ালেন তারপরের বার অন্য কৃমির ওষুধ খাওয়াবেন তাহলে ওষুধটা দ্রুত কাজ করবে।

যদি আপনার দেশি মুরগি কুচে বসে থাকে সেই ক্ষেত্রে এই সকল মুরগিগুলোকে ১ এমএল সিরিঞ্জ দিয়ে পানি উঠিয়ে খাওয়ানো যেতে পারে। এতে করে দ্রুত কাজ করবে, এছাড়াও যদি কোন বাচ্চার সাথে মা থাকে সেই সকল মুরগিগুলোকে আপনি সিরিঞ্জ দিয়ে পানি উঠিয়ে খাওয়ানো যেতে পারে। তাহলে দ্রুত কাজ করবে কেননা একটি মুরগির কৃমি মুক্ত না করতে পারেন তাহলে সম্পন্ন খামারে ছড়িয়ে পড়বে এবং সকল সুস্থ মুরগি গুলো অসুস্থ হয়ে পড়বে। তাই কৃমির ওষুধ প্রত্যেকটিকে খাওয়াতে হবে, শুধুমাত্র ছোট বাচ্চাদের ব্যতীত।

আজকের এই পোস্টটি লিখেছেন, মোঃ মাহমুদুল ইসলাম।
দীর্ঘদিন যাবত এই বিষয়ে কাজ করে যাচ্ছি, যার কারণে অনেক অভিজ্ঞতার আলোকে এই পোস্টটি লেখা হয়েছে। যাতে করে আপনাদের উপকার হয়, মনোযোগ সহকারে আজকের এই পোস্টটি পড়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

এম আর মাহমুদ ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url
Md. Mahmudul Islam
Md. Mahmudul Islam
আমি ডিজিটাল মার্কেটিং এক্সপার্ট ও সরকারি চাকরি করি। আমি অনলাইনে বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করে ইনকাম করি, এছাড়াও ব্লগিং, SEO ও টেকনোলজি বিষয় নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করি। এই কাজের উপর আমার ৩ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে।