পরীক্ষা ভালো রেজাল্ট করার ১০টি আমল ও দোয়া করার নিয়ম সম্পর্কে জানুন
পরীক্ষার্থীরা সাধারণত পরীক্ষা ভালো করতে চায় কিন্তু পরীক্ষা ভালো রেজাল্ট করার আমল সম্পর্কে হয়তো অনেকেই জানেনা। যদি সঠিকভাবে আমল করতে পারে তাহলে ভালো পরীক্ষা হবে। চলুন, পরীক্ষার ভালো করার আমল সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।
প্রত্যেকটা পরীক্ষার্থী পরীক্ষা দেওয়ার পূর্বে অনেক মানসিক চিন্তায় থাকে, যার কারণে অনেকের ভালো প্রস্তুতি থাকা সত্ত্বেও পরীক্ষা ভালো হয় না। এইজন্য ভালো করার জন্য আমল করতে হবে। তাই পরীক্ষা ভালো রেজাল্ট করার আমল সম্পর্কে জানতে আর্টিকেলটি মনোযোগ দিয়ে পড়ুন।
পোস্টসূচিপত্রঃপরীক্ষা ভালো রেজাল্ট করার ১০টি আমল ও দোয়া করার নিয়ম সম্পর্কে জানুন
পরীক্ষা ভালো রেজাল্ট করার আমল
অনেকে জানেনা পরীক্ষা ভালো রেজাল্ট করার আমল সম্পর্কে। তাই কিভাবে আপনি আমল করলে আল্লাহ তা'আলা আপনার পরীক্ষার রেজাল্ট ভালো করে দিবে সে সম্পর্কে জানা প্রয়োজন। চলুন, পরীক্ষার ভালো করার আমল করার টেকনিক সম্পর্কে জানা জেনে নেওয়া যাক।
ছাত্র জীবনের সবারই পরীক্ষা দিতে হবে তাই পরীক্ষা সবার কাছেই কঠিন মনে হয়। এতে অনেকেই পরীক্ষার টেনশন করে খাওয়া দাওয়া বন্ধ করে দেয় আবার অনেকের ঘুম ঠিক মত হয় না। অনেক দুশ্চিন্তা করে থাকে, তাড়াহুড়া করে পড়াশোনা করতে থাকে এক্ষেত্রে তাদের ভালোভাবে প্রস্তুতি নেওয়া হয় না। এই সময় অভিভাবক চিন্তিত থাকে, পরীক্ষা আসলে পরীক্ষার্থীদের অস্থিরতা শুরু হয়ে যায়। এক্ষেত্রে ইসলাম সুন্দর দিক নির্দেশনা দিয়েছে। চলুন, সেই দিক নির্দেশনাগুলো সম্পর্কে এবং আমলগুলো সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক। এই আমল পালন করলে আশা করি সফলতা অর্জন করবেন।
প্রথমত আপনাকে ভালো রেজাল্ট করতে হলে ভালোভাবে পড়াশোনা করতে হবে, অলসতা করা যাবে না। এজন্য ভালোভাবে পড়াশোনা এবং পরিশ্রম করতে হবে। কেননা কোরআন শরীফে বলা হয়েছে সবার জন্যই মর্যাদা রয়েছে তাদের কর্ম অনুযায়ী আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে কর্মের পূর্ণ প্রতিফলন দিবে এবং তাদের প্রতি কোন জুলুম করা হবে না। (সূরা আল আহকাফ আয়াত নাম্বার ১৯)। এছাড়াও হাদিস শরীফে বলা হয়েছে যে, রাসূল সাঃ বলেছেন যে ব্যক্তি তার আমল পিছিয়ে রাখবে তার বংশ পরিচয় তাকে মনে রাখবে না এবং সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারবে না। সহীহ মুসলিম শরীফ হাদিস নাম্বার ৭০২৮।
দ্বিতীয়ত যেহেতু আমরা মুসলমান সেক্ষেত্রে অবশ্যই আল্লাহর উপর ভরসা করব। কেননা আল্লাহতালা সকল কিছু ক্ষমতার অধিকারী, তাই তাঁর ওপর ভরসা করে সুন্দরভাবে প্রস্তুতি নেব, তাহলে এই পরীক্ষাতে ভালো করতে পারবো। কেননা কোরআন শরীফে বলা হয়েছে যে ব্যক্তি আল্লাহর উপর ভরসা করবে আল্লাহ তার জন্য যথেষ্ট। (সূরা তালাক আয়াত নাম্বার ৩)। আল্লাহর উপর ভরসা করা হলো যে আপনি ভরসা করেই পড়ে থাকবেন তা কিন্তু না আপনাকে অবশ্যই পড়ালেখা করতে হবে। আল্লাহ তাআলা আপনাকে এই পরিশ্রমের বিনিময়ে আপনার সফলতা দান করবেন।
তাছাড়া ইবনে আব্বাস রাঃ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, কিছু লোকজন হজ করতে যখন যেত তাদের সাথে কিছু নিয়ে আসতো না, বিশেষ করে ইয়ামিনের কিছু লোকজন হজে যেত কিন্তু কোন কিছু অর্থ নিয়ে আসতো না। এক্ষেত্রে তারা আল্লাহর উপর ভরসা করে রাখত অথচ তাদের ভিক্ষা করা লাগতো। এজন্য আল্লাহতালা আয়াত নাজিল করলেন, তোমরা হজ্জের সফরে অবশ্যই সাথে কিছু পাথেয় নিয়ে যাবে। কেননা তাকওয়া হলো উত্তম পাথেয়। (আবু দাউদ হাদিস নাম্বার হাদিস নাম্বার ১৭৩০)। তাই হাদিস দ্বারা প্রমাণিত হয় যে আল্লাহর উপর ভরসা করতে হবে এবং সঙ্গে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার চেষ্টা করতে হবে।
যখন পরীক্ষা দিতে যাবেন সেক্ষেত্রে দুই রাকাত সালাতুল হাজত নামাজ পড়ে নিবেন। এই ধরনের নফল নামাজ পড়লে আল্লাহ তায়ালা খুশি হয়ে থাকেন এবং আল্লাহর উপর ভরসা করে পরীক্ষা দিবেন। এতে আল্লাহতালা আপনার সফলতা দান করবেন। কেননা রাসূল সাঃ যখন কঠিন কোন সমস্যার সম্মুখীন হন, তখন সালাতুল হাজত এই নামাজটি পড়তেন। (আবু দাউদ ১৩১৯)। এই নামাজ পড়ার নিয়ম অন্যন্য নামাজের মত নির্দিষ্ট কোন সূরা পড়তে হবে না। সাধারণত নফল নামাজ পড়ার মতো দুই রাকাত নামাজ পড়ে নেবেন এবং আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করবেন।
তৃতীয়ত যেকোনো কাজ তাড়াহুড়া করবেন না, এতে আপনার ভুল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকবে। যারা তাড়াহুড়া করে কাজ করে তাদের আসলে শয়তানি অভ্যাস থাকে। কেননা রাসূল সাঃ বলেছেন কাজের মধ্যে ধীরস্থিরতা নিয়ে আসে আল্লাহতালা পক্ষ হতে আর তাড়াহুড়া কাজ করা শয়তানের পক্ষ থেকে আসে। (সুনানে বায়হাকী ২০৭৬৭)। তাই কখনো তাড়াহুড়া করে কাজ করার চেষ্টা করবেন না। এ ধরনের কাজ মহান আল্লাহতালা পছন্দ করেন না। তোমাদের প্রত্যেক ব্যক্তির দোয়া কবুল হবে যদি সে তাড়াহুড়া না করে তাহলে আমি তার জন্য দোয়া করব। বুখারী শরীফঃ ৬৩৪০
যে কোন কাজ করার শুরুতে আমরা অবশ্যই বিসমিল্লাহ বলবো। পরীক্ষার্থীরা যখন প্রশ্ন উত্তর করতে যাবেন সেক্ষেত্রে অবশ্যই বিসমিল্লাহ বলার চেষ্টা করবেন। তাছাড়া সাথে দুরুদ শরীফ পড়তে পারেন এবং আল্লাহর নাম দশবার পাঠ করবেন, বিসমিল্লার ব্যাপারে মহান আল্লাহ হাদীস শরীফে বর্ণনা করেন যে আল্লাহর নাম নিয়ে যদি কোন কাজ শুরু করা যায় সে ক্ষেত্রে বরকত শুরু হয়, আর যদি বিসমিল্লাহ না বলা হয় সে ক্ষেত্রে সে কাজের কোন বরকত নাই। তাছাড়াও অবশ্যই পরীক্ষা দেওয়ার পূর্বে আল্লাহ তাআলার নিকট সাহায্য প্রার্থনা করতে হবে এবং রাব্বি জিদনী এলমা এ দোয়া পাঠ করবেন।
অবশ্যই পরীক্ষা দেওয়ার সময় যদি কোন প্রশ্ন মনে না পড়ে সে ক্ষেত্রে কিছু দোয়া পাঠ করতে পারেন। তার মধ্যে হে আল্লাহ তুমি আমার অন্তর প্রশস্ত করে দাও যেন আমার কাজগুলো সহজ করে করতে পারি। আমি স্পষ্ট ভাবে কথা বলতে পারি। (সূরা তোহা আয়াত)। মৌখিক পরীক্ষার ক্ষেত্রে এই দোয়া পাঠ করতে পারেন। তাছাড়া পরীক্ষার সময় কখনই নকল করার চেষ্টা করবেন না। এটা আসলে শয়তানের কাজ, একজন ভালো মানুষকে কখনো এ ধরনের কাজ করতে পারে না। কেননা রাসুল সাঃ বলেছেন যে প্রতারণা করবে সে আমাদের দলে না। মুসলিম শরীফ ১০২
উপরোক্ত এই আমল গুলো করলে আপনি সহজভাবে পরীক্ষা দিতে পারবেন এবং সফলতা অর্জন করবেন। তাছাড়া পরীক্ষায় ভালো করার জন্য অবশ্যই ভালো প্রস্তুতি নিতে হবে। সুন্দর করে গুছিয়ে লিখতে হবে, এছাড়াও হাতের লেখা সুন্দর হতে হবে। আল্লাহর দরবারে সবসময় প্রার্থনা করতে হবে, মূলত কোন চিন্তা ভাবনা করা যাবে না, দুনিয়াবী টেনশন করার যাবেনা। পরীক্ষার কেন্দ্রে সবসময় শুধুমাত্র পরীক্ষার বিষয় নিয়েই আপনাকে টেনশন করতে হবে, তাহলে আপনি সহজ ভাবে পরীক্ষার প্রশ্নগুলো উত্তর দিতে পারবেন। আর যদি সকল চিন্তা করেন সেই ক্ষেত্রে পরীক্ষা ভালো হবে না।
পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করার দোয়া
অনেকে জানতে চায় পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করার দোয়া কিভাবে করতে হয়। তাই পরীক্ষায় ভালো করার দোয়া সম্পর্কে মহান আল্লাহতালা কিভাবে শিখিয়ে দিচ্ছেন। চলুন, সে সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।
মহান আল্লাহতালার কাছে পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করার জন্য সবচেয়ে একটি দোয়া যেটা করলে আপনার মেধা শক্তি বৃদ্ধি করে দেবে। তাহলো; রাব্বি জিদনি ইলমা, এই দোয়াটা করতে পারেন। এই দোয়া করলে আল্লাহ তায়ালা আপনার মেধা শক্তি বৃদ্ধি করে দেবে এবং পরীক্ষায় ভালো করতে পারবেন। এছাড়া আরো একটু দোয়া করতে পারেন সেটা হল; হে আল্লাহ তুমি আমার মেধা শক্তি বৃদ্ধি করে দাও, তাছাড়াও তুমি আমাকে পরীক্ষা সহজ করে দাও যেন আমি প্রত্যেকটা পরীক্ষাতে ভালো করতে পারি। হে আল্লাহ তুমি আমার সকল ধরনের সমস্যার সমাধান করে দাও, যা আমার জন্য কল্যাণকর।
পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করার উপায়
অনেকে জানতে চায় যে, পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করার উপায় সম্পর্কে। আসলে পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করার জন্য ইসলামী জ্ঞান থাকা প্রয়োজন। চলুন, এ বিষয়ে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।
পরীক্ষায় ভালো করার জন্য প্রথমত আপনি যে বিষয়গুলো পড়বেন, সেগুলো সুন্দর করে সাজিয়ে গুজিয়ে রাখতে হবে। তাহলে আপনি সহজ ভাবে যেকোনো সময় পড়তে পারবেন। পরীক্ষায় ভালো করার জন্য সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ উপায় হল; যখন আপনি মুখস্থ করবেন সঙ্গে সঙ্গে লিখে রাখবেন। কেননা লিখে রাখলে আপনার অতি তাড়াতাড়ি মুখস্থ থাকবে এবং পরীক্ষার খাতায় সুন্দরভাবে লিখতে পারবেন। তাই যে পড়াটাই পড়েন না কেন সেটা লেখার অভ্যাস করবেন। যখন আপনি পড়াশোনা করবেন তখন লেখার চেষ্টা করবেন।
তবে লেখা শেষ হলে অবশ্যই চেক দিবেন যদি কোথাও ভুল হয়ে থাকে তাহলে সেটা পরবর্তীতে মনে থাকবে ভালো। কেননা লেখা গুলো আপনি সংশোধন করতে পারবেন, বারে বারে লিখলে সঠিক হবে।এছাড়া চেষ্টা করবেন কয়েকজন মিলে গ্রুপ স্টাডি ভাবে লেখাপড়া করার। কেননা এতে পড়াশোনা সহজ হবে এবং আপনি যে জিনিসটা বুঝবেন না, আর একজন সেই জিনিসটা আপনাকে সহজ ভাবে বোঝানোর চেষ্টা করবে। এতে আপনার জটিল বিষয় সহজ হবে। চেষ্টা করবেন হ্যান্ড নোট করার, এক্ষেত্রে বাড়িতে সুন্দর করে সাজিয়ে গুজিয়ে লিখলে দেখবেন আপনার সহজভাবে মুখস্থ হবে।
এছাড়া পড়া গুলো আপনি গ্রুপ স্টাডি করে এবং ক্লাসের টিচার থেকে শিখে নিবেন। সেগুলো সুন্দর করে বাসায় নোট করবেন, এরপর আপনার ক্লাস টিচারকে সেই নোট দেখাতে পারেন। যদি সেটা পরীক্ষার খাতায় লিখলে খুব ভালো নম্বর পাবেন। আর যদি কোন সমস্যা থাকে তাহলে শিক্ষক আপনাকে সমাধান করে দেবে। তাই নোট করার কোন বিকল্প নেই, সকল কিছু গুছিয়ে রেখে পরীক্ষার খাতায় খুব সুন্দরভাবে উপস্থাপন করতে হবে। লেখা যেন কাটাকাটি না হয়, ভুল যেন না হয় এবং স্বচ্ছ ভাবে লেখা থাকতে হবে, তাহলে আপনি ভালো নম্বর পাবেন।
ভালো রেজাল্ট করার রুটিন
আপনার ভালো রেজাল্ট করার জন্য অবশ্যই একটা রুটিন থাকতে হবে। তাই ভালো রেজাল্ট করার রুটিন সম্পর্কে জানা প্রয়োজন। চলুন, কিভাবে রুটিন তৈরি করবেন সে সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।
প্রথমত সহজ বিষয়গুলো নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে এবং প্রত্যেকটা বিষয়ে আলাদা আলাদা সময় বের করে নিতে হবে। এরপরে আপনার খাওয়া দাওয়া ঘুমানো সকল কিছুই সময় তৈরি করতে হবে। এছাড়াও আপনি যখন পড়তে বসবেন সেই ক্ষেত্রে পড়ার মাঝে কিছু সময় গ্যাপ রাখবেন। এতে একটু বিরতি নিতে হবে, তাহলে আপনার মেধাটা ভালো থাকবে এবং স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি পাবে। তাহলে পড়াগুলো মুখস্থ হবে, একটানা কখনোই পড়তে যাবেন না। এতে আপনি অসুস্থ হয়ে যাবেন, পাশাপাশি বিরতির সময় কিছু হালকা নাস্তা করে নিতে পারেন। এতে আপনি শরীরে শক্তি পাবেন ও পড়াশুনা আগ্রহ হবে।
এছাড়া আপনি অবশ্যই নোট তৈরি করবেন, সেগুলো এক সপ্তাহের মধ্যে শেষ করার টার্গেট নিবেন। এছাড়াও মুখস্ত বিদ্যা গুলো ভালোভাবে পড়ার চেষ্টা করবেন। প্রত্যেকটা অধ্যায় বুঝে শুনে তারপরে পড়ার চেষ্টা করবেন এবং এর মাঝে কখনোই ফোন চালানো যাবে না। এতে আপনার পড়াশোনার মনোযোগ হারিয়ে যাবে, সেক্ষেত্রে আপনি নির্দিষ্ট একটি সময় বের করবেন যে সময় আপনার কোন অসুবিধা হবে না। পর্যাপ্ত পরিমাণ পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে এবং পাশাপাশি ঘুমের দিকে খেয়াল রাখতে হবে। একজন সুস্থ মানুষের ছয় ঘন্টা ঘুমাতে হবে। তাছাড়াও দুর্বল বিষয়গুলো চিহ্নিত করে বারে বারে পড়তে হবে।
পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করার টেকনিক
অনেকে রেজাল্ট কিভাবে ভালো করবে সেই টেকনিক গুলো জানে না। তাই পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করার টেকনিক সম্পর্কে আপনার জানা থাকলে সুবিধা হবে। চলুন, এ বিষয়ে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।
পরীক্ষায় ভালো করার আরো একটি টেকনিক হল বিভিন্ন কালারের কলম নিবেন, যে পড়াগুলো আপনি ভালোভাবে বুঝবেন না, সেগুলো আন্ডারলাইন করে রাখলে সেই পড়াগুলো বারে বারে নজরে আসবে এবং মুখস্থ হবে। অবশ্যই আপনার হাতে সময় রেখে কিভাবে অল্প সময়ের মধ্যে সম্পন্ন সিলেবাস গোছানো যায় সেরকম একটি পরিকল্পনা তৈরি করবেন। সেই অনুযায়ী পড়লে অতি দ্রুত রিভিশন দিতে পারবেন। আপনার কোন বিষয় যদি কঠিন মনে হয় তাহলে অবশ্যই একজন টিচারের সাথে দেখা করবেন, এতে জটিল বিষয়গুলো সহজ করে দিবে। কখনোই ভয় পাবে না, তাহলে ভালোভাবে লিখতে পারবেন না।
আপনার বই এর যে মূল বিষয়গুলো রয়েছে সেগুলো অবশ্যই কালার কলম দিয়ে আন্ডার লাইন করে রাখবেন। আপনি যেভাবে সময়ের মধ্যে মুখস্ত করতে পারবেন এবং লিখতে পারবেন, সেভাবে পরিকল্পনা করবেন। আপনি ঘড়ির সময় ধরে নিজেই পরীক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করবেন, তাহলে পরীক্ষাতে দ্রুত লিখতে পারবেন।
চাকরির পরীক্ষায় পাশ করার দোয়া
কিভাবে পড়লে ভালো করতে পারবেন, সে সম্পর্কে জানতে হবে। তাই চাকরির পরীক্ষায় পাশ করার দোয়া সম্পর্কে জানতে হবে। চলুন, কিভাবে পড়লে আপনি অতি দ্রুত পাশ করতে পারবেন এবং চাকরি হবে সে সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।
অনেকে চাকরি পরীক্ষায় লিখিত পাস করলেও ভাইভা পরীক্ষা থেকে শুধু বাদ পড়ে যায়। এতে অনেক কষ্ট লাগে। তাই ভাইবা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য বা পাস করার জন্য অবশ্যই আপনাকে আগে থেকে প্রস্তুতি নিতে হবে। সেজন্য যে বিষয়ে আপনি পরীক্ষা দিচ্ছেন সে বিষয়ে জানতে হবে। সকল বিষয় সম্পর্কে জানতে হবে। আপনি সেই বিষয়গুলো নিয়ে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজে নিজেই অনুশীলন করবেন। আস্তে আস্তে দেখবেন আপনার ভালো একটি পারফরম্যান্স চলে আসবে। পরীক্ষায় ভাইভা যখন দেবেন তখন নিজেকে কখনোই মানসিক টেনশন করবেন না।
আপনি পরীক্ষার জন্য যে দোয়াটি করতে পারবেন তা হল; আল্লাহ তুমি আমার অন্তরকে প্রশস্ত করে দাও এবং সহজ করে দাও, জটিল বিষয়গুলো সহজ করে দাও, আপনি যদি আল্লাহতালার কাছে এভাবে দোয়া করতে পারেন। তাহলে অতি সহজেই বিষয়গুলো সহজ করে দেবেন। তাছাড়াও আল্লাহর কাছে প্রার্থনার মাধ্যম হলো আপনি নামাজ পড়ে আল্লাহর কাছে বারে বারে আপনার কাছে কঠিন মনে হয়, সে বিষয়টি সহজ করার জন্য প্রার্থনা করবেন। আল্লাহতালা আপনার দোয়া কবুল করবেন, ভাইভা পরীক্ষার আগে অবশ্যই সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করবেন যেন আপনার পরীক্ষা ভালো হবে।
পরীক্ষায় a+ পাওয়ার দোয়া
প্রত্যেকটা ছাত্রের আশা থাকে এ প্লাস পাওয়ার, তবে পরীক্ষায় a+ পাওয়ার দোয়া সম্পর্কে হয়তো অনেকের জানা নাও থাকতে পারে। চলুন, কিভাবে পড়লে আপনি এ প্লাস পাবেন সে সম্পর্কে বিস্তারিত ভাবে জেনে নেওয়া যাক।
পরীক্ষায় ভালো করার জন্য আপনার আত্মবিশ্বাসকে মজবুত করতে হবে। কেননা আত্মবিশ্বাস থাকলেই আপনি ভালো করতে পারবেন। তাছাড়াও এ প্লাস পাওয়ার জন্য যে বিষয়গুলো আপনাকে জানতে হবে। তাহলে প্রথমত আপনার পড়াশোনাকে ভাগ করে নিবেন, এছাড়াও হ্যান্ড নোট তৈরি করে নিবেন, রুটিন তৈরি করবেন। এইভাবে পড়ালেখা করলে আপনি এ প্লাস পাবেন, তাছাড়া সব সময় আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করতে হবে। তাহলে আপনি ভালো করতে পারবেন, এছাড়াও ভয় পাবেন না। তাহলে দেখবেন আপনার সকল কিছু সহজ হয়ে যাবে।
এছাড়া পরীক্ষায় এ প্লাস পাওয়ার জন্য আপনাকে অবশ্যই স্বচ্ছভাবে লিখতে হবে। তাছাড়া ভয় পাওয়া যাবে না, পরীক্ষার হলে আপনি যে বিষয়গুলো ভাল পারবেন। সেগুলো আগে লেখার চেষ্টা করবেন। যেগুলো পারেন না সেগুলো দাগিয়ে রাখবেন, পরবর্তীতে সেগুলোর মধ্যে যেগুলো অল্প জানা আছে সেগুলো লেখার চেষ্টা করবেন। তবে সব সময় আল্লাহর উপর আস্থা রাখতে হবে এবং নিজের চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে, আশা করি আপনি ভাল ফলাফল পাবেন।
সন্তানের পরীক্ষার জন্য দোয়া
প্রত্যেক বাবা-মার উচিত সন্তানের পরীক্ষার জন্য দোয়া করা। কেননা বাবা-মার দোয়া ভিতরে কোন ভেজাল থাকে না। তাই মহান আল্লাহতালা অতি দ্রুত দোয়া কবুল করে থাকেন। চলুন, কিভাবে দোয়া করলে আল্লাহ কবুল করবেন সে সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।
প্রতিটা বাবা-মায়ের স্বপ্ন থাকে তার শিশু যেন ভালো কিছু করতে পারে এবং ভালো মানুষ হতে পারে, আদর্শ এবং চরিত্র সম্পর্কে ভালো হয় কিন্তু কিছু সন্তান দেখা যায় অনেক সময় খারাপ পথ থেকে ফিরে আসে। এছাড়া আপনার সন্তান ঠিক মত লেখাপড়া করছে কিনা সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। সন্তানের জন্য নামাজ পড়ে সবসময় প্রার্থনা করতে হবে। কেননা বাবা-মার দোয়া কখনোই মিস যাবে না এবং মহান আল্লাহতালা এই সকল দোয়ায় দ্রুত গতিতে কবুল করে থাকেন। কোরআন শরীফে কিছু দোয়া রয়েছে যেগুলো আপনি আপনার সন্তানের জন্য দোয়া করতে পারেন।
তাছাড়াও মহান আল্লাহতালা লোকমান হাকিম এবং তার সন্তানকে যে উপদেশ দিয়েছেন সেগুলো আপনি মেনে অনুসরণ করতে পারেন। তাহলে দেখবেন আপনার সন্তান ভালো হবে এবং পড়াশোনায় মনোযোগী হবে, ভালো রেজাল্ট করতে পারবেন। প্রতিটি বাবা-মা তার সন্তানের পরীক্ষার আগ দিয়ে তার সন্তানের মাথায় হাত রেখে রাব্বি জিদনি ইলমা এই দোয়া যদি ৭ বার পড়তে থাকে, তাহলে তার সন্তানের মেধা শক্তি বৃদ্ধি পাবে। তাই আপনি এই দোয়াটি বার বার পড়তে পারেন। বর্তমান যুগের সন্তানরা সাধারণত মোবাইলে গেমস খেলে থাকে এখান থেকে ফিরে আনার জন্য অবশ্যই আপনি আল্লাহর কাছে নামাজ পড়ে প্রার্থনা করবেন।
আজকের পোষ্টের লেখক
মোঃ মাহমুদুল ইসলাম
কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স উল্লাপাড়া, সিরাজগঞ্জ।
শেষ কথাঃ পরীক্ষা ভালো রেজাল্ট করার ১০টি আমল ও দোয়া করার নিয়ম সম্পর্কে জানুন
পরিশেষে বলা যায় যে পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করার জন্য অবশ্যই পড়াশোনার পাশাপাশি মহান আল্লাহর কাছে দোয়া প্রার্থনা করতে হবে এবং কিছু বিষয় আমল আপনাকে মেনে চলতে হবে। তাহলে দেখবেন পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করা যাবে। কেননা পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করার জন্য শুধুমাত্র পড়াশোনা করলেই হবে তা কিন্তু না। পাশাপাশি আল্লাহ তায়ালার দোয়া এবং রহমত ছাড়া আপনি ভালো কিছু করতে পারবেন না। তাই পরীক্ষা ভালো রেজাল্ট করার আমল ও দোয়া সম্পর্কে আর্টিকেলে বিস্তারিত সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে আশা করি আপনার উপকার হবে। পোস্টটি ভাল লাগলে আপনার বন্ধু-বান্ধবের নিকট শেয়ার করবেন। ধন্যবাদ



এম আর মাহমুদ ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url