ডায়াবেটিস গর্ভবতী মায়ের খাদ্য তালিকা সম্পর্কে সঠিক তথ্য জেনে নিন

যে সকল গর্ভবতীর ডায়াবেটিস রয়েছে, তাদের খাদ্য তালিকা ভিন্ন রকম হয়ে থাকে। তাই ডায়াবেটিস গর্ভবতী মায়ের খাদ্য তালিকা সম্পর্কে সঠিক ধারণা থাকতে হবে। চলুন, কোন খাবারগুলো খেলে ডায়াবেটিসের ক্ষেত্রে অসুবিধা হবে না সে সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে জেনে নেওয়া যাক।
ছবি
অনেক গর্ভবতী মায়ের সাধারনত ডায়াবেটিস হয়ে থাকে আবার অনেকে পূর্বে থেকে ডায়াবেটিস থাকে সেক্ষেত্রে গর্ভবতী অবস্থায় খাদ্য তালিকা ভিন্ন হবে। তাই ডায়াবেটিস গর্ভবতী মায়ের খাদ্য তালিকা সম্পর্কে বিস্তারিত জানার জন্য আর্টিকেলটি মনোযোগ দিয়ে পড়ুন।

গর্ভবতী কালীন সময়ে সাধারণত অনেক নারীর ডায়াবেটিস হয়ে থাকে। আবার অনেকর পূর্বে থেকে ডায়াবেটিস রয়েছে, সে সকল গর্ভবতী মায়ের সাধারণত এই সময়ে ডায়াবেটিস বেশি হতে পারে। এতে করে অসুবিধার সম্মুখীন দেখা দিতে পারে। তাই এই সময়ে খাবার তালিকা ভিন্ন করতে হবে, তাহলে আপনার অসুবিধা হবে না। কেননা এই সময় সাধারণত শরীরে ইনসুলিন তৈরি করতে অসুবিধা হয়। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকে যার কারণে আপনার খাদ্য অভ্যাস পরিবর্তন করতে হবে। যেন আপনার রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণ থাকে, তাহলেই গর্ভবতী মায়ের এবং গর্ভস্থ শিশুর ঝুঁকি থাকবে না।

অনেক গর্ভবতী মায়ের এই সময়ে তারা ডায়াবেটিস সম্পর্কে হয়তো জানে না। তাই অবশ্যই প্রত্যেকটা গর্ভবতী মায়ের ডায়াবেটিস পরীক্ষা করে নেওয়া উচিত। তাহলে আপনি খাবার নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন, এক্ষেত্রে নিজে এবং গর্ভস্থ শিশুর সুস্থ থাকবে। তবে যে সকল গর্ভবতী মায়ের পূর্বে ডায়াবেটিস নাই কিন্তু গর্ভকালীন সময় ডায়াবেটিস বৃদ্ধি পেয়েছে। এই ধরনের ডায়াবেটিসকে বলা হয় গর্ভকালীন ডায়াবেটিস। এই ধরনের গর্ভকালীন ডায়াবেটিস গুলো সাধারণত বাচ্চা হওয়ার পরে ঠিক হয়ে যায়। অনেকের সাধারণত ২ বা ৩ মাসে দেখা দিতে পারে।

তাই গর্ভবতী অবস্থায় অবশ্যই আপনার শরীরের চেকআপ করতে হবে, সেই অনুযায়ী খাবার খেতে হবে।অনেক গর্ভবতী মায়ের সাধারণত গর্ভকালীন যে ডায়াবেটিস দেখা যায়, এই ক্ষেত্রে শরীরে বিভিন্ন ধরনের জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। তবে এক্ষেত্রে প্রাথমিক অবস্থায় দেখা যাচ্ছে যে ডায়াবেটিস ধরা পড়ে সে ক্ষেত্রে আপনি চিকিৎসা নিতে পারেন। এছাড়াও পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে, পরিমাণে কম খেতে হবে। সে ক্ষেত্রে গর্ভকালীন যে সকল মায়ের ডায়াবেটিস রয়েছে তারা সকাল দুপুর রাত্রিতে খাওয়ার পূর্বে অবশ্যই ডায়াবেটিস কেমন রয়েছে সেটা পরীক্ষা নিরীক্ষা করতে হবে অথবা খাওয়ার দুই ঘন্টা পরে তাকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হবে।

গর্ভকালীন সময়ে সাধারণত যে ডায়াবেটিস হয়ে থাকে সেক্ষেত্রে রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা খুবই জরুরী। এ বিষয়ে খাবারের দিকে নজর দিতে হবে এবং খাদ্য তালিকা সম্পর্কে জানতে হবে। এক্ষেত্রে যদি আপনি কার্বোহাইড্রেট খাদ্যগুলো বেশি খেয়ে থাকেন সেই ক্ষেত্রে কিন্তু রক্তের শর্করা বৃদ্ধি পাবে। অবশ্যই আপনার শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। এছাড়াও চিনিযুক্ত খাবারগুলো থেকে বিরত থাকতে হবে, অনেকেই সাদা রুটি খেয়ে থাকে এর মধ্যে প্রচুর পরিমাণে কার্বোহাইডেট রয়েছে। তাই লাল আটার রুটি খাওয়া যেতে পারে এই ক্ষেত্রে শর্করার পরিমাণ কম থাকবে।

এছাড়াও প্রচুর পরিমাণে সবুজ শাকসবজি খেতে হবে, টক মিষ্টি কম খেতে হবে, তাহলে এই কার্বোহাইড্রেট পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ থাকবে। অনেকের গর্ভাবস্থায় কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবারগুলো খাওয়ার কারণে হজম শক্তি কমে যায়। যার কারণে তাদের খাদ্যের ক্ষেত্রে অবশ্যই সচেতন হতে হবে। বিশেষ করে গর্ভবতী মায়েদের সাধারণত যে খাবারগুলো হজম হয় না যেমন গমের রুটি, পাতাযুক্ত শাকসবজি, ব্রকলি, ফুলকপি খোসা সহ বিভিন্ন ধরনের খাবার। এছাড়া অনেকের ডাল খেলে হজমের সমস্যা দেখা দেয়।

তাই গর্ভবতী মায়েদের যাদের ডায়াবেটিস রয়েছে তাদের অবশ্যই সুষম খাবার পরিকল্পনা করতে হবে এবং যে সকল খাবার খেলে রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণ থাকবে সেই ধরনের খাবারের তালিকা তৈরি করতে হবে। এছাড়াও প্রয়োজনীয় পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে, এছাড়াও পাশাপাশি আপনার প্রোটিনযুক্ত খাবার খেতে হবে। বিশেষ করে ভিটামিন খনিজ পদার্থ জাতীয় খাবারগুলো দিতে হবে। এই সময়ে অবশ্যই শিশুর বৃদ্ধির জন্য প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, আয়রন ফলিক এসিড এ জাতীয় খাবার এবং সাপ্লিমেন্ট খেতে হবে। এছাড়াও হালকা সকালবেলা শারীরিক ব্যায়াম হাঁটাহাঁটি করা।
অনেক গর্ভবতী মায়ের সাধারনত সকালবেলা হালকা বমি বমি ভাব হতে পারে অথবা অনেকে বমি করতে পারে। এক্ষেত্রে গর্ভবতী মায়ের সাধারণত গর্ভকালীন ডায়াবেটিস যদি থাকে সেক্ষেত্রে অবশ্যই আপনি এই বিষয়গুলো খেয়াল রাখতে হবে এবং সকালবেলা ব্রেকফাস্ট বা সকালের নাস্তা এমন জাতীয় খাবার খেতে হবে যেন রক্তের শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ থাকে।এছাড়াও সকালে আপনি সাধারণত প্রোটিন এবং ফাইবার যুক্ত খাবার গুলো খেতে পারেন, এতে করে আপনার শরীরের শক্তি পাবেন। গর্ভকালীন যে সকল ডায়াবেটিস রয়েছে তাদের অবশ্যই স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে হবে।

এক্ষেত্রে এমন ধরনের স্নাক্স খেতে হবে যে ধরনের খাবারগুলোতে রক্তের শর্করার কমিয়ে নিয়ে আসতে পারে। এছাড়াও আপনি কার্বোহাইড্রেট খাবার গুলো কম খাবেন এক্ষেত্রে যেমন দেখা যায় বাদাম আখরোট ভেজিটেবল এছাড়াও কাঠবাদাম ইত্যাদি খাওয়া যেতে পারে। তবে গর্ভাবস্থায় সাধারণত প্রচুর পরিমাণে পানি পান করতে হবে। এই ক্ষেত্রে আপনার রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণ করবে। অবশ্যই দিনে ৮ থেকে ১০ গ্লাস পানি খাবেন। তবে চিনি জাতীয় খাবার গুলো থেকে দূরে থাকতে হবে। তাছাড়াও যদি আপনি চা খেতে চান সে ক্ষেত্রে চিনি ছাড়া চা খেতে হবে। এছাড়াও শসা দিয়ে পানি পান করতে পারেন ফলের জুস খাওয়া যেতে পারে।

একজন ডায়াবেটিসে আক্রান্ত গর্ভবতী মা তার সাধারণত খাবার দাবার ক্ষেত্রে অবশ্যই সর্তকতা রাখতে হবে, সে ক্ষেত্রে ডায়েট অনুযায়ী চলতে হবে। এজন্য সকালবেলা এক গ্লাস হালকা গরম পানিতে ৪ থেকে ৫টি বাদাম ভিজিয়ে রাখবেন এরপর খেতে পারেন। এ ছাড়া একটি সিদ্ধ ডিম অথবা চর্বি ছাড়া যে দুধ রয়েছে এবং মিষ্টি জাতীয় ছাড়া আপনি দুধ খেতে পারেন। পাশাপাশি একটি রুটি খাওয়া যেতে পারে, অবশ্যই সবজি দিয়ে খাবেন, এছাড়া রুটির সাথে সবজি ভাজা খাওয়া যেতে পারে এবং হালকা এক টুকরো আপেল খাওয়া যেতে পারে। দুপুরে সাধারণ দুটি রুটি অথবা একটি ছোট বাটির বাদামী রঙের চালের ভাত খাওয়া যেতে পারে।

এছাড়াও দুপুরে যখন আপনি খাবার খাবেন সেই ক্ষেত্রে এক কাপ পরিমাণ ভাতের সাথে অল্প পরিমাণ সবজি এবং একবাটির পরিমাণ ডাল খাওয়া যেতে পারে সাথে মাছ এক টুকরো খাওয়া যেতে পারে এবং সন্ধ্যা বেলা অবশ্যই নাস্তা করতে হবে। সে ক্ষেত্রে একটি রঙ চা খেতে পারেন অথবা গ্রিন ট্রি খাওয়া যেতে পারে অবশ্যই মিষ্টি ছাড়া খেতে হবে এবং একটি সিদ্ধ ডিম খেতে পারেন অথবা চিনা বাদাম খাওয়া যেতে পারে। অবশ্যই চেষ্টা করবেন গমের টোস্ট বিস্কুট খাওয়ার জন্য এছাড়াও রাত্রিতে একবাটি সবজি এবং এর থেকে দুটি রুটি খাবেন, হালকা ডালের সুপ খেতে পারেন। এছাড়া এর সাথে একবাটি পরিমাণ দই খাওয়া যেতে পারে তবে অবশ্যই চর্বি ছাড়া দই খেতে হবে।

তবে কখনোই একেবারে অল্প পরিমাণ খাবেন না, এক্ষেত্রে পরিমাণ মতো আপনাকে খেতে হবে এবং প্রয়োজনে বারেবারে খাওয়া যেতে পারে। এক্ষেত্রে আপনার রক্তের শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ রাখবে। তাছাড়া প্রোটিনহীন খাবার গুলো আপনাকে এড়িয়ে চলা লাগবে এবং এগুলো সাধারণত রক্তের শর্করা দ্রুত বৃদ্ধি করতে পারে। আপনার শরীরের অসুবিধা দেখা দিতে পারে। প্রত্যেকটি খাবারে অবশ্য ফাইবার যুক্ত খাবার গুলো খাওয়ার চেষ্টা করবেন, এক্ষেত্রে আপনার রক্তের শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করবে। এছাড়াও খাবারের দিকে নজর রাখতে হবে যেন অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত না হয় তাহলে আপনার খাবার সঠিকভাবে খাওয়া যেতে পারে।

গর্ভবতী মায়ের যদি ডায়াবেটিস হয়ে থাকে সে ক্ষেত্রে অবশ্যই একজন পুষ্টিবিদের সাথে দেখা করবেন এবং যে খাবার গুলো খাওয়া যাবে না সেগুলো সম্পর্কে সুন্দর একটি গাইডলাইন নেবেন এবং সে অনুযায়ী আপনি খাদ্য খেলে সুস্থ থাকবেন। অনেকেই দেখা যাচ্ছে যে এই সময়ে সাধারণত জাঙ্ক ফুট যুক্ত খাবার গুলো বেশি খেয়ে থাকে এবং কেক বিস্কুট ক্যান্ডি সাদা রুটি সাদা ভাত লুডুস পাস্তা চিনি যুক্ত পানীয় খাবার সোডা ফলের রস মিষ্টি জাতীয় খাবার গুলো বেশি খেয়ে থাকে। এর মধ্যে প্রচুর পরিমাণে চর্বি থাকে। উপরোক্ত এই নির্দেশনা গুলো যদি আপনি অনুসরণ করতে পারেন তাহলে সুস্থ ভাবে জীবন যাপন করতে পারবেন।

লেখক, মোঃ মাহমুদুল ইসলাম, স্বাস্থ্যকর্মী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, উল্লাপাড়া, সিরাজগঞ্জ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

এম আর মাহমুদ ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url
Md. Mahmudul Islam
Md. Mahmudul Islam
আমি ডিজিটাল মার্কেটিং এক্সপার্ট ও সরকারি চাকরি করি। আমি অনলাইনে বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করে ইনকাম করি, এছাড়াও ব্লগিং, SEO ও টেকনোলজি বিষয় নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করি। এই কাজের উপর আমার ৩ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে।