ছেলেদের রুপার আংটি পরা কি জায়েজ? সঠিক মাসআলা জানুন
ইসলামের শরীয়ত মতে ছেলেদের রুপার আংটি পরা কি জায়েজ? এ সম্পর্কে কোরআন হাদিসে কি বলা হয়েছে সে সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানতে হবে। চলুন, রুপার আংটি ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ইসলামে কি বলে সে সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।
অন্যান্য ধর্মের লোকের মত ইসলাম ধর্মের লোকেরা সকল অলংকার ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। বিশেষ করে ছেলেদের ক্ষেত্রে কিছু অলংকার ব্যবহার নিষেধ রয়েছে। তাই ছেলেদের রুপার আংটি পরা কি জায়েজ? এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানার জন্য আর্টিকেলটি সম্পন্ন পড়তে হবে।
পোস্ট সূচিপত্রঃছেলেদের রুপার আংটি পরা কি জায়েজ? সঠিক মাসআলা জানুন
ছেলেদের রুপার আংটি পরা কি জায়েজ
অনেকে জানে না যে ছেলেরা রুপার আংটি ব্যবহার করতে পারবে কিনা। তাই ছেলেদের রুপার আংটি পরা কি জায়েজ? এ সম্পর্কে ইসলাম কি বলে সেটা জানা প্রয়োজন। চলুন, এ বিষয়ে বিস্তারিতভাবে জেনে নেওয়া যাক।
নারীদের মতো পুরুষদের সাধারণত কিছু অলংকার ব্যবহার করা নিষেধ রয়েছে। বিশেষ করে স্বর্ণের অলংকার গুলো পুরুষেরা ব্যবহার করতে পারেনা। এটা ইসলামে নিষেধ রয়েছে, তবে যদি কোন পুরুষ রুপার আংটি ব্যবহার করতে চায় সেক্ষেত্রে ব্যবহার করতে পারবেন। তবে এটার পরিমাণ রয়েছে তা হল ৪.৩৭৪ গ্রামের কম হতে হবে। এর চেয়ে বেশি ব্যবহার করা যাবে না। এ সম্পর্কে হাদিস অনেক রয়েছে তার মধ্যে অন্যতম হাদিস হলো আব্দুল্লাহ ইবনে আমর রাঃ বলেন, রাসূল সাঃ এক সাহাবীকে স্বর্ণের আংটি ব্যবহার অবস্থায় দেখেন, এতে করে রাসূল সাঃ মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলেন। এরপরে কে লোকটি লোহার আংটি ব্যবহার করেছিলেন।
রাসূল সাঃ ওই লোকটির হাতে যখন লোহার আংটি দেখলেন তখন রাসূল সাঃ বললেন এটাতো আরো খারাপ। এটা হল জাহান্নামের অলংকার, এরপরে লোকটি সেটাও ফেলে দিল। তারপরে রুপার আংটি পড়েছিল, তখন রাসূল সাঃ নীরব রয়েছিলেন। (মুসনাদে আহমদ, হাদিস নাম্বার ৬৫১৮)। এ দ্বারা বোঝা গেল রুপার আংটি ব্যবহার করা যাবে আবার যদি লোহার আংটিও হয় সে ক্ষেত্রে তার উপরে যেন রুপার প্রলেপ থাকে। এক্ষেত্রে পুরুষরা ব্যবহার করতে পারবে। তবে শর্ত থাকে যে অন্য কোন ধাতু যদি আপনি ব্যবহার করেও থাকেন তবে রুপার প্রলেপ থাকা লাগবে। সাড়ে ৪ গ্রামের বেশি হওয়া যাবে না।
পুরুষেরা সাধারণটি রুপার আংটি ব্যতীত অন্য কোন সরাসরি ধাতু দিয়ে তৈরি করে পড়তে পারবে না। এটা জায়েজ নেই, তাছাড়া পুরুষ মানুষ কোন আঙ্গুলে আংটি পড়বে সেটাও বলা হয়েছে। যেমন তর্জনী ও মধ্যমা আঙ্গুল ব্যতীত অন্য যেকোনো আঙ্গুলে পরিধান করা যাবে। এই দুই আঙ্গুলে যদি পরে সেটা হারাম এবং মাকরুহ হবে। রাসূল সাঃ সাধারণত বাম হাতের ছোট আঙ্গুলটিতে আংটি পড়তেন। যা আমাদের ক্ষেত্রেও আমল করা যেতে পারে। তাই আপনিও চাইলে রুপার আংটি একেবারে কনিষ্ঠ আঙ্গুলে পরিধান করতে পারবেন। এটা জায়েজ রয়েছে, চাইলে আপনিও পরিধান করতে পারেন।
এ সম্পর্কে আরও একটি হাদিস রয়েছে, আব্দুল্লাহ ইবনে বুরাইদ (রহঃ) বলেছেন, একদিন এক ব্যক্তি পিতলের আংটি পড়েছিল। এতে করে নবী করীম সাঃ এর কাছে আসে এরপরে রাসূল সঃ তাকে বললেন তোমার কাছ থেকে মূর্তির গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। তখন লোকটি কথা শোনার পরে আংটিটি ফেলে দিল। তারপরে লোককে আবার লোহার আংটি পরলো এতে করে রাসূল সাঃ বললেন তোমার নিকট জাহান্নামের অলংকার দেখতে পাচ্ছি। লোকটি এটাও ফেলে দিল, তার পরে লোকটি বলল হে রাসূল সাঃ তাহলে আমরা কিসের আংটি ব্যবহার করব। তখন রাসূল সাঃ বললেন তোমরা রুপার আংটি ব্যবহার করবে। তবে এটা যেন ১ মিসকল হয় বেশি ব্যবহার করা যাবে না। সুনানে আবু দাউদ হাদিস নাম্বার ৪২ ২৩।
আবু যুবাব রাঃ তার দাদার থেকে বর্ণনা করেছেন, নবী করীম সাঃ রুপা মিশ্রিত বিভিন্ন উপাদান দিয়ে আংটি তৈরি করে ব্যবহার করতেন। তবে এই ধরনের আংটি আমি হয়তো তার হাতে দেখেছি এই ধরনের আংটি তিনি ব্যবহার করতেন। (আবু দাউদ হাদিস নাম্বার ৪২২৪)। আরো একটি হাদিসে বর্ণনা রয়েছে আলী রাঃ হতে বর্ণনা তিনি বলেন রাসূল সাঃ আমাকে রাসূল সাঃ সাধারণত তর্জনী ও মধ্যমা আঙ্গুল ব্যতীত অন্য আঙ্গুলে আংটি ব্যবহার করতে বলেছেন, এটা জায়েজ রয়েছে। তিরমিযী শরীফ হাদিস নাম্বার ১৭৮৬।
হযরত আনাস রাঃ বর্ণনা করেছেন রাসূল সাঃ বলেছেন, রাসূল সাঃ এর নিকট আংটি ব্যবহারের কথা বললেন এবং কোন আঙ্গুলের কথা বলেন সেক্ষেত্রে রাসূল সাঃ বাম হাতের কনিষ্ঠ আঙ্গুলের প্রতি ইশারা দিয়েছিলেন। (সহি মুসলিম শরীফ হাদিস নাম্বার ২০ ৯৫)। সাবিত রহমতুল্লাহ বলতো লোকেরা সাধারণত আনাস রাঃ কে রাসুল সাঃ এর আংটি ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করেছিলেন। তিনি বললেন যে আমি এখনো তার হাতে রুপার তৈরির একটি আংটি দেখেছি এবং বাম হাতের কনিষ্ঠ আঙ্গুলের প্রতি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। সুনানে নাসায়ী হাদিস নাম্বার ৫২৮৪।
পুরুষ মানুষ সাধারণত রুপা চাঁদির আংটি ব্যবহার করতে পারবেন। কেননা রাসূল সাঃ সহ তাঁর সাহাবীরা গুলো চাঁদির আংটি ব্যবহার করত। আনাস রাঃ বর্ণনা করা হয়েছে নবী করীম সাঃ পারস্যের রাজা এবং রোম সম্রাট এর কাছে পত্র লিখেছিলেন, তাকে বলা হয়েছিল তারা যেন এর লিপি গ্রহণ না করে, শুধুমাত্র সিলযুক্ত না করে। তখন রাসুল সাঃ বলেছিলেন একটি আংটি ব্যবহার করেছিল যা গোল চাকটির মত দেখতে এবং সেটা ছিল রুপার খোদাই করা। এই হাদিসটি বুখারী শরীফের বর্ণনা আছে এর মধ্যে দুই একটি লাইন ও লেখা ছিল। ছেলেরা প্রয়োজনের ক্ষেত্রে রুপার আংটি ব্যবহার করতে পারবেন।
ছেলেদের স্বর্ণের আংটি পরা কি জায়েজ
ছেলেরা স্বর্ণ ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, তাই ছেলেদের স্বর্ণের আংটি পরা কি জায়েজ? এ ব্যাপারে ইসলামে নিষেধাজ্ঞ রয়েছে। চলুন, ইসলামে এ বিষয়ে কি বলে সে সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে জেনে নেওয়া যাক।
ছেলেরা সাধারণত রুপার আংটি ব্যবহার করতে পারবে, তবে স্বর্ণের আংটি ব্যবহার করার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। কেননা রাসূল করীম সাঃ ছেলেদের ক্ষেত্রে স্বর্ণের অলংকার ও রেশমি কাপড় ব্যবহার করতে নিষেধ করেছেন। যা ইসলামের হারাম বলে বিবেচনা করা হয়। স্বর্ণ এমন একটি পদার্থ যা দেখতে খুবই সুন্দর হয় কিন্তু পুরুষেরা ব্যবহার করতে পারবে না। এই ক্ষেত্রে কেন ব্যবহার করতে পারবে না সেটা অনেকটাই জানা প্রয়োজন। এক্ষেত্রে বিভিন্ন গবেষণা হয়েছে কিন্তু গবেষণার ক্ষেত্রে দেখা যায় আশ্চর্য ফলাফল পাওয়া গেছে।
বৈজ্ঞানিকরা গবেষণা করে দেখেছেন সোনা পুরুষ মানুষ ব্যবহার করলে, সেক্ষেত্রে তাদের শরীরের স্পার্ম অনেক কমে যাবে। পুরুষের ক্ষেত্রে বন্ধ্যাতার সমস্যা দেখা দিবে। এতে করে তাদের বাচ্চা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না। তাই এটা একটি ক্ষতিকারক পদার্থ অথবা আপনার সন্তান যদিও হয় সে ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধী হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। সে দিক বিবেচনায় দেখা যাচ্ছে যে পুরুষেরা সাধারণত স্বর্ণ ব্যবহার না করাটাই ভালো। তাই বলা যাচ্ছে যে পুরুষদের ক্ষেত্রে স্বর্ণের আংটির ব্যবহার করা যাবে না। এক্ষেত্রে অনেক হাদিস বর্ণনা করা হয়েছে।
আবু মুসা আশয়ারী রাঃ বর্ণনা রাসূল সাঃ বলেছেন, আল্লাহতালা নারীদের জন্য রেশম ও স্বর্ণ হালাল করেছে এবং পুরুষদের ক্ষেত্রে হারাম করেছেন। (সুনানে নাসাঈ হাদিস নম্বর ৫২৬৫)। তাই রাসূল সাঃ এক হাতে রেশমি কাপড় এবং আর এক হাতে স্বর্ণ নিয়ে উম্মতদেরকে বললেন যে পুরুষেরা সাধারণত এগুলো ব্যবহার করতে পারবে না। এটা শুধুমাত্র নারীরা ব্যবহার করতে পারবেন কিন্তু আমাদের সমাজে সাধারণত স্বর্ণের আংটি কম করে ব্যবহার করলে জায়েজ আছে। এরকম অনেকেই বলে কেননা এটা বিপদের ক্ষেত্রে নাকি উপকার হবে।
আরো একটি কুসংস্কার কথা রয়েছে যে পুরুষরা যদি স্বর্ণ ব্যবহার করে সে ক্ষেত্রে মারা গেলে সেটা বিক্রি করে কাফনের কাপড় কেনা যাবে। যদিও এই ধরনের কোন হাদিস নাই, যদিও মানুষ মারা গেলে জীবিত যারা রয়েছে তাদের জন্য কাফনের কাপড় কেনা বা জানাজা দাফন কাফন করা বাধ্যতামূলক। এক্ষেত্রে যদি কাফনের কাপড় কেনার সামর্থ্য না থাকে, তাহলে জীবিত লোক যদি কিনে দিতে না পারে, সে ক্ষেত্রে তার নিজস্ব পরনে যে কাপড় রয়েছে সেটা দিয়ে কাফনের কাপড় বানানো যাবে এবং সম্পন্ন করতে পারবে। এটা আসলে অযৌক্তিক কথা কেননা এই স্বর্ণের আংটি লোকটার থেকে হারিয়ে যেতে পারে। সুতরাং এ ধরনের দলিল ছাড়া হাদিস আপনারা বিশ্বাস করবেন না।
ছেলেরা কি রুপার চেইন ব্যবহার করতে পারবে
অনেক পুরুষ মানুষ গলায় চেইন পড়তে পছন্দ করে কিন্তু ছেলেরা কি রুপার চেইন ব্যবহার করতে পারবে? এ সম্পর্কে ইসলামে কি বলা হয়েছে সেটা হয়তো অনেকে জানেনা। চলুন, ছেলেরা রুপার চেইন ব্যবহার করতে পারবে কিনা সে সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।
একজন নারীকে আল্লাহ তাআলা সৌন্দর্য দিয়ে সৃষ্টি করেছেন এবং তার আচার-আচরণ কথাবার্তা ওঠা বসা নড়াচড়া সৌন্দর্য এমনকি পোশাক আশাক সকল কিছুই জন্মগতভাবে তারা আলাদাভাবে নির্দিষ্ট কিছু বিশেষিত নিয়ে জন্মগ্রহণ করেছে। তাই কোন পুরুষ মানুষ তার সাদৃশ্য করা যাবে না অর্থাৎ তার উপরোক্ত বিষয়গুলো নকল করা বা এইগুলো গ্রহণ করা যাবে না। যেমন নারীরা সাধারণত চুড়ি, চুল বেড়ি পরিধান করে থাকে যেগুলো পুরুষের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যাবে না। কানের দুল, হাতের চুড়ি গলার হাড় এগুলো সাধারণত মহিলাদের জন্য ইসলাম জায়েজ করেছে কিন্তু একজন পুরুষ যদি এগুলো ব্যবহার করে সে ক্ষেত্রে এটা জায়েজ হবে না।
কিছু ক্ষেত্রে যেমন একই অফিসে যদি পুরুষ ও নারী একসাথে চাকরি করে থাকে, সে ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে যে তাদের ইউনিফর্মের রং একই হয়ে থাকে। সে ক্ষেত্রে পরা জায়েজ আছে, তবে তাদের মতো পোশাক বানানো জায়েজ হবে না। কিছু প্রোডাক্ট এর ক্ষেত্রে যেমন ব্রেসলেট এটা নারীরা সাধারণত বেশি ব্যবহার করে থাকে। তারা যদি একই কোম্পানিতে চাকরি করে থাকে সেই ক্ষেত্রে এটা প্রচারণা করার জন্য পুরুষ ব্যবহার করতে পারবে। শুধুমাত্র কোম্পানির প্রচারণার জন্য তাছাড়া নারীদের মতো শখ করে পরিধান করতে পারবে না।
ছেলেরা কি রুপা ব্যবহার করতে পারবে
অনেক ছেলেরা বিভিন্ন অলংকার ব্যবহার করতে পছন্দ করে, তাই ছেলেরা কি রুপা ব্যবহার করতে পারবে? এ ব্যাপারে ইসলামে কি বলে সেটা আমাদের জানা প্রয়োজন। চলুন, পুরুষ মানুষ রুপা ব্যবহার করতে পারবে কিনা সে সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।
রাসূল সাঃ একটি আংটি তৈরি করেছিলেন এবং তিনি ব্যবহার করতেন কিন্তু অন্যকে ব্যবহার করতে নিষেধ করেছিলেন। আনাস বিন মালেক রাঃ হতে বর্ণনা তিনি বলেন নবী করীম সাঃ নিজে একটি আংটি তৈরি করেছিলেন সেখানে একটি নতুন নকশা তৈরি করেছিলেন এবং বলেছিলেন যে এটা শুধু আমার নিজের জন্য অনুরূপভাবে কেউ নকশা করবে না। (সহি বুখারী ৫৮৭৪)। এখানে উল্লেখ করা যায় যে নবী করীম সা যে আংটি তৈরি করেছিলেন সেখানে তিনটা শব্দ অঙ্কন করা হয়েছিল। সেখানে আল্লাহ এবং নিচে রাসুল এবং মুহাম্মদ সাঃ সে ক্ষেত্রে এটা পড়লে হয় মোহাম্মদ রাসুলুল্লাহ। (তিরমিজি শরীফ ১৭৪৭)।
তবে নবী করীম সাঃ রুপার আংটি ব্যবহার করতেন তাই শুধুমাত্র রূপা ব্যবহার করা যাবে। তবে অন্য কোন অলংকার ব্যবহার করা যাবে না। অল্প পরিমাণে ব্যবহার করে রূপার আংটি ব্যবহার করতে পারবেন। কেননা রাসূল সঃ যতদিন জীবিত ছিলেন ততদিন তিনি আংটি ব্যবহার করেন এবং তার ইন্তেকালের পরে আবু বকর রাঃ তার হাতে আংটিটি পড়েছিল, তিনি ইন্তেকালের পর ওমর রাঃ ব্যবহার করেছেন, এরপরে ওসমান রাঃ ব্যবহার করেছিলেন। এরপর ওসমান রাঃ হাত থেকে হঠাৎ করে একটি কু্পের পাশে বসে থাকায় সেই কূপের মধ্যে পড়ে যায়। এরপরে তিনি সম্পন্ন কূপের পানি নিষ্কাশন করে কিন্তু সেই আংটিটি আর পাওয়া যায় না। আবু দাউদ, হাদিস নং ৪১৬৬।
ছেলেদের রুপার ব্রেসলেট পরা কি জায়েজ
অনেক সময় ছেলেরা রুপার ব্রেসলেট পড়ে থাকে, তাই ছেলেদের রুপার ব্রেসলেট পরা কি জায়েজ? সম্পর্কে ইসলামে মতামত রয়েছে। চলুন, ছেলেরা ব্রেসলেট করতে পারবে কিনা সে সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।
হাদিসে বর্ণনা আছে যে রাসুল সাঃ সেই সকল পুরুষকে লানত দিয়েছেন, যারা নারীদের পোশাক পড়ে থাকে এবং যে সকল নারীরা পুরুষের পোশাক পরে তাদেরকে লানত করেছেন। (আবু দাউদ ৪০৯৮)। যে সকল পুরুষ মানুষ কৃত্রিম উপায়ে নারীদের পোশাক পরিচ্ছদ কথাবার্তা বাচনভঙ্গি চলাফেরা রূপসজ্জা সকল কিছু অনুসরণ করে, তাদের প্রতি রাসূল সাঃ লানত করেছেন। এ বিষয়টি অপরদিকে নারীরা ও যদি পুরুষের মতন এই ধরনের ব্যবহার করে সে ক্ষেত্রেও একই কথা বলা হয়েছে। এটা একটি কবিরা গুনাহ কেননা বিপরীত লিঙ্গের আকৃতি বা বেশভূষা করা যাবে না।
তাই ব্রেসলেট সাধারণত নারীরা ব্যবহার করতে পারবে, এক্ষেত্রে ইসলামে জায়েজ রয়েছে কিন্তু পুরুষের ক্ষেত্রে এটা ব্যবহার করা হারাম। যেহেতু এটা একটি নারীদের পরিধিও বস্তু নারীরা ব্যবহার করে থাকে সেক্ষেত্রে পুরুষরা ব্যবহার করতে পারবে না। হযরত ইবনে আব্বাস রাঃ বর্ণনা করেছেন সেই সকল পুরুষকে রাসুল সাঃ অভিশাপ দিয়েছেন যারা নারীদের পোশাক পরে এবং সেই সকল নারীরা যারা পুরুষদের পোশাক পড়ে। (বুখারী শরীফ ৫৮৮৫)। অন্য আরেকটি হাদিসে বর্ণনা আছে যে আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর আমর রাঃ তিনি বর্ণনা করেছেন, রাসূল সাঃ বলেছেন যে সকল নারীরা পুরুষের মতো সাদৃশ্য অবলম্বন করবে এবং যে সকল পুরুষ নারীদের সাদৃশ্য অবলম্বন করে থাকে। সে আমার উম্মত হবে না সুতরাং বোঝাই যাচ্ছে তার বৈশিষ্ট্য দিয়ে সৃষ্টি।
আজকের এই পোস্টটি লিখেছেন
মাওলানা মোঃ ফরহাদ আলী, সহকারী মৌলভী, গোলকপুর সিদ্দিকিয়া ফাজিল সিনিয়র মাদ্রাসা। হাটিকুমরুল, উল্লাপাড়া, সিরাজগঞ্জ।
সমাপনী কথাঃ
পরিশেষে বলা যেতে পারে যে ছেলেদেরকে আল্লাহ তা'আলা এক রকম করে সৃষ্টি করেছেন এবং নারীদেরকে তাদের সৌন্দর্য দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। যার কারণে কেউ কারোর মত হতে পারবেনা। এজন্য কারোর মত কেউ অনুসরণও করা যাবে না। এই ক্ষেত্রে তাদের পোশাক আশাক এবং বাচনভঙ্গি কথাবার্তা সকল কিছুই অনুকরণ করা যাবে না। তাই ছেলেদের রুপার আংটি পরা কি জায়েজ? এ সম্পর্কে আর্টিকেলে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে। আশা করি আপনার উপকার হবে। পোস্টটি ভালো লাগলে আপনার বন্ধু বান্ধবের নিকট শেয়ার করবেন। ধন্যবাদ


এম আর মাহমুদ ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url