কোরবানির সাথে আকিকা দেওয়া যাবে কি জেনে নিন কোরআন হাদিসের ব্যাখ্যা
আকিকা ও কোরবানি উভয় গুরুত্বপূর্ণ তাই কোরবানির সাথে আকিকা দেওয়া যাবে কি? এ সম্পর্কে প্রত্যেকটা মুসলমানের প্রয়োজন। চলুন, কিভাবে আকিকা করলে বেশি সওয়াব পাওয়া যাবে? সে সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।
কোরবানি ও আকিকা প্রত্যেক মুসলমানের জানা খুবই প্রয়োজন। তবে কোরবানির সাথে অনেক আকিকা দিতে চায় কিন্তু কোরবানির সাথে আকিকা দেওয়া যাবে কি? এ সম্পর্কে জানতে আর্টিকেলটি মনোযোগ দিয়ে পড়ুন।
পোস্টসূচিপত্রঃকোরবানির সাথে আকিকা দেওয়া যাবে কি জেনে নিন কোরআন হাদিসের ব্যাখ্যা
কোরবানির সাথে আকিকা দেওয়া যাবে কি?
অনেকে জানতে চায় যে, কোরবানির সাথে আকিকা দেওয়া যাবে কি? আসলে কোরবানি এবং আকিকা একসাথে দেওয়া যায় কিনা সে সম্পর্কে আপনাকে জানতে হবে। চলুন, এই সম্পর্কে কোরআন হাদিসের ব্যাখ্যা সহ বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।
মহান আল্লাহ তাআলার সবচেয়ে বড় নিয়ামত হল কাউকে সন্তান দান করা। তাই আপনাকে যদি আল্লাহতালা সন্তান দান করেন সে ক্ষেত্রে অবশ্যই আল্লাহর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার জন্য পশু কোরবানি করতে হয় যার নাম আকিকা। আকিকা করার উদ্দেশ্য হলো বাচ্চার বিপদ আপদ থেকে মুক্তি পাওয়া, তার জীবনের বিনিময়ে সদগা করা অর্থাৎ আল্লাহতালাকে খুশি করা এবং আল্লাহতালা সন্তানের বিপদ আপদ দূর করে দেন। মহানবী সাঃ তাঁর নাতি হাসান হোসাইন এর জন্মের পর মহান আল্লাহর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার জন্য আকিকা দিয়েছিলেন, যার কারণে পরবর্তীতে সকল সাহাবী আমল করেন।
আকিকা সম্পর্কে হাদিসে বর্ণনা করা হয়েছে যে সামুরা ইবনে যন্দুব রাঃ থেকে বর্ণনা করা হয়েছে, রাসুল সাঃ বলেছেন যে, প্রত্যেকটা ছেলে মেয়ের আকিকা করতে হবে, বিশেষ করে জন্মের সপ্তম দিনে পশু জবাই করতে হবে এবং তার নাম রাখতে হবে, তাছাড়াও মাথার চুল ফেলে দিতে হবে। (তিরমিজি শরীফ হাদিস নাম্বার ১৫২২)। সন্তানের আকিকা করলে কিয়ামতের দিন তার পিতা-মাতা জন্য সেই সন্তান সুপারিশ করবে। তাছাড়া এর মাধ্যমে মুসলমানদের মধ্যে একটা ভালোবাসা সৃষ্টি হয়। কেননা যখন কোন শিশু জন্মগ্রহণ করে তখন সবাই খুশি থাকেন, যার কারণে গরিব দুঃখী সবাই সম্মিলিত করার একটি উপায় হল আকিকা।
আকিকার পশু সাধারণত কোরবানির পশুর মতোই হয়ে থাকে যেমন উট, গরু, ছাগল, মহিশ, ভেড়া, দুম্বা ইত্যাদি জবাই করা যায়। এজন্য কোরবানিতে যে পশু জায়েজ রয়েছে ঠিক তেমনি আকিকার জন্য নির্বাচন করতে পারেন। প্রত্যেকটা সন্তানের আকিকা করার জন্য অবশ্যই সপ্তম দিনে বেছে নিতে হবে এবং ১৪ তম দিন পর্যন্ত দিতে পারবেন। এছাড়াও যদি না দিতে পারেন ২১তম দিনেই দেওয়া যাবে, তবে এর পরে যদি আপনি না দিতে পারেন, জীবনে একবার হলেও দেওয়া লাগবে কিন্তু সবচেয়ে উত্তম হলো সপ্তম দিনে আকিকা দেওয়া। সাধারণত শিশুটা যে বারে জন্মগ্রহণ করেছে তার আগের দিন দিলে ভালো হবে।
প্রচলিত রয়েছে অনেকেই মনে করে যে নাপিত যখন মাথামন্ডন করবে তখনই বকরি জবাই করতে হবে। কিন্তু এরকম কোন প্রচলিত কথা হাদিস কোরআনে নেই। আকিকা নির্দিষ্ট সময়ে না করলেও চলবে, যে কোন সময় করতে পারেন। পশু জবাই করার আগে মাথা মুন্ডন করে নিতে হবে। তবে কখনোই জন্মের পূর্বেই কিন্তু আপনি আকিকা করতে পারবেন না। এইটা আদায় করা হবে না, এই পশু আপনি গোস্ত খাওয়ার উদ্দেশ্য জবেহ করা যাবে না। আকিকা হল কোরবানির মাংসর মত গরিব মানুষকে ভাগ করে দিতে হবে। এতে আল্লাহতালা পছন্দ করে থাকেন এবং খুশি হন।

এম আর মাহমুদ ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url